ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা, এনসিপির জড়িতদের বিচার দাবি


সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা, এনসিপির জড়িতদের বিচার দাবি

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে দুই দফায় গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনসিপি উল্লেখ করেছে যে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একজনকে প্রকাশ্যে গণপিটুনি দেওয়া, পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও হামলা চালানো এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে হত্যা করা আইন শাসন ও নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তার ওপর গুরুতর আঘাত। কোনো অভিযোগের বিচার করার অধিকার কোনো গোষ্ঠীর নেই; বিচার করার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও আইনানুগ বিচারব্যবস্থার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর দেবহাটায় শামীমের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ সংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হলে ৯৯৯-এ পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু রাতের দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজনের একটি দল হাসপাতালে প্রবেশ করে চিকিৎসাধীন শামীমের ওপর আবারও হামলা চালায়। পরে দ্বিতীয় দফার গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: কৃষিজমির কাজ ও গবাদিপশুর চারণভূমি রক্ষায় মানববন্ধন

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, হামলার ঘটনায় কারী ফজলুল হক আমিনী সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন স্থানীয় যুবদল কর্মী সাদিকুল ইসলাম এবং সরকারি খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাজমুল। পুলিশ ও হাসপাতালকর্মীদের বাধা সত্ত্বেও শামীমকে মারধর করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনসিপি বলেছে, প্রথম দফায় পুলিশ শামীমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরও তাঁর জীবনের নিরাপত্তা পর্যাপ্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। হাসপাতাল যদি একজন আহত মানুষের জন্যও নিরাপদ আশ্রয় না থাকে, তাহলে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়—এ প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। শত শত মানুষের ভিড় কীভাবে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে একজন চিকিৎসাধীন ব্যক্তির ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলার সুযোগ পেল, তা তদন্ত করতে হবে। শুধু তদন্তের ঘোষণা নয়, হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে দলটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ গুরুতর হলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনানুগ বিচার হতে পারে। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা যাচাই, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নির্ধারণ এবং অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার আগেই শাস্তি দেওয়ার নামে পিটিয়ে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠার নামে আইন ভাঙা, হত্যা সংঘটিত করা কিংবা বিচারব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

এনসিপির ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পবিত্র ইসলামের মৌলিক শিক্ষারও পরিপন্থী। সব প্রাণের নিরাপত্তা ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষা এবং মানুষের জীবন ও আইনি অধিকার রক্ষা—দুটিই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বিচার করার অধিকার কারও নেই।

আরও পড়ুন: কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪ জনই না ফেরার দেশে

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত শামীমের পরিবারের দাবি, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া অডিওর সত্যতা, বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট এবং তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো অডিও বা অভিযোগকে হত্যাকাণ্ডের লাইসেন্স হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। অভিযোগ সত্য হোক বা মিথ্যা—কোনো অবস্থাতেই গণপিটুনি দিয়ে হত্যা বৈধ হয়ে যায় না।

এ ঘটনায় এনসিপি চার দফা দাবি জানিয়েছে। প্রথমত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার হামলায় অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। হামলায় উসকানি দেওয়া, জনতাকে সংগঠিত করা কিংবা সহিংসতা সংঘটনে ভূমিকা রাখার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্ত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শামীমের ওপর হামলা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, নিরাপত্তাব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হলো এবং কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা বা যোগসাজশ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।

তৃতীয়ত, যে অডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তার উৎস, সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য প্রচার, জনতাকে জড়ো করা কিংবা সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও প্রাণনাশের হুমকির মাধ্যমে সহিংসতা ছড়ানো ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬০ বছরের বৃদ্ধা ভিক্ষুককে ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি

চতুর্থত, নিহতের পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা যাতে ভয়ভীতি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই বক্তব্য দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারকে আইনি সহায়তা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার কার্যকর সুযোগ দিতে হবে।

বিবৃতিতে এনসিপি বলেছে, সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থান হতে হবে দ্ব্যর্থহীন। অপরাধের অভিযোগ উঠলেই উত্তেজিত জনতার হাতে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা ছেড়ে দিলে আইন ও বিচারব্যবস্থার অস্তিত্ব অর্থহীন হয়ে পড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরীমনি সন্তানদের সঙ্গে কাটানো সময়কে সুখের রহস্য বলে জানালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


পরীমনি সন্তানদের সঙ্গে কাটানো সময়কে সুখের রহস্য বলে জানালেন

তারকাদের জীবনে আলো, ক্যামেরা এবং ব্যস্ততার অভাব কখনোই থাকে না। কিন্তু দিনশেষে সকলেই প্রশান্তির স্থান খুঁজে থাকেন। সম্প্রতি নিজের ভালো থাকার রহস্য জানালেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।

তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে কাশবনে ঘুরতে গিয়ে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটান। সেই মুহূর্তের ছবিগুলো প্রকাশ করে নিজের মতো করে সুখের সংজ্ঞা তুলে ধরেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ফেসবুকে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন পরীমনি। ছবিগুলোতে কখনো তাকে কাশবনের পাশে দাঁড়িয়ে, কখনো আবার বসে সময় কাটাতে দেখা গেছে। বিভিন্ন মুহূর্তে একা এবং সন্তানদের সঙ্গে তার স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি ফুটে উঠেছে।

ছবিগুলোর ক্যাপশনে পরীমনি লিখেছেন, ‘মাই হ্যাপিনেস’। এই সংক্ষিপ্ত কথার মাধ্যমে তিনি সন্তানদের সঙ্গে কাটানো সময়ের প্রতি তার ভালো লাগার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন।

শরতের স্নিগ্ধ পরিবেশে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘোরাঘুরি, খোলা আকাশের নিচে সময় কাটানো- সব মিলিয়ে দিনটি উপভোগ করেছেন এই অভিনেত্রী।

ব্যক্তিগত জীবনে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে পরীমনিকে। চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের সঙ্গে সম্পর্কের পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় ছেলে শাহীম মুহাম্মদ পূণ্য। তবে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর পরীমনি ছেলেকে নিজের কাছে রেখে তার দেখাশোনা ও বেড়ে ওঠার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

পরে তার পরিবারে যুক্ত হয় আরেক সদস্য। কন্যাসন্তান সাফিরা সুলতানা প্রিয়মকে দত্তক নেন এই অভিনেত্রী। বর্তমানে তার ব্যক্তিগত জীবনের বড় একটি অংশ দুই সন্তানকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া এবং বিভিন্ন আনন্দঘন মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিতে দেখা যায় পরীমনিকে।

কাশবনে কাটানো সময়ের ছবিগুলোতে সেই পরিচিত দিকটি আবারও সামনে এসেছে। তার কাছে সন্তানদের সঙ্গে কাটানো সাধারণ মুহূর্তগুলোই যে বিশেষ আনন্দের, ‘মাই হ্যাপিনেস’ ক্যাপশনে সেটিই যেন প্রকাশ পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি মেধার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে চায় সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি মেধার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে চায় সরকার

সরকার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে, এমনটি জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর সবুজবাগ সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

হাবিবুর রশিদ হাবিব উল্লেখ করেন, "শিক্ষিত ও মানবিক জনশক্তিই রাষ্ট্রের উন্নয়নের চালিকাশক্তি।" তিনি বলেন, শিক্ষাকে জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।

তিনি আরও জানান, সবুজবাগ সরকারি কলেজকে একটি মেধাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো সুপারিশের কাছে মেধার আপস করা হবে না। যেসব শিক্ষার্থী মেধার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, তারাই ভর্তির সুযোগ পাবে।

কলেজের উন্নয়নের জন্য আগামী দুমাসের মধ্যে ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন করা হবে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে একটি মাইক্রোবাস দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। এছাড়া, কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অনার্স-মাস্টার্স চালুর বিষয়ে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে হাবিবুর রশিদ বলেন, শিক্ষা শুধু সনদ অর্জনের বিষয় নয়; বরং যোগ্য, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার মাধ্যম। জীবনে সফল হতে হলে কঠোর পরিশ্রম, সততা, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মাদক ও সন্ত্রাসসহ সব ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানের ব্যয় সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কলেজের ওপর আর্থিক চাপ না ফেলতে ওই অর্থ প্রতিষ্ঠানটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন তিনি।

সবুজবাগ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নূর আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মাদার অব অল বোম্বস’ কী? যা দিয়ে ইরানে হামলার কথা ভাবছে আমেরিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


‘মাদার অব অল বোম্বস’ কী? যা দিয়ে ইরানে হামলার কথা ভাবছে আমেরিকা

মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের সর্বাধিক শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে। বৃহস্পতিবার সিএনএন-এর প্রতিবেদনে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’, যা সাধারণত 'মাদার অব অল বোম্বস' (এমওএবি) নামে পরিচিত, ব্যবহার করা হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেন, তবে এটি মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো এবং 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন'-এ অবস্থিত সন্দেহভাজন পারমাণবিক কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধের সমাপ্তির উপায় খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন, তবে কোনো নিকটবর্তী কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত না পাওয়ার মধ্যেই এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না, তবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য তিনি নানামুখী চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন।

সামরিক পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, ট্রাম্প "প্রচুর জ্বালানি অবকাঠামো" কভার করে অতিরিক্ত হামলার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে 'এমওএবি' বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দ্বিতীয় একটি সূত্র জানায়, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ ইরানি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আক্রমণের পরিকল্পনায় সরাসরি এই বোমার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই ধরনের পরিকল্পনা থাকা মানে আক্রমণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এমন নয়। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেছেন যে, প্রশাসন সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করে না, যা বাস্তবায়ন হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তবে তিনি যোগ করেন, "ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছেন।" পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা প্রেসিডেন্ট এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরণের সামরিক পরিস্থিতির পরিকল্পনা করে থাকে।

'মাদার অব অল বোম্বস' আসলে কী?

'জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট' বা 'এমওএবি' মার্কিন অস্ত্রাগারের সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা। এর ওজন ২১,৬০০ পাউন্ড (প্রায় ৯.৮ টন) এবং এটি একটি বিশাল এলাকা জুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

এটি মাটির গভীরে থাকা বাংকার ধ্বংসকারী বোমার মতো নয়; বরং মাটির সংস্পর্শে আসার আগেই বাতাসে বিস্ফোরিত হয়ে চারপাশে ভয়াবহ ধাক্কা বা বিস্ফোরণ সৃষ্টি করে। সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি প্রায় নয়টি সিটি ব্লকের সমপরিমাণ এলাকা ধ্বংস করতে সক্ষম। ফলে ভূগর্ভস্থ স্থাপনার চেয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য এটি সবচেয়ে উপযোগী।

ইরাক যুদ্ধের সময় অস্ত্রটি তৈরি হয়েছিল এবং এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলা। বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে শত্রু বাহিনীকে ভীতসন্ত্রস্ত করা এবং তাদের আত্মসমর্পণ বা যুদ্ধ থেকে বিরত রাখা ছিল এর মূল লক্ষ্য। প্রধানত বিপুলসংখ্যক সৈন্য, সামরিক সরঞ্জাম এবং ভূপৃষ্ঠের শক্ত অবকাঠামো ধ্বংস করতেই এটি ডিজাইন করা হয়।

ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সে এই বোমা ফেলার অনুমোদন দিয়েছিলেন। আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ওই হামলায় ৩৬ জন আইএস জঙ্গি নিহত হয় এবং তাদের সুড়ঙ্গ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস হয়ে যায়। মার্কিন ও আফগান কর্মকর্তারা জানান, ওই হামলায় কোনো বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়নি।

ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় কি এটি আঘাত হানতে পারবে?

ব্যাপক ধ্বংসক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে 'এমওএবি'-এর কার্যকারিতা খুবই সীমিত হতে পারে।

সিএনএন জানায়, পরিকল্পনা সংক্রান্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে যে, বোমাটি গ্রানাইট পাথরের পুরু স্তরে সুরক্ষিত 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন' বা ভূগর্ভের গভীরে থাকা অন্যান্য পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করার মতো গভীরে ভেদ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একটি সূত্র অস্ত্রটিকে একটি বিশাল এলাকা ধ্বংস করার জন্য কার্যকর হিসেবে বর্ণনা করলেও বলেছে, "এটি নিশ্চিতভাবেই ভূগর্ভের গভীরে প্রবেশের জন্য তৈরি কোনো ওয়ারহেড নয়।"

এছাড়া লোকালয় বা অসামরিক কোনো জ্বালানি অবকাঠামোর কাছে এটি ব্যবহার করা হলে, এর বিশাল ধ্বংসাত্মক ব্যাপ্তির কারণে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যায়। তা সত্ত্বেও, সামরিক পরিকল্পনাকারীরা তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে এই বোমার কথা বিবেচনা করেছেন। এক কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানান, ইরানকে পুরোপুরি নতি স্বীকার করাতে না পারলেও বা চূড়ান্ত সামরিক বিজয় নিশ্চিত না করলেও, চলতি সংঘাতের গতিপথ বদলে দিতে এটি ব্যবহার করা হতে পারে।

সংঘাত বৃদ্ধির তীব্র আশঙ্কা

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রে 'এমওএবি' ব্যবহার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক চরম সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেবে। সিএনএন জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নতুন কোনো হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও, তিনি আবার সামরিক হামলার অনুমোদন দিলে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

তবে ইরানের বিরুদ্ধে 'এমওএবি' মোতায়েনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সামরিক পরিকল্পনায় এর অন্তর্ভুক্তি নির্দেশ করে যে এই বিকল্পটি বিবেচনায় রাখা হয়েছে, তবে এটি ব্যবহার করা হবেই এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইএমএফ: বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অগ্রগতি ইতিবাচক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


আইএমএফ: বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অগ্রগতি ইতিবাচক

বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পাশাপাশি উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে নির্ভরযোগ্য নীতি কৌশল তৈরির পরামর্শ দিয়েছে।

দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানে স্থবিরতার মধ্যেও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং জনজীবনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনের চতুর্থ দিনে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক আউটলুক প্রকাশনার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য করণীয় সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে আইএমএফ কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পরামর্শ দেয়। অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী শক্তিশালীকরণের জন্য নির্ভরযোগ্য নীতি কৌশল তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করে সংস্থাটি।

এর কিছুক্ষণ পর, আইএমএফের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চলমান আর্থিক সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক করেন।

এর পরপরই, সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বৈঠকে যোগ দেয়।

বৈঠক শেষে, আমির খসরু জানান, নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের আর্থিক খাতের বিশ্বাসযোগ্য সংস্কারে আস্থা রাখছে।

তিনি বলেন, ‘তবে ব্যাংকিং খাত, কর-জিডিপি অনুপাতসহ কিছু বিষয়ে সংস্থাটির যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেটা থাকা স্বাভাবিক। বাংলাদেশেরও কিছু বিষয়ে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এরইমধ্যে অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং বেশ কিছু বিষয় সমাধান হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আগামী কয়েক মাস ধরে এ প্রক্রিয়া চলতে পারে।’

আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ নিয়ে আলোচনা ভালো হয়েছে এবং তা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আলোচনা অব্যাহত রেখে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%