সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৪ পি.এম
আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরের আমদানি এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধির ফলে রমজানে বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মসুর ডালের দাম কমেছে এবং ভোজ্যতেল ও চিনির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও শুল্ক কাঠামোর বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেল, ডিম, ডাল, ছোলা, খেজুর ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তে এসব চিত্র উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আসন্ন রমজানে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং আমদানি ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।
নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসিতে অগ্রগতি
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
এ সময়ে মোট ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮.২৩ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের ৭.০৫ লাখ মেট্রিক টনের তুলনায় ১.১৮ লাখ মেট্রিক টন বেশি। ভোজ্যতেলের এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮.০৫ লাখ মেট্রিক টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৩১ লাখ মেট্রিক টন বেশি। এ ছাড়া সয়াবিনবীজ আমদানি হয়েছে ৫.০১ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় ১.১৩ লাখ মেট্রিক টন বেশি।
চিনি আমদানি হয়েছে ৬.৮৭ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৫৩ লাখ মেট্রিক টন বেশি। চিনির এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮.১০ লাখ মেট্রিক টনে।
রমজানে ইফতারের অন্যতম প্রধান উপকরণ ছোলার আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ০.৮২ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ০.১২ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ০.৭০ লাখ মেট্রিক টন। এ সময়ে ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১.৩৮ লাখ মেট্রিক টন।
অন্যদিকে, মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১.২২ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৬৪ লাখ মেট্রিক টন বেশি। মসুর ডালের এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.১৪ লাখ মেট্রিক টনে। খেজুর আমদানি হয়েছে ০.১১ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ০.০৪ লাখ মেট্রিক টন।
স্থানীয় বাজারে কমেছে ডিম, মুরগি ও ডালের দাম।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম ৭.৬২ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৫০ টাকায়। একই সময়ে ব্রয়লার মুরগির দাম ২.৬৩ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় নেমেছে।
বড় দানার মসুর ডালের দাম গত এক মাসে ২.৫৬ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৩২ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। মাঝারি দানার মসুর ডালের দামও গত বছরের তুলনায় ৯.৬২ শতাংশ কমেছে।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল ১,০০০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। চিনির দাম প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে অপরিবর্তিত আছে। সাধারণ মানের খেজুর মানভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত এক মাস ধরে স্থিতিশীল রয়েছে।
রমজানে ডিম-মুরগির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা।
সভায় পোলট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে ডিম ও মুরগির উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। খামার পর্যায়ে ডিমের দাম কিছুদিন আগের প্রতি পিস সাড়ে ১১ টাকা থেকে কমে ১০ টাকার নিচে নেমেছে, যা উৎপাদন খরচের কাছাকাছি। খামারে রোগবালাইয়ের উল্লেখযোগ্য প্রকোপ না থাকায় উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে তাঁরা জানান।
প্রতিনিধিদের মতে, রমজানে সকালের নাশতার ধরনে পরিবর্তনের কারণে ডিমের চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। তবে ঈদের পর মুরগির চাহিদা বাড়তে পারে, যা বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে। তারা আরও জানান, বিদ্যমান আমদানি নীতি অনুযায়ী সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া ডিম ও মাংস আমদানি করা যায় না।
খেজুরের শুল্ক কাঠামো সহজ করার উদ্যোগ
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা খেজুরের জাত, গুণগত মান ও মূল্যের পার্থক্য বিবেচনায় শুল্ক কাঠামো সহজ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, মিশর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। এসব পণ্যের বৈচিত্র্যের কারণে একই ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আমদানিকারকদের জন্য সহজবোধ্য ও বাস্তবসম্মত শুল্কব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুল্ক নির্ধারণের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দায়িত্ব হলেও এ ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় খেজুরের প্রচলিত শুল্ক সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ সুবিধা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি খেজুরের নির্দিষ্ট মূল্য ধরে শুল্কায়নের পরিবর্তে প্রকৃত গুণগত মান ও মূল্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারণের প্রস্তাব আলোচনায় আসে।
আমদানিকারকেরা জানান, সাধারণ মানের খেজুরের ক্ষেত্রে বাস্তব আমদানি মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন না হলে শুল্ক ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। এর সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিকল্প পরিবহনপথ ব্যবহার, বাড়তি লজিস্টিক ব্যয় এবং এলসি খোলার জটিলতা যুক্ত হয়ে বাজারে পণ্য সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফল আমদানিকারকেরাও উচ্চ করহারের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় ফল আমদানির কর কাঠামো আরও সহনশীল করার দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার ও শুল্ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ।
ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মসুর ডালের দাম কমেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা প্রয়োজন।
সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, ছোলা ও মসুর ডাল আমদানিতে বর্তমানে শুল্ক-কর নেই। তবে চিনি ও ফল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমন্বয় করা গেলে বাজারে দাম সহনীয় রাখতে সহায়ক হতে পারে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাজারে তাজা ফলের দামও কিছুটা কমেছে বলে পর্যালোচনায় উঠে আসে।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সামগ্রিকভাবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিমাণ বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার প্রত্যাশা আসন্ন রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের নামের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও তাদের কর্মকাণ্ডে কোন ভিন্নতা নেই।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্র হত্যা ও ফ্যাসিবাদের ইতিহাস। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নামে পার্থক্য থাকলেও তাদের কর্মকাণ্ডে কোনো পার্থক্য নেই।’
আলোচনা সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ মন্তব্য করেন, ‘পুরাতন ফ্যাসিবাদের পতনের পর এবার নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে।’
এই নেতা আরও বলেন, বিরোধী দল সরকারের কোনো অবৈধ কাজের সহযোগী হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এশিয়ান গেমসে পদক অর্জনে ব্যর্থতার কারণে কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে সুবিধা করতে পারছে না বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ভারতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই প্রতিযোগিতা, যেখানে পদকের দৌড়ে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল ছিটকে পড়েছে।
পাঁচ দলের ‘বি’ গ্রুপে অবস্থানরত বাংলাদেশ নারী দল তিনটি ম্যাচ খেলে একটি মাত্র জয় অর্জন করেছে। আজ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তারা ৩১-২০ পয়েন্টে পরাজিত হয়েছে।
এই পরাজয়ের ফলে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। তিন ম্যাচ খেলে তাদের অর্জন মাত্র দুই পয়েন্ট।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে জয়ী হলে তাদের পয়েন্ট চার হবে। তবে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ গ্রুপে থাকা কেনিয়া ও শ্রীলঙ্কা তিনটি করে ম্যাচ জিতে ছয় পয়েন্ট করে অর্জন করেছে।
স্কটল্যান্ডকে ৭৫-১৫ পয়েন্টে পরাজিত করে মেয়েরা টুর্নামেন্টে একমাত্র জয় পায়। অন্যদিকে, কেনিয়ার কাছে তারা ৩৪-২৫ পয়েন্টে হেরেছিল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি দল এখনও পদকের লড়াইয়ে টিকে রয়েছে। ছয় দলের ‘বি’ গ্রুপে অবস্থানরত বাংলাদেশ দুটি ম্যাচ খেলে একটি ম্যাচে জয়ী হয়েছে।
কানাডার বিরুদ্ধে তারা ৬৭-২৮ পয়েন্টে জয়লাভ করেছে, কিন্তু কেনিয়ার কাছে ৩১-৩০ পয়েন্টে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশের ছেলেরা। যে কেনিয়া বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা ছিল না, সেই দলের কাছে হেরে তারা গ্রুপে দুই পয়েন্ট নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
তাদের সামনে এখন আরো তিনটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সামনের ম্যাচগুলোতে সহজ প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর, স্কটল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে বাংলাদেশ পরবর্তী রাউন্ডে উন্নীত হওয়ার পথ সুগম করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের প্রথম প্রিমিয়াম মেগা গেইটেড কমিউনিটি রূপায়ণ সিটি উত্তরায় অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (AUSIS), ঢাকা নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন করতে যাচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে সোমবার, ২৬ অক্টোবর, রূপায়ণ সিটি উত্তরার স্কাই ভিলা লাউঞ্জে রূপায়ণ সিটি উত্তরা ও অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকার উত্তরায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। রূপায়ণ সিটি উত্তরার বাসিন্দাদের পাশাপাশি বৃহত্তর উত্তরার পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. খোরশেদ আলম, পরিচালক ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন মোগল, পরিচালক এবং নির্বাচন ও নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান মমতাজুল করিম আনসারী।
রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল, কো-চেয়ারম্যান জনাব মাহির আলী খাঁন রাতুল, ভাইস চেয়ারম্যান নওরিন জাহান মিতুল, সাইফ আলী খাঁন অতুল ও ওয়ালিদ মুখাই আলী, রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন (অব.) পি. জে. উল্লাহ, রূপায়ণ সিটি উত্তরার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব, উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লি:) সাইফুল ইসলাম এবং রূপায়ণ গ্রুপের ডাইরেক্টর মার্কেটিং অমিত চক্রবর্ত্তী।
রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল মন্তব্য করেন, “রূপায়ণ সিটি উত্তরা আমাদের কাছে শুধু একটি আবাসন প্রকল্প নয়; এটি একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক জীবনব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। আমরা এমন একটি কমিউনিটি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে পরিবারগুলো নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে বসবাসের পাশাপাশি তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও পাবে। অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ আমাদের সেই বৃহত্তর পরিকল্পনাকে আরও এগিয়ে নেবে।”
অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত আবু খায়ের মোহাম্মদ বলেন, “আজ আমরা একটি সমঝোতায় উপনীত হয়েছি। রূপায়ণ সিটি উত্তরায় অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আগমন দেশের আবাসন ও শিক্ষা খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”
রূপায়ণ সিটি উত্তরা আধুনিক আবাসন, পরিকল্পিত পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সমন্বিত নাগরিক সুবিধার সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র আবাসিক কমিউনিটি হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই কমিউনিটিতে অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ আবাসনের পাশাপাশি শিক্ষা ও পরিবারকেন্দ্রিক জীবনযাপনের গুরুত্বকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগকে আবাসিক কমিউনিটির কাছাকাছি নিয়ে আসার এই উদ্যোগ রূপায়ণ সিটি উত্তরার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে উত্তরায় আধুনিক আবাসন ও শিক্ষার সমন্বয়ে একটি আরও সমৃদ্ধ জীবনপরিবেশ গড়ে তোলার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকার নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের পরিকল্পনা রূপায়ণ সিটি উত্তরার উন্নয়নযাত্রায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জন্য শিক্ষার সুযোগ আরও সহজলভ্য হওয়ার পাশাপাশি বৃহত্তর উত্তরার শিক্ষা পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
আবাসন ও শিক্ষার এই সমন্বয় একটি আধুনিক কমিউনিটির ধারণাকে আরও বিস্তৃত করবে—যেখানে শুধু বসবাসের জন্য উন্নত অবকাঠামো নয়, বরং পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনাময় পরিবেশ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্ব পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খেলাফত মজলিস সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ার করবে বলে পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আইনি বা সাংবিধানিকভাবে ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো বৈধতা নেই। দেশের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী, যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে একজন নাগরিকের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনের আশ্রয় লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কোনো নির্বাহী সিদ্ধান্ত বা সরকারি অনুমতি এই সাংবিধানিক অধিকারকে বাতিল বা স্থগিত করতে পারে না। সরকারের কোনো প্রশাসনিক অনুমোদনই বিচারবহির্ভূত হত্যাকে আইনি বৈধতা দিতে পারে না। খেলাফত মজলিস অবিলম্বে আইজিপির এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে এবং তার প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পেশাদার তদন্ত, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে বিচার নিশ্চিত করাই প্রচলিত আইনি পথ।
এ ক্ষেত্রে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি কিংবা স্বজনপ্রীতির মতো প্রতিবন্ধকতা অন্তরায় হতে পারে। তবে এভাবে ক্রসফায়ারের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা মব জাস্টিস উসকে দেওয়ার সংস্কৃতি সভ্য সমাজে কখনো চলতে পারে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ