ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাজার শাসনভার ছেড়ে দিলো হামাস


গাজার শাসনভার ছেড়ে দিলো হামাস

গাজায় নিজেদের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। এর ফলে সেখানে একটি টেকনোক্র্যাট কমিটির বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে হামাসের একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০০৭ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ফাতাহর কাছ থেকে সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে উপত্যকায় নিজেদের শাসন বজায় রেখেছিল হামাস। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০০৬ সালের আইনসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল তারা।

গত বছরের অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই হামাস বারবার বলেছে, তারা গাজার শাসনভার ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। তবে সংগঠনটি নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে নেই।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

হামাসের সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-তাওয়াবতা একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, “সরকারের জরুরি কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আল-ফাররা আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজার (এনসিএজি) কাছে প্রশাসনিক ও সরকারি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করতে এই কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।”

২০২৫ সালের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এনসিএজি গঠন করে বোর্ড অব পিস।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, “হামাস একটি নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে যার ফলে তারা আর গাজার দায়িত্বে থাকবে না। দখলদার বাহিনীর আগ্রাসন ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সব অজুহাত বন্ধ করতেই এই সিদ্ধান্ত।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা আশা করছি ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা দ্রুত সেখানে প্রবেশ করবে। এই কমিটির সাফল্য নিশ্চিত করতে হামাস সব ধরনের সরকারি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ

হামাসের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্তির ফলে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট আলি শাথের নেতৃত্বাধীন এনসিএজি’র জন্য গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে এই কমিটির প্রবেশে ইসরায়েলের আপত্তির কারণে গত কয়েক মাস ধরে এনসিএজি গাজার বাইরে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতি ও পারস্পরিক মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো বেশ কয়েক দফা আলোচনা করেছে। চুক্তির প্রথম ধাপে হামাসের হাতে থাকা সর্বশেষ ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি গত কয়েক মাস ধরে স্থবির হয়ে আছে। এই ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনার প্রত্যাহারের কথা ছিল।

‘বোর্ড অব পিস’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অগ্রগতির এই স্থবিরতার জন্য হামাসই দায়ী।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) হামাস এবং ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে হামাসের পলিটব্যুরো সদস্যদেরও এর আওতাভুক্ত করেছে।

তবে বাস্তব চিত্র হচ্ছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় তাদের উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে। বর্তমানে তারা উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। আর যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে এখনও গাজায় হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে তারা। সবশেষ সোমবার ইসরায়েলের নির্বিচার বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, ফ্রান্স২৪, ইউরোনিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের ভবনে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৭ পি.এম


মিরপুরে সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের ভবনে আগুন

রাজধানীর মিরপুর ৬ নম্বরে একটি সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের ভবনে আগুন লেগে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে ১৪ তলা ভবনটির বেজমেন্ট থেকে আগুনের সূচনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাফিয়াল ফারুক জানিয়েছেন, খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এরপর আরও ৪টি ইউনিট সেখানে যোগদান করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শতাংশ কমিয়ে নতুন পে-স্কেল যেন প্রত্যাশাভঙ্গের কারন না হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩২ পি.এম


শতাংশ কমিয়ে নতুন পে-স্কেল যেন প্রত্যাশাভঙ্গের  কারন না হয়

রাষ্ট্রের চালিকাশক্তিকে শক্তিশালী রাখা ব্যয় নয়, বিনিয়োগ। একজন আর্থিকভাবে স্বস্তিতে থাকা সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী আরও মনোযোগী, আরও দক্ষ এবং আরও দায়িত্বশীলভাবে রাষ্ট্রের সেবা দিতে সক্ষম হন। বিপরীতে, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ প্রশাসনিক দক্ষতা ও মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা অবকাঠামো, উন্নয়ন প্রকল্প কিংবা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কথা আমরা প্রায়ই বলি। কিন্তু একটি মৌলিক সত্য বারবার আড়ালে থেকে যায়—রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার জনবল। আর সেই জনবলের কেন্দ্রে রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, যাঁদের হাত ধরেই সরকারের নীতি বাস্তবায়িত হয় এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে রাষ্ট্রের কার্যক্রম সচল থাকে।

পে-স্কেল কোনো দয়া বা অনুদান নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সক্ষমতা ধরে রাখার একটি অপরিহার্য অর্থনৈতিক কাঠামো। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাস্তব বাজারব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব। কারণ, প্রশাসনকে কার্যকর রাখতে হলে প্রশাসনের মানুষগুলোকেও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম রাখতে হবে।

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পরপর পে-স্কেল পুনর্বিবেচনার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সর্বশেষ পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। আজ ১১ বছর অতিক্রম হলেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বহু গুণ বেড়েছে। অথচ অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পে-স্কেলের ওপর নির্ভরশীল নিবন্ধনভুক্ত কর্মচারীরা সেই পুরোনো বেতন কাঠামো নিয়েই জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই শ্রেণির মানুষের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—তাঁরা সাধারণত প্রকাশ্যে নিজেদের আর্থিক সংকট নিয়ে কথা বলেন না। নিরবে নিজেদের দুঃখগুলো সহ্য করে ঋণগ্রস্ত হয়েও চললেও আত্মসম্মানের খাতিরে, সামাজিক মর্যাদার ভয়ে নিজেদের দুরবস্থার কথা কাউকে বলেন না। তাঁদের এই নীরবতা কখনোই স্বাচ্ছন্দ্যের প্রমাণ নয়; বরং দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। কিন্তু নীরবতারও একটি সীমা আছে। দীর্ঘদিন ধরে বাস্তব আয় কমে গেলে তার প্রভাব শুধু সংসারে নয়, কর্মস্পৃহা ও মানসিক অবস্থাতেও পড়ে। তাই এটি শুধু একটি আর্থিক বাজার ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্কিত অর্থনীতির ব্যালেন্স করার নীতি নয়, এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত জনশক্তির জন্য নতুন উদ্যমে কিংবা কর্মস্পৃহা সৃষ্টির একটি বৃহৎ অনুপ্রেরণাদায়কও উদ্দীপক বটে।

বর্তমানে জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনা সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কিন্তু যদি শুধুমাত্র আর্থিক সীমাবদ্ধতার যুক্তি দেখিয়ে এমন একটি পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়, যা বাস্তব মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় কিংবা তা ১০০% এর কম, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা রাষ্ট্র সচল রাখা বিশাল এই জনগোষ্ঠীর কাছে তা প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে হতাশার কারণ হয়ে উঠতে পারে যা কর্ম স্পৃহা বাড়ানোর চেয়ে তার কর্মসৃহা হারাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তাই সরকার চাইলে গ্রেডভিত্তিক ভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধি করতে পারে। প্রথম থেকে নবম গ্রেড, কিংবা দশম থেকে বিংশ গ্রেড—যেভাবেই কাঠামো নির্ধারণ করা হোক না কেন, সে ক্ষেত্রে যদি কোন গ্রেডের জনগোষ্ঠীকে তাদের বেতনের অপ্রুতলতার কারণে ১০০% এর ঊর্ধ্বে অতিরিক্ত কোন শতাংশ সরকার দিতে চায় সেটি সরকারের মর্জি, কিন্তু কোন গ্রেডকে ১০০ শতাংশের নিচে পে-স্কেল দিলে তা কোনভাবেই রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত বৃহৎ এই অংশের আর্থিক ও মানসিক প্রশান্তির কারণ হবে বলে মনে হয় না।

নীতিগতভাবে এটি বৃদ্ধি হওয়া প্রয়োজন যা অন্তত দীর্ঘ ১১ বছরের মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বাস্তবতা প্রতিফলিত করে। কারণ, আবার কবে নতুন পে-স্কেল হবে, তার কোনো নিশ্চিত সময়সীমা নেই। আজ যদি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরেও একই সংকট আরও গভীর হবে।

সরকার যখন নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের মতো একটি ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে, তখন সেটি যেন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়ে না থাকে। এমন একটি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে এই বিশ্বাস জাগায় যে রাষ্ট্র তাঁদের অবদানকে মূল্যায়ন করে এবং তাঁদের জীবনযাত্রার বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেয়।

একটি কার্যকর রাষ্ট্র গড়তে হলে রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তিকে সন্তুষ্ট, মর্যাদাপূর্ণ এবং অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল রাখা অপরিহার্য। দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার পর নতুন পে-স্কেল যদি বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে না পারে, তবে সেটি শুধু আর্থিক নয়, মানসিকভাবেও অসংখ্য সরকারি চাকরিজীবীর জন্য হতাশার কারণ হবে। তাই সময়ের দাবি—নতুন পে-স্কেল এমন হোক, যা কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার একটি দূরদর্শী বিনিয়োগ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেয়।  দীর্ঘ ১১ বছরের ব্যাপক মূল্য স্থিতির এবং পরবর্তী পাঁচ বছরের ভবিষ্যতব্য বাজার পরিস্থিতির কারণে নতুন সরকারের কাছে এমন শতভাগ পে স্কেল প্রত্যাশা করা রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য অমূলক প্রত্যাশা বলে গণ্য করা উচিত হবে না।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট  

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, প্রতিবাদে থানাকে ঘেরাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩২ পি.এম


সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, প্রতিবাদে থানাকে ঘেরাও

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ সমাবেশে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দলটির দাবি অনুযায়ী, এ বিস্ফোরণে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং উপস্থিত জনতা সাভার মডেল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

সোমবার (৬ জুলাই) রাতে সাভার পৌর এলাকার তারাপুর মাঠে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ‘জুলাইয়ের চেতনায় গড়বো নতুন বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সমাবেশের পরিচালনা করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রাত ৯টা ১ মিনিটে সভাস্থলের চারপাশে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সারজিস আলম বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে ‘সরকারের হঠকারিতা ও চক্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেন। এরপর ছাত্রশক্তির এক নেতার বক্তব্যের পর ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক ও সভার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাজনিদ তার বক্তব্য শেষ করেন।

রাত ৯টা ৩৯ মিনিটে সভাস্থল থেকে কিছুটা দূরে সাংবাদিকদের বসার স্থানের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে লাল ও কালো কস্টেপে মোড়ানো ককটেলের ছিন্নভিন্ন অংশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিস্ফোরণে ইমরান নামের একজনের পায়ে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে দ্রুত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। জানা গেছে, ইমরান এনাম মেডিকেল কলেজের একজন কর্মী। তবে এনসিপির দাবি, এতে তাদের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বিস্ফোরণের শব্দে সমাবেশে আসা অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন, কিন্তু মঞ্চে থাকা নেতারা দৃঢ়চেতা ছিলেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মাইক্রোফোন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান, এবং সরকারের সমালোচনা করে দীর্ঘ বক্তব্য দেন।

তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মঞ্চে থাকা নেতা ও কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ জানিয়ে সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া অনুযায়ী (রাত সাড়ে ১০টা) তারা থানার সামনে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালাক্কা প্রণালী উন্মুক্ত রাখার পক্ষে সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


মালাক্কা প্রণালী উন্মুক্ত রাখার পক্ষে সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়া

বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর এবং ইন্দোনেশিয়া মালাক্কা সমুদ্রপথকে সবার জন্য উন্মুক্ত, নিরাপদ ও প্রবেশযোগ্য রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সোমবার(৬ জুলাই) জাকার্তায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘লিডার্স রিট্রিট’-এ সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং এবং ইন্দোনেশিয়া প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে বৈঠকের পর তারা একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।

বৈঠকে, নেতারা ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথটির সুরক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরকে সংযোগকারী মালাক্কা সমুদ্রপথের মাধ্যমে বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয়, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরে পরিণত করেছে। গত বছর এই প্রণালী দিয়ে ১ লাখ ২ হাজার ৫০০টিরও বেশি জাহাজ চলাচল করেছে, যা মোট বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ২২ শতাংশ। এই মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২৩.২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে।

বৈঠকে, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও উল্লেখ করেন, মালাক্কা প্রণালী সম্পর্কে ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুর তাদের অভিন্ন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর দুইটি দেশ যাদের সীমানা মালাক্কা প্রণালীতে একে অপরের সংলগ্ন। মালাক্কা প্রণালীকে সব পক্ষের জন্য একটি অবাধ চলাচলের পথ হিসেবে বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন অনুসারে এই প্রণালীটি যেন ‘সবার জন্য উন্মুক্ত, নিরাপদ এবং যাদের প্রয়োজন তাদের সবার জন্য প্রবেশযোগ্য থাকে’ তা নিশ্চিত করতে ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে থাকবে।

এ সময় সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ প্রধান বাণিজ্য রুটগুলোকে সচল ও নিরাপদ রাখার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছিল, যা বিশ্ববাণিজ্য ও তেল সরবরাহে সুস্পষ্ট প্রভাব ফেলেছিল।

ওং বলেন, মালাক্কা প্রণালীর তীরবর্তী রাষ্ট্র হিসেবে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া কৌশলগতভাবে একই অবস্থানে রয়েছে। নৌ-চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা এবং সমুদ্রপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে তাদের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার একজন কর্মকর্তা মালাক্কা প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর মাশুল আরোপের সম্ভাবনা উল্লেখ করলে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সরকার দ্রুতই সেই অবস্থান থেকে সরে আসে এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।

সিঙ্গাপুরে গত বছরের বৈঠকে স্বাক্ষরিত ২৪টি চুক্তির তুলনায় এবার বিভিন্ন খাতে মোট ২৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশ ২০২৭ সালে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, আলজাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%