বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:০৫ এম
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন ১২ ঘণ্টার জন্য, যিনি স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ দেখতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সোয়া ৬টায় তাকে মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে কঠোর পুলিশি পাহারায় ভ্যানে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগে, মুন্সীগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ডা. দীপু মনির ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করেছেন। এই প্যারোল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
প্যারোলের সময়কালে, ডা. দীপু মনি প্রয়াত স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ দেখতে এবং তার দাফন কার্যক্রমে উপস্থিত থাকার সুবিধা পাবেন।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকালে ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ ঢাকার কলাবাগানে তার নিজ বাসভবনে নেয়া হবে। সেখানে ডা. দীপু মনি স্বামীর মরদেহ দেখবেন। এরপর মরদেহ গুলশান আজাদ মসজিদে নেয়া হবে। বাদ জোহর, গুলশান আজাদ মসজিদে ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার নামাজ ও দোয়া শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ডা. দীপু মনির আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী ফয়সাল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা চার দিনের প্যারোল চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করেছেন।
আইনজীবী আরও জানান, প্যারোলের পুরো সময় ডা. দীপু মনি পুলিশ পাহারায় থাকবেন। স্বামীর দীর্ঘদিন অসুস্থতার সময় কারাগারের বাইরে তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়ার জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। স্বামীর মৃত্যুর পর এবার প্যারোলে মুক্ত হয়ে তিনি তার মরদেহ দেখার সুযোগ পেলেন, সাবেক এই শিক্ষা, পররাষ্ট্র ও সমাজ কল্যাণমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামে পিটিআই অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানালেন, এতদিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং ব্যবস্থা মূলত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছিল। তবে নতুন নীতিমালায় এ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী দিনে সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের সব বেসরকারি, কিন্ডারগার্টেন ও ইংরেজি মাধ্যমের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধুমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। মাঠপর্যায়ে বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে বাস্তব চিত্র যাচাই করে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত ২৫টি উপজেলার বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতার হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে।
এ ধরনের তথ্যের ভুল তথ্য দূর করে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ওপর শিক্ষা প্রশাসনকে পরিচালনা করার প্রয়োজন রয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় শূন্যপদে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী বছর দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাধারণ জ্ঞান বিকাশে জাতীয় পর্যায়ে বড় পরিসরে কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা টেলিভিশন শো হিসেবেও সম্প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আনন্দময়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে শিখন, উপস্থিতি, পুষ্টি এবং শিক্ষার পরিবেশ সবকিছুর ওপর সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি অঙ্গীকার পরিষ্কার, আনট্রেইনড কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে দেখতে চাই না। সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের মান, প্রশিক্ষণ এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সক্ষমতা ভবিষ্যৎ মনিটরিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
এছাড়া বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রশাসনে সুশাসন, জবাবদিহি ও কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে নিজেই বিভাগে বিভাগে প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তাঁদের প্রস্তুত করাই এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।
প্রাথমিক শিক্ষা, চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ বিভাগের শিক্ষা প্রশাসনের সব কর্মকর্তাবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা সাভারের আশুলিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টা পরে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির গলায় লাল স্কচটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় এবং মুখের ভেতরে চাল ও পলিথিন ঢোকানো ছিল।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের ভাদাইল বাজার চৌরাস্তা এলাকায় হারুন মিয়ার মালিকানাধীন তিনতলা বাড়ির ছাদ থেকে ওই শিশুর মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এই নিহত শিশুর নাম আব্দুর রহমান (৫)। সে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বাগবাড়ি এলাকার মো. শহিদ মিয়ার ছেলে। তার পরিবার ওই বাড়ির নিচতলার বাসায় ভাড়া থাকে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আব্দুর রহমান বাসা থেকে বের হয়। প্রায় ১০ মিনিট পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মিলছিল না।
এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়িওয়ালার স্ত্রী রিনা বেগম ছাদে হাঁসকে খাবার দিতে যান। সেখানে একটি হাঁস ধরতে গিয়ে নেটের নিচে সাদা রঙের একটি প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান। কাছে গিয়ে বস্তার ভেতর শিশুটির মরদেহ দেখতে পান রিনা বেগম। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন।
রিনা বেগম বলেন, "আমি বাসার ছাদে হাঁস পালন করি। সন্ধ্যায় হাঁসকে খাবার দিতে ছাদে উঠি। পরে খাঁচা খোলার সময় একটা হাঁস বের হয়ে যায়। একে ধরতে গেলে উড়াল দিয়ে পাশে থাকা নেটের ওপর পড়ে। তখন নেটের নিচ থেকে একটা সাদা বস্তা বেরিয়ে আসে। আমি আরও কাছে গিয়ে বস্তাটিক দেখেছি, ভয় পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করি। শুনে সবাই ওপরে আসে। এরপর বস্তার ভেতর বাচ্চাটির ওই অবস্থা দেখে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।"
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা কী কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, পুলিশ সে বিষয় নিয়ে কাজ করছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে, এই দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
তিনি বুধবার (১৯ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত যাবার ক্ষেত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই মন্ত্রণালয় এবং নবগঠিত জুলাই অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, প্রতিটি শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধারের কল্যাণে কাজ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের গাফিলতির সুযোগ থাকবে না।
তিনি জুলাই ২৪ এর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং আহতদের সেবার প্রতি সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, আমরা সবাই এই লক্ষ্যেই অঙ্গীকারবদ্ধ।
সভায় উপস্থিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ইশরাক হোসেন বলেন, আহতদের চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, জুলাই আহতগুলোর ও শহীদ পরিবারদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
এছাড়া, তিনি বলেন, দলের সীমা ছাড়িয়ে যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্পর্কিত আহত জুলাই যোদ্ধাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা যতটা সম্ভব করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম তালিকার নির্ভুলতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের এবং শহীদদের তালিকায় যে ধরনের ভুলত্রুটি বা অভিযোগ আসছে, সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সংশোধন করা হচ্ছে।
জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আবেদনের ভিত্তিতে, ডাক্তারি সনদসহ জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আশরাফুল ইসলাম আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা উপহার দেওয়া, যাতে কোনও অযোগ্য ব্যক্তি এতে সুযোগ না পায় এবং প্রকৃত কোনো জুলাই যোদ্ধা বা শহীদ পরিবার বাদ না পড়েন।
সভায় অংশগ্রহণকারী দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫ এর সংসদ সদস্য এবং জুলাই শহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগম।
এছাড়া, অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আরো অনেক সরকারি কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা একটি নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন কানাডায় উৎপাদিত গাড়ি, ট্রাক এবং গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর ওপর আরোপিত কিছু বিতর্কিত শুল্কের হার কমিয়ে আনতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘অত্যন্ত ন্যায্য’ বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট কানাডা থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে, তিনি সেই সময়সীমা শনিবার পর্যন্ত পিছিয়ে রেখেছিলেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছেন, কানাডায় পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক আরোপ করা হবে না। তিনি এই বিষয়ে আরও বলেন, কৃষকদের জন্য কোনো শুল্কও থাকবে না।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্রাম্প জানান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ পর তিনি ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। এই শুল্ক বুধবার থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক্সে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। বুধবারের পরবর্তী সময়ে ১০টি প্রদেশের প্রধানমন্ত্রীদের (প্রিমিয়ার) এ বিষয়ে অবহিত করার কথা ছিল তার।
প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় কানাডায় উৎপাদিত গাড়ি এবং ট্রাকের ওপর সর্বোচ্চ শুল্কের হার বর্তমান ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের নির্বাহীদের মতে, এই শুল্কহার দেশের অভ্যন্তরীণ গাড়ি উৎপাদন খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। গাড়ি শিল্পের দুজন নির্বাহী জানিয়েছে, কানাডা এই শুল্কহার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
এই চুক্তির বিষয়ে অবগত শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইস্পাতের ওপর শুল্ক হ্রাসের এই সুবিধা কেবল একটি নির্দিষ্ট কোটা বা নির্ধারিত পরিমাণের আমদানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সূত্রগুলোর মধ্যে একটি জানিয়েছে, বার্ষিক কোটার পরিমাণ সম্ভবত ৪০ লাখ (৪ মিলিয়ন) মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হবে এবং এর চেয়ে বেশি পরিমাণ আমদানির ক্ষেত্রে ইস্পাতের ওপর পূর্বনির্ধারিত ৫০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে।
গত বছর জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় ওয়াশিংটন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল, যার জবাবে কানাডাও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে ছিল। কার্নি প্রায়ই বলেন, ঘনিষ্ঠ মিত্র এই দুটি দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য যুদ্ধ চলমান রয়েছে।
কানাডীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সাংবাদিকদের জানান, আমরা এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি যা কেবল আমেরিকান শ্রমিক, কর্মসংস্থান এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করবে না, বরং উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিকেও সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ