০৬:৩৮ পি.এম
নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া সমস্ত নবী ও রসুলের কেবলা ছিল বায়তুল মোকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসা। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে মদিনায় হিজরতের প্রায় ১৬ মাস পরও বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করা হচ্ছিল।
মুসলমানদের কেবলা বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে হওয়ার ফলে ইহুদিরা অপপ্রচার করতে থাকে যে, আমাদের ও মুসলমানদের কেবলা যেহেতু এক ও অভিন্ন, তাই ধর্মের ক্ষেত্রেও মুসলমানদের উচিত আমাদের অনুসরণ করা।
এসব কারণে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হৃদয়ের সুপ্ত বাসনা ছিল, যদি কাবা মুসলমানদের কেবলা হতো। মুসলমানদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তা ও পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার দিকে ফিরে নামাজ আদায়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে শুরু করেন। নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকাতেন, ওহির মাধ্যমে অনুমোদনের প্রত্যাশা নিয়ে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
হিজরি দ্বিতীয় সনের শাবান মাসে বা মতান্তরে রজব মাসের মাঝে, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশ কিছু সাহাবি নিয়ে বিশর ইবনে বারা (রা.)-এর দাওয়াতে যোগ দিতে বনু সালামায় পৌঁছান এবং জোহরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রবেশ করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকাতের মাঝামাঝি সময়ে আল্লাহর ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) ওহি সরবরাহ করতে অবতীর্ণ হন।
মহান আল্লাহ তখন বলেন,
আমি লক্ষ্য করি তুমি বারবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছ। সুতরাং তোমাকে এমন এক কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছি যা তুমি পছন্দ করবে। তাই তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাও। তোমরা যেখানে থাক না কেন, কাবার দিকে মুখ ফেরাও। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা ভালভাবে জানে যে এটি তাদের প্রতিপালক-প্রেরিত সত্য। তারা যা করে তা আল্লাহর অজানা নয়। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৪৪)
নামাজ আদায়ের সময় কেবলা বদলের আদেশ আসলে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার দিকে মুখ ফিরে নামাজ সম্পন্ন করেন। প্রথমে কিবলা ছিল মসজিদে আকসা, এবং সবাই সেদিকে ফিরে নামাজ আদায় করতেন। পরবর্তীতে কাবা শরিফকে কিবলা হিসেবে নির্ধারণ করার পর এই মসজিদটিকে দুই কেবলার মসজিদ বলা হয়।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
মদিনা শহরের পশ্চিম প্রান্তে খালিদ বিন ওয়ালিদ সড়কে অবস্থিত কিবলাতাইন মসজিদ, আরবি কিবলা শব্দের দ্বিবচন ‘কিবলাতাইন’ বা দুই কিবলা। বনু সালামা অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এই মসজিদের প্রথম নাম ছিল ‘মসজিদে বনু সালামা’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন