ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুই বাংলাদেশির লাশ দেশে ফেরাতে সৌদি আরবের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


দুই বাংলাদেশির লাশ দেশে ফেরাতে সৌদি আরবের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মৃতদেহ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য সৌদি আরবের সহায়তা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এই অনুরোধটি জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর আবিয়াহের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি এই অনুরোধ করেন। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী হামলায় আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ও সেবার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: জাপান ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু করবে

বৈঠকের সময় শামা সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সৌদি সরকারের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করেন এবং প্রাণহানির জন্য শোক জানান।

তিনি উত্তেজনা প্রশমনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "উত্তেজনা নিরসন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে সংলাপ ও কূটনীতিই হওয়া উচিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পথ।"

সৌদি রাষ্ট্রদূত এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের সংহতি ও সমর্থন জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কাজ করছে যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক

উল্লেখ্য, সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস ও কাজ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসে ঢাকাসহ দেশজুড়ে স্মরণানুষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ এম


লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবসে ঢাকাসহ দেশজুড়ে স্মরণানুষ্ঠান

মরমি সাধক লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া, ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন বিভাগে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আগামী ১৭ থেকে ১৯ অক্টোবর কুষ্টিয়ায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। পাশাপাশি, ১৭ অক্টোবর রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘লালন স্মরণানুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লালন সাঁইয়ের গান, দর্শন এবং মানবতাবোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই আয়োজন করা হচ্ছে। জাত-ধর্মের বিভাজন অতিক্রম করে মানুষের পরিচয় এবং মানবসত্তার অনুসন্ধানে লালনের দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করা হচ্ছে।

১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেবেন শিল্পী ও গবেষক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মোহা. হারুন-অর-রশীদ।

সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশনায় অংশ নেবেন দেশের প্রথিতযশা লালনশিল্পী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী এবং বাংলাদেশ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর শিল্পীরা।

এছাড়া, একই দিন বিভাগীয় এবং অন্যান্য জেলায় লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শনভিত্তিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, স্মরণানুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী

নাগরিকত্ব সংশোধন আইনে বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীরা পাবেন নাগরিকত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ এম


নাগরিকত্ব সংশোধন আইনে বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীরা পাবেন নাগরিকত্ব

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের আওতায় নাগরিকত্বের সনদ প্রদান করা হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বনগাঁয় দুর্গাপূজার উদ্বোধন উপলক্ষে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি এই তথ্য জানান। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া এবং ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।

বনগাঁ ও নদিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষের নাগরিকত্বের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব অতীতে নির্বাচনি প্রচারে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেছেন।

দুর্গাপূজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যকে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের আওতায় সনদ দেওয়ার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে। তিনি বলেন, সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। তার আশ্বাস, নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া কিংবা ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আবারও মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের প্রশ্নকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে তিনি কতজন আবেদনকারী সনদ পেয়েছেন, কতজনের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে এবং নতুন করে কতজনকে সনদ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রদান করেননি।

নাগরিকত্বের বিষয় ছাড়াও দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। আন্দোলনকারীদের একাংশকে তিনি ‘ছারপোকা’ ও ‘আরশোলা’ বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, এই গোষ্ঠীগুলি ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের প্রতি তিনি নকশালদের থেকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, বনগাঁ এলাকার উন্নয়ন ও সরকারি সহায়তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। তিনি দাবি করেন, এলাকার ৭২ হাজার নারী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় মাসে তিন হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। যারা এখনও এই সুবিধার জন্য আবেদন করেননি, তাদের আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি। আবেদন যাচাই করে যোগ্যদের সুবিধা দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

সীমান্ত শহর বনগাঁয় শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য, এই এলাকায় শিল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি হবে। মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের দাবি, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন এবং সরকারি আর্থিক সহায়তা, এই তিনটি বিষয়ই এদিনের অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।

তবে নাগরিকত্বের সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোবে, তা আবেদন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই: সালাহউদ্দিন আহমদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ এম


বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন চাই: সালাহউদ্দিন আহমদ

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের জন্য সরকার অপেক্ষা করবে। তবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ থেমে থাকবে না, এমনটি জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা চাই সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সবাই মিলে সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে সংবিধান সংশোধন গ্রহণ করুক। বিরোধী দলকে আমরা বারবার আহ্বান জানিয়েছি, তারা যেন আলোচনায় অংশ নেয়। তবে তারা একান্তই না এলে আমাদের সাংবিধানিক সংশোধন তো নিতেই হবে। এটা জাতির প্রত্যাশা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা আমাদের অঙ্গীকার।’

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, কমিটির সদস্য এমপি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং এমপি মো. মাহমুদুল হক রুবেল অংশগ্রহণ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে। ওই কমিশনের সহ-সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং সভাপতি ছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বর্তমানে সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। বিরোধী দলকে কমিটিতে প্রতিনিধি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিনিধি দিলে তাদের আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনসহ প্রতিটি বৈঠকে বিরোধী দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা চাইলে লিখিত মতামতও দিতে পারে। সংবিধান সংশোধনের প্রতিবেদন প্রণয়নের পর সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হলে সেখানেও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও আলোচনায় ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষ কমিটির বৈঠকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন। বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ও জ্ঞানসমৃদ্ধ উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, অংশগ্রহণকারীদের অনেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যরাও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত মতামত দেবেন বলে জানিয়েছেন।

বৈঠকে সংবিধানের বিভিন্ন অংশে জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়গুলো কীভাবে প্রতিফলিত করা যায়, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব আরও সুস্পষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংশোধনের যে বিধান রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের গণভোট-সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তা আইনসভার মাধ্যমে কীভাবে বিবেচনা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা কিংবা অতিরিক্ত নমনীয়তা—কোনোটিই যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে মতামত এসেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি বলেন, এর গঠনপ্রক্রিয়া ও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার যে বিধান ছিল, তা বিলুপ্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। আগের বিকল্পগুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হলে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিচার বিভাগের ভূমিকা রাখার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব এখনও পাওয়া যায়নি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বলেন, সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ক্ষমতা এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংক্রান্ত বিষয়ে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রের এক অঙ্গ যেন অন্য অঙ্গের ওপর অযাচিত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা আরও লিখিত মতামত দেবেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ অংশে থাকা কিছু নীতি মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নযোগ্য করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের প্রজাতন্ত্র অংশে জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণা আরও স্পষ্ট ও সুসংহত করার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।

বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ বা উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষে কোন শ্রেণি বা এলাকার প্রতিনিধিত্ব থাকবে, প্রতিনিধিরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, জেলাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে কি না—এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দিয়েছেন। এসব মতামত লিখিতভাবে পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে কমিটিতে আলোচনা করা হবে।

তিনি আরও জানান, আগামী ২৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দিনব্যাপী আলোচনার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য শোনা, তা রেকর্ড করা এবং বিস্তারিত পর্যালোচনার সুযোগ রাখতেই দিনব্যাপী আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক সামিয়া লুৎফা, অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক কে এইচ লুৎফুল এলাহী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রেজাউল করিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম ও অধ্যাপক শামীমা সুলতানাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ একরামুল হক, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেসার ইউ আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
চকবাজারে আগুন ১২ ঘন্টায় নিয়ন্ত্রণ

চকবাজারে সরুগলি-প্লাস্টিক পণ্য-ঝুঁকিপূণ ভবনে ফায়ার সার্ভিসের বিপত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ এম


চকবাজারে সরুগলি-প্লাস্টিক পণ্য-ঝুঁকিপূণ ভবনে ফায়ার সার্ভিসের বিপত্তি

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজার অগ্নিকাণ্ড আবারও সামনে এনেছে পুরোনো ঢাকার অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা। সরু অলি-গলি, গিঞ্জি পরিবেশ, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং ভবনের ভেতরে ঘন ধোঁয়া, তালাবদ্ধ গুদাম, প্লাস্টিকের ব্যাগ ও কসমেটিকসের মতো পণ্যের মজুত এবং পানির সংকটে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে বেগ পেতে হয়েছে। প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরোপুরি নেভাতে পারেনি সংস্থাটি। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পুড়ে গেছে কোটি কোটি টাকার মালামাল। অনেকের দীর্ঘদিনের পুঁজি এখন ধ্বংসস্তূপে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে পাঁচটা লাগা আগুন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর পাঁচটা ২০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু গুদামে থাকা মালামালের নিচে তাপ ও আগুনের অবশিষ্টাংশ থেকে নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা থাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাপণ কার্যক্রম চলতে থাকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

আগুনের সূত্রপাত, ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে তদন্তের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরু সড়ক, তালাবদ্ধ গুদাম

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকাল ৫টা ৪ মিনিটে চকবাজারের ছোট কাটারা এলাকার মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পায় সংস্থাটি। প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় পর্যায়ক্রমে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

ভবনটির ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপের সৃষ্টি হয়। ষষ্ঠ তলায় থাকা গুদামগুলোর দরজা ও শাটারে একাধিক তালা লাগানো ছিল। কোনো কোনো গুদামে চার-পাঁচটি তালা ছিল। ভেতরের ক্রসফায়ার গেটেও তালা থাকায় আগুনের উৎসে পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর কাজ চালাতে হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে গুদামে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের মালামাল থাকায় সেগুলো সরানো এবং আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ চলছে। ষষ্ঠ তলার ১২ থেকে ১৪টি বড় গুদামের মধ্যে সাত থেকে আটটিতে আগুন লেগেছিল। সেখানে ছাতা, ব্যাগ, কসমেটিকস, আতরের বোতল ও আতরসহ বিভিন্ন পণ্য ছিল।

প্লাস্টিকের ব্যাগে আটকে ছিল আগুন

আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় গুদামে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগ। পানি দেওয়ার পর ব্যাগগুলো পুড়ে শক্ত হয়ে যাওয়ায় নিচে থাকা আগুন পর্যন্ত পানি পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মো. উদয় জানান, ভবনের ভেতরে প্রায় দুই ঘণ্টা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করে তিনি বাইরে আসেন। তার ভাষ্য, প্লাস্টিকের ব্যাগে পানি দেওয়ার পর সেগুলো শক্ত হয়ে যায়। এতে নিচে পানি পৌঁছায় না। পানি দেওয়া বন্ধ করলেই আগুন আবার জ্বলে ওঠে।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ওসমান গনী বলেন, ভবনের ভেতরে প্রচুর ধোঁয়া জমে থাকায় প্রথমে তা বের করার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করে কাজ করাও সম্ভব ছিল না। এসব কারণে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণে বেশি সময় লাগছে।

পানির সংকটও ছিল বড় বাধা

ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন নেভাতে পর্যাপ্ত পানির জোগান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আশপাশের বিভিন্ন ভবনের পানির রিজার্ভার থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়। এক ভবনের পানি শেষ হলে অন্য ভবনের রিজার্ভার ব্যবহার করতে হয়েছে। আশপাশে পুকুর না থাকায় দূর থেকে পানি আনতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় পুরান ঢাকার সরু রাস্তা। বড় ও ভারী অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যানজটের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে গাড়ি চলাচলেও বাধা তৈরি হয়েছে। ভবনের ভেতরে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকায় তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে কর্মীদের।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুনে ভবনের ষষ্ঠ তলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সপ্তম তলায় ক্ষতি তুলনামূলক কম। আগুন যাতে পাশের মার্কেট ও দোকানে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কর্মীদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হয়েছে। আগুন নির্বাপণের সময় চার সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

পুঁজি হারিয়ে দিশাহারা ব্যবসায়ীরা

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন পুঁজি হারানোর শঙ্কা। কেউ গুদামে রাখা কয়েক লাখ টাকার মালামাল হারিয়েছেন, কেউ আবার দোকান ও গুদাম মিলিয়ে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ব্যবসায়ী খোরশেদ জানান, ভবনটির দ্বিতীয় তলায় তার এফএম লেদারের দোকান এবং ষষ্ঠ তলায় গুদাম ছিল। গুদামে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সব পুড়ে গেছে। গুদাম থেকে কোনো মালামাল সরানোর সুযোগ পাননি তিনি।

একই মার্কেটের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বলেন, তার নিচতলার দোকানের ব্যাগ আগুন থেকে রক্ষা পেলেও পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে। আগের দিনই তিনি মালামাল এনেছিলেন। এখন সেগুলো বিক্রির উপযোগী নেই। অন্যদিকে।ওপরে তার একটি গোডাউনে কয়েক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

ব্যবসায়ী ইমতিয়াজের দাবি, মার্কেটটিতে কোটি কোটি টাকার মালামাল ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লাগায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, আগুন নেভানোর কাজে কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

সপ্তম তলার একটি গুদামের মালিক রবিন জানান, আগুন লাগার পর পানি দিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছিল না। পরে কালো ধোঁয়ায় ভবন ভরে যায়। একপর্যায়ে তিনিও ভেতরে আটকা পড়েন। শ্বাস নিতে ও চোখে দেখতে কষ্ট হচ্ছিল। সারা রাত পানি দেওয়ার পরও পরদিন আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়নি।

আগুনের কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে গুদাম থেকে। সেখানে ব্যাগ ও কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্য মজুত ছিল। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা থাকলেও তদন্তের আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ভবন নির্মাণের অনুমোদন, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র, গুদামের অগ্নিনিরাপত্তা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

অপরিকল্পিত ভবন-মার্কেটে বিপাকে ফায়ার সার্ভিস

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, আগুন লাগা মনসুর খান প্লাজাসহ এখানে সিংহভাগ ভবন-মার্কেট অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। প্রতিটি ভবনে প্রবেশ পথে সরু, ভেতরে নেই পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা। এমনকি কোনো ভবনেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও নেই। এরআগেই চকবাজারসহ পুরান ঢাকার সবগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ড আবারও প্রশ্ন তুলেছে, পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম কতটা মানা হচ্ছে। গুদামে দাহ্য পণ্য সংরক্ষণ, জরুরি বহির্গমন পথ, কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও পানির উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সরু সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা প্রয়োজন, যাতে জরুরি মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে।

এর আগে সোমবার রাতে চকবাজার আগুন সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, চকবাজারের মনজুর খান প্লাজার একটি ব্যাগের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি এ তথ্য পেয়েছেন। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। এ বিষয় তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%