১২:৫৭ পি.এম
কলম্বিয়ার ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত অবৈধ বিদেশিদের আটক করে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
কঠোরপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত দে লা এসপ্রিয়েলা ৭ আগস্ট প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি অপরাধ ও মাদকপাচারকারী গেরিলাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
বোগোতা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন
প্রেসিডেন্টের প্রচারে অভিবাসন একটি বড় বিষয় ছিল না। তবে রোববার ক্যারিবীয় উপকূলে নিজের ঘাঁটি বাররানকিয়ায় নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় তিনি বলেন, "অবৈধ অভিবাসীরা যেখান থেকেই আসুক, আমি তা মেনে নেব না।"
তিনি আরও বলেন, "অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ পরিষ্কার। প্রথমে যারা অপরাধ করছে, এরপর যারা নিজেদের অবস্থান নিয়মিত করেনি। তাদের যথাসময়ে দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।"
প্রেসিডেন্টের নির্দেশে চলতি সপ্তাহেই দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে তিনি জানান।
-‘কলম্বীয়রা সবার আগে’-
আরও পড়ুন: সালথায় চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৭ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
গত এক দশকে নিজ দেশের অর্থনৈতিক সংকট থেকে পালিয়ে আসা ভেনেজুয়েলীয়দের জন্য কলম্বিয়া প্রধান আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।
কলম্বিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ২৮ লাখ ভেনেজুয়েলার নাগরিক বসবাস করছিলেন। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ২৭ হাজারের বেশি অনিবন্ধিত।
এর আগে দেশটির ডানপন্থী নেতারা ভেনেজুয়েলীয় অভিবাসীদের প্রতি সহনশীল ছিলেন। তাদের দৃষ্টিতে, তারা সমাজতান্ত্রিক নীতির কারণে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর উগ্রপন্থী পূর্বসূরি হুগো শাভেজের নীতির শিকার।
ছয় দশকের সশস্ত্র সংঘাতের কারণে দেশটির কয়েক লাখ মানুষ বিদেশে পালিয়ে যান। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভেনেজুয়েলায় আশ্রয় নেন।
আরও পড়ুন: নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রথমবার সমুদ্রে সফলভাবে ফ্রি-ফল জাম্প সম্পন্ন
দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই পশ্চিম কলম্বিয়ায় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। ওই সময় দে লা এসপ্রিয়েলা নিজেকে একজন ঐক্যবদ্ধকারী নেতা হিসেবে তুলে ধরেন।
তবে, রোববারের বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিধ্বনি করেন। দে লা এসপ্রিয়েলা ট্রাম্পের একজন অনুরাগী।
-‘কলম্বিয়ার আইসিই’-
তার ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বামপন্থী সিনেটর ও অধিকারকর্মী মারিয়া হোসে পিসারো তাঁকে ‘কলম্বিয়ার আইসিই’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, দেশে ফেরত পাঠানোর এই নির্দেশ ‘বিশুদ্ধ বিদেশিবিদ্বেষ ও দরিদ্রদের প্রতি ঘৃণা।’
আরও পড়ুন: হলুদ বিন্দু দেখে খননে ২ কোটি টাকার স্বর্ণের খণ্ড উদ্ধার
তিনি বলেন, "অভিবাসন কোনো অপরাধ নয়, এটি একটি মানবাধিকার।" তিনি আরও বলেন, "প্রতিটি অভিবাসীর পেছনে বেঁচে থাকার একটি গল্প রয়েছে।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলম্বীয়দের মধ্যে এ নিয়ে বিভক্ত মত দেখা গেছে।
অনেকে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলীয় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অপরাধের হার বাড়ানোর অভিযোগ করেছেন তারা।
তবে অন্যরা ভেনেজুয়েলীয় অভিবাসীদের পরিশ্রমী হিসেবে উল্লেখ করে তাদের অর্থনীতিতে অবদানের পক্ষে কথা বলেছেন।
আরও পড়ুন: কদমতলীতে ভেজাল আইসক্রিম ও পানি উৎপাদনের ৪ প্রতিষ্ঠান সিলগালা
দে লা এসপ্রিয়েলা ল্যাটিন আমেরিকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়া ডানপন্থী রাজনৈতিক ঢেউয়ের অংশ। এই ঢেউয়ের পেছনে সহিংস অপরাধ বৃদ্ধির ক্ষোভও রয়েছে। অনেক দেশের ভোটাররা এ ধরনের অপরাধের জন্য ভেনেজুয়েলার গ্যাংগুলোকে দায়ী করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন