শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৯ পি.এম
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। এই বৈঠকটি ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো, যখন দেশটি ওই সংস্থার পরিচালককে বহিষ্কার করেছিল।
জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, ভেনেজুয়েলায় পরিবর্তনের একটি নতুন উদাহরণ হিসেবে এই বৈঠককে দেখা হচ্ছে।
মাদুরোর শাসনামলে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক দমন-পীড়ন চলেছিল। তার শাসনকালে সরকার ক্রমাগত স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিল। তার পুনর্নির্বাচন দুইবারই ব্যাপকভাবে জালিয়াতির অভিযোগে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।
রড্রিগেজ এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিনিধিদল ‘মতপ্রকাশের বহুত্ববাদকে উৎসাহিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আরও গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের পরিবেশ সুসংহত করার’ বিষয়ে আলোচনা করেছেন, বলে ভেনেজুয়েলা সরকার এক বিবৃতিতে জানায়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল ‘শান্তি, কূটনীতি এবং বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা।’
মাদুরোর পূর্বসূরি, বামপন্থী বিপ্লবী নেতা হুগো শ্যাভেজ ২০০৮ সালে মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থাটির আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক হোসে মিগেল ভিভাঙ্কোকে বহিষ্কার করেছিলেন।
শ্যাভেজ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভেনেজুয়েলায় প্রবেশও সীমিত করেছিলেন।
রড্রিগেজ ক্ষমতায় আসার পর বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছেন এবং কুখ্যাত এল হেলিকয়েড কারাগার বন্ধের পরিকল্পনার ঘোষণা করেছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মাদুরোর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই কারাগারে বন্দিদের নির্যাতন করত।
বৃহস্পতিবার রড্রিগেজ সরকার আরও জানায়, কয়েক বছর ধরে সেন্সর করা কিছু সংবাদ ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়েছে।
তবে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা চলতি সপ্তাহে বলেছেন, মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভেনেজুয়েলায় এখনো ‘দমনমূলক ব্যবস্থা’ বহাল রয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বেআইনি আটক ও গুমের ঘটনা ঘটছে।
ওয়াশিংটনের তীব্র চাপের মধ্যে রড্রিগেজ সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং তারা ভেনেজুয়েলার খনি, তেল ও বিদ্যুৎ খাত বিদেশি ও বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে গতকাল ছয়টি কোম্পানি তাদের পূর্ববর্তী অর্থবছরের লভ্যাংশের নির্দিষ্ট অংশ হিসেবে মোট ১৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা জমা করেছে।
প্রতিনিধিরা এই অর্থের চেক শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে তার কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার।
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, স্থানীয় এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তাদের মুনাফার ৫ শতাংশের এক-দশমাংশ শ্রমিকদের কল্যাণে গঠিত এই তহবিলে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
গতকাল ইডটকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড ৪ কোটি ৭৩ লাখ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ৪ কোটি ২৫ লাখ, সিটিব্যাংক এন এ ৩ কোটি, নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড ১ কোটি ৩১ লাখ, নুভিস্তা ফার্মা পিএলসি ২৭ লাখ এবং সাইনোভিয়া ফার্মা পিএলসি ৮ লাখ টাকা জমা দেয়।
চেক গ্রহণের সময় মন্ত্রী বলেন, "প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের কল্যাণ, দুস্থ ও অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সহায়তায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।"
তিনি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে নিয়মিতভাবে লভ্যাংশের নির্ধারিত অংশ তহবিলে জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং অন্যান্য কোম্পানিগুলোকেও আইন অনুযায়ী তাদের নির্ধারিত অংশ জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান করেন।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় নবগঠিত জিয়া সাইবার ফোর্স বগুড়া মহানগর শাখার উদ্যোগে শুক্রবার সকালে ঐতিহ্যবাহী কালীতলা হাটের মুক্ত মঞ্চে একটি ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে এই ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র রেজাউল করিম বাদশা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. হামিদুল হক চৌধুরী হীরু, জিয়া সাইবার ফোর্স বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মার্জান আহাদ, ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা ডাঃ এ,কে,এম মঈনুল হাসান রাব্বি।
জিয়া সাইবার ফোর্স বগুড়া মহানগর শাখার সভাপতি আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম সৌখিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জিয়া সাইবার ফোর্স বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মানিক সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, মহানগর কমিটির সি: সহ-সভাপতি তাজ উদ্দিন আহমেদ সুমন, আমিনুর রহমান, মাহবুব হোসেন, এনারুল ইসলাম, ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম ডালু, ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইনুর রহমান শেখ, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ রিপন, সালাম শেখ, বেলাল মাস্টার, শহর ছাত্রদলের সভাপতি এসএম রাঙা, মহিলা দল নেত্রী মৌ, শাহানা ইউসুফ রুশি, ডা: রোকনুজ্জামান রোকন, ডা: রাশেদুজ্জামান রাশেদ, ডা: শাফি প্রমুখ।
চিকিৎসক দলের নেতৃত্বে ছিলেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ রাশেদুল কবির। বগুড়া জেলা বিএনপির ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা মেডিকেল ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন। বগুড়া সদর আসনের সাংসদ ও বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা তাঁর বক্তব্যে জানান যে, মানবতার কল্যানে জিয়া সাইবার ফোর্স অতীতের মত অনলাইন ও অফলাইনে সর্বত্র ভূমিকা পালন করে যাবে।
বটবাহিনীর গুজব প্রতিরোধসহ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে জনগণের সামনে তুলে ধরতে কাজ করে যাবে জিয়া সাইবার ফোর্স। তিনি এই মহতী উদ্যোগের জন্য জিয়া সাইবার ফোর্সের নেতা কর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এই সংগঠনের কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। এরপর মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন ঘোষণা করে তিনি চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এই মেডিকেল ক্যাম্পে মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও ডেন্টাল সমস্যাজনিত দুই শতাধিক রোগীকে ফ্রী চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
রোগীদের বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়। উক্ত মেডিকেল ক্যাম্পে জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক এসোসিয়েশন বগুড়ার সভাপতি শাহজাহান, রুবেল, শহিদুলসহ নেতৃবৃন্দ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান লড়াইয়ের কারণে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, ইতালি তাদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে ওই নৌপথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো উল্লেখ করেন, ইইউর যৌথ সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা না করে রোম ইতালীয় জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য তাদের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে প্রণালিটি অচল হয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।
চলতি বছরের শুরুতে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে, বাব আল-মান্দাবের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে সৌদি আরব লোহিত সাগরের এই নৌপথ ও পাইপলাইনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে টানাটানি চললেও, সম্প্রতি হুতিরা ইয়েমেনের পশ্চিমাংশের পুরো লোহিত সাগর উপকূল ও সংলগ্ন দ্বীপগুলোর ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে, প্রণালিতে বিদ্রোহী দলটির প্রভাব ও সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ওয়াশিংটনে বসবাসকারী ইরানি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক সোরুশ একের পর এক বন্ধু হারাতে শুরু করেন।
সোরুশ, যিনি তেহরানের ইসলামি সরকারের বিরোধী, তার বিশ্বাস হলো, যুদ্ধ করে ‘কোনো কিছুই ভালো হবে না’ বলে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত অন্যান্য ইরানিরা তাকে তাদের নিপীড়কদের সমর্থক হিসেবে অভিযুক্ত করতে শুরু করেন।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
অন্যদিকে, আরেক ইরানি-আমেরিকান বাহারও প্রবাসী ইরানি সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তবে তার বিচ্ছিন্নতার কারণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের জোরালো সমর্থক।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৭ লাখ ৫০ হাজার ইরানির মধ্যে তেহরানের ইসলামি সরকারের বিরোধিতা নিয়ে ব্যাপক ঐক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। দেশের সামরিক অবকাঠামোর বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
তবে, নিজ দেশে ৪৭ বছরের ধর্মীয় শাসনের অবসান ঘটাতে যুদ্ধটি সফল হবে কি না, তা নিয়ে প্রবাসী ও নির্বাসিত ইরানিদের মধ্যে গভীর বিভাজন দেখা দিয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, স্যাক্রামেন্টোর ইরানি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক সাহার রাজাভি বলেন, ‘পারিবারিক সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে বা ভেঙে গেছে। এমনকি আজীবনের বন্ধুত্বও এ কারণে শেষ হয়েছে।’
তিনি মনে করেন, আগে থেকেই থাকা মতবিরোধকে যুদ্ধ আরও তীব্র করেছে।
এএফপি ওয়াশিংটন এলাকায় বসবাসকারী ইরানি সম্প্রদায়ের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বন্ধু ও স্বজনদের বিষয়ে কথা বলার সময় পুরো নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।
সোরুশ একজন থ্রিডি শিল্পী ও অ্যানিমেটর। তিনি এক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে, এমনকি নিজের ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গেও তার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আগের যুদ্ধগুলোর নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের বলেছিলেন, ‘ইরানের মানুষ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের হারাবে। তারা চাকরি হারাবে, সঞ্চয় হারাবে।’
ইসলাম ধর্ম থেকে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করা সোরুশ এএফপিকে বলেন, ‘তারাই এর ভুক্তভোগী, ইরানি প্রবাসীরা নয়।’
শহরের কেন্দ্রের একটি কফিশপে বসে বাহার ও আহু সিগারচি- এর বিপরীত মত প্রকাশ করেন। বাহার চিকিৎসা খাতে কাজ করেন। আহু একটি ব্যাংকে কর্মরত।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, সরকার উৎখাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
ইরানের নির্বাসিত প্রয়াত শাহের ছেলে রেজা পাহলভির দৃঢ় সমর্থক আহু বলেন, ‘ইরানে আমাদের সবার পরিবার ও বন্ধু রয়েছে। তারা যে কথাগুলো বলতে পারছে না, আমরা শুধু সেসব কথাই বলছি।’
রেজা পাহলভি তখন একটি বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরে তিনি প্রবাসী ইরানিদের মধ্যে সমর্থন সংগঠিত করেন।
আহু বলেন, ‘আমি মনে করি, যুদ্ধ নিয়ে আমরা সঠিক পথেই আছি। মানুষ যা চায়, শিগগিরই আমরা সেখানে পৌঁছাব।’
সামরিক হস্তক্ষেপের পরও সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
আহু বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, আমাদের অন্য কোনো সমাধান নেই।’
জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে বিপাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মধ্যে যুদ্ধটি ব্যাপক অজনপ্রিয়।
যুদ্ধবিরোধী সংগঠন ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের উদ্যোগে পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরানি প্রবাসীদের মধ্যে যুদ্ধের প্রতি সমর্থন দ্রুত কমেছে।
যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি সম্প্রদায় প্রায় সমান দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। তবে এক মাস পর পরিচালিত দ্বিতীয় জরিপে দেখা যায়, ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ যুদ্ধের বিরোধিতা করছে। আর ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ যুদ্ধকে সমর্থন করছে।
রাজাভি বলেন, যারা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন এবং বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সরকার পরিবর্তন নিয়ে সংশয়ী ছিলেন, তারা নিজেদের অবস্থান সঠিক প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করছেন। তবে অনেক সমর্থক ‘আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ইরানি সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করেছে এমন একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু অংশও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইরানি প্রবাসীদের মধ্যে আমি এ প্রবণতা দ্রুত বাড়তে দেখছি।’
তেহরানে কর্মরত সাবেক সাংবাদিক মোহাম্মদ রেজা মুসাভি যুদ্ধ ও ইরানের সরকারÑদুটোরই বিরোধী। তিনি মনে করেন, যুদ্ধের প্রতি আগ্রহ কমে আসছে। তবে যারা যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের অসহিষ্ণুতায় তিনি ক্ষুব্ধ।
তিনি বলেন, ‘তারা খুব সহজেই আপনার গায়ে যেকোনো তকমা লাগিয়ে দিতে পারে, যদি তারা বুঝতে পারে যে আপনি সব বিষয়ে তাদের সঙ্গে একমত নন।’
রাজাভির মতে, ইরানি সম্প্রদায়ের যেসব সংগঠন ফারসি ভাষার ক্লাস বা ফারসি কবিতা পাঠের আয়োজন করত, তারা ‘মুক্তির সংগ্রাম’-এর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন না জানালে ‘কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ত।’
তবে পাহলভির সমর্থকরা বলছেন, সম্প্রদায়ের চাপ একতরফা নয়।
একজন শিক্ষক ক্লাসে বারবার যুদ্ধের প্রসঙ্গ তোলায় তিনি তার আট বছর বয়সী ছেলেকে ইরানি শিল্প ও সংগীত শেখানো হয় এমন একটি স্কুল থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।
তবে যুদ্ধ যেভাবে ইরানি সম্প্রদায়কে নাড়িয়ে দিয়েছে, সে বিষয়ে মুসাভি বাস্তববাদী।
তিনি বলেন, ‘কঠিন সময়ে আপনি আপনার আশপাশের মানুষদের বুঝতে পারেন। তারা আসলে কেমন মানুষ, তা বুঝতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ