বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:০২ পি.এম
দেশের প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি জানিয়েছেন, এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি, পুনর্বাসন, আবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ এক ছাতার নিচে নিশ্চিত করা হবে।
সচিবালয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা, বিশেষ শিক্ষা বা পুনর্বাসনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলস্বরূপ, তাদের সম্ভাবনা বিকাশের পথ বাধাগ্রস্ত হয়। সরকার এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার নাম রাখা হয়েছে ‘শিশু স্বর্গ’।
তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজের বোঝা নয়, তারা আমাদের সম্পদ। সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে পারলে তারাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা প্রতিটি জেলায় শিশু স্বর্গ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি।’
প্রতিমন্ত্রী জানালেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যেগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করবে। এর পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, শিক্ষা, থেরাপি, প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তিনি নিশ্চিত করেন, 'আমরা চাই একটি পরিবার যেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরে বেড়াতে বাধ্য না হয়। একটি শিশুর যেসব সেবা প্রয়োজন, সেগুলো যেন একই জায়গা থেকে পাওয়া যায়। শিশু স্বর্গ মূলত একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার হিসেবে পরিচালিত হবে।'
ফারজানা শারমীন বলেন, বর্তমানে অনেক পরিবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানকে নিয়ে নানা ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্পিচ থেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট কিংবা বিশেষ শিক্ষকের অভাবে অনেক শিশু তাদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সীমাবদ্ধতা ধীরে ধীরে দূর করা হবে।
তিনি জানান, 'একজন অটিজম বা প্রতিবন্ধী শিশুর বিকাশের জন্য শুধু চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। তার শিক্ষা, মানসিক বিকাশ, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিশু স্বর্গে এসব বিষয়কে সমন্বিতভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে।'
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কেন্দ্রে শিশুর বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক সেবা পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফিজিওথেরাপি, স্পিচ থেরাপি, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, বিশেষ শিক্ষা এবং অভিভাবকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি সংযোজন করেন, 'শুধু শিশুদের নয়, তাদের অভিভাবকদেরও সচেতন ও দক্ষ করে তুলতে হবে। কারণ পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া কোনো পুনর্বাসন কার্যক্রম সফল হয় না। তাই শিশু স্বর্গে অভিভাবকদের জন্যেও নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা থাকবে।'
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কেবল ভাতার আওতায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। বরং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
তিনি বলেন, 'আমরা চাই প্রতিবন্ধী শিশুরা বড় হয়ে আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। এজন্য ছোটবেলা থেকেই তাদের উপযুক্ত শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং জীবনমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।'
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার। যারা হস্তশিল্প বা অন্য কোনো পণ্য উৎপাদন করবেন, তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণেও সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের উদ্দেশ্য দাননির্ভর সমাজ গড়া নয়; বরং এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা মর্যাদার সঙ্গে নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন।'
ফারজানা শারমীন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকলেও সরকার এখন আরও টেকসই উদ্যোগের দিকে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, 'ভাতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো একজন মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা।'
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইন ও নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, গণপরিবহন এবং অন্যান্য সেবাক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় সামাজিক কুসংস্কার ও সচেতনতার অভাবে প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবারগুলো সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শিশু স্বর্গ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুধু সেবা প্রদান নয়, সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার কাজও করা হবে।
তিনি বলেন, 'আমরা চাই মানুষ প্রতিবন্ধিতাকে করুণা নয়, মানবিকতা ও অধিকারের দৃষ্টিতে দেখুক। সমাজের প্রতিটি শিশুর সমান মর্যাদা ও সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।'
তিনি জানান, শিশু স্বর্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা থাকবে, যাতে শিশুরা আনন্দের মধ্য দিয়ে শিখতে পারে এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'একটি শিশুর মানসিক বিকাশে আনন্দময় পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশু স্বর্গ শুধু একটি সেবাকেন্দ্র হবে না, এটি হবে একটি নিরাপদ পরিবেশ যেখানে শিশুরা নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগও পাবে।'
তিনি আরও যোগ করেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবারগুলো যাতে সহজে এসব সেবা পায়, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ে কেন্দ্র স্থাপনের ফলে রাজধানীকেন্দ্রিক সেবার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং মানুষ নিজ জেলাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে।
ফারজানা শারমীন বলেন, সরকার স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে একটি কার্যকর সেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।
তিনি বলেন, 'প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়ন কোনো একক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এটি একটি সমন্বিত জাতীয় দায়িত্ব। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।'
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য নতুন নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে তারা সমাজের মূলধারায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, 'আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কোনো প্রতিবন্ধী শিশু অবহেলিত থাকবে না। প্রতিটি শিশুর প্রতিভা বিকাশের সুযোগ থাকবে এবং তারা মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে।'
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'শিশু স্বর্গ প্রকল্প শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নয়; এটি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার কর্মসূচি। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রতিটি জেলায় ধাপে ধাপে এই সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের সব প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানায় হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আব্দুর রহিমকে (৪৮) দীর্ঘ ৯ বছর পর ফেনীর দাগনভূঞা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনীর দাগনভূঞা মিষ্টি মুখ সুইটসের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রহিম সুবর্ণচর উপজেলার উত্তর কচ্ছপিয়া এলাকার মৃত আবদুল বারিকের ছেলে।
র্যাব জানায়, ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সোনাইমুড়ী থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে বিচার শেষে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর থেকে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে ৯ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থাকার সময় আসামি তার জাতীয় পরিচয়পত্রের স্থায়ী ঠিকানাও পরিবর্তন করেন।
দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারির পর তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১১-এর সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চরজব্বর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরের জাজিরায় নদীর তীর রক্ষায় নির্মীয়মাণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার তোলা এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে ভাঙনের ক্ষতি। পদ্মায় পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ার কারণে শরীয়তপুরের জাজিরায় নদীর তীর রক্ষা বাঁধের তিনটি জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত সাত দিনের মধ্যে বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ২৫টি পরিবার তাদের বসবাসের ঘর সরিয়ে নিয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরো প্রায় ৩০০ পরিবারের বসতবাড়ি। এতে নদীতীরে বসবাস করা মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শরীয়তপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতুর নাওডোবা থেকে জাজিরা ইউনিয়নের পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত নদীর দক্ষিণ তীরে মোট ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
৩৯টি প্যাকেজে নেওয়া প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় এক হাজার ১৩০ কোটি টাকা। এর আগে, ২০২৪ সালের মার্চে পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের জিরো পয়েন্ট থেকে পাথালিয়াকান্দি পর্যন্ত ৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার অংশে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের তীর রক্ষা বাঁধের একটি অংশে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর, প্রকল্পের আওতায় আরো দুই কিলোমিটার এলাকা যুক্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, ভাঙনের ফলে পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া ও ফরাজীকান্দি এবং নাওডোবা ইউনিয়নের পৈলান মোল্যারকান্দি ও আলম খারকান্দি এলাকার ক্ষতি ঘটেছে।
নদীতে চলে গেছে সাতটি দোকান। পাশাপশি কাথুরিয়া-মাঝিরঘাট সড়কের প্রায় ৫০ মিটার অংশও বিলীন হয়ে গেছে। পরিস্থিতি দেখতে পাউবোর তিন কর্মকর্তা কাথুরিয়া এলাকায় পরিদর্শন করেছেন।
পাউবো কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হঠাৎ করে ভাঙন তীব্র হয়েছে এবং বাঁধের সংলগ্ন প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ওই কর্মকর্তারা জানান, ভাঙন ঠেকাতে সেখানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।
তীররক্ষা প্রকল্পের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ৫ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার এলাকায় নদীর অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ চলছিল। বর্ষা মৌসুমের কারণে বর্তমানে নদীতে সেই কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ব্লক তৈরির কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, নদীভাঙন বাড়তে থাকায় অনেকেই আগেভাগেই ঘরবাড়ি ও দোকানের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে। কেউ কেউ তাদের বসতভিটার গাছপালাও কেটে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। কাথুরিয়া এলাকার বিদ্যুতের তিনটি খুঁটি তারসহ নদীতে পড়ে গেছে, যার ফলে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ভাঙনের কারণে কাথুরিয়া-মাঝিরঘাট সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে, গত সোমবার ও মঙ্গলবার কাথুরিয়া-মাঝিরঘাট সড়কের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীতে চলে গেছে। এর ফলে সড়কটিতে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
ভাঙনের শিকার স্থানীয় পেয়ারি বেগম (৬০) জানাচ্ছেন, তিনি চার দশকে ছয়বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। অনেক কষ্টে কেনা ১০ কাঠা জমিও এবার পদ্মায় চলে গেছে। গত রবিবার সকাল থেকে ভাঙন শুরু হলে তার চোখের সামনেই সমস্ত কিছু হারাতে হয়েছে।
পেয়ারি বেগমের অভিযোগ হচ্ছে, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করে বারবার বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
ওই এলাকার ভ্যানচালক ইস্কান্দার মোল্লা (৪৮) জানান, ভাঙনের খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে স্ত্রী ও পাঁচ মেয়েকে নিয়ে ঘরবাড়ির মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। তার প্রায় আট কাঠা জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। তার ভাষ্য, ‘স্থায়ী বেড়িবাঁধ থাকলে হয়তো আজ বসতভিটা হারানোর পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। এখন কীভাবে যে দিন কাটছে আমরাই জানি।’
এ ব্যাপারে পাউবোর শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেছেন, গত বছর প্রকল্পের কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ার পর সেসব অংশের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। নকশা অনুমোদনের পর বর্ষার আগেই সেখানে কাজও শুরু করা হয়েছিল।
নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এবার পদ্মায় পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় নির্মীয়মাণ বাঁধের কিছু অংশে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভাঙনপ্রবণ অংশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। বুধবার (১৩ আগস্ট) সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে চলমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা করা ছাড়া এখন কোনো উপায় নেই।
তিনি বলেন, এইটুকুই বলতে চাই, আমরা কাজ করছি। এই ক্রাইসিসের সময় আসলে এখন আমার কিছু করার নাই। কারণ, আমি গ্যাসও উত্তোলন করতে পারবো না এবং এফএসআরইউ ছাড়া যেটা আছে, সেটাও নামাতে পারবো না।
মন্ত্রী বর্তমান ব্যবস্থাপনার কৌশল ব্যাখ্যা করে বলেন, বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে সরাসরি কিছু করার সুযোগ সীমাবদ্ধ। কারণ, নতুন করে হঠাৎ গ্যাস উত্তোলন করা যেমন সম্ভব নয়, ঠিক তেমনই এফএসআরইউ সচল না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান গ্যাস খালাসして জাতীয় গ্রিডে দেওয়াও সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বিদেশি প্রকৌশলীরা যতক্ষণ পর্যন্ত এফএসআরইউ মেরামত শেষ না করবেন, ততক্ষণ অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গতি নেই। তিনি বলেন, এখন শুধু দিন গোনা ছাড়া ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন এফএসআরইউতে, আমি অন্য কিছু করতে পারছি না। আমি কিছু ম্যানেজমেন্ট করার চেষ্টা করছি, যেন কম লোডশেডিং হয় এবং আমি ইন্ডাস্ট্রিতে গ্যাসটি দিতে পারি।
জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। কিন্তু, মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার একসঙ্গে চালু করতে হবে। কারিগরি সমন্বয়ের জন্য পুরো সিস্টেমটি ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন বন্ধ রাখতে হবে, যার প্রভাবে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেবে।
তিনি বলেন, সরকার নতুন আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ২০২৯ সালের মধ্যে। এছাড়া শিল্পে গ্যাস সংকট কমানোর জন্য বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে গ্যাস কারখানায় পৌঁছানোর জন্য একটি কোম্পানিকে ৩০টি ট্রাক চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকার সরাসরি কনটেইনারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুবিধা তৈরি করতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করছে। মন্ত্রী এ সময় বলেন, তেল নিয়ে গুজব ছড়ানোর কারণে সংকট বাড়ে। তিনি আরও জানান, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তেল আমদানি করতে পারে, সে জন্য একটি নতুন নীতিমালা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে সৌরবিদ্যুৎকে উৎসাহিত করতে সোলার ব্যাটারি ও ইনভার্টারের আমদানি শুল্ক কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের ট্যাক্স হলিডে (করছাড়) সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
আলোচনা সভায় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন সভাপতিত্ব করেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবির। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাকিব বিন আমিন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দিয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তার নাম চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঠাকুরগাঁওয়ে নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করেন। তাঁরা শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক জীবনে ধাপে ধাপে উঠে এসেছেন জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে।
দলের মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করার পর নানা রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়নকে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ত্যাগ এবং নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে দেখতে পেয়েছেন তারা।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন মন্তব্য করেন, 'মির্জা ফখরুল ইসলাম তার ত্যাগের স্বীকৃতি পেলেন। এটা আমাদের জেলা ও দেশের সম্মান। তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি হওয়া তার প্রাপ্য।'
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, 'আজকের এই দিনটি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।'
তিনি উল্লেখ করেন, 'আজ আমাদের আনন্দের শেষ নেই। দুঃসময়ে দলের প্রতিটি সদস্যের অবদান এর প্রতিদান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। এজন্য আমরা গর্বিত-আনন্দিত।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ