সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩২ পি.এম
১২ই ফেব্রুয়ারির গণভোটের ৭১ শতাংশ জনরায় এবং ঐতিহাসিক 'জুলাই সনদ'-কে যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদর্শন করা আবশ্যক। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে যদি এই গণরায় ও জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা করা হয়, এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা আমীর ইসহাক খন্দকার।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাটখিল উপজেলার উদ্যোগে চাটখিল পৌরবাজারে একটি কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসহাক খন্দকার এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান সংকটাপন্ন পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, 'বর্তমানে সারা দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল, পানি ও সারের তীব্র সংকট চলছে। সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়ে দুর্নীতির রাজ্য গড়ে তুলেছে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনগণ শিগগিরই এই সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়ে বিদায় করবে।' তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে, দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে অনর্গল অসঙ্গতিপূর্ণ ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য প্রদান বন্ধ করতে হবে এবং বিশ্বদরবারে জাতির সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখতে সতর্ক হয়ে কথা বলার তাগিদ দেন।
মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত নেতা ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, 'যারা রাজপথে নেমে রক্ত দেয়নি বা সংকটের সময় দেশে উপস্থিত ছিল না, তারা কখনোই জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত চেতনা ও জনগণের ত্যাগের মর্যাদা বুঝতে পারবে না।' তিনি দেশের সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি জনগণের এই আট দফা দাবি পূরণ না করা হয় এবং জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের চক্রান্ত করা হয়, তবে আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে সরকার পতনের এক দফার সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু করা হবে।
নোয়াখালী জেলা মজলিসে শূরা সদস্য ও চাটখিল উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মহিউদ্দিন হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন চাটখিল উপজেলা সেক্রেটারি মো. নূর হোসেন রিয়াজ। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য পেশ করেন চাটখিল পৌরসভার আমীর মাওলানা মোহাম্মদ আকতার হোসেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন নোয়াখালী জেলা মজলিসে শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মো. ছাইফ উল্যা, বেগমগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা বোরহান উদ্দীন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নোয়াখালী জেলা উত্তর সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
কর্মী সমাবেশে চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আগত জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্য এবং দেশ ও জাতির ঐক্য, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করে সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উপায় এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নের জন্য পরিচিত এডটেক প্ল্যাটফর্ম ইংলিশ কার্নিভাল বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারিত্বে যুক্ত হয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও সহজতর করা, লেনদেনে বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ক্যাশলেস ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো।
আজ এ উপলক্ষে উপায়-এর প্রধান কার্যালয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই অংশীদারিত্বের ফলে শিক্ষার্থীরা পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে আরও সহজতা পাবেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার বৃদ্ধির পথও প্রসারিত হবে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইংলিশ কার্নিভালের শিক্ষার্থী নিবন্ধনের জন্য একটি পেমেন্ট গেটওয়ে চালু করা হবে। শিক্ষার্থীদের ক্যাশব্যাক ও বিভিন্ন প্রচারমূলক সুবিধা উপায়ের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। ইংলিশ কার্নিভালের ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডরদের কমিশন ও প্রণোদনার অর্থ বিতরণেও সহযোগিতা করবে উভয় প্রতিষ্ঠান।
এই অংশীদারিত্বের আওতায় যৌথ প্রচার কার্যক্রমও পরিচালিত হবে। উপায় থাকবে ‘পেমেন্ট পার্টনার’ হিসেবে, অন্যদিকে ইংলিশ কার্নিভাল বাংলাদেশ থাকবে ‘এডুকেশন পার্টনার’ হিসেবে। এছাড়া যৌথ অনুষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রম, কুইজ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এসব উদ্যোগে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, ক্যারিয়ার প্রস্তুতি ও আর্থিক সচেতনতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বর্তমানে ইংলিশ কার্নিভাল বাংলাদেশের নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। দেশজুড়ে ৬৪টি জেলায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করছেন ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর। ৫ শতাধিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ইংলিশ কার্নিভালের এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সঙ্গে উপায়ের ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা যুক্ত হলে শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা আরও সহজ, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইংলিশ কার্নিভাল বাংলাদেশের ডিরেক্টর, বিজনেস অপারেশনস মো. হুমায়ুন কবির এবং ম্যানেজার, এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন শিবলী কোরেশী। উপায় থেকে উপস্থিত ছিলেন হেড অব করপোরেট বিজনেস সাজ্জাদ আলম, হেড অব প্রোডাক্ট মোহাম্মদ মামুন রেজা খান, হেড অব মার্কেটিং কাজী শাকিল মাহমুদ, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রমুখ।
উপায় ও ইংলিশ কার্নিভাল বাংলাদেশের এই অংশীদারত্ব দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বাসিন্দা মো. পারভেজ রানা, যিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের কনস্টেবল ছিলেন। তার বয়স ছিল ৩৫ বছর।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানীর রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি টানা ৯ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার চেঙ্গাকান্দি গ্রামের মাদরাসা মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পর স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পারভেজ রানা সোনারগাঁ উপজেলার চেঙ্গাকান্দি গ্রামের অধিবাসী। তার বাবার নাম মো. আব্দুল করিম। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার কনস্টেবল নম্বর ছিল ১২৭১৯ এবং বিপি নম্বর ৯৫১৫১৭৪৫২০।
পারিবারিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর পারভেজ রানা রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আইসিইউতে তার মৃত্যু ঘটে।
তার অকালমৃত্যুর খবর শুনে পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যরা গভীর দুঃখে আছেন। স্থানীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার প্রকৌশলী বিভাগের কার্যসহকারী এবং বাতিসা ইউনিয়নের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম সেলিম (৪৫)। অপরজন হলেন, মাদারিপুরের শিবচর উপজেলার শাহজাহান মিয়ার ছেলে ইমরান হোসেন (৩৭)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে জিএম সেলিম মোটরসাইকেলে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর এলাকায় অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় সেলিমকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার নিউরোসাইন্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে।
এর আগে, ভোরে মহাসড়কের ফাল্গুনকরা নামক এলাকায় চাকা মেরামত করার সময় পিকআপ চালক ইমরান হোসেনকে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ি ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, সোমবার ভোরে মহাসড়কের ফাল্গুনকরা এলাকা থেকে নিহত চালকের মরদেহ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে আনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরের আমদানি এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধির ফলে রমজানে বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মসুর ডালের দাম কমেছে এবং ভোজ্যতেল ও চিনির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও শুল্ক কাঠামোর বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেল, ডিম, ডাল, ছোলা, খেজুর ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে এসব চিত্র উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আসন্ন রমজানে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং আমদানি ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।
নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসিতে অগ্রগতি
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
এ সময়ে মোট ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮.২৩ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের ৭.০৫ লাখ মেট্রিক টনের তুলনায় ১.১৮ লাখ মেট্রিক টন বেশি। ভোজ্যতেলের এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮.০৫ লাখ মেট্রিক টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৩১ লাখ মেট্রিক টন বেশি। এ ছাড়া সয়াবিনবীজ আমদানি হয়েছে ৫.০১ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় ১.১৩ লাখ মেট্রিক টন বেশি।
চিনি আমদানি হয়েছে ৬.৮৭ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৫৩ লাখ মেট্রিক টন বেশি। চিনির এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮.১০ লাখ মেট্রিক টনে।
রমজানে ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ ছোলার আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ০.৮২ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ০.১২ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ০.৭০ লাখ মেট্রিক টন। এ সময়ে ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১.৩৮ লাখ মেট্রিক টন।
অন্যদিকে, মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১.২২ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৬৪ লাখ মেট্রিক টন বেশি। মসুর ডালের এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.১৪ লাখ মেট্রিক টনে। খেজুর আমদানি হয়েছে ০.১১ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ০.০৪ লাখ মেট্রিক টন।
স্থানীয় বাজারে কমেছে ডিম, মুরগি ও ডালের দাম।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম ৭.৬২ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৫০ টাকায়। একই সময়ে ব্রয়লার মুরগির দাম ২.৬৩ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় নেমেছে।
বড় দানার মসুর ডালের দাম গত এক মাসে ২.৫৬ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৩২ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। মাঝারি দানার মসুর ডালের দামও গত বছরের তুলনায় ৯.৬২ শতাংশ কমেছে।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল ১,০০০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। চিনির দাম প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে অপরিবর্তিত আছে। সাধারণ মানের খেজুর মানভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত এক মাস ধরে স্থিতিশীল রয়েছে।
রমজানে ডিম-মুরগির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা।
সভায় পোলট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে ডিম ও মুরগির উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। খামার পর্যায়ে ডিমের দাম কিছুদিন আগের প্রতি পিস সাড়ে ১১ টাকা থেকে কমে ১০ টাকার নিচে নেমেছে, যা উৎপাদন খরচের কাছাকাছি। খামারে রোগবালাইয়ের উল্লেখযোগ্য প্রকোপ না থাকায় উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে তাঁরা জানান।
প্রতিনিধিদের মতে, রমজানে সকালের নাশতার ধরনে পরিবর্তনের কারণে ডিমের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। তবে ঈদের পর মুরগির চাহিদা বাড়তে পারে, যা বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে। তারা আরও জানান, বিদ্যমান আমদানি নীতি অনুযায়ী সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া ডিম ও মাংস আমদানি করা যায় না।
খেজুরের শুল্ক কাঠামো সহজ করার উদ্যোগ
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা খেজুরের জাত, গুণগত মান ও মূল্যের পার্থক্য বিবেচনায় শুল্ক কাঠামো সহজ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, মিশর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। এসব পণ্যের বৈচিত্র্যের কারণে একই ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আমদানিকারকদের জন্য সহজবোধ্য ও বাস্তবসম্মত শুল্কব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুল্ক নির্ধারণের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দায়িত্ব হলেও এ ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় খেজুরের প্রচলিত শুল্ক সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ সুবিধা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি খেজুরের নির্দিষ্ট মূল্য ধরে শুল্কায়নের পরিবর্তে প্রকৃত গুণগত মান ও মূল্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারণের প্রস্তাব আলোচনায় আসে।
আমদানিকারকেরা জানান, সাধারণ মানের খেজুরের ক্ষেত্রে বাস্তব আমদানি মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন না হলে শুল্ক ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। এর সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিকল্প পরিবহনপথ ব্যবহার, বাড়তি লজিস্টিক ব্যয় এবং এলসি খোলার জটিলতা যুক্ত হয়ে বাজারে পণ্য সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফল আমদানিকারকেরাও উচ্চ করহারের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় ফল আমদানির কর কাঠামো আরও সহনশীল করার দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার ও শুল্ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ।
ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা প্রয়োজন।
সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, ছোলা ও মসুর ডাল আমদানিতে বর্তমানে শুল্ক-কর নেই। তবে চিনি ও ফল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমন্বয় করা গেলে বাজারে দাম সহনীয় রাখতে সহায়ক হতে পারে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাজারে তাজা ফলের দামও কিছুটা কমেছে বলে পর্যালোচনায় উঠে আসে।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সামগ্রিকভাবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিমাণ বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা আসন্ন রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ