১২:৫১ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় জামবাড়িয়া ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেবা প্রদান, নামজারি (খারিজ), খাজনা আদায় ও অন্যান্য কার্যক্রমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে দেদারসে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নগদ অর্থ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে টেবিলের সামনে বসা এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম টাকা গ্রহণ করছেন। এর পর তিনি সেই টাকা গুনে নিজের পকেটে রেখে দেন। ভিডিওটি যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেই কারণে বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ভূমি অফিসে কাজ করেন বলে পরিচয় দেওয়া এক দালাল বলছেন, 'আমরা কাজ করে দিই। কাগজপত্র ঠিক থাকলে খারিজ করতে ৬ হাজার টাকা নিই। আবার কেউ কেউ আছে উম্মুক ধুম্মুক টাকা ল্যায়, সেগুলো আমরা করি না। আর চেক কাটলে ২০০ টাকা, কখনো ২ হাজার, আবার কখনো ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।'
আরও পড়ুন: রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের নির্বাচন বাতিলের নির্দেশ
জামবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসা সেবাগ্রহীতা মো. শফিকল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'তারা যাকে যেমন পাচ্ছে, তেমনভাবে টাকা নিচ্ছে। আমার একটি দলিলের জন্য ৬ হাজার টাকা চেয়েছিল। পরে দুটি দলিলের কথা বললে ৯ হাজার টাকা দাবি করে। কোনো উপায় না পেয়ে আমি দুইটি দলিলের খারিজের জন্য ৯ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি।'
এছাড়াও ওই ইউনিয়নের কয়েকজন সেবাগ্রহীতা, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, তাদের কথায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যেই ঘুষের লেনদেন হচ্ছে। টাকা ছাড়া কোন কাজই করা হয় না। নির্ধারিত টাকার চেয়ে কম দিতে চাইলে কাজ ফাইলবন্দি করে রাখা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন অরাজকতা চলতে থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে।
এ নিয়ে কথা বলতে জামবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. মফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, মুঠোফোনে তিনি সময় সংবাদকে বলেন, 'এবিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই। এনিয়ে ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলুন।'
ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হোসেন বলেন, 'বিষয়টি আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছি। যেহেতু একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
আরও পড়ুন: রাজশাহীর পবা উপজেলায় কৃষককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ, তদন্ত চলছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন