ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদুরোবিহীন ভেনেজুয়েলায় ভয় কমলেও দুর্ভোগ কমেনি


মাদুরোবিহীন ভেনেজুয়েলায় ভয় কমলেও দুর্ভোগ কমেনি

ঢাকা, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ : মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার আট মাস পর দেশটির মানুষের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি বিরাজ করছে।

তার পতনে স্বস্তি এলেও চলমান অর্থনৈতিক দুর্ভোগ নিয়ে এখন অধৈর্য হয়ে উঠছেন মানুষ। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের উদ্যোগ সত্ত্বেও দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি এখনও সংকটের মধ্যে রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য অনিশ্চিত আয় ও আকাশছোঁয়া খাদ্যমূল্যই এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।

কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: জমানো খাবারে বানানো কেকেও ছাড় নেই, বন্দিদের জীবন নরক বানানোর হুমকি বেন-গভিরের

মারবেলিস দালিজ ও তার স্বামী আরলিন্দো দা সিলভা একটি মিষ্টান্নের দোকান চালান। অতিমুদ্রাস্ফীতি ও নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট তাদের ব্যবসার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ‘আমাদের অনেক প্রত্যাশা ও আনন্দ ছিল,’ 

দালিজএএফপিকে বলেন, পরবর্তী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আগেই কাজ শেষ করার তাড়ায় তিনি এক গ্রাহকের জন্য দ্রুত খাবার প্রস্তুত করছিলেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বাস্তবতা আমাদের সব আশা ভেঙে দিয়েছে।’

আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ৫ লাখ টাকা ছিনতাই

৫৪ বছর বয়সী এই মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক অল্প মুনাফায় কোনোরকমে টিকে আছেন। ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন না তিনি।

অর্থনীতি একটি বিপর্যয়। ‘আশা করি, একসময় এই পরিস্থিতি কেটে যাবে এবং আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব।’

মূল্যবৃদ্ধি ভেনেজুয়েলাবাসীকে ‘ধ্বংস করছে’-বলিভারের ব্যাপক অবমূল্যায়নের কারণে ২০১৯ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি কার্যত ডলারনির্ভর হয়ে পড়েছে।

মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর অনেকেই দেশে ডলারের প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু বলিভারে হিসাব করা বার্ষিক মূল্যস্ফীতি এখন প্রায় ৫৭৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন: সুরঞ্জিতের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা নিয়ে আসিফ নজরুল ও সালাহউদ্দিন আহমদের মতভেদ

মূল্যবৃদ্ধি ভেনেজুয়েলাবাসীকে ‘ধ্বংস করছে’ বলে মন্তব্য করেন অধিকারকর্মী জায়দা মুজিকা।

৬১ বছর বয়সী মুজিকা এএফপিকে বলেন, ‘নিকোলাস মাদুরোকে যখন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গেল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নিয়ে আমার অনেক আশা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘তারা স্বৈরশাসককে সরিয়েছে, কিন্তু স্বৈরশাসনকে নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের জন্য উপকারী এমন কিছুই ঘটেনি।’

মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে কার্যত ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে সরকার পরিচালনা করছেন।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না ইরানের শীর্ষ নেতা

তিনি বিদেশি ও বেসরকারি পুঁজির জন্য বেশ কয়েকটি খাত উন্মুক্ত করেছেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইইএসএ) অধ্যাপক হোসে ম্যানুয়েল পুয়েন্তে বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য এটি যথেষ্ট নয়।’

তিনি বলেন, যতদিন ভেনেজুয়েলায় ‘বিশ্বের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি’ থাকবে, ততদিন দেশটির সমস্যাগুলো থেকেই যাবে।

মাদুরোকে আটকের খবর ৩ জানুয়ারি নিজ বাড়িতে উদযাপন করেছিলেন হাভিয়ের চাকন ও তার স্ত্রী দেলিয়া। মাদুরোর ১৩ বছরের শাসনামলে চলা দমন-পীড়নের কারণে তারা ভীত ছিলেন।

আরও পড়ুন: মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব

কারাকাসের ব্যস্ত কুইন্তা ক্রেসপো বাজারে এএফপিকে হাভিয়ের বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, আমরা ভেবেছিলাম পরিবর্তন আসবে।’

৪৪ বছর বয়সী এই পোশাক প্রস্তুতকারক বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ভেনেজুয়েলায় আমরা শুধু বেঁচে আছি।’

এরই মধ্যে ২৪ জুন এক মিনিটের ব্যবধানে উত্তর ভেনেজুয়েলায় দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।

এই দুর্যোগে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারান। আহত হন আরও বিপুল সংখ্যক মানুষ। ধ্বংস হয় কয়েক শত ভবন।

আরও পড়ুন: মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ: আইএমএফের প্রতিবেদন

কারাকাসের একটি বাজারে পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী বিক্রি করেন ৪০ বছর বয়সী কারমেন রামিরেজ। ভূমিকম্পে তার বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পিকআপ ভ্যানের পেছনে রাখা পণ্যগুলো গোছাতে গোছাতে রামিরেজ বলেন, ‘বেরিয়ে এসে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’

মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক দালিজ বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। মাদুরোর সময়ের তুলনায় এখন মানুষ কম ভয় পায়। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ভিন্নমত দমনে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছিলেন মাদুরো।

বাতাসে সদ্য তৈরি খাবারের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে দালিজ বলেন, এটি উদযাপনের মতো একটি বিষয়।

তিনি বলেন, ‘আগে ইনস্টাগ্রামে রাজনীতি নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়ার সাহসও আমার ছিল না।’

‘কিন্তু এখন দিই, এখন লিখি, ‘মাদুরো চলে গেছে, কী দারুণ!’

রদ্রিগেজ দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, রাজনৈতিক বন্দিদের স্বজন এবং এমনকি বামপন্থী কর্মীরাও নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ করেছেন।

নির্বাচনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে নির্বাচিত বিরোধী নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক রূপান্তর নিয়ে আলোচনাতেও অংশ নিচ্ছে।

তবে সবাই যে আগের চেয়ে স্বস্তিতে আছেন, তা নয়।

৫৬ বছর বয়সী সাবেক রাজনৈতিক বন্দি জেরি ওস্তোস বলেন, সরকার ‘ভিন্ন মত পোষণের কারণে এখনও মানুষকে কারাগারে রাখছে।’

মাদুরোবিরোধী একটি ব্যানার প্রদর্শনের দায়ে ওস্তোস দুই বছর কারাভোগ করেন। মার্চে মুক্তি পাওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে চলমান হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রতি মাসে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে ১ হাজার ৪৬ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে বেসরকারি সংস্থা ফোরো পেনাল বলছে, এখনও প্রায় ৪০০ জন কারাগারে রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে আমাকে নাচতে হয়েছিল: দিয়া মির্জা 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে আমাকে নাচতে হয়েছিল: দিয়া মির্জা 

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউডে পা রাখা অভিনেত্রী দিয়া মির্জা অভিনয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ। নানা ধরনের চরিত্রে এখনো নিয়মিত দেখা যায় তাকে।

তবে ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মোহাব্বত হ্যায়’ গানটি দিয়াকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছিল। ইমরান হাশমির সঙ্গে তার সেই গ্ল্যামারাস নাচ দর্শকের নজর কাড়লেও ক্যামেরার পেছনের অভিজ্ঞতা ছিল অভিনেত্রীর জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই গানের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন দিয়া মির্জা। তিনি জানান, সেটে উপস্থিত শত শত পুরুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে নাচের দৃশ্যের শুটিং করতে হয়েছিল। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ দ্বিধায় ও অস্বস্তিতে ছিলেন।

দিয়ার ভাষ্য, তখন নিজের শরীর নিয়ে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না তিনি। রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে এমন পোশাকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তার জন্য সহজ ছিল না।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই অভিজ্ঞতাই তার জীবনে আত্মবিশ্বাস ও মুক্তির অনুভূতি এনে দেয়।

দিয়া বলেন, এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে এমনভাবে মুক্ত করেছিল, যা আমি কখনো আশা করিনি। নৃত্যপরিচালক বৈভবী মার্চেন্টের জন্যই আমি এই গানের শুটিং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করতে পেরেছিলাম। সেটে যারা কাজ করছিলেন, প্রত্যেকেই আমাকে খুব নিরাপদ অনুভব করিয়েছিলেন।

পোশাক ও শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন নারী হিসেবে এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন কাজ। কারণ শত শত মানুষের সামনে তাকে অন্তর্বাস পরে ক্যামেরার সামনে নাচতে হয়েছিল।

তবে কেন শেষ পর্যন্ত তিনি সেই দৃশ্যে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অভিনেত্রী। তার মতে, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের প্রয়োজন এবং চরিত্রের ভেতরের সত্যকে বোঝা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দিয়া বলেন, বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের সত্যিটা খুঁজে বের করা জরুরি এবং সেই চরিত্রের মাধ্যমে কী প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘরে ৫০০ জন মানুষ থাকুক বা ১ হাজার জন, সেটা আর আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

হায়দরাবাদে রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠা দিয়া জানান, একসময় নিজের শরীর নিয়ে তার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। কিন্তু ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ওই গানের শুটিংই তাকে নিজের প্রতি আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

দর্শকের কাছে এটি হয়তো ছিল একটি গ্ল্যামারাস গানের দৃশ্য। তবে দিয়া মির্জার কাছে সেই অভিজ্ঞতা ছিল নিজের সীমাবদ্ধতা ভেঙে বেরিয়ে আসা, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং এক ধরনের মুক্তির অনুভূতির স্মরণীয় অধ্যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে সড়কে ঝুঁকির কারণ পরিত্যক্ত ভবন, চরম দুর্ভোগে চালক ও পথচারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


কাউখালীতে সড়কে ঝুঁকির কারণ পরিত্যক্ত ভবন, চরম দুর্ভোগে চালক ও পথচারী

পিরোজপুরের কাউখালী থেকে নেছারাবাদ, বানারীপাড়া ও গরিয়ারপাড় হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার অন্যতম সংক্ষিপ্ত ও ব্যস্ততম সড়কে একটি জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই ভবনটি কাউখালী বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন সড়ক ঘেঁষে অবস্থিত, যার কারণে নিয়মিতভাবে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং ঘটছে ঘন ঘন দুর্ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটির মালিক একজন ব্যক্তি, যার নাম আব্দুল হক। দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ভবনটির চাল ও দেয়ালের অংশ ভাঙাচোরা হয়ে পড়েছে এবং তা সরাসরি সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রসারিত রয়েছে। এর ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। ঢাকা, পিরোজপুর, খুলনা ও বরিশালগামী যাত্রী ও ভারী যানবাহনসমূহ যখন বেইলি ব্রিজ অতিক্রম করে এই অংশে পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনকে দেখতে পারে না। এতে প্রতিনিয়তই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

এলাকাবাসী ও সড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসী বারবার ভবনটি অপসারণের জন্য মালিক আব্দুল হককে অনুরোধ করেছেন। তবে তিনি কোনো তোয়াক্কা না করে ভবনটি অপসারণ করা থেকে বিরত রয়েছেন। সরকারি উদ্যোগ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের তাগিদ সত্ত্বেও ভবনটি অপসারণ না হওয়ায় ভবন মালিকের "খুঁটির জোর" কোথায়—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাস চালক জানান, "বেইলি ব্রিজের পার হয়েই মোড় ঘেঁষে এই পুরনো ভবনটি থাকায় বিপরীত দিক থেকে গাড়ি আসলে দেখতে অসুবিধা হয়। বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছি। দ্রুত এটি সরিয়ে ফেলা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।" এ ব্যাপারে ভবনের মালিকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জানা গেছে, এই ভবন নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

সড়কে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে, ভবনটি অপসারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও নির্বাহী কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কাউখালীবাসী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো : মাহ্দী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো : মাহ্দী আমিন

‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শুক্রবার চীনের জিয়াংসি প্রাদেশিক সরকার এবং জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলন’-এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে জিয়াংসি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ঝেং পেংউ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে তিনটি বড় সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও জিয়াংসি প্রাদেশিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক ফ্যান হংহুই যৌথভাবে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’ উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পেই হংওয়েই ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ এবং সচিব মো. দাউদ মিয়া ও প্রফেসর ঝেং পেংউ বাংলাদেশ ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনে বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিশ্বমানের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। চীনের আধুনিক অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশের শিক্ষা খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা অবশ্যই শিল্পক্ষেত্র ও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকতে হবে। তিনি পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব, আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবহারিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষায় বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক সুযোগে পরিণত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’

জিয়াংসি প্রদেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে উভয় পক্ষ শিল্প-শিক্ষা সংযোগ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা এবং শিক্ষার্থী বিনিময়ের মাধ্যমে টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিমানে জার্মানি গেল মশা, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


বিমানে জার্মানি গেল মশা, অতঃপর...

যাত্রীবাহী বা কার্গো বিমানে চেপে নিঃশব্দে জার্মানির মাটিতে পা রেখেছিল এক বিষাক্ত অ্যানোফিলিস মশা। হাজার মাইল দূর থেকে বিমানে করে আসা সেই অচেনা মশার কামড়েই শেষ পর্যন্ত জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন কর্মী।

জার্মানির সবচেয়ে ব্যস্ত এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি তৈরি হয় এক ভূতুড়ে স্বাস্থ্যসংকট। ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে কাজ করা ছয়জন পুরুষ কর্মী হঠাৎ রহস্যজনক জ্বরে আক্রান্ত হন। তাদের শরীরে ম্যালেরিয়ার জীবাণু ধরা পড়ে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন কর্মী মারা যান। বাকি চারজন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রাপোর্ট’ ও স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিভাগ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিরল 'এয়ারপোর্ট ম্যালেরিয়া'র এক নির্মম উদাহরণ। ক্রান্তীয় বা ম্যালেরিয়াপ্রবণ কোনো দেশ থেকে ছেড়ে আসা বিমানে চড়ে পরজীবী বহনকারী মশা হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অন্য দেশের বিমানবন্দরে পৌঁছে যায়। বিমান কিংবা কনটেইনার থেকে বেরিয়ে সেই মশা স্থানীয় বাসিন্দা বা বিমানবন্দর কর্মীদের কামড়ালে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ ঘটে।

জার্মান সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) জানায়, আক্রান্ত ওই কর্মীরা মূলত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে নেদারল্যান্ডসের জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায়, এই ম্যালেরিয়ার পেছনে দায়ী ম্যালেরিয়া পরজীবীর সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী প্রজাতি ‘প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম’।

হত্যাকারী মশাটির প্রজাতি ও এটি ভৌগোলিকভাবে ঠিক কোন দেশ থেকে বিমানে উঠেছিল, তা শনাক্ত করতে কাজ চলছে। বিমানবন্দর এলাকায় পাতা ফাঁদে ধরা পড়া মশার জেনেটিক বিশ্লেষণ বেলজিয়ামের ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পাঠানো হয়েছে।

অবশ্য ফ্রাঙ্কফুর্ট স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান পিটার টিনেমান আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ঘাতক মশাটি হয়তো ইতিমধ্যেই মারা গেছে, তাই সাধারণ মানুষ বা বিমানযাত্রীদের নতুন করে আতঙ্কের কারণ নেই। তবে ইউরোপের মতো দেশে সচরাচর ম্যালেরিয়া না থাকায় চিকিৎসকেরা প্রাথমিক লক্ষণ দেখে রোগটি শনাক্ত করতে দেরি করেন, যার খেসারত দিতে হলো ওই দুই বিমানবন্দর কর্মীকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%