ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাইযোদ্ধা সুজনের পাশে দাঁড়ালেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা


জুলাইযোদ্ধা সুজনের পাশে দাঁড়ালেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা

জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করা জুলাইযোদ্ধা সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তিনি সুজনের পারিবারিক ও আর্থিক দুর্দশার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেন।

আজ সোমবার (৮ জুন) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জুলাইযোদ্ধা সুজনের অসহায়ত্বের করুণ বর্ণনা শুনে জেলা প্রশাসক এই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

 এ সময় সুজন জানান, জুলাই আন্দোলনে আহত হয়ে বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সুজনের পরিবারে বর্তমানে একাধিক সংকট চলছে।

আরও পড়ুন: সদরপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা সভা

 তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। ঘরে রয়েছেন এক ডিভোর্সপ্রাপ্ত বোন, যার দেখভালের দায়িত্বও এই পরিবারের ওপর। অন্যদিকে তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় চিকিৎসা ও সংসার ব্যয়ের চাপ আরো বেড়েছে। এমন চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তার আবেদন জানান তিনি।

সুজনের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের গভীর দায়িত্ব রয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। সুজনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত কষ্টকর। তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি তার জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আমরা উদ্যোগ নেব।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনও মানবিক দায়িত্ব পালনে কাজ করে যাচ্ছে।

 আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সুজন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার পর জীবনটা যেন একেবারে থমকে গেছে। বাবা স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী, বোনের সংসার ভেঙে গেছে, আমার স্ত্রীও সন্তানসম্ভবা। পরিবারের দিকে তাকালে নিজেকে খুব অসহায় লাগত।’

আরও পড়ুন: ‘যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে’- আনোয়ার

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু আজ জেলা প্রশাসক ম্যাডাম আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। শুধু আর্থিক সহায়তাই দেননি, ভবিষ্যতে কাজের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন। এই সহযোগিতা আমার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।’

 সহায়তা প্রদানকালে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। জানানো হয়েছে যে, সোমবার (৮ জুন) সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং একটি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প, আইসিটি এবং সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্যের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে সমান ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনার আলোকে এসব খাতের আংশিক রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

শুধু তাই নয়, আঞ্চলিক রপ্তানি বৃদ্ধি ও পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে জাপানের ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেলের আদলে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এতে দেশের ৬৪ জেলার জন্য ইতোমধ্যে ১৪টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ফলে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানিকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির আলোচনা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরসিইপি সদস্য দেশসমূহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ অন্যান্য সম্ভাব্য বাজারের সঙ্গে ইপিএ, সিইপিএ ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, টেকসই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭ প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রচলিত বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাইরে নতুন বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্রাজিল, মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিআইএসভুক্ত দেশ এবং বিভিন্ন আফ্রিকান দেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।

মন্ত্রী বলেন, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও সিআইএসভুক্ত দেশগুলোতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং সিআইএস অঞ্চলে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো জানান, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সিআইপি মর্যাদা ও এক্সপোর্ট ট্রফি প্রদানের মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

রপ্তানিকারকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে সহায়তার জন্য এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ‘৫ হাজার কোটি টাকার প্রি-শিপমেন্ট ঋণ তহবিল’ গঠন করেছে, যেখানে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করা হয়েছে এবং বাণিজ্য উইংগুলো রপ্তানি বৃদ্ধি ও বাংলাদেশি পণ্যগুলোর ব্র্যান্ডিংয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, পণ্যের বৈচিত্র্য, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার ‘পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস’কে ২০২৬ সালের বর্ষসেরা রপ্তানি পণ্য ঘোষণা করেছে।

মন্ত্রী আরো জানান, পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করেছে, যা রপ্তানি উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। একই সময়ে ইপিবি ৪৬টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাকে তাদের ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পার্শ্ব-আয়োজন হিসেবে ৮টি সেমিনারের আয়োজন করেছে।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে (গ্লোবাল ভ্যালু চেইন) অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং রপ্তানিনির্ভর বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এফটিএ, ইপিএ এবং সিইপিএ ভিত্তিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এলডিসি উত্তরণের পর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম মেনে নগদ সহায়তার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত বিকল্প প্রণোদনা ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী উদ্বোধনের মাধ্যমে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি আরো গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে এলডিসি-উত্তর সময়ে বাংলাদেশ নির্বিঘ্ন ও টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারে। বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে জিসিসি, মার্কোসুরভুক্ত দেশ, রাশিয়া, পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। এছাড়া ভিয়েতনাম, হংকং, তুরস্ক এবং নাইজেরিয়ার সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও যথাসময়ে সরকারি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাঠে লুটিয়ে পড়া এরিকসেনের স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


মাঠে লুটিয়ে পড়া এরিকসেনের স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা জানা গেল

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফিফা উইন্ডোতে ভিন্ন ভিন্ন দল যখন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে, তখন বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারা দলগুলোর মধ্যেও বেশ কিছু প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এমন একটি ম্যাচে গতকাল (৭ জুন) ডেনমার্কের ওডেন্সে স্বাগতিকরা ইউক্রেনের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে ম্যাচটির ফলাফল ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক উদ্বেগজনক ঘটনা নিয়ে।

এই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হঠাৎ করেই বুক চেপে ধরে মাঠে লুটিয়ে পড়েন এরিকসেন। মাঠে উপস্থিত চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত সাড়া দেন এবং তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ড্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এরিকসেন সচেতন অবস্থায় আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, 'তিনি নিজেই হেঁটে মাঠ ছেড়েছেন। অল্প সময়ের জন্য অচেতন ছিলেন, তবে খুব দ্রুত তিনি জ্ঞান ফিরে পান। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি। এখন হাসপাতালে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, যাতে ঘটনার কারণ নির্ণয় করা যায়।'

ঘটনাটি আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি করে, কারণ পাঁচ বছর আগে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালীন এমনই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন এরিকসেন। ২০২১ সালের ১২ জুন ইউরোর গ্রুপ পর্বে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ডেনমার্কের উদ্বোধনী ম্যাচ চলাকালে হঠাৎ মাঠে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। তার সতীর্থ সিমন কায়েরের দ্রুত পদক্ষেপ এবং চিকিৎসকদের তৎপরতাই তার জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সেই সময় দলের চিকিৎসক মরটেন বোসেন বলেছিলেন, 'প্রথমে তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন এবং তার নাড়ির স্পন্দন অনুভব করা যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমরা সিপিআর শুরু করি। সৌভাগ্যক্রমে তিনি জীবনকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পেরেছিলেন।'

পরে জানা যায়, এরিকসেনের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল এবং ডিফিব্রিলেটরের শকের মাধ্যমে তাকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। কয়েক দিন পর তার শরীরে একটি ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিওভার্টার ডিফিব্রিলেটর (আইসিডি) বসানো হয়। পেসমেকারের মতো এই বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি বিপজ্জনক হৃদস্পন্দনের সমস্যা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়; ফলে তাকে নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের মধ্যেই থাকতে হয়।

এই ঘটনার পর ইতালির নিয়ম অনুযায়ী ডিফিব্রিলেটর নিয়ে পেশাদার ফুটবল খেলার অনুমতি না থাকায় ইন্টার মিলানের সঙ্গে তার চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। তবে প্রিমিয়ার লিগে এমন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে মাঠে ফেরেন তিনি।

এরপর একই বছরের মাঝামাঝি সময়ে যোগ দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে, যেখানে তিনি তিন মৌসুম খেলেন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে তিনি খেলছেন ভিএফএল ভলসবুর্গের হয়ে। এর মধ্যেই তিনি অংশ নিয়েছিলেন ২০২২ এর বিশ্বকাপেও, যা ফুটবলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের অন্যতম বড় উদাহরণ হয়ে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার : নুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার : নুর

আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৮ জুন) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান কালে এই তথ্য জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছেন।

তিনি আরো জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নুরুল হক নুর জানান, বর্তমানে যেসব দেশে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণের জন্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন আলোচিত ঘটনায় অবদানের স্বীকৃতি, পুরস্কৃত পুলিশের ১৫ সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


তিন আলোচিত ঘটনায় অবদানের স্বীকৃতি, পুরস্কৃত পুলিশের ১৫ সদস্য

দেশব্যাপী সৃষ্টি হওয়া আলোড়নকারী তিন ঘটনায় বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকারি উদ্যোগে পুলিশ বাহিনীর ১৫ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এই পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যেককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান এবং তিনজন নৌ পুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজ প্রদান করা হয়েছে।

৮ জুন সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ সদস্যদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে বিশ্বাস করে। এই নীতির আলোকে পুলিশ বাহিনীর নৈতিক মনোবল বৃদ্ধি করা এবং তাদের আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং মন্দ কাজের জন্য যথাযথ তিরস্কারের সংস্কৃতি পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল, আন্তরিক ও ন্যায়নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করবে।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের বিশেষ কৃতিত্বের মধ্যে রয়েছে পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নৌ পুলিশের বীরত্বপূর্ণ অভিযান এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার এক কিশোরীর ক্লু-লেস হত্যা মামলার সফল তদন্ত।

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় দুর্দান্ত গতিতে আসামিকে গ্রেফতার, ডিএনএ টেস্ট ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সম্পন্ন করা, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ এবং দ্রুত আদালতকে রায় ঘোষণায় সহায়তা করার জন্য পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন এবং এসআই (নিরস্ত্র) অহিদুজ্জামানসহ মিরপুর জোনের আভিযানিক দলের মোট ৯ জন কর্মকর্তা পুরস্কৃত হয়েছেন।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নৌ পুলিশের বীরত্ব সম্পর্কে উল্লেখ করা যায় যে, ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে এই স্থানেই নিজেদের জীবন ঝুঁকির মধ্য দিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসকে তাৎক্ষণিক খালি করার মাধ্যমে অন্তত ৫০ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করেছেন মাদারীপুরের চর জানাজাত ও কলাতলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আবুজার গিফারীসহ তিনজন নৌ পুলিশ কর্মকর্তা।

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ক্লু-লেস কিশোরী হত্যা মামলার তদন্তে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা কিশোরীর লাশের পরিচয় শনাক্তকরণসহ আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে মাত্র একদিনের মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে চারজন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিশ্চিত করার জন্য পিবিআই মুন্সিগঞ্জের এসআই (নিরস্ত্র) রনি দেবনাথসহ তিনজন কর্মকর্তা পুরস্কৃত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%