ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগে দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা


অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগে দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী ২২ জুন ভোরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। তার আগে দুঃসংবাদ পেয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। কারণ ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় ম্যাচটিতে খেলতে পারবেন না রাইট ব্যাক গনসালো মন্তিয়েল। তার অনুপস্থিতিতে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে নাউয়েল মোলিনাকে-এমনটাই জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদেশ ছিলেন মন্তিয়েল। কিন্তু চোটের কারণে বৃহস্পতিবার তিনি দলের সঙ্গে পূর্ণ অনুশীলন করতে পারেননি। পরীক্ষায় তার ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা ধরা পড়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মন্তিয়েলের চোট খুব বেশি গুরুতর নয়। এরপরও ঝুঁকি এড়াতেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তাকে মাঠে নামাতে চান না লিওনেল স্কালোনি।

দলের সূত্রের বরাতে টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আজ এবং আগামীকাল অনুশীলন করার কথা রয়েছে মন্তিয়েলের। তবে ম্যাচের জন্য তাকে বিবেচনা করছেন না স্কালোনি। মলিনাই অস্ট্রিয়া ম্যাচে খেলার দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন, যিনি আলজেরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছিলেন।

আরও পড়ুন: গাজার শিশুদের চিকিৎসার জন্য হামজার ১ লাখ পাউন্ড সংগ্রহ

বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগেও চোট ছিল মন্তিয়েলের। তবে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান চোটের সঙ্গে সেটার কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগে রিভার প্লেটের হয়ে অ্যাপার্তুরা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে খেলার সময় অন্য পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন মন্তিয়েল, ফলে তিনি বেলগ্রানের বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে পারেননি।

বিশ্বকাপ প্রস্তুতি পর্বেও পুরোপুরি ছন্দে ছিলেন না মন্তিয়েল। প্রায় এক সপ্তাহ আলাদা অনুশীলন করার পাশাপাশি হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও খেলতে পারেননি তিনি। যদিও পরে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে ফেরার ইঙ্গিত দেন ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।

মন্তিয়েলের এই নতুন চোট আর্জেন্টিনার জন্য বড় কোনো উদ্বেগের কারণ নয়। অস্ট্রিয়া ম্যাচের পর জর্ডানের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের আগে সুস্থ হওয়ার জন্য প্রায় এক সপ্তাহ সময় পাবেন তিনি। কোচিং স্টাফ আশা করছে, সে সময়ের মধ্যেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

সূত্র: ওয়ান ফুটবল

আরও পড়ুন: মেসিকে হারিয়ে ব্যালন ডি’অরের সেরাদের সেরা হলেন রোনালদো

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টঙ্গীতে জাল টাকাসহ গ্রেফতার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


টঙ্গীতে জাল টাকাসহ গ্রেফতার ২

গাজীপুরের টঙ্গীতে পুলিশ জাল টাকার নোটসহ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার রাতে টঙ্গীর দক্ষিণ আরিচপুর এলাকা, একটি কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার শিবনগর গ্রামের মৃত সামাদ বেপারির ছেলে মো. শাহিন আলম (৪৫) এবং অপরজন টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে ভাসমান মো. সোহেল (২৪)।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত নয়টায় আশরাফ সেতুর সামনে জাল টাকা নিয়ে ওই দুই ব্যক্তি অবস্থান করছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নেমে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে বিভিন্ন সিরিয়ালের জাল টাকার মোট ৫১টি নোট উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট রয়েছে। উদ্ধারকৃত জাল টাকার মোট মূল্য ২০ হাজার ৩০০ টাকা।

এ ব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরে শনিবার দুপুরে তাদেরকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলেরা খালি হাতে ফিরছেন, সাগরে ইলিশের অভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


জেলেরা খালি হাতে ফিরছেন, সাগরে ইলিশের অভাব

 

গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ শিকারের জন্য সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। দীর্ঘ বিরতিতে মাছের নিরাপদ প্রজনন সম্পন্ন হতে গেলে, সাগরে ইলিশের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং জালে প্রচুর মাছ পাওয়া যাবে- এই আশায় দলে দলে জেলেরা সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান।

তবে নিষেধাজ্ঞার পর আট দিন গেলেও কাঙ্খিত ইলিশের দেখা মেলেনি। ফলে হতাশা নিয়ে প্রায় খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে অধিকাংশ জেলে নৌকাকে।

জেলেরা জানান, গভীর সাগরে মাছ ধরতে গেলে একটি বড় ট্রলারের প্রয়োজন হয়, যেখানে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিন থাকতে হয়। প্রত্যেক ট্রলারে ১৫ থেকে ২৫ জন মাঝি-মাল্লা রয়েছেন। এই সময়ে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, বরফ, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য রসদের জন্য খরচ হয় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। একটি লাভজনক ট্রিপ বাস্তবায়নের জন্য অন্তত ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি প্রয়োজন। কিন্তু এবারের পরিস্থিতিতে অনেক ট্রলার খরচের অর্থও তুলতে পারেনি।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে দেখা যাচ্ছে, সেখানে ট্রলার ভিড় করে থাকলেও চিরচেনা কোলাহল অনুসন্ধান করা খুবই কঠিন। মাছ নামানোর ব্যস্ততা, আড়তদারদের হাঁকডাক কিংবা শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য অনেকটাই অনুপস্থিত। কারণ, অধিকাংশ ট্রলারই ঘাটে ফিরে এসেছে হতাশা নিয়ে, ট্রলারভর্তি ইলিশের অভাবে।

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও ট্রলার মালিকদের দাবি, সাগরে মাছের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে, এটি শুধু তাদের জীবিকাই নয়, দেশের মাছভিত্তিক অর্থনীতির জন্যও একটি বড় হুমকির সৃষ্টি করবে। এজন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, পাথরঘাটা খুচরা মাছ বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। অনেক ধরনের মাছের প্রত্যাশিত দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মালিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর বড় আশা নিয়ে সাগরে গিয়েছিলাম। কিন্তু পাঁচ থেকে সাত দিন সাগরে থেকেও কাঙ্খিত মাছ পাইনি। বাধ্য হয়ে খালি হাতেই ফিরে আসছি। যে ট্রিপে আগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতাম, এবার সেখানে খরচের টাকাও ওঠেনি।’

এই ট্রলারের মালিক আরো বলেন, ‘যখন আমরা এক ট্রিপে ১০-১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করি, তখন সবাই তা শুনতে পায়। কিন্তু টানা তিন-চারটি ট্রিপ লোকসান হলে সেই কষ্টের কথা কেউ শোনে না। আমি ভেবেছিলাম আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব। কিন্তু উল্টো আরো লোকসানের মুখে পড়ছি। এভাবে চলতে থাকলে একসময় হয়তো এই পেশা ছাড়তে হবে।’

এফবি সিফাত ট্রলারের মালিক মো. মুজিবুর রহমান কালু মন্তব্য করেছেন, ‘মাছ না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকেই দাদন ও ঋণের বোঝা নিয়ে দিশেহারা।’ তিনি জানান, গোপন সূত্রে তার কাছে খবর এসেছে যে নিষেধাজ্ঞাকালে কিছু অসাধু ট্রলার মালিক ও জেলে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে সাগরে মাছ শিকার করেছেন।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে জেলেরা কর্মহীন সময় কাটিয়েছেন। অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আশা ছিল নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়ে ভালো মাছ পাবেন, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এখন ইলিশের ভরা মৌসুম, অথচ সাগরে মাছের দেখা মিলছে না।’

পাথরঘাটা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হক মন্তব্য করেছেন, ‘জেলেরা প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম মাছ পাচ্ছেন বলে জানতে পেরেছি। আমরা ভেবেছিলাম, নিষেধাজ্ঞার পর মাছের প্রাচুর্য বাড়বে। তবে এটি সাময়িক পরিস্থিতি হতে পারে। আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সাগরে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের উপস্থিতি বাড়বে এবং জেলেরা ভালো আহরণ করতে পারবেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গে হকার আকবর আলীকে পিটিয়ে খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলো এপিসিআর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গে হকার আকবর আলীকে পিটিয়ে খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলো এপিসিআর

পশ্চিমবঙ্গে অপহৃত হকার আকবর আলীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে মানবাধিকার সংগঠন 'অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস' (এপিসিআর)।

এটি একটি করুণ ঘটনা, যা ২০ জুন ২০২৬-এর সন্ধ্যায় ০৭:৩৫ পিএম-এ প্রকাশিত হয়েছে।

পাওনা টাকা নিয়ে সামান্য বচসার এক পরিণতি হিসেবে এটি ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ঘটনার স্থান পুরুলিয়া জেলার সুপোর্ডিহ গ্রাম। গত ৯ জুন ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বাঁকুড়া জেলার পুনিসোল গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী হকার আকবর আলী মণ্ডল।

সম্প্রতি এপিসিআর-এর একটি প্রতিনিধি দল নিহতের পরিবার এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একটি চাঞ্চল্যকর ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

এপিসিআর-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রতিনিধি দল ১৭ জুন নিহতের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ৯ জুন পুরুলিয়ার সুপোর্ডিহ গ্রামে জিনিসপত্র বিক্রি করছিলেন আকবর আলী মণ্ডল। এই সময় অভিযুক্ত বিশ্বনাথ মাহাতো টাকা না দিয়েই জোরপূর্বক জিনিসপত্র নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আকবর আলী যখন তার প্রাপ্য টাকা দাবি করেন, তখন দুজনের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ করা হয়েছে, এরপর অভিযুক্ত বিশ্বনাথ একটি লাঠি নিয়ে এসে আকবর আলীর ওপর চড়াও হন এবং তাঁর মাথা ও মুখে আক্রমণ করতে শুরু করেন। গুরুতর আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই আকবর আলীর মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর রিপোর্ট বলছে, অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নিহতের মরদেহ একটি গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের ছেলে জুলফিকার আলী মণ্ডল বাবার মরদেহ শনাক্ত করেন। জানা গেছে, ঘটনার সময় একটি প্রত্যক্ষদর্শীর মোবাইলে সমস্ত মারধরের ভিডিও রেকর্ড হয়েছে, যা বর্তমানে পুলিশের কাছে তদন্তের একটি প্রধান প্রমাণ হিসেবে রয়েছে।

আকবর আলী মণ্ডল ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে, তিনি হকারি করে স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলের সংসার চালাতেন।

নিহতের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রতিনিধি দলকে বলেন, "তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন, কখনো কারও সঙ্গে ঝামেলায় জড়াননি। তার কোনো শত্রু ছিল না।" আকবর আলীর ছেলে জুলফিকার বলেছেন, পুলিশ মারফত খবর পেয়ে তারা পুরুলিয়ায় আসেন। বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন কঠিন আর্থিক সংকটে পড়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা এবং পরিবারের দৈনন্দিন টিকে থাকার বিষয় এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এপিসিআর-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং কাজ করা প্রান্তিক ও দরিদ্র হকারদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, "আকবর আলী মণ্ডলের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের ট্রাজেডি নয়; এটি আমাদের সমাজে পিছিয়ে পড়া ও দুর্বল শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সুরক্ষার অভাব সনাক্ত করে।"

তদন্তকারী দল অনুসন্ধানকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহিরাগত বিক্রেতাদের অনেকেই বিভিন্ন সময় সন্দেহ ও হয়রানির শিকার হন। কিছু ক্ষেত্রে মুসলিম হকারদের প্রতি সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও বাড়তি অবিশ্বাস লক্ষ্য করা যায় বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত অনেক হকার দূরবর্তী এলাকায় ব্যবসা করা বন্ধ করে দিয়েছেন।

ঘটনার পর পুলিশ মূল অভিযুক্ত বিশ্বনাথ মাহাতোকে গ্রেফতার করেছে এবং মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসন নিহতের পরিবারকে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

তবে এপিসিআর-এর রিপোর্টে কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই "পুঙ্খানুপুঙ্খ, নিরপেক্ষ এবং তথ্যপ্রমাণ-ভিত্তিক" তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রমাণাদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে যে: নিহতের পরিবারকে অবিলম্বে সরকারি তহবিল থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক, সন্তানদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে এবং নিহতের বিধবা স্ত্রীকে পুনর্বাসন বা দীর্ঘমেয়াদি জীবিকার সহায়তা দেওয়া হোক। এছাড়াও, প্রান্তিক ও পরিযায়ী হকারদের আইনি সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও সংগঠক আবদুস সাদেকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে এই জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

আবদুস সাদেক শনিবার সকাল ৮টায় রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

প্রসঙ্গত, আবদুস সাদেকের ছোট ভাই দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এ ছাড়া মরহুমের বড় ছেলে টি স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ইশতিয়াক সাদেক।

আবদুস সাদেক শুধু অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের তারকা খেলোয়াড়ই ছিলেন না, তিনি ফুটবল, ক্রিকেটসহ আরও অনেক ক্রীড়া ইভেন্টে ছিলেন পারদর্শী। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের (ঢাকা আবাহনী লি.) প্রথম ফুটবল অধিনায়ক ও হকি অধিনায়ক ছিলেন আবদুস সাদেক। বাংলাদেশের ক্রীড়ায় অসামান্য অবদানের পুরস্কার হিসেবে তিনি ১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। বাবা অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহান ব্রিটিশ আমলে ছিলেন খ্যাতনামা সাঁতারু।

আবদুস সাদেক পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে ইউরোপ সফর করেছেন। ১৯৬৯ সালে দেড় মাসের ইউরোপ ট্যুরে আবদুস সাদেকরা জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং ইংল্যান্ডে খেলেছেন। ফেরার পথে মিসরের সঙ্গেও একটা ম্যাচ খেলেছেন। সেই ইউরোপ ট্যুরে মাঠে ক্যারিশমা দেখানোর কারণে আবদুস সাদেক দ্রুত পরিচিত হয়ে ওঠেন।

স্বাধীনতার পর জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে ১৯৭৩ সালে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়ক ছিলেন সাদেক।

ফুটবল ক্যারিয়ার ছেড়ে ১৯৭৭ সালে আবাহনী প্রশিক্ষকের দায়িত্ব নেন আবদুস সাদেক। নতুন দায়িত্ব পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। সেবার লিগে কোনো ম্যাচেই হারেনি আবাহনী। তিন ম্যাচ ড্র ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই দাপুটে জয়। বাংলাদেশে প্রথম দল হিসেবে আবাহনী অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল রেকর্ড সৃষ্টি করে। স্বাধীন বাংলাদেশে সেবারই প্রথম কোনো দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

প্রশিক্ষকের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর সংগঠক হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরই প্রচেষ্টায় ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ হকি অনুষ্ঠিত হয়। অথচ ওই বছরের আয়োজক হওয়ার কথা ছিল জাপানের। এশিয়ান হকি ফেডারেশনের বৈঠকে আবদুস সাদেকের কথায় মুগ্ধ হয়ে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানের সমর্থনে আয়োজকের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ।

১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে হকিতে প্রথম জাতীয় দল গঠন করা হয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্টে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন আবদুস সাদেক। সেখানে হকি টেস্টে একটিতে জয়, একটিতে ড্র ও একটিতে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ প্রথম এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়। হকিতে সাদেকই অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%