ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিজিবির অভিযানে জুনে ৩০৮ কোটি টাকার পণ্যসামগ্রী উদ্ধার


বিজিবির অভিযানে জুনে ৩০৮ কোটি টাকার পণ্যসামগ্রী উদ্ধার

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে গত জুন মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মোট ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিজিবির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে চোরাচালান দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে- ৫ কেজি ৫৯২ গ্রাম স্বর্ণ, ১৮ হাজার ১৫টি শাড়ি, ৩ হাজার ২৫২টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ৯ হাজার ৫৫১টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩ পিস আতশবাজি, ৭ হাজার ৪৬৪ ঘনফুট কাঠ, ৭ হাজার ৩১৬ কেজি চা পাতা, ৪ হাজার ২৭০ কেজি সুপারি, ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ কেজি কয়লা, ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৮ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৪৯৭টি মোবাইল, ১ হাজার ৮৬৫ পিস মোবাইলের ডিসপ্লে, ৪১ হাজার ১৬২ পিস মোবাইলের যন্ত্রাংশ, ১৫ হাজার ৫৬ পিস ইলেকট্রিক সামগ্রী, ২২ হাজার ৬১২টি চশমা, ৫২ হাজার ৭৩৬ কেজি জিরা, ৪ হাজার ২৮৫ কেজি রসুন, ১৮ হাজার ৭৯৮ কেজি চিনি, ১০ হাজার ২২৪ কেজি সার, ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯ পিস চিংড়ি মাছের পোনা, ৩ হাজার ২৮২ লিটার ভোজ্য তেল/ডিজেল/অকটেন/পেট্রোল/মবিল, ২ হাজার ২৭৬ প্যাকেট কীটনাশক, ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪১৯ পিস বিভিন্ন প্রকার ঔষধ, ৬৯৪ কেজি বিভিন্ন প্রকার বীজ, ১ হাজার ২৩৯ পিস যানবাহন যন্ত্রাংশ, ১১টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ৫টি পিকআপ, ৩টি প্রাইভেটকার/বাস, ৩টি ট্র্যাক্টর, ২০টি ট্রলি/মাইক্রোবাস, ৬৮টি সিএনজি/ইজিবাইক/অটোরিক্সা, ৩৫টি মোটরসাইকেল এবং ৫৩টি বাইসাইকেল/ভ্যান।

আরও পড়ুন: বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মাসুমা পেলেন এ গ্রেড

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ৮টি দেশি/বিদেশি পিস্তল, ১টি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৬৩০ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি মাইন, ৬টি গ্রেনেড এবং ৬টি অন্যান্য অস্ত্র। এর সাথে, গত মাসে বিজিবি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও জব্দ করেছে।

জব্দ করা মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের তালিকায় রয়েছে ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৬০৭ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪২২ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৮ বোতল বিদেশি মদ, ৩৯৫ লিটার বাংলা মদ, ৩ হাজার ২৬৮ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭১০ কেজি ৪৭০ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ২৪ হাজার ২০১ বোতল বিভিন্ন প্রকার সিরাপ এবং ৮২ হাজার ৭১৫ পিস বিভিন্ন প্রকার ঔষধ/ট্যাবলেট।

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১২ জন চোরাচালানি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪৭জন বাংলাদেশি নাগরিক, ১ জন ভারতীয় নাগরিক ও ২৮৪ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দীপকে সন্দেহ, সঙ্গের তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, ভিডিও ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, ভিডিও ভাইরাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় জামবাড়িয়া ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেবা প্রদান, নামজারি (খারিজ), খাজনা আদায় ও অন্যান্য কার্যক্রমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে দেদারসে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নগদ অর্থ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে টেবিলের সামনে বসা এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম টাকা গ্রহণ করছেন। এর পর তিনি সেই টাকা গুনে নিজের পকেটে রেখে দেন। ভিডিওটি যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেই কারণে বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ভূমি অফিসে কাজ করেন বলে পরিচয় দেওয়া এক দালাল বলছেন, 'আমরা কাজ করে দিই। কাগজপত্র ঠিক থাকলে খারিজ করতে ৬ হাজার টাকা নিই। আবার কেউ কেউ আছে উম্মুক ধুম্মুক টাকা ল্যায়, সেগুলো আমরা করি না। আর চেক কাটলে ২০০ টাকা, কখনো ২ হাজার, আবার কখনো ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।'

জামবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসা সেবাগ্রহীতা মো. শফিকল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'তারা যাকে যেমন পাচ্ছে, তেমনভাবে টাকা নিচ্ছে। আমার একটি দলিলের জন্য ৬ হাজার টাকা চেয়েছিল। পরে দুটি দলিলের কথা বললে ৯ হাজার টাকা দাবি করে। কোনো উপায় না পেয়ে আমি দুইটি দলিলের খারিজের জন্য ৯ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি।'

এছাড়াও ওই ইউনিয়নের কয়েকজন সেবাগ্রহীতা, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, তাদের কথায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যেই ঘুষের লেনদেন হচ্ছে। টাকা ছাড়া কোন কাজই করা হয় না। নির্ধারিত টাকার চেয়ে কম দিতে চাইলে কাজ ফাইলবন্দি করে রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন অরাজকতা চলতে থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

এ নিয়ে কথা বলতে জামবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. মফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, মুঠোফোনে তিনি সময় সংবাদকে বলেন, 'এবিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই। এনিয়ে ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলুন।'

ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হোসেন বলেন, 'বিষয়টি আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছি। যেহেতু একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পতেঙ্গা সৈকত সংলগ্ন সড়কে ধস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


পতেঙ্গা সৈকত সংলগ্ন সড়কে ধস

টানা ভারী বর্ষণের ফলস্বরূপ চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত মোড়ে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালকালে, এই ঘটনার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সড়কটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ ছিল। এর ফলে বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

এই খবর পেয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিডিএ প্রকৌশলী ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ শুরু করেন। পরে ধসে পড়া অংশের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সড়কটি যান চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টির ফলে মাটি নরম হয়ে যাওয়া কারণে সড়কের নিচের অংশ দেবে গিয়ে এই ধসের ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৮ পি.এম


পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

এই সাক্ষাৎটি সোমবার (৬ জুলাই) পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাৎ নিয়ে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সাক্ষাতে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর মতবিনিময় চলেছিল।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সফলতার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন‌্যবাদ জানাতে এসেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ বছরে ১ কোটি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্য সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


পাঁচ বছরে ১ কোটি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্য সরকারের

সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১ কোটি বাংলাদেশির জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। শ্রমবাজারের বহুমুখীকরণ, ব্যাপক দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন ব্যয় কমানো, অভিবাসন সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং প্রবাসী কর্মীদের জন্য কল্যাণমূলক কর্মসূচি বৃদ্ধি করেই এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চায়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বাসস’কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এ রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন। তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের গতানুগতিক শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদেশে অভিবাসনকে আরও স্বচ্ছ, সাশ্রয়ী ও দক্ষতাভিত্তিক করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার হলো পাঁচ বছরে এক কোটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আমরা ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ শুরু করেছি।’ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে চাহিদার পূর্বাভাস সংগ্রহ করেছে। সেখানে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ বিদেশি কর্মীর চাহিদা চিহ্নিত হয়েছে, যা লক্ষ্য অর্জনের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের কাজ দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা এবং তাদের বিদেশের ওই সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা। আমি বিশ্বাস করি, অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল করে পাঁচ বছরের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।’ নুর জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ বাংলাদেশি কাজের জন্য বিদেশে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও দক্ষ কর্মী তৈরি করে সরকার ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের অভিবাসন সংস্কার কৌশল তৈরি হয়েছে অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ করা, অভিবাসন ব্যয় কমানো, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং প্রবাসী কল্যাণ জোরদার করার প্রধান অগ্রাধিকারের ওপর। তিনি আরও জানিয়েছেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দালালের ওপর অপ্রয়োজনীয় নির্ভরতা কমাতে বিদেশগমন প্রক্রিয়াকে ধীরে ধীরে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

এটি নিয়ে নুর বলেন, ‘আমরা চাই প্রবাসী কর্মীরা যেন এক জায়গা থেকেই সব সেবা পান। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে হয়রানি কমানো, প্রক্রিয়া সহজ করাও, যাতে সাধারণ মানুষের জন্য বিদেশ যাওয়া সহজ হয়।’ তিনি এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের খরচ কমাতে সরকার দেশভিত্তিক অভিবাসন ব্যয় কাঠামো চালুর পরিকল্পনাও করছে।

একই সঙ্গে, সরকার এখন অদক্ষ অভিবাসনের বদলে দক্ষতাভিত্তিক বৈদেশিক কর্মসংস্থানের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। দেশের ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে (টিটিসি) আধুনিক করার উদ্যোগের মধ্যে মন্ত্রণালয়টি বিশ্ব শ্রমবাজারের দ্রুত পরিবর্তনশীল চাহিদার এটি লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘দক্ষতা ছাড়া বিদেশে চাকরি পাওয়া বা টিকে থাকা এখন খুব কঠিন। সে কারণে দক্ষতা উন্নয়ন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ বাংলাদেশ প্রশিক্ষিত কর্মীদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজও তৈরি করছে, যার মাধ্যমে বিদেশি নিয়োগকর্তারা পেশার চাহিদা অনুযায়ী সরাসরি প্রার্থী বাছাই করতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘যদি কোনো দেশের ১০ হাজার জাহাজ নির্মাণ শ্রমিক বা প্রশিক্ষিত নারী কেয়ারগিভারের প্রয়োজন হয়, নিয়োগকর্তারা আমাদের ডাটাবেজে খুঁজে সঙ্গে সঙ্গেই যোগ্য কর্মী খুঁজে পাবেন।’ আঞ্চলিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণের জন্য, সরকার ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শ্রম বাজার সম্প্রসারণ করছে।

নুর বলেন, জনমিতিক পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের কারণে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ায় ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য বড় গন্তব্য হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোকে দেশভিত্তিক শ্রম চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে সাজানোর কাজ চলছে। জাপানের বিষয়ে তিনি জানান, দেশটিতে ১ লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের চুক্তিটি এখনও কার্যকর রয়েছে, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বড় পরিসরে নিয়োগ বাড়ানোর আগে জাপান বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের মান, শৃঙ্খলা ও কাজের সংস্কৃতি মূল্যায়ন করছে। আস্থা তৈরি হলেই নিয়োগের গতি বাড়বে।’ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়েও আশা প্রকাশ করেছেন নুর। এ ব্যাপারে স্বচ্ছ ও প্রায় শূন্য-খরচের নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করতে দুই দেশ নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে।

তিনি জানিয়েছেন, শিগগিরই মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে। এরপর দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধনের কাজ করবে। নুর বলেন, ভবিষ্যৎ নিয়োগের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী কমানো, ন্যায্যতা নিশ্চিত করা এবং কর্মী শোষণ বন্ধে দুই পক্ষই অঙ্গিকারবদ্ধ। এটি বাংলাদেশের মালয়েশিয়ার সাম্প্রতিক আলোচনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগ এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়ে বলা হয়েছিল।

শ্রম বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি, সরকার বেশ কিছু কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং সুবিধা এবং কিউআর-কোড-ভিত্তিক যাচাইকরণ সুবিধা সম্বলিত একটি ডিজিটাল ‘প্রবাসী কার্ড’। মন্ত্রণালয় বৈদেশিক কর্মসংস্থান সেবাও ডিজিটাল করতে চলছে। ফলে, অভিবাসন ছাড়পত্র ও কাগজপত্র জমা দেওয়া এখন অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

প্রবাসীদের দেশে ফেরার পর বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য সরকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, একটি স্কিল ইনভেস্টমেন্ট পার্ক, আবাসন প্রকল্প এবং একটি ‘প্রবাসী সিটি’ নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। নুর বলেন, প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি কর্মসূচি, আহত হয়ে ফেরা কর্মীদের আর্থিক সহায়তা এবং বিপদগ্রস্ত অভিবাসী, বিশেষ করে নারীদের পুনর্বাসন সহায়তা চালু থাকবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র বেশি কর্মী বিদেশে পাঠানো নয়, বরং তাদের যেন নিরাপদে যেতে পারে, মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে পারে এবং পুরো অভিবাসন যাত্রায় সঠিক সহায়তা পায়, সেটাও নিশ্চিত করা।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%