ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাসিরনগরে প্রবাসীর অর্থায়নে মসজিদে সুলাইমানের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন


নাসিরনগরে প্রবাসীর অর্থায়নে মসজিদে সুলাইমানের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মালয়েশিয়া প্রবাসী গোকর্ণ গ্রামের কৃতি সন্তান হাফেজ হুসাইন আহমাদ এর অর্থায়নে নতুন মসজিদে সুলাইমান এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার মাগরিব নামাজের পর গোকর্ণ দক্ষিণ বেড়িবাধ সংলগ্ন নতুন জামে মসজিদ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বরুনা মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা মুফতি ওলিউর রহমান হামিদী বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আকর্ষণীয় এ মসজিদে সুলাইমানের কাজ শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হান্নান।

এ সময় এমপি বলেন, "জনসেবাকে ইবাদত মনে করে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। এই মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা নয় বরং ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।" তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী গোকর্ণ গ্রামের কৃতি সন্তান হাফেজ হুসাইন আহমাদের এই মহতী উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান।

মসজিদে সুলাইমানের প্রতিষ্ঠাতা মালয়েশিয়া প্রবাসী হাফেজ হুসাইন আহমাদের সভাপতিত্বে হাফেজ মাওলানা খোবাইব আহমাদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহীন, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা রায়হান আহমদ শরীফী, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি একে এম খালেদ। এ সময় হ‍্যালো সাইফুলের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ এলাকার জনপ্রতিনিধি, আলেম উলামাগণ, মসজিদ নির্মাণ প্রকৌশলী, মসজিদে সুলাইমানের নিয়োগ প্রাপ্ত ইমাম ও খতিব এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: মধুপুরে জালেমন বেগম হত্যা মামলার আসামি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার

উল্লেখ্য, মসজিদে সুলাইমানের প্রতিষ্ঠাতা নাসিরনগর উপজেলার গোর্কণ গ্রামের কৃতি সন্তান হাফেজ হুসাইন আহমাদ মালয়েশিয়ায় শ্রমিক থেকে শিল্পপতি হয়েছেন। ২০০৮ সালে পিতার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে স্বচ্ছলতার আশায় কলিং ভিসায় গোকর্ণ গ্রামের যুবক হাফেজ হুসাইন আহমাদ পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। পবিত্র কোরআনের ৩০ পাড়া বুকে ধারন করে ও কওমি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে প্রথম পেশা শুরু করেন মসজিদের ইমামতি। কিন্তু অদম্য হাফেজ হুসাইন মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রথমে কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও কিছুদিন পর ব্যবসায় ইনভেস্ট করা শুরু করেন। তারপর কখনো হয়েছেন প্রতারণার শিকার, কখনো আবার প্রতিপক্ষের রেষামলে পড়ে হারিয়েছেন সর্বস্ব। এতদ সত্ত্বেও তিনি মনোবল হারান নি, বরং বার বার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দৃঢ়তার সাথে। হার না মানা অদম্য হুসাইন দীর্ঘ ১ যুগ পর আলোর দেখা পেয়ে কারখানার শ্রমিক থেকে আজ প্রতিষ্ঠিত হলেন শিল্পপতি হিসেবে। তিলে তিলে মালয়েশিয়ায় গড়ে তুলেন ৫ হাজার বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধার কর্মসংস্থানের দৃষ্টান্ত “উই ওয়ান এগ্রো গ্রুপ অব কোম্পানি।” তিনি সেখান থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে নিজ এলাকা গোর্কণে গড়ে তুলছেন মসজিদ মাদ্রাসাসহ সামাজিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান।

কওমি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে হাফেজ হুসাইন আহমাদ এমন কিছু করার পরিকল্পনা করেছেন, যা শুধু দূনিয়াবী কাজে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে আখরাতের জন্যেও তার কৃত কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য মসজিদ সুলাইমান ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। এতে ব্যয় হবে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। যা তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ সুলাইমান ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোমনায় বিধবা নারীর জমি দখল ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


হোমনায় বিধবা নারীর জমি দখল ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কুমিল্লার হোমনায় এক বিধবা ও অসহায় নারীর জমি জবরদখলের অপচেষ্টা, নির্যাতন ও জীবননাশের হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হোমনা পৌর সুপার মার্কেটের ৩য় তলায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী জলি বেগম (৫৯)। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট ছেলে মো. নূর-এ আলম।

সংবাদ সম্মেলনে জলি বেগম বলেন, তার স্বামী মৃত মোফাক্ষের আলী খান জীবিত অবস্থায় ১৯৯৯ সালে দানপত্র দলিল (নং ৩৫৫৮/৯৬) এর মাধ্যমে চান্দেরচর মৌজার ১১ শতক জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে গত ৩০ বছর ধরে ভাড়া দিয়ে আসছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর প্রথম স্ত্রীর সন্তান নূর মোহাম্মদ জালিয়াতির মাধ্যমে জমিটি নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। বিষয়টি জানার পর ২০২১ সালে জমিটির বিএস রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত উক্ত জায়গায় স্থিতাবস্থা রক্ষা ও ১৪৫ ধারা জারি করলেও প্রতিপক্ষ তা অমান্য করে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জলি বেগম আরও জানান, প্রতিপক্ষ নূর মোহাম্মদ ও তার সহযোগীরা পূর্বেও একাধিকবার তার ওপর হামলা চালিয়েছে। ২০১৯ সালে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হলে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১ আগস্ট (২০২৬) সন্ধ্যায় চান্দেরচর চৌমুহনী বাজারে তার দোকানঘরের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা হয় এবং দোকানপাটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়েও তিনি হোমনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী বিধবা নারী তার জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং আদালতের ১৪৫ ধারা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে নূর মোহাম্মদ তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "জলি বেগমের (সৎ মা) জমি হলো ১৬ দাগে, আর আমার জমি ১৫ দাগে। আমার বাবা জীবিত থাকা অবস্থাতেই এই জমি আমাকে দিয়ে গেছেন।" তিনি আরও জানান, আরএস রেকর্ড অনুযায়ী, তার বাবা তার দাদার কাছ থেকে ১৬ দাগের জমি পান। পরবর্তীতে ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে তিনি তার ছোট মাকে দুটি দলিলের মাধ্যমে সেই জমি লিখে দেন; যার দলিল এখনো আছে।

অন্যদিকে, ১৫ দাগের জমিটি ১৯৮৩ সালে তার নানী (সাবেক ৫ দাগ থেকে) তাকে দেন। এরপর ১৯৮৮ সালে জমিটি তার নামে রেকর্ড হয়। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন এবং ছোট ছিলেন; তার বাবা তার নামে এই রেকর্ড করিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার শিক্ষক বাবা স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তারা একের পর এক দলিল তৈরি করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লা বারে এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


কুমিল্লা বারে এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির উদীয়মান আইনজীবী এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তর এবং তাঁর পরিবারের ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টামূলক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র প্রতিবাদে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণ উত্তাল হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে সাধারণ আইনজীবীদের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে কুমিল্লা বারের নবীন ও প্রবীণ মিলিয়ে শতাধিক আইনজীবী অংশ নেন। প্রতিবাদী স্লোগান এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে উচ্চারিত কণ্ঠে আদালতপাড়া মুখর হয়ে ওঠে। বক্তারা উল্লেখ করেন, একজন আইনজীবী ও তাঁর পরিবারের ওপর এমন নৃশংস হামলা শুধুমাত্র একটি পরিবারের নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, বরং এটি বিচারব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং আইনজীবী সমাজের স্বাধীন পেশাগত দায়িত্ব পালনের ওপরও সরাসরি হুমকি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. কাইমুল হক রিংকু, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ, সাবেক সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকারসহ বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন এডভোকেট মোহাম্মদ মোজাদ্দেদ হাসান আদনান।

বক্তারা বলেন, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, যদি একজন আইনজীবী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা রাখবেন।

তারা আরও বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

মানববন্ধন থেকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সকল সদস্যের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানানো হয়। তাঁরা অনুরোধ করেন, এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তর ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পক্ষে যেন কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা না করেন। এই আহ্বানের মাধ্যমে আইনজীবী সমাজের ঐক্য, পেশাগত মর্যাদা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিতরা।

আইনজীবীরা জানান, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সন্ত্রাস, সহিংসতা ও হত্যাচেষ্টার মাধ্যমে আইনজীবীদের ভয় দেখিয়ে ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করতে চায়, তাহলে পুরো আইনজীবী সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

শেষে বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

মানববন্ধন শেষে উপস্থিত আইনজীবীরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি সততা ও মূল্যবোধ চর্চায় সুনাগরিক হয়ে ওঠার তাগিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি সততা ও মূল্যবোধ চর্চায় সুনাগরিক হয়ে ওঠার তাগিদ

জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাজীবনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা নয়; বরং অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভাটিয়ারী বিজয় সরণী কলেজে নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা এবং বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একাদশ ও স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। একই সঙ্গে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ও শিক্ষকরা প্রধান অতিথি আসলাম চৌধুরীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এরপর নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষাজীবন ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে নিয়মিত অধ্যয়নের পাশাপাশি সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে। শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। নবীনদের বরণের একই আয়োজনে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

ভাটিয়ারী এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতেও ‘বিজয় সরণী কলেজ, ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম’ নামে প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখ রয়েছে। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কাউট সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা, নবীন বরণ, সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমৃদ্ধ দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে: প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৯ পি.এম


সমৃদ্ধ দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে: প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন যে, সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা বিদ্যমান, তবে সেই মেধার ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আত্মনিয়োগ ও কঠোর পরিশ্রম আবশ্যক। এজন্য শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে পাঠদান করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধ্যাবসায় ও নিয়মানুবর্তিতা শিক্ষা দিতে হবে। তিনি গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নবীন বরন ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কলেজের বিপুল প্রান্তরে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আরিফুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ কলেজের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন, যেমন কলেজে আই সি টি ল্যাব, ছাত্রাবাস, একাডেমিক ভবন নির্মাণ, অডিটোরিয়াম, শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য খেলার মাঠ, শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ডবল ডেকার বাস, শিক্ষক পরিবহনের বাস/হাইস, এবং কলেজ সরকারি করণের পরও কিছু শিক্ষক/কর্মচারী সরকারি করণের আওতায় না আসার বিষয়টি উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথি অধ্যক্ষের প্রস্তাব কার্যকর করার আশ্বাস প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কলেজ জীবনের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন যে, বিগত ১৬/১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার শিক্ষার উন্নয়ন সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদেরকে লেখাপড়া চাপিয়ে না দিয়ে আনন্দের মাধ্যমে পাঠদান করতে হবে। পূর্বের পরীক্ষার ফলাফলের তুলনায় বর্তমানের পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে তারতম্য রয়েছে। সরকার চিন্তা করছেন যে, শিক্ষার্থীদের শুধু পাস করিয়ে দিলেই হবে না, বরং তাদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার ফলাফলের এই তারতম্য ঘটেছে। বিশ্বায়নের যুগে নিজেকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এবং কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন চৌধুরী। অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও অধ্যাপক সৈয়দা নার্গিস সুলতানা এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবীন বরন ও কৃতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আহসান চৌধুরী। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবু মুসা মোহাম্মদ মামুন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অন্মেষা।

প্রধান অতিথি অধ্যক্ষের প্রস্তাবিত সমস্যাগুলোর সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করে বলেন যে, এই কলেজকে মডেল কলেজ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, বর্তমানে মাদক একটি বড় সমস্যা। অনেকে ভুলবশত মাদক সেবন করলে নিজেকে স্মার্ট মনে করেন। প্রকৃতপক্ষে, মাদক ক্রমাগত নিজেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে মাদক নির্মূল করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিজ্ঞান বিভাগের ১ম রাধিকা বর্ণিক, ২য় উম্মে সাইদা ও ৩য় সম্মুজিৎ ভট্টাচার্য, মানবিক বিভাগে ১ম মোচ্ছাম্মৎ জান্নাতুল ফেরদৌস মিরা, ২য় মোঃ সাইফ আনোয়ার চৌধুরী, ৩য় জান্নাতুল মাওয়া, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ম নুসরাত জাহান মিমতা, ২য় নাবিহা ফাতিমা ও ৩য় মোচ্ছাম্মৎ তামান্না উর্মি ঐশির হাতে শিক্ষা বৃত্তি তুলে দেন। মন্ত্রী কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে কলেজের বি এন সি সি সেকেন্ড ল্যাবটেনেন্ট আবু তালেবের নেতৃত্বে মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সম্মান জানানো হয়। পরে মন্ত্রী অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত হলে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%