সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৪ পি.এম
ঝালকাঠির চাষীরা বাংলার আপেল খ্যাত পেয়ারা চাষে আগ্রহ হারাতে শুরু করেছেন। মৌসূম শেষে আয়-ব্যায় হিসেব করে লাভজনক না হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। এই কারণে পেয়ারা চাষের জমি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলার ৫৫৪ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়েছে। ৫৬২৩ মেট্রিকটন পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে। বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫৬২ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ করা হয়েছিল। ওই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৬০৪২ মেট্রিকটন। দুই বছরের ব্যবধানে পেয়ারার আবাদ কমেছে ৮ হেক্টর জমিতে।
বরিশাল অঞ্চলের পেয়ারার দেশব্যাপী বিপুল চাহিদা রয়েছে। সুস্বাদু এই ফলের চাহিদার বেশিরভাগই ঝালকাঠি থেকে পূরণ হচ্ছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন হাটে পেয়ারা কেনাবেচা হচ্ছে। এর মধ্যে ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটি সবচেয়ে বড়। এই হাট থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয় পুষ্টিকর এ ফল। বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় এবং লাভজনক না হওয়ায় জেলায় প্রতি বছরই কমছে আমড়ার আবাদ।
এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় পেয়ারার ফলন কম হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা ভিমরুলীর ভাসমান হাট থেকে পেয়ারা কিনছেন ৮শ থেকে এক হাজার টাকা মণ দরে। পেয়ারা চাষি ও পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেয়ারা আকার ও কালারভেদে দর নির্ণয় করা হয়। এ জন্য ৮শ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দামে প্রতি মণ পেয়ারা ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।
চাষি সুজন হালদার শানু জানান, আমড়া গাছে প্রতিবছর শীত মৌসূমে পরিচর্যা, সার-কীটনাশক প্রয়োগ, পেয়ারা সংগ্রহ, বাজারজাত করণে যে পরিমাণ খরচ হয়, তাতে বিক্রির অর্থ দিয়ে পোষানো যায় না। তিনি বলেন, মৌসূমে প্রতিদিনই পেয়ারা সংগ্রহ করতে হয়। একজন শ্রমিককে দিতে ৮শ টাকা। কিন্তু পেয়ারা বিক্রি করা যায় এক থেকে দেড় হাজার টাকার। অনেক সময় এর চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে হয়। এরচেয়ে আমড়া বা অন্যান্য ফসল চাষ করলে তাতে লাভ বেশি হয়।
কীর্তিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্বনামধন্য কৃষক ভবেন্দ্রনাথ হালদার জানান, পেয়ারা চাষে এখন আর লাভ নেই। এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারার ফলন ভালো হয়নি। যা হয়েছে, তাতে আবার এনথ্রাক্স (কালো ছিট পড়া) রোগ দেখা দিয়েছে। পেয়ারা পাকতে শুরু করলে প্রতিদিনই গাছ থেকে পেড়ে (সংগ্রহ করে) বাজারে আনতে হয়। একজন শ্রমিককে খরচ সাতশ টাকা দিতে হয়, কিন্তু পেয়ারা বিক্রি হয় চারশ টাকার। এর চেয়ে জমিতে আমড়ার আবাদ করলে লাভ বেশি হয়। প্রতিটি গাছে ৩-৪ মণ আমড়া ধরে। দু’জন শ্রমিক নিয়োগ করলে তারা ১০-১২টি গাছের আমড়া পাড়তে পারে। প্রতিদিন আমড়া পাড়তে হয় না, পরিপক্ব হলে এক দিনেই সব পাড়ানো সম্ভব। তা ছাড়া একটি বাতাবিলেবু (জাম্বুরা) গাছ লাগালেও সেখান থেকে কমপক্ষে দুই হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব।
স্বরূপকাঠির পাইকার নোমান বলেন, এবছর ফলন তেমন ভালো হয়নি। আমরা এখানে চাষিদের থেকে পেয়ারা কিনে ঢাকায় চালান করেছি। প্রতি মণ পেয়ারা আকার ও কালার ভেদে ৮শ’ থেকে এক হাজার টাকায় ক্রয় করি। প্রতিমণ পেয়ারায় দুইশ’ টাকা লাভ থাকে। এর মধ্যে আমাদের শ্রমিক, পরিবহন, খাবার খরচ শেষে একশ টাকা লাভ হয়।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর তুলনামূলকভাবে পেয়ারার চাষ হ্রাস পাচ্ছে। এবছর পেয়ারার চাষ কম হওয়ায় চাষিরা তাঁদের কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা তাঁদের উদ্বুদ্ধ করতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জ, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আজ ১২টি জলাশয়ে মোট ২৮৬ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদ পুকুরে ৪০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম, কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিন মিয়া, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসলাম হোসেন শেখ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. মিলন খান, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. সোহেল হোসেন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোরাদ আলী, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সৌরভ রেজা শিহাব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস. এম. মনোয়ার মাহামুদ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী এজাজুল করীম।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসলাম হোসেন শেখ জানান, কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদ পুকুর ছাড়াও পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে কুমার নদে ৫০ কেজি, মধুমতি বাওড়ে ৫০ কেজি, কাশিয়ানী থানা পুকুরে ২১ কেজি, হাইশুর বৃদ্ধাশ্রম পুকুরে ২০ কেজি, গোয়ালগ্রাম কামিল মাদ্রাসা পুকুরে ১৫ কেজি, তারাইল-ফুকরা মাদ্রাসা পুকুরে ১৫ কেজি, কাশিয়ানী রেল স্টেশন মাদ্রাসা পুকুরে ১৫ কেজি, তারাইল আশ্রয়ণ পুকুরে ১৫ কেজি, সাফলীডাঙ্গা আশ্রয়ণ পুকুরে ১৫ কেজি, সাবেক পদ্মবিলা আশ্রয়ণ পুকুরে ১৫ কেজি এবং জঙ্গল মুকুন্দপুর আশ্রয়ণ পুকুরে ১৫ কেজি পোনা ছাড়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জলাশয়গুলোতে ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার আকারের সুস্থ ও জীবিত রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া ‘মাদার তেরেসা ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যাওয়ার্ড–২০২৬’ অর্জন করায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউনিয়নবাসী।
সমাজসেবা, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।
চেয়ারম্যান লিটন মিয়ার এ অর্জনকে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নবাসীর জন্য গৌরব ও আনন্দের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সমাজের মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।
ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে বলা হয়, সমাজসেবায় তার নিরলস প্রচেষ্টা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার অর্জন নিঃসন্দেহে আনন্দের। ভবিষ্যতেও তিনি মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকবেন এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
এ সময় কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান লিটন মিয়ার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং আগামী দিনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সফলতা কামনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন সরকার দাবি করেছেন যে, বড়বিলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটনের বিকাশ ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বড়বিলা বিল শুধুমাত্র একটি জলাশয় নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ। এই বিলের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যটনের উন্নয়ন ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। যদি পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে বড়বিলা বিলকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় মানুষের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার ফুলবাড়িয়া উপজেলার বড়বিলার পাড়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিলের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সকলের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। নির্বিচারে মাছ ধরার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ ধরা বন্ধ রেখে মা মাছ ও ছোট মাছ সংরক্ষণ করা উচিত। অবৈধ ও ক্ষতিকর জাল ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর ময়মনসিংহের বিভাগীয় পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এ.কে.এম শমসের আলী প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত আন্তঃকুলাউড়া উপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টে অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ‘টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়’ নির্বাচিত হয়েছেন আল আমিন নাঈম। একই সঙ্গে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতা ও ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও অর্জন করেছেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার পূর্ব লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী স্টেপনি গ্রিন অ্যাস্ট্রোটার্ফ মাঠে ‘কুলাউড়া স্পোর্টিং ক্লাব ইউকে’-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয় ‘ইন্টার কুলাউড়া উপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট’। কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা নিয়ে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে মোট ১২টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় কুলাউড়া পৌরসভা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ফাইনাল ম্যাচে নাঈমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। তাঁর ড্রিবলিং, রানিং ও পাসিংয়ে মুগ্ধ হন মাঠে উপস্থিত দর্শকরা। লন্ডনে অবস্থানরত তাঁর মামাতো ভাই এবং কুলাউড়ার প্রবাসী বাঙালি দর্শকদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা তাঁকে আরও ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান নাঈম।
নাঈমের পারফরম্যান্স সম্পর্কে টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক ও ক্রীড়া সংগঠক এমদাদুল মান্নান চৌধুরী তারহাম বলেন, “নাঈমের ড্রিবলিং, রানিং ও পাসিং এক কথায় অপূর্ব। আমি তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করি।”
নাঈম কুলাউড়ার সামাজিক, ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিত্ব জয়পাশার মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জামাল উদ্দিনের নাতি। টুর্নামেন্টের এ অর্জন তিনি তাঁর প্রয়াত নানার নামে উৎসর্গ করেছেন।
নাঈম বলেন, সুযোগ ও সুবিধা হলে ভবিষ্যতে কুলাউড়ার ফুটবল টুর্নামেন্টে জয়পাশার একটি দলের হয়ে খেলতে চান। বর্তমানে তিনি লন্ডনের বিভিন্ন কাউন্টিতে বিভিন্ন দলের হয়ে ফুটবল খেলছেন। বিদেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুটবলেও নিজের স্বপ্ন প্রতিষ্ঠিত করতে সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ