মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৫২ পি.এম
গাজীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এম মঞ্জুল করিম রনি মন্তব্য করেছেন, ‘পলাতক স্বৈরাচার বিদেশে বসে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে টঙ্গী বাজার সার্বজনীন শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দিরে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পূজা উৎসব পালনে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পূজার ছুটি বাড়িয়েছেন। তিনি জানান, আগামীতে ধুতি-পাঞ্জাবিও দেওয়া হবে। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন, অবিভক্ত গাজীপুর মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জসিম উদ্দিন ভাট, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের আহ্বায়ক আকবর হোসেন ফারক, গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সাথীসহ দলীয় নেতাকর্মী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাহাজ চলাচল ও পণ্য সরবরাহ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সউদী আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানি ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেকর্ডের দিকে এগোচ্ছে। এই যুদ্ধ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে শুরু হয়।
কেপলারের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে সউদী আরবের গড় তেল রপ্তানি দৈনিক ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ৭১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ মাসিক রপ্তানির রেকর্ড।
উল্লেখযোগ্য যে, চলতি বছরের শুরু থেকে হিসাব করলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ তেল রপ্তানি রেকর্ড করা হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল দৈনিক ৭৩ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। কেপলারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের প্রথমার্ধে আরব সাগরের 'রাস তানুরা' বন্দরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ২৯ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে, যা সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৪১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল।
অন্যদিকে, লোহিত সাগরের 'ইয়ানবু' বন্দরের মাধ্যমে এই সময়ে দৈনিক গড়ে ২৩ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হয়েছিল, যেখানে সেপ্টেম্বর মাসে তা ছিল ২৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল। এ ছাড়া অন্যান্য নির্দিষ্ট না করা লোডিং বন্দরগুলোর মাধ্যমে অতিরিক্ত ২ লাখ ২৯ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হয়েছে।
এই তথ্যগুলো থেকে বোঝা যায়, পূর্বাঞ্চলকে ইয়ানবু বন্দরের সাথে সংযুক্তকারী 'ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন' ব্যবহারের মাধ্যমে আরব সাগর এবং লোহিত সাগরের মধ্যে তেল সরবরাহ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সউদী আরামকোর দারুণ নমনীয়তা ও সক্ষমতা রয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে রাস তানুরা বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন বাধ্য হয়ে ইয়ানবু বন্দরকেই সউদী তেলের সব চালান সামলাতে হয়েছিল। জুন মাসে ইয়ানবু বন্দর দিয়ে রপ্তানি সর্বোচ্চ ৪২ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছায়, যা ছিল মোট তেলের প্রায় ৯৩ শতাংশ (ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল দৈনিক মাত্র ৮ লাখ ১৫ হাজার ব্যারেল)।
তবে গত সেপ্টেম্বরে ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলায় ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সউদী আরামকো আবারও রাস তানুরা বন্দর দিয়ে রপ্তানি বাড়াতে শুরু করে। তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে রাস তানুরা দিয়ে তেলের রপ্তানি ইয়ানবু বন্দরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমানে ভারতে দুই দিনের সফরে রয়েছেন। এই সফরের অন্যতম প্রধান গন্তব্য গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের তেল শোধনাগার, যা বিশ্বের বৃহত্তম একক তেল শোধনাগার কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রুবিওর সফরটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কেন এই সফর?
গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত এই শোধনাগার প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। মার্কিন প্রশাসন রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে, সেইসাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানি ও ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হোয়াইট হাউস প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রিলায়েন্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার তেল ও মার্কিন কূটনৈতিক চাপ:
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই আমদানির একটি বড় অংশ রিলায়েন্সের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ওয়াশিংটন যখন রুশ তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করেছে, তখন রুবিও ভারতের বিকল্প জ্বালানি পোর্টফোলিও এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, একদিনে হঠাৎ করে রাশিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন, তবে ভারত তাদের আমদানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রিলায়েন্সের বড় বিনিয়োগ:
এই কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ভারতের শীর্ষ ধনী এবং রিলায়েন্সের প্রধান মুকেশ আম্বানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের বিনিয়োগ শুরু করেছেন। টেক্সাসের ব্রাউনসভিল বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নতুন শোধনাগার প্রকল্পে রিলায়েন্স যুক্ত রয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া মাস্কের স্টার্লিং কোম্পানির সাথে ভারতীয় টেলিকম বাজারে রিলায়েন্স জিও-র প্রতিযোগিতা এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরেকটি আলোচিত অধ্যায়।
সবমিলিয়ে, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে কিছু মতপার্থক্য ও বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় জামনগরের এই শোধনাগারটি এখন মার্কিন কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে তিনি নগরীর রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলে পূজাম-প পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। এরপর এক মতবিনিময় সভায় সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতি শারদীয় শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
জে এম সেন হলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। এ সময় সেখানে একটি নৃত্যদলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে নৃত্য প্রদর্শন করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী জে এম সেন হলের অনুষ্ঠানে ছিলেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী রেডিসন ব্লুতে দলীয় নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জে এম সেন হল এলাকাকে সাজানো হয় বর্ণাঢ্য সাজে। অনুষ্ঠানস্থলে ৩০০ অতিথির জন্য আসন নির্ধারণ করা থাকলেও এর আশপাশে হাজার হাজার নেতাকর্মীর ভিড় দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে নগরীর রেডিসন ব্লু থেকে কাজির দেউড়ি, জামালখান হয়ে রহমতগঞ্জ পর্যন্ত এলাকায় মানুষের ঢল নামে।
প্রধানমন্ত্রীর আসা-যাওয়ার পথে বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান করেন। তাকে স্বাগত জানিয়ে সেøাগান দেন। রেডিসন ব্লুতে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে হোটেল লবি থেকে শুরু করে আশপাশের সড়কে কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী থেকে সামরিক উড়োজাহাজে করে তিনি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য নগরের কোতোয়ালি থানার জেএমসেন হল এলাকায় উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল থেকে হলের আশপাশে বিভিন্ন বয়সের মানুষ জড়ো হতে থাকেন।
বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নগরের রহমতগঞ্জের জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে তিনি গাড়ি থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে একটি সাংগঠনিক সভায় অংশগ্রহণের কর্মসূচি রয়েছে। সব কর্মসূচি শেষে রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ