মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৩৪ পি.এম
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় এক পুলিশ কনস্টেবলসহ পাঁচজনকে আটক করেছে খুলশী থানা-পুলিশ। আটক পুলিশ সদস্যের নাম অনিক দাশ। তিনি বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ছুটিতে আছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় প্রথমে চক্রটির এক সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল অনিক দাশসহ আরও চারজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে চক্রটির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে একজনকে আটক করার পর তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হয়। পরে নগরের খুলশী এলাকা থেকে পুলিশ কনস্টেবলসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়।
তবে মোটরসাইকেলটি কোথা থেকে চুরি করা হয়েছে, এর প্রকৃত মালিক কে এবং চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়ার কথা।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, বান্দরবান জেলা পুলিশের একজন কনস্টেবল ও তাঁর চার সহযোগীকে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় আটক করা হয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, চোরাই মোটরসাইকেল চোর চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের সময় প্রথমে চক্রটির এক সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্যদের আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে চক্রটির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
বান্দরবান জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, চট্টগ্রাম নগরে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি করতে গিয়ে এক পুলিশ কনস্টেবল আটক হয়েছেন। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে। মামলার কাগজপত্র পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
এ ঘটনায় আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিস্তারিত তথ্য, উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের পরিচয় এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে দেশে ফেরার পথে আটক হওয়া ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফিরে এসেছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারা পৌঁছান। আটক হওয়া এই ৩০ বাংলাদেশি কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে ছিলেন। ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে নমপেন বিমানবন্দরে গেলে তাদেরসহ ৩২ বাংলাদেশিকে আটক করে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে দুজন মুক্তি পেলেও বাকি ৩০ জন আটক ছিলেন।
দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন- হারুন অর রশীদ, আব্দুল ওয়াদুদ, তারলিব হাসান তিতুল, সুমিত চন্দ্র দাস, রাকিব হোসেন, বাপ্পি দাস, লাবণ শেখ, আবদুর রহমান, বিল্লাল হোসেন, মো. মোস্তফা, নূর নবী, ইমন আলী, বারকাতুল্লাহ, রুবেল মিয়া, আলী আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম, শামসুল আলম, আবদুর রহমান, আবু জাহের সবুজ, শাওন, নাহিদ ঢালি, রাজু হোসেন, তৈয়ব আলী শেখ, সাইমন ভূইঁয়া, মো. রাশেদুল, আকাশ আহমেদ, শিমুল আলী, আশিকুর রহমান, আলামিন পিকে ও মোহাম্মদ কবির।
জানা যায়, আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে এসব বাংলাদেশিকে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার পর তাদের জোর করে সাইবার স্ক্যামিং বা অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হতো। পালানোর চেষ্টা করলে তাদের নির্যাতনের শিকার হতে হতো।
কম্বোডিয়া সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিনা জরিমানায় দেশে ফেরার সুযোগ দিলে ওই বাংলাদেশিরা নাম তালিকাভুক্ত করেন। সে অনুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বর তারা নমপেন বিমানবন্দরে যান। তবে ইমিগ্রেশন যাচাইয়ের সময় অবৈধভাবে অবস্থানসহ বিভিন্ন জটিলতায় তাদের আটক করা হয়। আটক বাংলাদেশিদের মুক্তি ও দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নিতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়।
বোর্ডের উপপরিচালক (আইআরপি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মুক্তি ও দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার দেশে ফেরেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীন ও সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল ধর্মের মানুষের একমাত্র ও প্রধান পরিচয় হলো তারা এ দেশের গর্বিত নাগরিক। ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে অভিহিত করার সুযোগ নেই।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ মহল সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষকে কেবল ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে গত নির্বাচনে দেশের জনগণ সেই ধারণার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতার মোহে দেশের বিভিন্ন স্থানে উপাসনালয় ও সম্পত্তি দখল এবং সহিংসতার রাজনীতি করেছে, জনগণ তাদের সেই অপচেষ্টা সফল হতে দেয়নি। বিগত দিনে বেদখল হওয়া অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধার এবং মন্দির-সংক্রান্ত অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, বরং কাজের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, উপাসনালয়ের নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য নিপুণ রায়সহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘যেই বাংলাদেশের জন্য ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন সময়ে অকাতরে আমরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছি, আসুন সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনাদের সবার সহযোগিতা আমার চাই। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত দেশ গড়তে পারব না।’
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যাই হই না কেন, এই দেশ আমাদের সবার। যেহেতু আমরা এই দেশে জন্মেছি, আমাদের একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। আমি যেহেতু মুসলিম, এই দেশে আমি সংখ্যাগুরু, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ ১৭ বছর আমাকে লন্ডনে থাকতে হয়েছে। সেখানে কিন্তু আমি সংখ্যালঘু ছিলাম। কারণ, সেখানে অন্য ধর্মের মানুষ বেশি। সুতরাং সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু কোনো বিষয় নয়। বিষয় একটাই, আমরা সবাই বাংলাদেশি।’
তিনি বলেন, ‘এই দেশের আইন আমার জন্য যেমন প্রযোজ্য, আপনার জন্যও তেমন প্রযোজ্য। এই দেশে আমার যতটা অধিকার আছে, আপনাদেরও তেমনটাই আছে।’
এর আগে, রাত সোয়া ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল দাস, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীব ধর তমাল ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমানসহ অন্যান্য নেতা। পরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন সরকারপ্রধান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন প্রমুখ।
এর আগে, সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি সরাসরি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার দেশের ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ১০ ধরনের সুবিধা লাভ করবেন। কৃষিকে লাভজনক করার, উৎপাদন ব্যয় কমানোর এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য সরকারের এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
জনসভায় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে"—এই বিশ্বাস থেকেই কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের সহায়তা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে খাল খনন ও নদী সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সেচ সুবিধা বাড়াতে এবং কৃষির পানির সংকট দূর করতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। তিনি দাবি করেন, গত আট মাসে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে কৃষকের সেচের পানির সংকট কমবে। বিশেষ করে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের যেসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, সেখানে পানির সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণেও এটি সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েই প্রথম এই খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় কৃষকের সেচ সুবিধা বাড়ানো ও গ্রামীণ জনপদের পানির কষ্ট কমাতে সরকার আবারও নদী ও খাল খননের কাজ শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করা হবে। এতে সাধারণ চিকিৎসার জন্য গ্রামের মানুষকে আর দূরের জেলা শহর কিংবা মহানগরীতে যেতে হবে না।
তিনি জানান, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে শিশু ও নারীদের জন্য আলাদা শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিস সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক ও সাধারণ চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে, তবে গুরুতর রোগীদের প্রয়োজনে বড় হাসপাতালে যেতে হতে পারে।
রাজশাহীর চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, স্থানীয় নেতারা এখানকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০-তে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন।
সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় রাজশাহী ধর্মসভায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি সড়কপথে হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে গিয়ে সামরিক বিমানযোগে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ