ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সেইফগার্ডিং’ কার্যক্রমের উদ্বোধন, বৈষম্যমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সেইফগার্ডিং’ কার্যক্রমের উদ্বোধন, বৈষম্যমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, হয়রানি ও বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সহযোগিতায় ‘সেইফগার্ডিং’ বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত ‘শিখা’ প্রকল্পের আওতায় আগামী দুই বছর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে ব্র্যাক।

আরও পড়ুন: অষ্টম শ্রেণিতে পিথাগোরাসের গণিতবিদ্যা ও জ্যামিতিক সমস্যা

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ মন্তব্য করেন, ‘র‍্যাগিং, যৌন হয়রানি ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রতিরোধে সচেতনতা ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সঠিক সংজ্ঞা ও সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন, যাতে কেউ অযথা হয়রানি বা ভুল বিচারের শিকার না হন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবার জন্য সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইতিবাচক কর্মপরিবেশ কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। আগামী দুই বছর ব্র্যাকের সঙ্গে মতবিনিময় ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

দুই বছর মেয়াদি এই কার্যপরিকল্পনার আওতায় ক্যাম্পাসে বুলিং, যৌন হয়রানি, র‍্যাগিং ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য প্রতিরোধে ধাপভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সেইফগার্ডিং নীতিমালাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যদের জন্য সচেতনতামূলক ওরিয়েন্টেশন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও বুলিং প্রতিরোধে শর্টফিল্ম প্রতিযোগিতা ও উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: যবিপ্রবির শিক্ষার্থী তানভীরুল হককে কান ফাটানোর ঘটনায় সাময়িক বহিষ্কার

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধকল্পে গঠিত অভিযোগ কমিটির আহ্বায়ক ড. রেহানা পারভীন, সদস্যসচিব হোসেনেয়ারা ডালিয়া ও সদস্য ড. সরদার কায়সার আহমেদ।

ব্র্যাকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স বিভাগের পরিচালক এএফএম সাহিদুর রহমান, সিনিয়র ম্যানেজার সৈয়দ আমিন আল আনাস, ইশতিয়াক জাহান শোয়েফ, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও রাশেদ-উজ-জামান ভূঁইয়া।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: কুবিতে ৮০ লাখ টাকার মাস্টারপ্ল্যান, প্রথম ধাপে নির্মিত হবে অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবে ট্রাম্পের মনোনীত রাষ্ট্রদূত ওয়েসলি হান্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৩ পি.এম


সৌদি আরবে ট্রাম্পের মনোনীত রাষ্ট্রদূত ওয়েসলি হান্ট

দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাস চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার পর, অবশেষে নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি ও সাবেক সেনাকর্তা ওয়েসলি হান্টকে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছেন।

এই মনোনয়ন যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি সম্পর্কের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে এসেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ এবং ইয়েমেনসহ গোটা অঞ্চলে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হান্টের এই মনোনয়ন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। রিয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

মাইকেল র‌্যাটনির স্থলাভিষিক্ত হবেন আফ্রিকান-আমেরিকান ঐতিহ্যের এই কূটনীতিক। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও মাইকেল র‌্যাটনি রিয়াদে বিশেষ কাজের ছাপ রেখে গেছেন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি সৌদি ও মার্কিন গণমাধ্যম ও থিঙ্কট্যাঙ্কের মাধ্যমে রিয়াদকেন্দ্রিক আলোচনায় সক্রিয় রয়েছেন।

সৌদি আরবে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে হান্ট বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করেছেন।

‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’

ওয়েসলি হান্টের সামরিক পটভূমি এবং রিয়াদে পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সামরিক পটভূমি ও এ অঞ্চলে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা মার্কিন কর্মকর্তাদের আরব ও উপসাগরীয় সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানাশোনা অন্যান্য কূটনীতিকদের তুলনায় বেশি থাকে। তবে সব সময় এমনটি ঘটে না। উদাহরণস্বরূপ, কেনীয় বংশোদ্ভূত বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এ অঞ্চলে তার নীতি অনেককে হতাশ করেছিল।

নিজের মনোনয়ন নিয়ে হান্ট বলেন, "এটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।" সাবেক সেনাকর্তা ইরাক এবং সৌদি আরবে কূটনৈতিক লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দুবছরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, "এই অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব বুঝতে আমাকে সরাসরি সাহায্য করেছে।"

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে হান্ট জানান, সিনেটের অনুমোদন পেলে তার মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ জোরদার করা, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যৌথভাবে শত্রুদের মোকাবিলা করা। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ দর্শনের অংশ হিসেবেই এ দায়িত্ব পালন করবেন।

সামরিক পরিবারের সন্তান হান্ট ২০০৪ সালে বিখ্যাত ওয়েস্ট পয়েন্ট মার্কিন মিলিটারি একাডেমি থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এরপর তিনি আট বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে সেবা দেন এবং ইরাকে ৫৫টি যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেন।

কঠিন সময়ে ট্রাম্পের অনুগত

অন্য পেশাদার কিংবা রাজনৈতিক রাষ্ট্রদূতদের তুলনায় হান্টের ব্যাকগ্রাউন্ড কিছুটা আলাদা হলেও রাজনীতিতে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান রয়েছে। কংগ্রেসে তিনি ট্রাম্পের অন্যতম অনুগত হিসেবে পরিচিত। তিনি ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনে সমর্থন দেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি টেক্সাস থেকে সিনেট আসনের জন্য রিপাবলিকান প্রাইমারিতে লড়াই করে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর তিনি প্রতিনিধি পরিষদে আর না লড়ার ঘোষণা দেন।

এই কারণে মার্কিন গণমাধ্যম তার মনোনয়নকে সাধারণ কূটনৈতিক নিয়োগ হিসেবে দেখছে না। ‘টেক্সাস ট্রাইবিউন’ ট্রাম্পের সঙ্গে তার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করেছে, আবার ‘জুয়িশ ইনসাইডার’ মনে করছে, সিনেটে দ্রুত এই মনোনয়নের অনুমোদন পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সিনেটের হাতে সময় সীমিত, অন্যদিকে আরও বেশ কিছু মনোনয়ন ঝুলে রয়েছে। ফলে হান্ট কবে নাগাদ রিয়াদে পৌঁছাবেন তা নিশ্চিত নয়।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পুরোটা সময় এই পদটি ফাঁকা থাকায় বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। ক্যারিয়ার কূটনীতিক মাইকেল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দিয়েই রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পদে বিলম্ব নতুন কিছু নয়। তবে মার্কিন নীতিতে রিয়াদের গুরুত্ব এবং বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতার সময়ে এতদিন পোস্টটি ফাঁকা থাকাটা বেশ লক্ষণীয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক থাকায় রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতি খুব একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

হান্টের মনোনয়ন এমন সময়ে হলো যখন দুই দেশের সম্পর্ক কেবল তেল আর বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক শক্তি এবং ইরান ও ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।

সামরিক ব্যাকগ্রাউন্ডের রাষ্ট্রদূতদের ইতিহাস

ওয়েসলি হান্ট প্রথম সামরিক কর্মকর্তা নন যিনি রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জন অ্যাবিজায়েদ ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এবং অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনীর পাইলট জেনারেল জেমস বি স্মিথ ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া সেনাবাহিনী বিষয়ক সাবেক সহকারী সচিব জোসেফ ওয়েস্টফল ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আফ্রিকায় সিপিএ মহাসচিবের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৩ পি.এম


দক্ষিণ আফ্রিকায় সিপিএ মহাসচিবের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের বৈঠক

কেপটাউনে অনুষ্ঠিত ৬৯তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সের প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নেতৃত্বে সংসদীয় প্রতিনিধিদল কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) মহাসচিব স্টিফেন টুইগের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

এই বৈঠকে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের শক্তিশালীকরণ, সংসদ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশ ও সিপিএর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্টিফেন টুইগ বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিষ্ঠান এবং সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে চার দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ সেমিনার আয়োজন করা হবে। তিনি সেখানে ব্যক্তিগতভাবে যোগদান করবেন।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে বিরোধীদলীয় ও নারী সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির জন্য স্টিফেন টুইগ ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংসদীয় চর্চার ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং সংসদে নারীর কার্যকর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে সিপিএর কার্যক্রম তুলে ধরেন স্টিফেন টুইগ। তিনি কমনওয়েলথ উইমেন পার্লামেন্টারিয়ানসের (সিডব্লিউপি) বিভিন্ন উদ্যোগে বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

সিপিএ মহাসচিব বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের ‘সিপিএ পার্লামেন্টারি একাডেমি’র অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। এসব প্রশিক্ষণ সংসদীয় কার্যক্রম, আইন প্রণয়ন, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের জ্ঞান ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে স্টিফেন টুইগ রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘসূত্রতা ও তাদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে আসায় তিনি বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব লাভ করায় তিনি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ও মর্যাদারও প্রশংসা করেন সিপিএ মহাসচিব।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিপিএর ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন। সিপিএ এবং সিপিএ যুক্তরাজ্য শাখার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং তা দেশের গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় অগ্রযাত্রায় ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।

বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্য সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা ও মো. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বর্ণের চেইনের লোভে নামাজরত বৃদ্ধা জাহানারা বেগমকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৪ পি.এম


স্বর্ণের চেইনের লোভে নামাজরত বৃদ্ধা জাহানারা বেগমকে হত্যা

নরসিংদীর মাধবদীতে নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধা জাহানারা বেগমকে (৭৩) হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, স্বর্ণের চেইনের লোভে ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবদী থানা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান এ তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন- মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্ণনিগৈড় গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৭), একই গ্রামের ছায়েদের ছেলে কাদির মিয়া (২৭) ও আকমান মিয়ার ছেলে আবু মিয়া (২৯)।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্ণনিগৈড় গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় নামাজরত অবস্থায় জাহানারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হৃদয় মিয়াকে ৯ আগস্ট, কাদির মিয়াকে ৩০ আগস্ট এবং আবু মিয়াকে ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, নিহত জহুরা খাতুনের গলার সোনার চেইন চুরির উদ্দেশ্যে প্রায় ৭-৮ মাস আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বসে পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন, ৩০ জুলাই বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে আসামিরা জহুরা খাতুনের বাড়িতে প্রবেশ করে। তিনি নামাজরত অবস্থায় থাকাকালে তাদের হামলার শিকার হন। বিদ্যুৎ ফিরে আসলে আসামিরা চিনে ফেলে এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পিঠ ও মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর তারা তার গলার সোনার চেইন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, লুণ্ঠিত সোনার চেইন উদ্ধার ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন এবং মাধবদী থানার ওসি মো. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৌলভীবাজারে আজিজুল মিয়া হত্যা মামলায় দুই সহোদরের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৪ পি.এম


মৌলভীবাজারে আজিজুল মিয়া হত্যা মামলায় দুই সহোদরের মৃত্যুদণ্ড

মৌলভীবাজারে আজিজুল মিয়া হত্যা মামলায় আদালত দুই সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। এ মামলায় চার আসামিকে খালাসও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক ফাহমিদা খাতুন এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সহোদররা হলেন রাজনগর উপজেলার মুনিয়ারপাড় গ্রামের রুবেল মিয়া ও রুমান মিয়া।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছেন একই গ্রামের জয়নাল আবেদীন ও রিপন মিয়া।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত আজিজুল মিয়া (৪৫) স্থানীয় পঞ্চায়েতের সালিশ বিচারক ছিলেন। ২০১৩ সালে একটি বিচার-সালিশকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর ফলস্বরূপ, আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে আজিজুল মিয়ার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে।

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাবেয়া বেগম রাজনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের পর আদালত রুবেল মিয়া ও রুমান মিয়াকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। হত্যাকাণ্ডে সহায়তার দায়ে জয়নাল আবেদীন ও রিপন মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত স্বপন মিয়া, জহির মিয়া, কমরু মিয়া ও ফয়ছল মিয়াকে খালাস দেয়।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির মধ্যে রুবেল মিয়া ও রিপন মিয়া ছাড়া অন্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন।

অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী ও স্বজনরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মৌলভীবাজার জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মন্তব্য করেছেন, "এ রায়ের মাধ্যমে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। অপরাধ করে কেউ আইনি সাজা থেকে রেহাই পাবে না—এ রায় তারই দৃষ্টান্ত।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%