ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের ২২২৭ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন


ভারতের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের ২২২৭ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন

ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (ডিএসি) সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র কেনার জন্য ২২২৭ কোটি ডলারের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ২ লাখ ১২ হাজার কোটি রুপি বা প্রায় ২২ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এ তথ্য ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়। খবর রয়টার্স।

অনুমোদিত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে অতি স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা, নজরদারি ও আঘাত হানার সরঞ্জাম এবং দূরপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য বিভিন্ন ধরনের আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।

ভারতের সেনাবাহিনীর জন্য উচ্চ গতিশীলতার যান (হাই মোবিলিটি ভেহিকল), স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম, গোলাগুলির উৎস শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং হালকা বহুমুখী হেলিকপ্টার কেনার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব সরঞ্জাম সেনাদের চলাচল, রসদ পরিবহন, গোলাবর্ষণ এবং শত্রুপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করার কাজে ব্যবহৃত হবে।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

এছাড়া সেনাবাহিনীর জন্য সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। কামিকাজে ড্রোন হলো একটি আত্মঘাতী ড্রোন, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সময় নিজেই ধ্বংস হয়ে যায়।

নৌবাহিনীর জন্য জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধজাহাজকে সুরক্ষা দিতে অ্যাকটিভ অফবোর্ড ডিকয় সিস্টেম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আধুনিক নৌযান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, বিমানবাহিনীর জন্য হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির সক্ষমতা বাড়াতে মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রাডার কেনার প্রস্তাবও রয়েছে।

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার আমদানি কমাতে তিনটি বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ পি.এম


সার আমদানি কমাতে তিনটি বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ

সরকার দেশের সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রীয় সার কারখানা আগামী নভেম্বরের মধ্যে পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) এর।

বিসিআইসি আশা করছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সার আমদানিতে ব্যয় কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ আরও সহজ হবে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিসিআইসির অধীন সাতটি সার কারখানার মধ্যে চারটি চালু রয়েছে। তবে গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সংকটের কারণে চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড (টিএসপিএল), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল) বন্ধ রয়েছে।

এসব কারখানা পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেরামতকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানান, আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ধারিত চাপে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি কারখানার উৎপাদন চালু করতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, "প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামাল পাওয়া গেলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে কারখানাগুলো চালুর বিষয়ে আমরা আশাবাদী।"

দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদার পুরোটা দেশীয় উৎপাদন থেকে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার আমদানি করতে হচ্ছে সরকারকে। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা এবং বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিআইসি।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সার কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৬৮ হাজার ২৫৯ মেট্রিক টন টিএসপি এবং ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন ডিএপি সার উৎপাদন হয়েছে। একই অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোতে উৎপাদিত ইউরিয়া দিয়ে জাতীয় চাহিদার প্রায় ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনের অবদান ছিল যথাক্রমে প্রায় ৯ দশমিক ১০ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

এ পরিসংখ্যান থেকে বিশেষ করে ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বন্ধ টিএসপি ও ডিএপি কারখানা চালু করা গেলে এ দুই ধরনের সারের স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে উৎপাদন কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে কারখানাগুলোর প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা, কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনা নিশ্চিত করার ওপর।

বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, দেশের সারের চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬ দশমিক ৪৪ লাখ মেট্রিক টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৭৯ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করতে হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোর উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, "দেশের সব সার কারখানা চালু করে ইউরিয়া সার আমদানি বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।"

বিসিআইসি সূত্র জানায়, আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করার প্রধান শর্ত হলো প্রয়োজনীয় পরিমাণে এবং নির্ধারিত চাপে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ। এ বিষয়ে গ্যাস সরবরাহকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিগগিরই গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ফসফরিক অ্যাসিডের ঘাটতি এবং সালফিউরিক অ্যাসিড প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় টিএসপি কমপ্লেক্সের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ এবং প্ল্যান্টের মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে কারখানাটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। ডিএপি কারখানার উৎপাদনও ফসফরিক অ্যাসিডের স্বল্পতার কারণে বন্ধ রয়েছে।

বিসিআইসি আগামী নভেম্বরের মধ্যে টিএসপি ও ডিএপি কারখানার উৎপাদন পুনরায় শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা জরুরি। কারখানাগুলো চালু রাখার ক্ষেত্রে গ্যাস ও কাঁচামালের সরবরাহের পাশাপাশি যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদনব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র কারখানা চালু করলেই হবে না, উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য এসব ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউরিয়া সার উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস। পর্যাপ্ত গ্যাস এবং নির্ধারিত চাপ না থাকলে ইউরিয়া কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি সার উৎপাদনের জন্য ফসফরিক অ্যাসিডসহ প্রয়োজনীয় রাসায়নিক কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ প্রয়োজন। এ কারণে সার কারখানাগুলোর উৎপাদন সচল রাখতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পেট্রোবাংলা, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বিসিআইসি।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, সার কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে গ্যাস ও প্রয়োজনীয় কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। কারখানাগুলোর উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্যাস ও কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারখানাগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদনব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা গেলে দেশীয় সার উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে আমদানির ওপর চাপ কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সারের মূল্য ও সরবরাহের ওঠানামার প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়তে পারে।

বিসিআইসির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় শুধু বন্ধ কারখানা চালু করাই নয়, বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন কারখানা স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংস্থাটি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে পুরোনো প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, উৎপাদন প্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন ইউরিয়া ও টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা চলছে।

বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, শুধু বন্ধ কারখানা চালু করা নয়, দীর্ঘমেয়াদে দেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান কারখানার আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ, কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং কারখানাগুলোর কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় ও আমদানিকৃত সারের ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় উৎপাদন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়।

কৃষি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

দেশীয় সার উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষি খাতে উৎপাদন উপকরণের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া কিংবা আমদানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে স্থানীয় উৎপাদন দেশের কৃষি খাতকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। একই সঙ্গে সার আমদানিতে ব্যয় কমানো গেলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পাবে। তবে এ সুফল কতটা অর্জিত হবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাণ, কারখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় এবং আমদানির বিকল্প হিসেবে দেশীয় উৎপাদনের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপর।

বিসিআইসির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সার উৎপাদনে রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোর ভূমিকা আরও বাড়তে পারে। এ জন্য বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদনব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের লক্ষ্য, দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা। আগামী নভেম্বরের মধ্যে বন্ধ থাকা তিনটি কারখানা চালুর উদ্যোগ এবং আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলফামারীতে পরিবেশ দূষণের জন্য রাফি অটো রাইস মিলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ পি.এম


নীলফামারীতে পরিবেশ দূষণের জন্য রাফি অটো রাইস মিলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

নীলফামারী, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : পরিবেশ দূষণের কারণে মেসার্স রাফি অটো রাইস মিলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এই জরিমানা কার্যকর করেন।

জরিমানার কার্যক্রমের সময় প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি জানান, সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের পিলার বাজার এলাকায় ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে মেসার্স রাফি অটো মিলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় পরিবেশ দূষণ এবং ছাই ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে মিলের মালিক আতিকুজ্জামানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেন মিলের মালিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ তানিয়া হত্যায় স্বামী-ননদ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ পি.এম


পটিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ তানিয়া হত্যায় স্বামী-ননদ গ্রেপ্তার

পটিয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী তানিয়া কামাল নিহাতকে (২০) হত্যার অভিযোগে তার স্বামী নুর উদ্দিন (২৩) গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নুর উদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্ত্রীর সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির সম্পর্ক থাকার সন্দেহ এবং ওই ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণে তাদের মধ্যে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহতের ননদ জোৎস্না আক্তারকেও (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে উল্লেখিত অন্য আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক বেগম তাররাহুম আহম্মেদের কাছে ফৌজদারি কার্যিবধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন নুর উদ্দিন। পুলিশ জানায়, তার জবানবন্দির বরাত দিয়ে, দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে স্ত্রীকে ধাক্কা দিলে তিনি দেয়ালে লেগে মেঝেতে পড়ে যান। এরপর নুর উদ্দিন তার গলা চেপে ধরার কথা স্বীকার করেছেন।

মামলার বিবরণ ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই এলাকার মোনাফ হাজীর পাড়ায় স্বামীর বসতঘরের শয়নকক্ষে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত তানিয়া কামাল নিহাত ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সংসারের কলহের কারণে তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনাগত সন্তানকে নিয়ে নতুন জীবনের অপেক্ষায় থাকা তরুণীর এমন পরিণতি এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামীর দেওয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, পুলিশ জানায়, স্ত্রীর সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির সম্পর্ক থাকার সন্দেহ থেকেই নুর উদ্দিনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ওই ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে পটিয়া থানা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পারিবারিক কলহের কারণে তানিয়াকে তার স্বামী নুর উদ্দিন, ননদের স্বামী মো. খোকন (৪২), ননদ জোৎস্না আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা আরো দুই থেকে তিনজন মিলে হত্যা করেছেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিহতের বাবা মো. কামালের পক্ষ থেকে এজাহার পাওয়ার পর মঙ্গলবার পটিয়া থানায় এ হত্যা মামলাটি করা হয়। মামলায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হকের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিহতের স্বামীর বাড়ি থেকে নুর উদ্দিন ও ননদ জোৎস্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে নুর উদ্দিনকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের পুরো ঘটনা উদ্‌ঘাটন এখন পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার স্বামীর জবানবন্দি, এজাহারে করা অভিযোগ এবং অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুল কাটার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত, গ্রেপ্তার সাদ্দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ পি.এম


চুল কাটার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত, গ্রেপ্তার সাদ্দাম

ময়মনসিংহের ভালুকায় চুল কাটার জন্য টাকা না দেওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে সেলুন ব্যবসায়ী রবেন্দ্র ঋষি (৪৩) কে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাদ্দাম হোসেন নামক এক বখাটের বিরুদ্ধে।

এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট এলাকায়। পুলিশ পরে অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম হোসেনকে হবিরবাড়ী ন্যাশনাল পলিমার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত রবেন্দ্র ঋষি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকার কাশেমের বাসায় ভাড়া থেকে স্থানীয় বাজারে সেলুনের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা বাবুল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাদ্দাম হোসেন ধারালো ছুরি নিয়ে রবেন্দ্রের সেলুনে প্রবেশ করেন। সেখানে রবেন্দ্রকে প্রথম দফা ছুরিকাঘাত করেন তিনি। প্রাণ বাঁচাতে রক্তাক্ত রবেন্দ্র সেখান থেকে দৌড়ে পাশের সাদ্দামের বাবার দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানেও ঘাতক সাদ্দাম পিছু ধাওয়া করে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। এরপর রবেন্দ্র পাশের একটি বাড়ির উঠানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে, সেখানে তাকে মাটিতে ফেলে আবারও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

নিহতের স্ত্রী সূচিত্রা জানান, সাদ্দাম প্রায়ই নেশার টাকার জন্য তার স্বামীর কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নিতেন। এছাড়া সেলুনে প্রতিনিয়ত চুল-দাড়ি কাটিয়ে কোনো টাকা দিতেন না, টাকা চাইলে ঝগড়া হতো। কিছুদিন ধরে টাকা না দেওয়া এবং নতুন করে বাকিতে চুল কেটে না দেওয়ার কারণে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। সূচিত্রা অভিযোগ করেন, এর আগে সাদ্দাম তার স্বামীকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজার আগে সাদ্দাম তাকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%