০৯:৩১ পি.এম
রাজবাড়ীর রিয়াজ। বিভিন্ন জেলার মেলায় লটারি পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, মেলায় প্রথমে আকর্ষণীয় পুরস্কার ও কথিত স্বচ্ছ ড্রয়ের মাধ্যমে মানুষের আস্থা তৈরি করে পরে টিকিট বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো হয়। আর পুরস্কারের অঙ্ক বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় কথিত কৌশল—এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
সর্বশেষ শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার একটি মেলায় রিয়াজের পরিচালিত লটারি নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনের লটারি কার্যক্রমে তিনটি সুজুকি মোটরসাইকেল, তিন ভরি স্বর্ণ এবং দুটি বাজাজ পালসার পুরস্কার হিসেবে থাকার কথা থাকলেও এসব পুরস্কারের কয়েকটি কৌশলগতভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
এরপর গতকাল টিকিট বিক্রি হলেও ঘোষিত পুরস্কার দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিপুল পরিমাণ টিকিট বিক্রির অর্থ নিয়ে রাতের আঁধারে মেলা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান রিয়াজ। এতে পুরস্কারের আশায় টিকিট কেনা সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।
### শুরুতে ‘স্বচ্ছ ড্র’, পরে বদলে যায় চিত্র?
রিয়াজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ধরনও বেশ চাঞ্চল্যকর। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, লটারি শুরুর দিকে মঞ্চে গান পরিবেশনসহ নানা আয়োজন করা হয়। পরে টিকিটের ড্রাম কাপড়ের ভেতরে ঢুকিয়ে একটি শিশুর চোখ বেঁধে ড্র করানো হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণ দর্শকের কাছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
প্রথম দিকে তুলনামূলক কম মূল্যের পুরস্কার দেওয়া হলেও কয়েকদিন পর পুরস্কারের তালিকায় যুক্ত করা হয় দামি মোটরসাইকেল, স্বর্ণসহ বড় পুরস্কার। দুইটি এফজেড, দুইটি পালসার, তিনটি জিক্সারসহ বড় পুরস্কারের ঘোষণা সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকিট কেনার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলার সময় যত বাড়তে থাকে, টিকিট বিক্রির পরিমাণও তত বাড়ে। আর তখনই শুরু হয় পুরস্কার নিয়ে কথিত কারসাজি।
### ‘পুরস্কার’ কার হাতে যায়?
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বড় পুরস্কার ঘোষণার পর সাধারণ মানুষ পুরস্কারের আশায় বিপুল পরিমাণ টিকিট কিনতে থাকেন। কিন্তু ঘোষিত পুরস্কারের কিছু অংশ কৌশলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে লটারি পরিচালনায় অনিয়ম করা হয়।
কীভাবে নির্দিষ্ট পুরস্কার নিজেদের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং ড্রয়ের কোন পর্যায়ে এই কৌশল প্রয়োগ করা হয়—এসব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে পরবর্তী অনুসন্ধানে।
এই প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সেই কৌশল তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
### সাধারণ মানুষের টাকা, দায় নেবে কে?
লটারি জুয়ার সবচেয়ে বড় শিকার সাধারণ মানুষ। সামান্য টাকার টিকিট কিনে বড় পুরস্কারের আশায় তারা দিনের পর দিন টাকা খরচ করেন। পুরস্কারের তালিকা যত বড় হয়, মানুষের আগ্রহও তত বাড়ে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি পুরস্কার না মেলে কিংবা লটারি পরিচালনাকারী অর্থ নিয়ে উধাও হয়ে যান, তাহলে সাধারণ মানুষের সেই অর্থের দায় কে নেবে—নড়িয়ার ঘটনায় এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।
মেলা কমিটির এক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, “রিয়াজ সব সর্বনাশ করে দিয়েছে। টাকা-পয়সা নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে গেছে।”
### রিয়াজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে রিয়াজের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে মেসেজের মাধ্যমে একাধিকবার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
### লটারি জুয়ার আড়ালে বড় অর্থের খেলা?
প্রশ্ন উঠছে, দেশের বিভিন্ন জেলার মেলায় একই ধরনের লটারি পরিচালনার সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে? স্থানীয় পর্যায়ে অনুমোদন, মেলা পরিচালনা এবং লটারির নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহ—পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে কারা যুক্ত?
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট আইনগত বিধিনিষেধের আলোকে মেলায় লটারি ও জুয়ার আয়োজনের বৈধতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
নড়িয়ার ঘটনায় এখন প্রয়োজন লটারি টিকিট বিক্রির পূর্ণাঙ্গ হিসাব, ঘোষিত পুরস্কারের তালিকা, বিজয়ীদের তথ্য এবং পুরস্কার বিতরণের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখা।
কারণ পুরস্কারের আশায় সাধারণ মানুষ যে টাকা খরচ করেছেন, সেই টাকার প্রতিটি টাকার হিসাব থাকা জরুরি।
রিয়াজকে নিয়ে অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। লটারি পরিচালনার কথিত কৌশল কীভাবে কাজ করে এবং সাধারণ মানুষের অর্থ কীভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ে—পরবর্তী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
নড়িয়ার মানুষ এখন প্রশ্ন করছে—লটারি পরিচালনার নামে মানুষের টাকা নেওয়ার পর রিয়াজ কোথায়?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন