ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চায়না ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা’র সঙ্গে চিটাগাং চেম্বার নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ


চায়না ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা’র সঙ্গে চিটাগাং চেম্বার নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে চীন ভিত্তিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ডট কমের প্রতিনিধিদলের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল। এতে চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী এবং আলিবাবা ডট কমের পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার গাওয়া সামার, সিনিয়র স্পেশালিস্ট ও বাংলাদেশ চ্যানেল ম্যানেজার ওয়াং কিলিং ভানিয়া দুটি দেশের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।

এসময় চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক রূপান্তরের এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ এবং ফ্রি-ট্রেড জোন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশের সব ইউনিয়নে খেলার মাঠ হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

এছাড়া চট্টগ্রামে আনোয়ারায় চীনা বিশেষায়িত ইকোনমিক জোন বাস্তবায়নে সরকার অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ডট কমের বিশ্বব্যাপী অনলাইনে পণ্য সরবরাহ করে থাকে, তাই তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য আলিবাবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চীন, বিশেষায়িত অঞ্চল এবং সরকার নির্ধারিত ফ্রি-ট্রেড জোনে রপ্তানি নির্ভর পণ্য উৎপাদন এবং ইনটেক সার্ভিস স্টেশন করার জন্য আহ্বান জানান চেম্বার সভাপতি।

তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে উভয় দেশের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক সংযোগ গড়ে উঠেছে। এজন্য তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী টু ব্যবসায়ী যোগাযোগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তিনি আলিবাবা ডট কমের বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ই-কমার্স, এআই ট্রেনিংসহ সব ধরনের উদ্যোগে চিটাগাং চেম্বারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

আলিবাবার জেনারেল ম্যানেজার গাওয়া সামার বলেন-১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আলিবাবা ডট কম বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। বিশ্বজুড়ে এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ মিলিয়নের অধিক সক্রিয় ক্রেতা রয়েছে। এছাড়া দুই লাখের অধিক সাপ্লাইয়ার্স থেকে দুই বিলিয়নের অধিক পণ্য সরবরাহ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে, তাদের কথা বিবেচনায় রেখে আলিবাবা ডট কমের বাংলাদেশে কীভাবে আরও ব্যবসা সম্প্রসারণ করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে এগ্রো এবং সী-ফুডের উল্লেখযোগ্য উৎপাদনশীলতা রয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী এর চাহিদাও রয়েছে। গাওয়া সামার বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের বাইরে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও রপ্তানি এবং ই-কমার্স ও এসএমই উদ্যোক্তাদের আলিবাবার প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে আলিবাবার সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে, যেখানে ব্যবসায়ীরা প্রশিক্ষণসহ রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ সংক্রান্ত তথ্য পাবে।

আরও পড়ুন: নোবিপ্রবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এখনও ই-কমার্স উল্লেখযোগ্য হারে সম্প্রসারিত হয়নি। তিনি জানান এজন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ। তিনি আরও বলেন, আলিবাবা যেহেতু বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ করে, তাই বাংলাদেশে রপ্তানি সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ই-কমার্স এর সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে ভূমিকা রাখতে পারে আলিবাবা ডট কম।

এটি একটি সফল ব্যবস্থা ছিল যেখানে চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপন, পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, মো. আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মো. জাহিদুল হাসান, আসাদ ইফতেখার, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান, শহীদুল আলম ও মো. সেলিম নুর, আলিবাবা ডট কমের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার ঝাং সুহাই ব্রাইস, সার্ভিস ও অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার ট্যাং হংজিয়া টিনা, বাংলাদেশের চ্যানেল ম্যানেজার সোনোবার মাইরা, বাংলাদেশস্থ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়জুল আলম, নির্বাহী পরিচালক শান শাহেদ ও কনসালটেন্ট সাজিদ বিন সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগে দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগে দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ২২ জুন ভোরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। তার আগে দুঃসংবাদ পেয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। কারণ ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় ম্যাচটিতে খেলতে পারবেন না রাইট ব্যাক গনসালো মন্তিয়েল। তার অনুপস্থিতিতে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে নাউয়েল মোলিনাকে-এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদেশ ছিলেন মন্তিয়েল। কিন্তু চোটের কারণে বৃহস্পতিবার তিনি দলের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলন করতে পারেননি। পরীক্ষায় তার ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা ধরা পড়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মন্তিয়েলের চোট খুব বেশি গুরুতর নয়। এরপরও ঝুঁকি এড়াতেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাকে মাঠে নামাতে চান না লিওনেল স্কালোনি।

দলের সূত্রের বরাতে টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আজ এবং আগামীকাল অনুশীলন করার কথা রয়েছে মন্তিয়েলের। তবে ম্যাচের জন্য তাকে বিবেচনা করছেন না স্কালোনি। মলিনাই অস্ট্রিয়া ম্যাচে খেলার দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন, যিনি আলজেরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছিলেন।

বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগেও চোট ছিল মন্তিয়েলের। তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান চোটের সঙ্গে সেটার কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগে রিভার প্লেটের হয়ে অ্যাপার্তুরা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলার সময় অন্য পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন মন্তিয়েল, ফলে তিনি বেলগ্রানের বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে পারেননি।

বিশ্বকাপ প্রস্তুতি পর্বেও পুরোপুরি ছন্দে ছিলেন না মন্তিয়েল। প্রায় এক সপ্তাহ আলাদা অনুশীলন করার পাশাপাশি হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও খেলতে পারেননি তিনি। যদিও পরে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে ফেরার ইঙ্গিত দেন ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।

মন্তিয়েলের এই নতুন চোট আর্জেন্টিনার জন্য বড় কোনো উদ্বেগের কারণ নয়। অস্ট্রিয়া ম্যাচের পর জর্ডানের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের আগে সুস্থ হওয়ার জন্য প্রায় এক সপ্তাহ সময় পাবেন তিনি। কোচিং স্টাফ আশা করছে, সে সময়ের মধ্যেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

সূত্র: ওয়ান ফুটবল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টঙ্গীতে জাল টাকাসহ গ্রেফতার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


টঙ্গীতে জাল টাকাসহ গ্রেফতার ২

গাজীপুরের টঙ্গীতে পুলিশ জাল টাকার নোটসহ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার রাতে টঙ্গীর দক্ষিণ আরিচপুর এলাকা, একটি কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার শিবনগর গ্রামের মৃত সামাদ বেপারির ছেলে মো. শাহিন আলম (৪৫) এবং অপরজন টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে ভাসমান মো. সোহেল (২৪)।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত নয়টায় আশরাফ সেতুর সামনে জাল টাকা নিয়ে ওই দুই ব্যক্তি অবস্থান করছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নেমে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে বিভিন্ন সিরিয়ালের জাল টাকার মোট ৫১টি নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট রয়েছে। উদ্ধারকৃত জাল টাকার মোট মূল্য ২০ হাজার ৩০০ টাকা।

এ ব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরে শনিবার দুপুরে তাদেরকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলেরা খালি হাতে ফিরছেন, সাগরে ইলিশের অভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


জেলেরা খালি হাতে ফিরছেন, সাগরে ইলিশের অভাব

 

গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ শিকারের জন্য সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। দীর্ঘ বিরতিতে মাছের নিরাপদ প্রজনন সম্পন্ন হতে গেলে, সাগরে ইলিশের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং জালে প্রচুর মাছ পাওয়া যাবে- এই আশায় দলে দলে জেলেরা সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান।

তবে নিষেধাজ্ঞার পর আট দিন গেলেও কাঙ্খিত ইলিশের দেখা মেলেনি। ফলে হতাশা নিয়ে প্রায় খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে অধিকাংশ জেলে নৌকাকে।

জেলেরা জানান, গভীর সাগরে মাছ ধরতে গেলে একটি বড় ট্রলারের প্রয়োজন হয়, যেখানে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিন থাকতে হয়। প্রত্যেক ট্রলারে ১৫ থেকে ২৫ জন মাঝি-মাল্লা রয়েছেন। এই সময়ে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, বরফ, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য রসদের জন্য খরচ হয় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। একটি লাভজনক ট্রিপ বাস্তবায়নের জন্য অন্তত ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি প্রয়োজন। কিন্তু এবারের পরিস্থিতিতে অনেক ট্রলার খরচের অর্থও তুলতে পারেনি।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে দেখা যাচ্ছে, সেখানে ট্রলার ভিড় করে থাকলেও চিরচেনা কোলাহল অনুসন্ধান করা খুবই কঠিন। মাছ নামানোর ব্যস্ততা, আড়তদারদের হাঁকডাক কিংবা শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য অনেকটাই অনুপস্থিত। কারণ, অধিকাংশ ট্রলারই ঘাটে ফিরে এসেছে হতাশা নিয়ে, ট্রলারভর্তি ইলিশের অভাবে।

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও ট্রলার মালিকদের দাবি, সাগরে মাছের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে, এটি শুধু তাদের জীবিকাই নয়, দেশের মাছভিত্তিক অর্থনীতির জন্যও একটি বড় হুমকির সৃষ্টি করবে। এজন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, পাথরঘাটা খুচরা মাছ বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক ধরনের মাছের প্রত্যাশিত দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মালিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর বড় আশা নিয়ে সাগরে গিয়েছিলাম। কিন্তু পাঁচ থেকে সাত দিন সাগরে থেকেও কাঙ্খিত মাছ পাইনি। বাধ্য হয়ে খালি হাতেই ফিরে আসছি। যে ট্রিপে আগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতাম, এবার সেখানে খরচের টাকাও ওঠেনি।’

এই ট্রলারের মালিক আরো বলেন, ‘যখন আমরা এক ট্রিপে ১০-১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করি, তখন সবাই তা শুনতে পায়। কিন্তু টানা তিন-চারটি ট্রিপ লোকসান হলে সেই কষ্টের কথা কেউ শোনে না। আমি ভেবেছিলাম আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব। কিন্তু উল্টো আরো লোকসানের মুখে পড়ছি। এভাবে চলতে থাকলে একসময় হয়তো এই পেশা ছাড়তে হবে।’

এফবি সিফাত ট্রলারের মালিক মো. মুজিবুর রহমান কালু মন্তব্য করেছেন, ‘মাছ না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকেই দাদন ও ঋণের বোঝা নিয়ে দিশেহারা।’ তিনি জানান, গোপন সূত্রে তার কাছে খবর এসেছে যে নিষেধাজ্ঞাকালে কিছু অসাধু ট্রলার মালিক ও জেলে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে সাগরে মাছ শিকার করেছেন।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে জেলেরা কর্মহীন সময় কাটিয়েছেন। অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আশা ছিল নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়ে ভালো মাছ পাবেন, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এখন ইলিশের ভরা মৌসুম, অথচ সাগরে মাছের দেখা মিলছে না।’

পাথরঘাটা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হক মন্তব্য করেছেন, ‘জেলেরা প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম মাছ পাচ্ছেন বলে জানতে পেরেছি। আমরা ভেবেছিলাম, নিষেধাজ্ঞার পর মাছের প্রাচুর্য বাড়বে। তবে এটি সাময়িক পরিস্থিতি হতে পারে। আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সাগরে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের উপস্থিতি বাড়বে এবং জেলেরা ভালো আহরণ করতে পারবেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গে হকার আকবর আলীকে পিটিয়ে খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলো এপিসিআর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গে হকার আকবর আলীকে পিটিয়ে খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলো এপিসিআর

পশ্চিমবঙ্গে অপহৃত হকার আকবর আলীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে মানবাধিকার সংগঠন 'অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস' (এপিসিআর)।

এটি একটি করুণ ঘটনা, যা ২০ জুন ২০২৬-এর সন্ধ্যায় ০৭:৩৫ পিএম-এ প্রকাশিত হয়েছে।

পাওনা টাকা নিয়ে সামান্য বচসার এক পরিণতি হিসেবে এটি ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ঘটনার স্থান পুরুলিয়া জেলার সুপোর্ডিহ গ্রাম। গত ৯ জুন ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বাঁকুড়া জেলার পুনিসোল গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী হকার আকবর আলী মণ্ডল।

সম্প্রতি এপিসিআর-এর একটি প্রতিনিধি দল নিহতের পরিবার এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একটি চাঞ্চল্যকর ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

এপিসিআর-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রতিনিধি দল ১৭ জুন নিহতের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ৯ জুন পুরুলিয়ার সুপোর্ডিহ গ্রামে জিনিসপত্র বিক্রি করছিলেন আকবর আলী মণ্ডল। এই সময় অভিযুক্ত বিশ্বনাথ মাহাতো টাকা না দিয়েই জোরপূর্বক জিনিসপত্র নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আকবর আলী যখন তার প্রাপ্য টাকা দাবি করেন, তখন দুজনের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ করা হয়েছে, এরপর অভিযুক্ত বিশ্বনাথ একটি লাঠি নিয়ে এসে আকবর আলীর ওপর চড়াও হন এবং তাঁর মাথা ও মুখে আক্রমণ করতে শুরু করেন। গুরুতর আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই আকবর আলীর মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর রিপোর্ট বলছে, অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নিহতের মরদেহ একটি গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের ছেলে জুলফিকার আলী মণ্ডল বাবার মরদেহ শনাক্ত করেন। জানা গেছে, ঘটনার সময় একটি প্রত্যক্ষদর্শীর মোবাইলে সমস্ত মারধরের ভিডিও রেকর্ড হয়েছে, যা বর্তমানে পুলিশের কাছে তদন্তের একটি প্রধান প্রমাণ হিসেবে রয়েছে।

আকবর আলী মণ্ডল ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে, তিনি হকারি করে স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলের সংসার চালাতেন।

নিহতের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রতিনিধি দলকে বলেন, "তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন, কখনো কারও সঙ্গে ঝামেলায় জড়াননি। তার কোনো শত্রু ছিল না।" আকবর আলীর ছেলে জুলফিকার বলেছেন, পুলিশ মারফত খবর পেয়ে তারা পুরুলিয়ায় আসেন। বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন কঠিন আর্থিক সংকটে পড়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা এবং পরিবারের দৈনন্দিন টিকে থাকার বিষয় এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এপিসিআর-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং কাজ করা প্রান্তিক ও দরিদ্র হকারদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, "আকবর আলী মণ্ডলের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের ট্রাজেডি নয়; এটি আমাদের সমাজে পিছিয়ে পড়া ও দুর্বল শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সুরক্ষার অভাব সনাক্ত করে।"

তদন্তকারী দল অনুসন্ধানকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহিরাগত বিক্রেতাদের অনেকেই বিভিন্ন সময় সন্দেহ ও হয়রানির শিকার হন। কিছু ক্ষেত্রে মুসলিম হকারদের প্রতি সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও বাড়তি অবিশ্বাস লক্ষ্য করা যায় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত অনেক হকার দূরবর্তী এলাকায় ব্যবসা করা বন্ধ করে দিয়েছেন।

ঘটনার পর পুলিশ মূল অভিযুক্ত বিশ্বনাথ মাহাতোকে গ্রেফতার করেছে এবং মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসন নিহতের পরিবারকে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

তবে এপিসিআর-এর রিপোর্টে কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই "পুঙ্খানুপুঙ্খ, নিরপেক্ষ এবং তথ্যপ্রমাণ-ভিত্তিক" তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রমাণাদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে যে: নিহতের পরিবারকে অবিলম্বে সরকারি তহবিল থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক, সন্তানদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে এবং নিহতের বিধবা স্ত্রীকে পুনর্বাসন বা দীর্ঘমেয়াদি জীবিকার সহায়তা দেওয়া হোক। এছাড়াও, প্রান্তিক ও পরিযায়ী হকারদের আইনি সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%