ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাঠে লুটিয়ে পড়া এরিকসেনের স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা জানা গেল


মাঠে লুটিয়ে পড়া এরিকসেনের স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা জানা গেল

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফিফা উইন্ডোতে ভিন্ন ভিন্ন দল যখন প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে, তখন বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারা দলগুলোর মধ্যেও বেশ কিছু প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এমন একটি ম্যাচে গতকাল (৭ জুন) ডেনমার্কের ওডেন্সে স্বাগতিকরা ইউক্রেনের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে ম্যাচটির ফলাফল ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক উদ্বেগজনক ঘটনা নিয়ে।

এই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে হঠাৎ করেই বুক চেপে ধরে মাঠে লুটিয়ে পড়েন এরিকসেন। মাঠে উপস্থিত চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত সাড়া দেন এবং তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ড্যানিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এরিকসেন সচেতন অবস্থায় আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, 'তিনি নিজেই হেঁটে মাঠ ছেড়েছেন। অল্প সময়ের জন্য অচেতন ছিলেন, তবে খুব দ্রুত তিনি জ্ঞান ফিরে পান। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি। এখন হাসপাতালে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, যাতে ঘটনার কারণ নির্ণয় করা যায়।'

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

ঘটনাটি আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি করে, কারণ পাঁচ বছর আগে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালীন এমনই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন এরিকসেন। ২০২১ সালের ১২ জুন ইউরোর গ্রুপ পর্বে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ডেনমার্কের উদ্বোধনী ম্যাচ চলাকালে হঠাৎ মাঠে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। তার সতীর্থ সিমন কায়েরের দ্রুত পদক্ষেপ এবং চিকিৎসকদের তৎপরতাই তার জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সেই সময় দলের চিকিৎসক মরটেন বোসেন বলেছিলেন, 'প্রথমে তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন এবং তার নাড়ির স্পন্দন অনুভব করা যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমরা সিপিআর শুরু করি। সৌভাগ্যক্রমে তিনি জীবনকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পেরেছিলেন।'

পরে জানা যায়, এরিকসেনের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল এবং ডিফিব্রিলেটরের শকের মাধ্যমে তাকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। কয়েক দিন পর তার শরীরে একটি ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিওভার্টার ডিফিব্রিলেটর (আইসিডি) বসানো হয়। পেসমেকারের মতো এই বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি বিপজ্জনক হৃদস্পন্দনের সমস্যা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়; ফলে তাকে নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের মধ্যেই থাকতে হয়।

এই ঘটনার পর ইতালির নিয়ম অনুযায়ী ডিফিব্রিলেটর নিয়ে পেশাদার ফুটবল খেলার অনুমতি না থাকায় ইন্টার মিলানের সঙ্গে তার চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। তবে প্রিমিয়ার লিগে এমন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে মাঠে ফেরেন তিনি।

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে

এরপর একই বছরের মাঝামাঝি সময়ে যোগ দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে, যেখানে তিনি তিন মৌসুম খেলেন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে তিনি খেলছেন ভিএফএল ভলসবুর্গের হয়ে। এর মধ্যেই তিনি অংশ নিয়েছিলেন ২০২২ এর বিশ্বকাপেও, যা ফুটবলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের অন্যতম বড় উদাহরণ হয়ে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার : নুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার : নুর

আগামী অর্থবছরের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৮ জুন) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান কালে এই তথ্য জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছেন।

তিনি আরো জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নুরুল হক নুর জানান, বর্তমানে যেসব দেশে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণের জন্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন আলোচিত ঘটনায় অবদানের স্বীকৃতি, পুরস্কৃত পুলিশের ১৫ সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


তিন আলোচিত ঘটনায় অবদানের স্বীকৃতি, পুরস্কৃত পুলিশের ১৫ সদস্য

দেশব্যাপী সৃষ্টি হওয়া আলোড়নকারী তিন ঘটনায় বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকারি উদ্যোগে পুলিশ বাহিনীর ১৫ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এই পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যেককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান এবং তিনজন নৌ পুলিশ সদস্যকে আইজি ব্যাজ প্রদান করা হয়েছে।

৮ জুন সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ সদস্যদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে বিশ্বাস করে। এই নীতির আলোকে পুলিশ বাহিনীর নৈতিক মনোবল বৃদ্ধি করা এবং তাদের আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং মন্দ কাজের জন্য যথাযথ তিরস্কারের সংস্কৃতি পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল, আন্তরিক ও ন্যায়নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালনে অনুপ্রাণিত করবে।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের বিশেষ কৃতিত্বের মধ্যে রয়েছে পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নৌ পুলিশের বীরত্বপূর্ণ অভিযান এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার এক কিশোরীর ক্লু-লেস হত্যা মামলার সফল তদন্ত।

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় দুর্দান্ত গতিতে আসামিকে গ্রেফতার, ডিএনএ টেস্ট ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সম্পন্ন করা, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ এবং দ্রুত আদালতকে রায় ঘোষণায় সহায়তা করার জন্য পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন এবং এসআই (নিরস্ত্র) অহিদুজ্জামানসহ মিরপুর জোনের আভিযানিক দলের মোট ৯ জন কর্মকর্তা পুরস্কৃত হয়েছেন।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নৌ পুলিশের বীরত্ব সম্পর্কে উল্লেখ করা যায় যে, ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে এই স্থানেই নিজেদের জীবন ঝুঁকির মধ্য দিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসকে তাৎক্ষণিক খালি করার মাধ্যমে অন্তত ৫০ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করেছেন মাদারীপুরের চর জানাজাত ও কলাতলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আবুজার গিফারীসহ তিনজন নৌ পুলিশ কর্মকর্তা।

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ক্লু-লেস কিশোরী হত্যা মামলার তদন্তে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা কিশোরীর লাশের পরিচয় শনাক্তকরণসহ আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে মাত্র একদিনের মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে চারজন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিশ্চিত করার জন্য পিবিআই মুন্সিগঞ্জের এসআই (নিরস্ত্র) রনি দেবনাথসহ তিনজন কর্মকর্তা পুরস্কৃত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোসাদ্দেককে সঠিক সময়ে দলে নেওয়া হয়েছে: মিরাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


মোসাদ্দেককে সঠিক সময়ে দলে নেওয়া হয়েছে: মিরাজ

বাংলাদেশ দলে প্রায় ৪ বছর পর ফিরেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ২০২২ সালের আগস্টে দেশের হয়ে তার সর্বশেষ ওয়ানডে খেলা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তিনি। চলতি ডিপিএলে ভালো পারফর্ম করে তিনি দলে ডাক পেয়েছেন। সৈকতের দলে আগমনকে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বাড়তি পাওনা হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, সঠিক সময়ে মোসাদ্দেক দলে ফিরে এসেছেন।

বাংলাদেশ ১৫ বছর পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যাচ্ছে। আগামীকাল (৯ জুন) সিরিজের প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। সিরিজের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন মিরাজ। তিনি জানান, মোসাদ্দেকের কাছে ভালো কিছুর প্রত্যাশা তার। মিরাজ বলেন, ‘ও (মোসাদ্দেক) ঘরোয়াতে অনেক বছর ধরে পারফর্ম করেছে এবং খুব ভালো ক্রিকেটও খেলছে, ছন্দেও আছে। আমার কাছে মনে হয় এটাই সঠিক সময় ওকে নেওয়ার এবং আমাদের যে জায়গাটা আমরা চিন্তা করেছি, সেই জায়গাটা যদি ও ভালো করতে পারে দলের জন্য অনেক ভালো হবে।’

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপু বলেছিলেন, মিরাজ দলে থাকলে মোসাদ্দেককে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, দুজনের ভূমিকা একইরকম, সে কারণে যেকোনো একজনকেই দলে নিতে হয়। কিন্তু মিরাজ জানালেন, তিনি এই বিষয়ে একদমই সহমত নন। তার মতে, দুজনের ভূমিকা পুরোপুরি ভিন্ন। মিরাজ মোসাদ্দেককে ব্যাটিং অলরাউন্ডার এবং নিজেকে বোলিং অলরাউন্ডার বলে উল্লেখ করেছেন।

মিরাজ বলেন, ‘আমি এবং মোসাদ্দেক কিন্তু একসঙ্গে বাংলাদেশ দলে অনেকদিন খেলেছি এবং ১৯ সালের বিশ্বকাপেও আমরা একসঙ্গে খেলেছি। মোসাদ্দেক তার ভূমিকাটা রাখবে, আমি আমারটা। মোসাদ্দেক হলো ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি হলাম বোলিং অলরাউন্ডার, তাই দুজনের ভূমিকাটা আলাদা। যদি সে পারফর্ম করতে পারে, এটি আমার জন্য এবং দলের জন্য অনেক বিরাট উপকার হবে। দিনশেষে আমরা সবাই চিন্তা করি যে দলটাকে কোন জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। আমি অনেক আত্মবিশ্বাসী ওকে নিয়ে....যেভাবে সে ঘরোয়াতে ভালো পারফর্ম করেছে। যদি সুযোগ আসে, ভালো করবে।’

মোসাদ্দেকের বোলিংকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছেন মিরাজ, ‘আমাদের এরকম একটা যদি বিকল্প থাকে দলের জন্য ভালো হবে। পাঁচটা বোলার নিয়ে যখন খেলবেন, একটি বাড়তি বোলার থাকবে, তখন অনেক আত্মবিশ্বাস থাকবে। একটি বোলারের খারাপ দিন যেতেই পারে। সুতরাং ব্যাকআপ হিসেবে বোলার থাকলে দলের ভারসাম্যটা খুব ভালো থাকে। আর সুযোগ থাকলে অবশ্যই ভালো করার চান্স থাকবে। সে ঘরোয়াতে অনেক ভালো বোলিং করেছে এবং সে প্রমাণিত। সে যদি ভালো জায়গায় বল করে ভালো হবে এবং অধিনায়ক হিসেবে আমারও অনেক আত্মবিশ্বাস থাকবে তাকে নিয়ে, যদি ভালো বল করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেলাল রা. এর সীমাহীন নবী প্রেম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৬ পি.এম


বেলাল রা. এর সীমাহীন নবী প্রেম

সুদূর আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ বেলাল রা. কৃতদাস হিসেবে এসেছিলেন আরবের অত্যাচারী নেতা উমাইয়ার ঘরে। নবীজি সা. নবুয়ত লাভের পর আবু বকর রা. বেলাল রা. এর কাছে দাওয়াত পৌঁছালে, কাল বিলম্ব না করে বেলাল ইসলাম ধর্মের সুশীতল ছায়াতলে চলে আসেন।

বেলাল রা. এর সাথে আবু বকরের আন্তঃসম্পর্ক উমাইয়াকে সন্দিহান করে তোলে। এক পর্যায়ে যখন উমাইয়া তার ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারে, তখন তার উপর নেমে আসে বর্বর উমাইয়ার পাশবিক নির্যাতনের স্টিম রোলার!

কখনো দিনের প্রখর রোদে, মরুভূমির জলন্ত বালিতে শুইয়ে, কখনো পাথর চাপা দিয়ে, আবার কখনো গলায় রশি দিয়ে মক্কার অলিগলিতে হাঁটানোর মাধ্যমে তার উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো! তখন তাকে বলা হতো, মুহাম্মদকে ছাড়ো, লাত-উজ্জাকে মানো। কিন্তু নবী প্রেমী, আল্লাহ প্রেমী বেলালের মুমুর্ষ কন্ঠে একটিমাত্র শব্দ উচ্চারিত হতো, "আহাদ, আহাদ!" নির্যাতনে মৃত্যুর দোয়ারে যাওয়ার সময়, বেলাল একটি বারও তার রবের নাম মুখে থেকে রাখতে পারেনি। তিনি তার নবী মুহাম্মদকে ভুলে যাননি।

বেলালের উপর এহেন বর্বরতা আবু বকরের কোমল হৃদয়ে তীব্র দাগ কাটলো। এসব দেখে নবীজীর এই মহান সহচর তার আবেগকে আর ধরে রাখতে পারেননি। পরক্ষণে তিনি উমাইয়াকে প্রস্তাব দিলেন বেলালকে কিনে নেওয়ার জন্য। দর কষাকষির মাধ্যমে আবু বকর রা. বেলালকে মুক্ত করলেন।

আজ বেলাল রা. স্বাধীন। আজ তাকে তপ্ত দুপুরে পাথর ফাটা বালিতে শুইয়ে রাখার কেউ নেই। আজ তার কোনো দুঃখ নেই, নেই কোনো বিয়োগ বেদনা। আছে শুধু নবীজীর পরম মমতা ও আবু বকরের অহর্নিশ ভালোবাসা। সেই পরম মমতা এবং অহর্নিশ ভালোবাসা বেলালকে নবী প্রেমে ডুবিয়ে রেখেছিল।

আজানের নির্দেশনা এসে পড়লে, বেলাল রা. হয়ে যান মুমিনদের নামাজে আহ্বানকারী মুয়াজ্জিন। নবীজি সা. এর নির্দেশে বেলাল আজান দিতেন। বেলালের আজানের সুর মুমিনদেরকে মুগ্ধ করতো। মদিনার অলিগলিতে তার সুরের মুর্ছনায় মাতোয়ারা হতো মুমিনদের ক্বলব।

মুমিনদের জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম দিনটি এসে উপস্থিত হলো। সেদিন উমরের মতো শক্ত হৃদয়ের অধিকারী, যিনি কঠিন থেকে কঠিন মুহূর্তেও হিমালয়ের মতো অটল থাকেন, তিনি জ্ঞানশূন্য হয়ে মদিনার পথে পথে ঘুরছেন নবীজির ইন্তেকালের দিনে।

নবীজি ইন্তেকাল করলে, বেলাল নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি। তার মনে হল, যার জন্য তিনি এতদিন আজান দিতেন, যাকে ঘিরে তার সুরের মূর্ছনা—আজ তিনি নেই। এই আজান দিয়ে কী লাভ? যেন বেলালের এক মুহূর্তও থাকতে ইচ্ছে হচ্ছে না। নবীজির বিয়োগ বেদনায় মর্মাহত বেলাল, এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে মদিনা ছেড়ে সুদূর দামেস্কে পাড়ি জমালেন।

সেখানে অবস্থানরত তার প্রায় ছয় বছর কাটতে চললো। একদা, বেলাল স্বপ্নে দেখলেন, নবীজি তাকে বলছেন, "বেলাল, তোমার কি আমার কথা একটুও মনে পড়ছে না? তুমি কি আমাকে এভাবে ভুলে গেছো? তোমার কি মন চায় না আমার রওজায় এসে হাজিরা দাও?" সকালে ঘুম থেকে উঠেই বেলাল পুটলিটা কাঁধে নিয়ে মদিনার পথে বেরিয়ে পড়েন। নবীজির প্রেমে বিভোর বেলাল ফিরে আসেন সেই চিরচেনা মদিনায় রওজায়ে হাবিবে।

পরক্ষণে নামাজের সময় হলে, উপস্থিত লোকেরা তাকে আযান দিতে পীড়াপীড়ি শুরু করলো। কিন্তু নবীজির অনুপস্থিতিতে, বেলাল আযান দেবার পাত্র ছিলেন না। পরবর্তীতে উমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর অনুরোধে তিনি আযান দিতে শুরু করেন।

সেই আযান! সেই মধুময় সময়! রসুলুল্লাহর স্মৃতি! এগুলো সব একসাথে ভেসে আসা শুরু হলো মানুষের মনে। সব মানুষ মনে করলো, যেন নবীজি আবার ফিরে এসেছেন!

মদিনার ঘর থেকে লোকজন বেরিয়ে আসতে লাগলো। যখন হযরত বেলাল আযানে, "আশহাদু আন্না মুহাম্মদার রসুলুল্লাহ" বলতে গিয়ে প্রচণ্ড কান্নায় ভেঙে পড়লেন, তখন পুরো মদিনা জুড়ে হুঁ হুঁ কান্নার শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায়নি! আমরা তো নিজেদের নবী প্রেমিক বলি, আমরা কি কখনো তার জন্য কান্না করেছি?

আচ্ছা, মনে করুন, শেষ কবে কেঁদেছিলেন? ঠিক কবে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%