ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী


১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

দেশব্যাপী আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে একযোগে সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু হবে, এমনটি জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এই উৎসবে কাজী নজরুল ইসলাম এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও সংগীতের পাশাপাশি ভাটিয়ালী, জারি, সারি, লোকসংগীত, বাউলসংগীত, পিঠা উৎসব, ঘুড়ি ওড়ানোসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তরুণদের ব্যান্ড সংগীতও এই উৎসবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে জেলা প্রশাসন আয়োজিত নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দুদিনব্যাপী ‘লোকজ সাংস্কৃতিক মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দেশের গ্রাম ও শহরে হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিকশিত ও গতিশীল করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে জামায়াত: রুহুল কবির রিজভী

বাংলাদেশের সংস্কৃতি বর্তমানে একটি বিপন্ন সময় পার করছে, এমনটি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলের সংস্কৃতিসহ দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যথাযথ পরিচর্যা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিচর্যার অভাবে আমাদের সংগীত, নৃত্য, কবিতা, লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনেক উপাদান বিকশিত হতে পারছে না। একটি গাছ যেমন পরিচর্যা, সার-পানি ও সুরক্ষা ছাড়া বড় হতে পারে না, তেমনি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সংস্কৃতির বিকাশ সম্ভব নয়।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অন্যান্য খাতের মতো সাংস্কৃতিক খাতকেও গতিশীল করার বিষয়ে আগ্রহী। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আগ্রহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশব্যাপী নজরুল বর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের আয়োজন শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল বর্ষের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে আরও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

তিনি বলেন, যাত্রা, সার্কাস ও বিভিন্ন শিল্পকর্মসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ধারাগুলোকে সুস্থ, সাবলীল ও রুচিশীলভাবে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন প্রজন্মের মন ও চেতনাকে দেশের সংস্কৃতির মাধ্যমে সমৃদ্ধ করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা সম্ভব।

আরও পড়ুন: মিরপুরের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম মিঠু নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার

ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনেক গর্ব ও অহংকার করার মতো। এখানকার ছেলেমেয়েরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে খুবই ভালো পারফর্ম করে। ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি করতে হবে। সংস্কৃতির বিকাশে সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সব মহলকে এগিয়ে আসতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও বেঁচে যান, বললেন নারী আসামি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ পি.এম


মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও বেঁচে যান, বললেন নারী আসামি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতার এক মাস পর, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ক্রিস্টা পাইক প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই ঘটনার পর থেকে শারীরিক যন্ত্রণা এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতার জন্যও তিনি সমালোচনা করেছেন।

শুক্রবার, পাইকের আইনজীবীদের মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের ঘটনার পর থেকে এমন কোনো মুহূর্ত নেই, যখন তিনি ব্যথামুক্ত ছিলেন। তার কথায়, শরীর, হাত, বাহু ও গলায় এখনো ব্যথা রয়েছে এবং কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে। শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি মানসিক ও আত্মিকভাবে তিনি গভীর কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

বিবৃতিতে পাইক বলেন, সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতার কারণে এত মানুষকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষে স্ট্রেচারে বেঁধে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তার শরীরে শিরাপথে ওষুধ প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছিল। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শিরায় সঠিকভাবে ওষুধ প্রয়োগের চেষ্টা চললেও প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হয়। তাকে পেন্টোবারবিটাল নামের শক্তিশালী ঘুমের ওষুধের বড় মাত্রা প্রয়োগ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়নি।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশের পর চিকিৎসাবিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি হয়। পাইকের আইনজীবী, যিনি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কক্ষে উপস্থিত ছিলেন, তার দেওয়া বিবরণে পুরো প্রক্রিয়ার নানা ত্রুটি উঠে আসে। বর্তমানে পাইককে ন্যাশভিলের ডেবরা জনসন পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে ১০ দিন নিবিড় চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে সেখানে ফিরিয়ে আনা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন তাকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। অন্য মানুষের সান্নিধ্য ও সম্পর্ক থেকে দূরে থাকাও তার জন্য নতুন করে মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠেছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে জীবনের প্রথম ২৮ বছরও তিনি নির্জন কারাবাসে কাটিয়েছেন।

এদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বরের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা টেনেসির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় স্বাধীন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে পরবর্তী সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন রিপাবলিকান গভর্নর বিল লি।

তবে ক্রিস্টা পাইকের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে গভর্নর বিল লি বলেছেন, আদালত ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত পাইকের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল থাকবে বলে তিনি আশা করছেন।

নিজের বিবৃতিতে পাইক জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন তিনি মৃত্যুর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। এমনকি নিজের পরিণতি মেনেও নিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের বিছানায় একাকী, বিভ্রান্ত ও যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় জেগে ওঠার পর থেকে কেন তিনি বেঁচে গেলেন এবং সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে ভাবছেন।

তিনি বলেন, প্রতিদিন নতুন করে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন। কোনো কোনো দিন আশাবাদী থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। তবু ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন তাকে সাহস জোগাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পাইক। চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও জরুরি সেবাকর্মীদের পাশাপাশি তার পাশে দাঁড়ানো আইনজীবী এবং সহায়তাকারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিবৃতির শেষাংশে পাইক বলেন, অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও সহমর্মিতা তাকে মনে করিয়ে দিয়েছে, তিনি একা নন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারকে সহযোগিতা করতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানালেন প্রিন্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ পি.এম


সরকারকে সহযোগিতা করতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানালেন প্রিন্স

ময়মনসিংহ, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : গণবিক্ষোভ বা লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি না করে বরং গঠনমূলক বিকল্প প্রস্তাবের মাধ্যমে দেশের পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের দাবি উত্থাপন, সরকারের সমালোচনা এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। বিএনপি সরকার এই অধিকারকে সম্মান করে। তবে দাবি উত্থাপনের নামে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করা কিংবা জনগণের নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের উত্তর রামনগর (বনপাড়া) এলাকায় প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ধুরাইল ইউনিয়ন হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলের ক্রমাগত অপপ্রচারের সমালোচনা করে এমরান সালেহ প্রিন্স অভিযোগ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জামায়াত-এনসিপি জোটের নেতারা বিভিন্ন ইস্যুতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। উসকানিমূলক বক্তব্য, বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বয়ান এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘গতকাল অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের শুরু থেকেই জামায়াত-এনসিপি জোটের নেতারা বিভিন্ন ইস্যুতে লাগামহীন অপপ্রচার চালিয়েছেন। তারা বিএনপি’র প্রার্থীকে পরাজিত করে সরকারকে লালকার্ড দেখানোর জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সচেতন জনগণ উপনির্বাচনে উল্টো বিরোধী দলকেই লালকার্ড দেখিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ফলাফল বিরোধী দলের জন্য একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। জনগণ এখন নেতিবাচক নয়, ইতিবাচক রাজনীতি দেখতে চায়। তারা জানে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপি সরকার জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। তাই জনগণ বিরোধী দলের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। এই জনরায় থেকে বিরোধী দলের শিক্ষা নেয়া উচিত।’

বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, একটি উপনির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করা নয়, বরং জনগণের প্রত্যাশা উপলব্ধি করাই গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দলকে বুঝতে হবে, অপপ্রচার ও উস্কানি দিয়ে সাময়িক রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা গেলেও জনগণের আস্থা অর্জন করা যায় না। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি, বাস্তবসম্মত বিকল্প প্রস্তাব এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ প্রয়োজন।

এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘বিরোধী দলকে মনে রাখতে হবে, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ আর সংঘাত, বিশৃঙ্খলা ও নেতিবাচক রাজনীতি দেখতে চায় না। জনগণ চায় শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা। অথচ বিরোধী দলের একটি অংশ গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ভুলে আওয়ামী ধারার নেতিবাচক ও সংঘাতমুখী রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধী দলের দাবি জানানোর অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি নির্বাচিত সরকারেরও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অধিকার ও বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থানকেই একমাত্র জনগণের রায় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে না। জনগণের রায়কে সম্মান এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অপরিহার্য শর্ত।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, ‘বিরোধী দল সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিক, জনস্বার্থে বিকল্প প্রস্তাব দিক, সংসদে ও রাজপথে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করুক। কিন্তু গণদুর্ভোগ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা থেকে বিরত থাকুক। গণতন্ত্র মানে শুধু দাবি আদায়ের আন্দোলন নয়, জাতীয় স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণও।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৪ এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠনের যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তাতে বিরোধী দলগুলোরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

হাসপাতাল নির্মাণ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, ‘জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি আমি ভুলিনি, ভুলবো না। নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা অপরিবর্তিত রয়েছে। আমি নির্বাচনের আগে প্রতি ইউনিয়নে একটি করে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলাম। আজ ধুরাইল ইউনিয়নে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার প্রতিটি ইউনিয়নে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।’

প্রিন্স বলেন, প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে সাধারণ চিকিৎসার জন্যও অনেক সময় উপজেলা বা জেলা সদরে যেতে হয়। এতে অর্থ ও সময়ের অপচয় হয় এবং দরিদ্র মানুষ দুর্ভোগের শিকার হন। ইউনিয়ন পর্যায়ে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে গ্রামের মানুষ নিজ এলাকায় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন উন্নয়ন চাই, যেখানে মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে এবং গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নত হবে। একটি হাসপাতাল শুধু চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নেরও কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কথার রাজনীতি নয়, কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নের মাধ্যমেই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে চাই। জনগণ এখন রাজনৈতিক সংঘাত নয়, উন্নয়নের সুফল দেখতে চায়।’

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিবর্তে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হোক নীতি, আদর্শ, কর্মসূচি ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে। জাতীয় স্বার্থে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু দেশ পুনর্গঠন ও জনগণের কল্যাণের প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

প্রিন্স ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে যারাই সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।

উল্লেখ্য, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাটুধোবাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত না হলেও তিনি জনগণের কাছে দেয়া সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে যাননি। বরং নির্বাচনের পরও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখে প্রতি ইউনিয়নে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।

সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচি (আইআরডিপি)-এর অর্থায়নে এজেকেএস ফাউন্ডেশন ও সোহাগ ট্রেডার্স কনসোর্টিয়ামের উদ্যোগে প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

ধুরাইল ইউনিয়নের উত্তর রামনগর (বনপাড়া) এলাকায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই প্রান্তিক হাসপাতালের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হাসপাতালটি চালু হলে স্থানীয় পর্যায়ে ২৩ জনের সরাসরি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে সেবা খাতে আরও অর্ধশতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য হবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ধুরাইল ইউনিয়ন হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার প্রতিটি ইউনিয়নে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের নতুন যাত্রা শুরু হলো।

পূর্ব রামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধুরাইল ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক প্রভাষক মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আসলাম মিয়া আবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবির, আইআরডিপি’র এপিডি কুতুবুল আলম, সোহাগ কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান আকিকুল ইসলাম সোহাগ, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা শহিদুল্লাহ, মোস্তফা মাস্টার, এমদাদ মেম্বার, আরিফ রব্বানী প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুর সামনে সরকার গঠনের কোনো পথ নেই, দাবি ইয়ার লাপিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ পি.এম


নেতানিয়াহুর সামনে সরকার গঠনের কোনো পথ নেই, দাবি ইয়ার লাপিদের

ইসরাইলের বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘বি’ইয়াচাদ’ দলের নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট ‘পয়েন্টের ব্যবধানে জয়’ অর্জন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, নেতানিয়াহুর জোটের আসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় তার সামনে সরকার গঠনের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে বিরোধী জোটের নিরঙ্কুশ জয় না আসায় জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন লাপিদ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে লাপিদ লেখেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১০টায় আমরা সবাই স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে একটি সংখ্যার অপেক্ষায় ছিলাম। সেটি ৬১। কিন্তু সেটি হয়নি। আমাদের জন্যও নয়, আর নিশ্চিতভাবেই তার (নেতানিয়াহু) জন্যও নয়।’

নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৬৭টি আসন লাভ করেছে। তবে চারটি ইহুদিপ্রধান দলের মধ্যে তিনটি—ইয়াশার, বি’ইয়াচাদ ও ইসরাইল বেইতেনু—মূলত আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের সঙ্গে জোট সরকারে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই কারণে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদিপ্রধান দলগুলো ৪৮টি আসন পেয়েছে। অপরদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল ১৯টি আসন অর্জন করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বাধিক।

নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ ২৭টি আসন নিয়ে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কোনো স্পষ্ট পথ তারও নেই।

লাপিদ স্বীকার করেন, নেতানিয়াহুর বিরোধীরা ‘স্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক জয়’ চেয়েছিলেন, যে জয়ের ফলে নিশ্চিন্তে ঘুমানো সম্ভব। কিন্তু নির্বাচনে তারা তেমন ফলাফল পায়নি।

ইসরাইলের বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোটের আসন ৫৩টিতে নেমে এসেছে। এর মধ্যে ১৩টি আসন এমন দুই অতি-রক্ষণশীল দলের, যারা নিজেদের অ-জায়নবাদী হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে নেতানিয়াহুর হাতে কার্যত ৪০টি আসন রয়েছে এবং কোনোভাবেই তার পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব নয়।

পোস্টে লাপিদ বলেন, ‘তার হাতে এখন ৪০টি আসন। এটাই তার শক্তি। তিনি যা-ই করুন না কেন, সরকার গঠনের কোনো পথ তার সামনে নেই।’

বর্তমান সরকারে থাকা নেতানিয়াহুপন্থি দলগুলো বিদায়ী নেসেটে ৬৮টি আসন পেয়েছিল। এবারের নির্বাচনে তাদের আসন কমে ৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে। লাপিদ বলেন, ‘তার মানে আমরাই জিতেছি, এটি বড় ব্যবধানে নকআউট জয় ছিল না; পয়েন্টের ব্যবধানে জয়। তবে পয়েন্টও গুরুত্বপূর্ণ। জয় তো জয়ই।’

তিনি জানান, ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে বিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে কাজটি কঠিন হবে এবং সফলতা নিশ্চিত নয় বলেও স্বীকার করেন তিনি।

এ অবস্থায় ইসরাইলিদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে লাপিদ বলেন, ‘ইসরাইলিদের কাছে এমন কিছু চাওয়া কঠিন, তবু আমাকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ করতে হচ্ছে।’

সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নির্বাচনী প্রচারের ঠিক বিপরীত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। লাপিদের ভাষায়, ‘এটি ছোট ছোট কক্ষে, ধীরে ধীরে এবং ক্যামেরার আড়ালে সম্পন্ন হয়।’

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি এমপির আহ্বান: ইয়াবা, হেরোইন নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ পি.এম


বিএনপি এমপির আহ্বান: ইয়াবা, হেরোইন নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হোন

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় ইয়াবা, হেরোইনসহ সকল প্রকার মাদক নির্মূলে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি মন্তব্য করেন, মাদক নির্মূলের জন্য মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে উখিয়া উপজেলার কোটবাজারে অনুষ্ঠিত র‍্যালির পর আয়োজিত যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, উখিয়া-টেকনাফে ‘নো ইয়াবা, নো হেরোইন’ বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। মাদক একটি পরিবার, সমাজ এবং দেশকে ধ্বংস করে দেয়। তাই যুবসমাজকে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে।

যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারের বরাদ্দের ৪০ শতাংশ যুবদলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জনগণের কাছে বিতরণ করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বরাদ্দের সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য নেতাকর্মীদের সহযোগিতা অপরিহার্য।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমদ উজ্জ্বল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী এবং কক্সবাজার জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিসান উদ্দিন জিসান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমির আলী, উখিয়া উপজেলা কৃষকদলের সদস্যসচিব ও যুবনেতা সাদমান জামি চৌধুরীসহ যুবদলের উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম সাইফুর রহিম সিকদার ও সদস্যসচিব খাইরুল আমিনের নেতৃত্বে আয়োজিত র‍্যালিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%