ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিসিএসের গেজেট আটকে রাজনৈতিক পরিচয়কে মানদণ্ড বানানো যাবে না: এবি পার্টি


বিসিএসের গেজেট আটকে রাজনৈতিক পরিচয়কে মানদণ্ড বানানো যাবে না: এবি পার্টি

৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। তবে গেজেট থেকে বাদ পড়েছে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারীসহ ৫৭ জনের নাম। বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

তারা মন্তব্য করেছেন, বিসিএসের মতো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পিএসসির সুপারিশ পাওয়ার পরও কারও নিয়োগ আটকে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একটি চাকরি শুধুমাত্র একজন তরুণের কর্মসংস্থান নয়, বরং এটি একটি পরিবারের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এই কারণে সরকারের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত আচরণ এবং মানবিকতা নিশ্চিত করা উচিত।

তারা আরও বলেন, যদি কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী বা আইনত নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িত না হন, তাহলে শুধুমাত্র তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ অথবা পরিবারের কোনো সদস্যের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে চাকরি আটকে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। একজন প্রার্থীর মূল্যায়ন হতে হবে তাঁর নিজস্ব মেধা, যোগ্যতা, সততা এবং ব্যক্তিগত রেকর্ডের ভিত্তিতে, তাঁর বাবা, চাচা বা মামা কোন রাজনৈতিক দল করেন, তার ভিত্তিতে নয়।

আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার সোমবার

নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেছেন, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে মেধাবীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছিল। যারা তখন এর প্রতিবাদ করেছিলেন, ক্ষমতায় এসে তাঁদের আমলে একই ধরনের অভিযোগ তৈরি হলে তা গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ক্ষমতার পরিবর্তনের অর্থ কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের আচরণ ও বঞ্চনার সংস্কৃতিরও পরিবর্তন হতে হবে।

এবি পার্টির নেতৃদ্বয় ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৭ জনকে (ফৌজদারী অপরাধ জড়িত না থাকলে) গেজেটে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। তাঁরা একই সঙ্গে অস্বচ্ছ ও হয়রানিমূলক ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া থেকে চাকরিপ্রত্যাশীদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, মজলুমের কাতার থেকে ক্ষমতায় এসে যদি একই বঞ্চনার সংস্কৃতি চালু করা হয়, জনগণ তা মেনে নেবে না। ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রের আচরণের পরিবর্তনই জনগণের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৯ অক্টোবর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্টমার্টিনে বদলাচ্ছে পর্যটন নীতিমালা, থাকছে না রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


সেন্টমার্টিনে বদলাচ্ছে পর্যটন নীতিমালা, থাকছে না রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় পর্যটকদের রাত্রিযাপন ও ভ্রমণের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পর্যটন ব্যবসার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে নতুন নীতিমালায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা, পরিবেশবিদ, পর্যটন ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটরসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তী ব্যবস্থায় নভেম্বর মাসে পর্যটকদের দিনের বেলায় ভ্রমণের সুযোগ রাখা হলেও রাত্রিযাপনের অনুমতি ছিল না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সীমিতসংখ্যক পর্যটক রাত্রিযাপন করতে পারতেন। সরকারি পর্যটন তথ্যেও সেন্টমার্টিনে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের এই সময়ভিত্তিক ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে।

তবে এ বিধিনিষেধের কারণে দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসা ও স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেছেন সেখানকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, পর্যটক কমে যাওয়ায় হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, নৌযান, পর্যটন পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জীবিকার সংকটে কিছু বাসিন্দার মধ্যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতাও দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহিম জিহাদীর তথ্যমতে, দ্বীপে বর্তমানে প্রায় ১৫০টি আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব আবাসন প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটন মৌসুমে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করে দ্বীপের অর্থনীতি মূলত পর্যটননির্ভর হয়ে উঠেছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, সেন্টমার্টিনে যাতায়াতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ এবং সেখান থেকে নৌপথে দ্বীপে যেতে পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য সময় লাগে। ফলে কয়েক ঘণ্টার জন্য দ্বীপে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতা পর্যটকদের নির উৎসাহিত করছে। সরকারি পর্যটন তথ্যেও টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনের নৌযাত্রায় প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগার কথা উল্লেখ রয়েছে।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করে একজন পর্যটক সেন্টমার্টিনে গিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করে আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ফিরে আসা বাস্তবসম্মত নয়। তাই পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের রাত্রিযাপনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামানও রাত্রিযাপনের বিধিনিষেধে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পর্যটকদের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। এতে করে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও কক্সবাজার-টেকনাফের পর্যটনসংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের অনেকে আগের বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণের নামে নেওয়া সিদ্ধান্তে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও পর্যটন ব্যবসার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তারা আগের নীতিমালার কারণে সেন্টমার্টিনের পর্যটন খাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তার পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, তার সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে সেন্টমার্টিনসহ কক্সবাজারের পর্যটন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এ বিষয়ে তদন্ত করে দায় নির্ধারণ ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও প্রবালপ্রাচীর রক্ষা করতে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। সরকারি নথিতেও দ্বীপটিকে প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থা ও মাস্টার প্ল্যানের উদ্যোগের কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নীতিমালায় একদিকে পর্যটকের সংখ্যা ও পরিবেশগত চাপ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক ব্যবহার রোধ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে দ্বীপের প্রায় ৮-১০ হাজার বাসিন্দার জীবন-জীবিকা এবং পর্যটননির্ভর অর্থনীতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। সরকারের নতুন নীতিমালায় এই দুই দিকের মধ্যে সমন্বয় কতটা করা যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অবলম্বন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অবলম্বন

শরীয়তপুর, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলার জলাভূমি, বিল-ঝিল ও নিম্নাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম একটি উপাদান জলজ উদ্ভিদ শাপলা। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই জলজ উদ্ভিদ বর্তমানে শরীয়তপুরে স্থানীয় অর্থনীতির একটি দৃশ্যমান অংশে পরিণত হয়েছে।

বর্ষা আসলেই নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের পানিতে ফুটে থাকা লাল, সাদা ও বেগুনি শাপলা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে আরও মনোরম করে তোলে। তবে কালের বিবর্তনে শাপলা এখন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের অংশ নয়, বরং নদীবেষ্টিত শরীয়তপুরের বহু প্রান্তিক মানুষের কাছে এটি জীবিকা ও আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বনে পরিণত হয়েছে।

বর্ষাকালে শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন বিল, ডোবা, জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রচুর শাপলা জন্মায়। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এসব শাপলা সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছেন নিম্নআয়ের মানুষ। ভোর থেকে নৌকা কিংবা ছোট ছোট জলযানে বিলের পানিতে নেমে শাপলা সংগ্রহ করেন তারা। পরে সেগুলো পরিষ্কার করে মুঠি বা আঁটি বেঁধে বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন নিম্নবিত্তের মানুষ। কারও কাছে এটি পারিবারিক আয়ের সহায়ক, আবার কারও কাছে বর্ষা মৌসুমে প্রধান আয়ের একটি উৎস।

শরীয়তপুরের বিভিন্ন বাজারে গেলে দেখা যায়, অন্যান্য সবজির পাশাপাশি শাপলারও আলাদা বাজার তৈরি হয়েছে। জেলার সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের হাট-বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ শাপলা বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এর একটি অংশ আশপাশের জেলাগুলোর বাজারেও যাচ্ছে।

স্থানীয় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাপলা সাধারণত মুঠি বা আঁটি হিসেবে বিক্রি করা হয়। বাজার, মৌসুম ও প্রকারভেদে শাপলার দাম ওঠানামা করে। ১০ থেকে ১২টি শাপলা নিয়ে একটি মুঠি তৈরি করা হয়। প্রতি মুঠি শাপলা ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দাম বাড়ে এবং কমে। কোনো মূলধন বিনিয়োগ ছাড়াই জলাশয় থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি করা যায় বলে দরিদ্র মানুষের কাছে এটি আকর্ষণীয় জীবিকার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাপলা সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত মানুষের অধিকাংশই নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। তাদের অনেকের নিজস্ব জমি নেই, বড় কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করার সামর্থ্য নেই। বর্ষাকালে যখন অনেক কৃষি শ্রমিকের নিয়মিত কাজ কমে যায়, তখন শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রি তাদের জীবিকার অবলম্বন হয়ে ওঠে। ফলে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানদের লেখাপড়া কিংবা অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় মেটাতে শাপলা বিক্রির অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শাপলা শুধু বিক্রির ক্ষেত্রেই নয়, খাদ্য হিসেবেও গ্রামবাংলায় দীর্ঘদিনের পরিচিত সবজি। শরীয়তপুরের মানুষের খাদ্যতালিকায় শাপলার বিশেষ স্থান রয়েছে। শাপলা ভাজি, শাপলা দিয়ে ডাল, বিভিন্ন মাছের সঙ্গে শাপলার তরকারি এবং ইলিশের সঙ্গে শাপলা রান্না এ অঞ্চলের মানুষের কাছে বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে তাজা শাপলা সহজলভ্য হওয়ায় অনেক পরিবারের খাদ্য তালিকায় শাপলার স্থান বিদ্যমান থাকে।

শরীয়তপুরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য শাপলা উৎপাদন ও সংগ্রহের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক। পদ্মা, মেঘনা, কীর্তিনাশা, জয়ন্তীসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও শাখা-প্রশাখা ঘেরা এ জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল বর্ষাকালে পানিতে প্লাবিত হয়। বিভিন্ন বিল, জলাশয় ও নিচু জমিতে তখন প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় শাপলা। কিছু কিছু এলাকায় পানির বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে শাপলার পাতা ও ফুল দেখা যায়। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহযোগ্য এসব শাপলা অনেক দরিদ্র মানুষের কাছে আয়ের উৎস।

তবে শাপলা সংগ্রহের এ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনও অনেকটাই অনানুষ্ঠানিক। যারা শাপলা সংগ্রহ করেন, তাদের অধিকাংশের কোনো সংগঠিত বাজারব্যবস্থা নেই। তারা সাধারণত স্থানীয় আড়তদার, পাইকার কিংবা খুচরা বিক্রেতার কাছে সরাসরি বিক্রি করেন। ফলে প্রকৃত সংগ্রহকারীরা অনেক সময় বাজারদরের পুরো সুবিধা পান না। পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক বাজারজাত এবং পরিকল্পিতভাবে শাপলা সংগ্রহ করা গেলে এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয়ের আরও কার্যকর উৎস হতে পারে। শাপলা সংগ্রহকারীদের সমবায়ভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা, বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা এবং পাইকারি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। পাশাপাশি শাপলা পরিষ্কার, বাছাই ও পরিবহনের জন্য সহজ ও স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে বাজারমূল্যও বাড়ানো সম্ভব।

জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে শাপলা বিক্রির দৃশ্য এখন বর্ষাকালের পরিচিত চিত্র। মাথায় বা হাতে শাপলার আঁটি নিয়ে বাজারে আসছেন নারী-পুরুষ। কেউ বিল থেকে সংগ্রহ করেছেন, কেউ আবার সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করছেন। ক্রেতারাও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী শাপলা কিনে বাড়ি ফিরছেন। এভাবে শাপলাকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে একটি ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা।

সকালের সূর্য উঠতে না উঠতেই কাক ডাকা ভোরে পানিতে নেমে শাপলা সংগ্রহ থেকে শুরু করে বাজারে নিয়ে আসা, বাছাই করা, আঁটি বাঁধা এবং বিক্রি করা, প্রতিটি ধাপেই শ্রম দিচ্ছেন প্রান্তিক মানুষ। তাদের কাছে শাপলা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সংসারের আয়-রোজগারের একটি বাস্তব মাধ্যম। এ পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের শ্রম।

শাপলা সংগ্রহকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তালিকা তৈরি, তাদের সংগঠিত করা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজারজাতকরণে সহায়তা এবং জলাভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে শাপলা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রমের সম্ভাবনাও যাচাই করা যেতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাকে টেকসই করতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নজর দেওয়া দরকার।

এ প্রসঙ্গে পালং বাজারে শাপলা বিক্রেতা শরীয়তপুর সদর উপজেলার আড়িগাঁও গ্রামের আব্দুল গফুর বলেন, "প্রতিদিন সকালে আমি বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করি। এ দিয়ে সংসারে খরচ মিটিয়ে ভালোভাবেই দিনযাপন করছি। ১০ টাকা মুঠি দরে প্রতিদিন আমি প্রায় ২শ" শাপলা বিক্রি করি।"

শরীয়তপুরের পাশ্ববর্তী মাদারীপুরের গোবিন্দ বালা প্রতিদিন শাপলা নিয়ে শরীয়তপুরে আসেন। তিনি বলেন, "আমি রাজৈর আমগ্রাম বিল থেকে শাপলা নিয়ে শরীয়তপুর আসি। বিক্রি খুব ভালো। প্রতি মোটা শাপলা ২০ টাকা দরে বিক্রি করি।"

এ বিষয়ে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-সহকারী পরিচালক মাসুমা জান্নাত বাসসকে বলেন, "শাপলা এখনো কৃষি পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়। এ সম্পর্কে আমাদের কোন গবেষণা নেই। শরীয়তপুরের বিল, ডোবা, জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রচুর শাপলা জন্মে। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এসব শাপলা সংগ্রহ করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন নিম্নআয়ের মানুষ। তবে আগের তুলনায় এটা এখন বাণিজ্যিক ভাবে বাজারে আসছে। এটা বাণিজ্যিকীকরণের বিষয়টি ভেবে দেখবো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালীগঞ্জে সমিতির সভাপতি তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও, অফিসে তালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


কালীগঞ্জে সমিতির সভাপতি তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও, অফিসে তালা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ‘শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’-এর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে সভাপতি আবুল হাসেম উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সঞ্চয় করা টাকা ফেরত না পেয়ে ১৫ শতাংশ মুনাফার আশ্বাসে চরম বিপাকে পড়েছেন সমিতির শত শত সদস্য। পাওনা টাকা উদ্ধারে ভুক্তভোগীদের অনেকেই এখন থানায় ও আদালতে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

সমিতির কার্যালয়ে তালা দিয়ে সভাপতি আবুল হাসেম চলে যাওয়ার পর ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে অফিসটি বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাওনাট বাজারে সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনটির নিচতলার দোকানপাট ও ওপরের তলার অফিসগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

সমিতি সূত্র ও সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে সদস্য করে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। ১৫ শতাংশ মুনাফার প্রলোভনে অনেক সদস্য ব্যাংক থেকে সঞ্চয় তুলে সমিতিতে জমা রেখেছেন। সদস্যদের দাবি, সমিতির মোট মূলধন প্রায় ১০ কোটি টাকা।

২০১০ সালে সমবায় অধিদপ্তর থেকে ১০৯৮ নম্বর নিবন্ধন নিয়ে সমিতিটির কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এর সভাপতি আবুল হাসেম (৪৬)। তিনি কাপাসিয়া উপজেলার দড়িমেরুন গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে।

ভুক্তভোগী সদস্যরা জানান, সভাপতি অফিস বন্ধ করে চলে যাওয়ার পর প্রথম দিকে প্রতিদিনই সদস্যরা কার্যালয়ে ভিড় করতেন। কিন্তু অফিসটি টানা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকেই টাকা ফেরতের আশায় আইনগত ব্যবস্থার দিকে হাঁটছেন।

বরুন গ্রামের সালমা বেগম ও সুবর্ণা আক্তার জানান, তাঁরা দুজন মিলে সমিতিতে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জমা রেখেছেন। সভাপতি চলে যাওয়ার পর থেকে সেই টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো দিশা মিলছে না। চাপাত মাঝিবাড়ি গ্রামের নিখিল দাস বলেন, তাঁর ২ লাখ ১০ হাজার টাকা সমিতিতে জমা রয়েছে। ফুলবাড়িয়া গ্রামের এক নারী সদস্য জানান, তিনি ৬ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, সভাপতি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ভারতে এক বন্ধুর বাড়িতে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে তাঁর সুনির্দিষ্ট অবস্থানের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অফিস বন্ধ করে চলে যাওয়ার কারণ জানতে তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সদস্যদের অভিযোগ, সভাপতির আত্মগোপনের পেছনে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সমিতির একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কাপাসিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কার্যালয় কীভাবে খোলা যায়, সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যরা থানায় অভিযোগ করছেন, আমরাও পুরো বিষয়টি তদন্ত করছি। তিনি আরও জানান, গত বছর সমিতির সদস্য সংখ্যা ছিল ৪৯৬ জন; তবে চলতি বছরের হালনাগাদ সংখ্যা জানা যায়নি।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সমবায় কর্মকর্তা আরিফা সুলতানা শিপা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই এবং সমিতির সদস্য সংখ্যাও তাঁর জানা নেই।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক মো. আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটার পরও জেলা সমবায় কর্মকর্তা কিছু জানেন না বললে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অফিস বন্ধ ও মূল উদ্যোক্তার নিরুদ্দেশ হওয়ায় সঞ্চয়ের সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা। টাকা ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে শত শত ভুক্তভোগী পরিবারের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় নিসচার মাসব্যাপী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন উদ্বোধন, প্রধান অতিথি তানভীর আহমেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


খুলনায় নিসচার মাসব্যাপী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন উদ্বোধন, প্রধান অতিথি তানভীর আহমেদ

‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী ২২ অক্টোবর দেশব্যাপী পালিত হবে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬। এই দিবসটি উপলক্ষে খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) মাসব্যাপী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় খুলনা মহানগরীর শিববাড়ি মোড়ে জিয়া হলের সামনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর খুলনা বিভাগীয় পরিচালক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিসচা খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি ও সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান মুন্না। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন তালুকদার সোহাগ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ খুলনা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান এবং ‘আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসী’র সাধারণ সম্পাদক রোটারিয়ান সরদার আবু তাহের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিসচা খুলনা মহানগর শাখার সহসাধারণ সম্পাদক কাজী রাসেল, অর্থ সম্পাদক নাজমুল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক নাসিফ ইকবাল, প্রকাশনা সম্পাদক রাশেদ রানা, সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, মহিলা সম্পাদক সুমাইয়া আক্তার সিনথি, নির্বাহী সদস্য শেখ মাহামুদ হাসান সোহেল, মো. রবিউল ইসলাম তনু, জিয়াউল হক মিলন, মো. কামাল হোসেন, মো. মোশারফ হোসেন, মো. শাহ নেওয়াজ, মাজহারুল ইসলাম শান্ত, সাধারণ সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সুমা, মো. শফিকুল ইসলাম এবং সমাজকর্মী সুজান্না লোপা বাড়ৈ।

প্রধান অতিথি প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই-এর মূল লক্ষ্য হলো সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করা। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপদ সড়ক কোনো দাবি নয়, এটি আমাদের অধিকার। এই লক্ষ্যেই আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচার মাসব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে তাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তিনি সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞ। সড়কে চলাচলের সময় প্রত্যেকের লক্ষ্য হওয়া উচিত নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে সুস্থভাবে পরিবারের কাছে ফিরে আসা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি শিববাড়ি মোড়ে সড়ক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত রোড ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি পথচারী, চালক ও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%