বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১৭ পি.এম
কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির উদীয়মান আইনজীবী এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তর এবং তাঁর পরিবারের ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টামূলক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র প্রতিবাদে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণ উত্তাল হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে সাধারণ আইনজীবীদের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে কুমিল্লা বারের নবীন ও প্রবীণ মিলিয়ে শতাধিক আইনজীবী অংশ নেন। প্রতিবাদী স্লোগান এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে উচ্চারিত কণ্ঠে আদালতপাড়া মুখর হয়ে ওঠে। বক্তারা উল্লেখ করেন, একজন আইনজীবী ও তাঁর পরিবারের ওপর এমন নৃশংস হামলা শুধুমাত্র একটি পরিবারের নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, বরং এটি বিচারব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং আইনজীবী সমাজের স্বাধীন পেশাগত দায়িত্ব পালনের ওপরও সরাসরি হুমকি।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. কাইমুল হক রিংকু, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ, সাবেক সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকারসহ বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন এডভোকেট মোহাম্মদ মোজাদ্দেদ হাসান আদনান।
বক্তারা বলেন, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, যদি একজন আইনজীবী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা রাখবেন।
তারা আরও বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
মানববন্ধন থেকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সকল সদস্যের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানানো হয়। তাঁরা অনুরোধ করেন, এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তর ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পক্ষে যেন কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা না করেন। এই আহ্বানের মাধ্যমে আইনজীবী সমাজের ঐক্য, পেশাগত মর্যাদা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিতরা।
আইনজীবীরা জানান, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সন্ত্রাস, সহিংসতা ও হত্যাচেষ্টার মাধ্যমে আইনজীবীদের ভয় দেখিয়ে ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করতে চায়, তাহলে পুরো আইনজীবী সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
শেষে বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধন শেষে উপস্থিত আইনজীবীরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাজীবনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা নয়; বরং অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভাটিয়ারী বিজয় সরণী কলেজে নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা এবং বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একাদশ ও স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। একই সঙ্গে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ও শিক্ষকরা প্রধান অতিথি আসলাম চৌধুরীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এরপর নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষাজীবন ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে নিয়মিত অধ্যয়নের পাশাপাশি সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে। শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। নবীনদের বরণের একই আয়োজনে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
ভাটিয়ারী এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতেও ‘বিজয় সরণী কলেজ, ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম’ নামে প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখ রয়েছে। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কাউট সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা, নবীন বরণ, সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন যে, সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা বিদ্যমান, তবে সেই মেধার ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আত্মনিয়োগ ও কঠোর পরিশ্রম আবশ্যক। এজন্য শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে পাঠদান করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধ্যাবসায় ও নিয়মানুবর্তিতা শিক্ষা দিতে হবে। তিনি গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নবীন বরন ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কলেজের বিপুল প্রান্তরে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আরিফুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ কলেজের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন, যেমন কলেজে আই সি টি ল্যাব, ছাত্রাবাস, একাডেমিক ভবন নির্মাণ, অডিটোরিয়াম, শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য খেলার মাঠ, শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ডবল ডেকার বাস, শিক্ষক পরিবহনের বাস/হাইস, এবং কলেজ সরকারি করণের পরও কিছু শিক্ষক/কর্মচারী সরকারি করণের আওতায় না আসার বিষয়টি উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথি অধ্যক্ষের প্রস্তাব কার্যকর করার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কলেজ জীবনের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন যে, বিগত ১৬/১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার শিক্ষার উন্নয়ন সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদেরকে লেখাপড়া চাপিয়ে না দিয়ে আনন্দের মাধ্যমে পাঠদান করতে হবে। পূর্বের পরীক্ষার ফলাফলের তুলনায় বর্তমানের পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে তারতম্য রয়েছে। সরকার চিন্তা করছেন যে, শিক্ষার্থীদের শুধু পাস করিয়ে দিলেই হবে না, বরং তাদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার ফলাফলের এই তারতম্য ঘটেছে। বিশ্বায়নের যুগে নিজেকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এবং কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন চৌধুরী। অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও অধ্যাপক সৈয়দা নার্গিস সুলতানা এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবীন বরন ও কৃতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আহসান চৌধুরী। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবু মুসা মোহাম্মদ মামুন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অন্মেষা।
প্রধান অতিথি অধ্যক্ষের প্রস্তাবিত সমস্যাগুলোর সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করে বলেন যে, এই কলেজকে মডেল কলেজ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, বর্তমানে মাদক একটি বড় সমস্যা। অনেকে ভুলবশত মাদক সেবন করলে নিজেকে স্মার্ট মনে করেন। প্রকৃতপক্ষে, মাদক ক্রমাগত নিজেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে মাদক নির্মূল করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিজ্ঞান বিভাগের ১ম রাধিকা বর্ণিক, ২য় উম্মে সাইদা ও ৩য় সম্মুজিৎ ভট্টাচার্য, মানবিক বিভাগে ১ম মোচ্ছাম্মৎ জান্নাতুল ফেরদৌস মিরা, ২য় মোঃ সাইফ আনোয়ার চৌধুরী, ৩য় জান্নাতুল মাওয়া, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ম নুসরাত জাহান মিমতা, ২য় নাবিহা ফাতিমা ও ৩য় মোচ্ছাম্মৎ তামান্না উর্মি ঐশির হাতে শিক্ষা বৃত্তি তুলে দেন। মন্ত্রী কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে কলেজের বি এন সি সি সেকেন্ড ল্যাবটেনেন্ট আবু তালেবের নেতৃত্বে মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সম্মান জানানো হয়। পরে মন্ত্রী অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত হলে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুরে আলোচনা সভা ও প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। অপসংস্কৃতি এবং দ্বীনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আলেম সমাজের বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টায় চাঁদপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা ওলামা দলের উদ্যোগে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা জসিম উদ্দিন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাফেজ জাকির হোসেন মৃধার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আক্তার হোসেন মাঝি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশে ইসলামের গোড়াপত্তন ও প্রসার ঘটেছে সুফি-সাধক এবং পীর-মাশায়েখদের হাত ধরে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে কিছু তথাকথিত রাজনৈতিক সংগঠন বিশেষ করে জামাত ইসলামের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে এবং পবিত্র মসজিদগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।"
তিনি আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "অপসংস্কৃতি ও দ্বীনবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ওলামা দলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। জুমার খুতবাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনায় ইসলামের সঠিক ও প্রকৃত বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে ওলামা দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুসংগঠিত করতে হবে।"
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. শাহজালাল মিশন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান সংবিধানকে একটি পবিত্র রূপ দিয়েছিলেন। এছাড়া ইসলাম ও আলেম-ওলামাদের কল্যাণে এবং দ্বীনি শিক্ষাব্যবস্থার প্রসারে তাঁর ও বিএনপি সরকারের ভূমিকা অপরিসীম বলেও আলোচনা সভায় উল্লেখ করেন।
হাফেজ দ্বীন ইসলামের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার সূচনা হয়। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা ওলামা দলের যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মাওলানা রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম খান, ফজলুল কবির, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, চাঁদপুর পৌর ওলামা দলের আহ্বায়ক আকবর হোসেন মাতব্বর, চাঁদপুর সদর উপজেলা ওলামা দলের মাওলানা কাজী ইসমাইল সেখ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি অধ্যাপক বিন ইয়ামিন এবং হাইমচর উপজেলা ওলামা দলের মাওলানা আলাউদ্দিন আনসারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা, বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন ওলামা দল এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও আলেম-ওলামাগণ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উক্ত অনুষ্ঠানে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কাজী মাওলানা আবুল হোসেন এবং ওলামা দল জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ড. মোঃ সলিম উল্যাহর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে জরুরি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কাজের কারণে তাঁরা সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে জালা ওলামা দলের আহবায়ক মাওলানা জসিম উদ্দিন জানান যে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও জরুরি কাজে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তিনি অংশ নিতে পারেননি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও সেলিম ভাইসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানস্থলে চাঁদপুর ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছালেও দলীয় জরুরি নির্দেশে পরবর্তীতে তাদের অন্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হয়। উপস্থিত হতে না পারায় উক্ত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জের আয়োজনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রায়হান কবির। সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পূজামণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা, যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল, বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং পূজা উদযাপনকালে সার্বিক সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ, নারায়ণগঞ্জ || ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ