০৯:৪৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে আইসিই হেফাজতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী বেলারুশের নাগরিক কাতসিয়ারিনা বার্তকোর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি অস্ত্রোপচারে অপসারণের পর গত ১১ বছর ধরে নিয়মিত হরমোন ও ক্যালসিয়াম ওষুধের ওপর নির্ভরশীল এই নারীকে ওষুধ সরবরাহে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, তার হরমোনের মাত্রা মারাত্মকভাবে অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে এবং চিকিৎসকরা মিক্সিডিমা কোমার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন।
বার্তকোকে গত জুনে ফ্লোরিডা থেকে কানসাসের লিভেনওয়ার্থে আইসিইর একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। তার আগে ৬ থেকে ৯ জুনের মধ্যে মাত্র চার দিনে তাকে তিনবার হাসপাতালে নিতে হয়েছিল। একটি জরুরি বিভাগে তাকে তীব্র শারীরিক সংকটে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিরায় ক্যালসিয়াম দেওয়া হয়।
বার্তকোর পার্টনার দিমিত্রি শিশভের অভিযোগ, কানসাসের ডিটেনশন সেন্টারে যাওয়ার পর তার প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে একাধিকবার সমস্যা হয়। চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, ২৩ জুন তার লেভোথাইরক্সিন ওষুধটি নিয়ে নেওয়া হয় এবং ১০ জুলাই পর্যন্ত সেটি তাকে নিয়মিত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: এই দেশে আমার যতটা অধিকার, আপনাদেরও ততটুকু: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের মণ্ডপে
ওষুধ বন্ধ থাকার কয়েক দিনের মধ্যেই বার্তকো চিকিৎসাকর্মীদের কাছে বুকের নিচে তীব্র ব্যথা, মাথা ঘোরা ও ঝাপসা দেখার কথা জানান। ২৬ জুনের একটি মেডিকেল ফর্মে এসব উপসর্গের কথা লিখলেও নিচে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মী উল্লেখ করেন, এ সময় কোনো চিকিৎসা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই এবং তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন।
২ জুলাইয়ের একটি মেডিকেল নোটে বলা হয়, বার্তকো লেভোথাইরক্সিনে অ্যালার্জির কথা জানিয়েছেন। তবে ফিজিশিয়ান ফর হিউম্যান রাইটস -এর চিকিৎসক সারাহ রাজা আদালতে দেওয়া নথিতে প্রশ্ন তোলেন, ওই নোটে বার্তকোর স্বাক্ষর নেই এবং তার দীর্ঘদিনের চিকিৎসা নথিতে লেভোথাইরক্সিন ও ক্যালসিয়াম নিয়মিত ব্যবহারের তথ্য রয়েছে।
এর মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির ইঙ্গিত মিলেছে রক্ত পরীক্ষায়। ১১ আগস্টের পরীক্ষায় তার TSH মাত্রা ১৪৮ দশমিক ৭৭ mIU/L পাওয়া যায়, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রার সর্বোচ্চ সীমা প্রায় ৪ দশমিক ৫। চিকিৎসক সারাহ রাজা এই ফলকে গুরুতর হরমোন ঘাটতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
রাজা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বার্তকোর মিক্সিডিমা কোমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মিক্সিডিমা কোমায় পৌঁছানো রোগীদের মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বার্তকো বর্তমানে কোমায় রয়েছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: কম্বোডিয়ার বন্দিদশা থেকে মুক্ত ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছে
কানসাসে স্থানান্তরের পর দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে কোনো এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা অন্য কোনো বাইরের বিশেষজ্ঞ দেখেননি বলে ফেডারেল কোর্টে জমা দেওয়া নথিতে আইসিই স্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারের মেডিকেল স্টাফ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং অফসাইট বিশেষজ্ঞের পরামর্শকে জরুরি নয়, বরং রুটিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
আইসিই ও ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী কোর সার্ভিক বার্তকো যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে। তবে তার আইনজীবী ও পার্টনার চিকিৎসা নথির ভিত্তিতে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন।
বার্তকোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শুরু হয় ২০২২ সালের মার্চে এফ -১ স্টুডেন্ট ভিসায়। বেলারুশে ২০২০ সালের সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি বেলারুশের সমর্থনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করার কারণে তিনি দেশটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে তার পার্টনার জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেন।
এর আগে গত ৫ মে মিয়ামিতে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিরোধের ঘটনায় তাকে মিসডিমিনর ব্যাটারি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে ২ জুন ফ্লোরিডার স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় মামলাটি আর এগোয়নি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দণ্ড হয়নি। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ স্টুডেন্ট ভিসা সংক্রান্ত অভিবাসন বিষয়কে কেন্দ্র করে আইসিই তাকে হেফাজতে নেয়।
আরও পড়ুন: সুদানে ড্রোন হামলায় ২ শতাধিক প্রাণহানি
২২ জুলাই একজন ইমিগ্রেশন জাজ বার্তকোর বন্ড আবেদন নাকচ করেন এবং তাকে ফ্লাইট রিস্ক হিসেবে বিবেচনা করেন। একই সময়ে তিনি অন্যদের জন্য হুমকি নন বলে বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছিল বলে তার পক্ষের বক্তব্য।
এদিকে বার্তকোর চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে ফেডারেল আদালতে নতুন আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। আগস্টে তিনি হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা অথবা তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে লিভেনওয়ার্থের ডিটেনশন সেন্টারেই রয়েছেন বার্তকো। তার অ্যাসাইলাম শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। তার পার্টনার দিমিত্রি শিশভের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহতভাবে ব্যাহত হলে তার শারীরিক অবস্থা আরও গুরুতর হতে পারে।
আরও পড়ুন: সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরি করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন