বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫০ পি.এম
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীতে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নগরবাসীকে বিকল্প সড়কে চলাচলের জন্য অনুরোধ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আকতার হোসেন এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।
শোভাযাত্রার সময়, বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত, নগরবাসীকে পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
শোভাযাত্রার নির্ধারিত রুট হলো শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, পলাশী বাজার, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, বঙ্গবাজার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবন, গোলাপশাহ মাজার, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড, রায় সাহেব বাজার মোড় হয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত।
ডিএমপি জানিয়েছে, শোভাযাত্রার রুটে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। উচ্চস্বরে পিএ বা সাউন্ড সিস্টেম বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুকদের শুরুতেই এতে মিলিত হতে হবে এবং কোনোভাবেই মাঝপথে শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে হ্যান্ডব্যাগ, ট্রলি, বড় ভ্যানিটি ব্যাগ, পোটলা, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, অস্ত্র, কাঁচি, ক্ষয়কারক তরল, ব্রেড, দিয়াশলাই, গ্যাসলাইটার ইত্যাদি নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যাবে না। শোভাযাত্রা চলাকালীন রুটে কোনো ধরনের ফলমূল ছোড়া যাবে না। রাস্তায় অহেতুক দাঁড়িয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তু পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের স্বেচ্ছাসেবক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ব্যারিকেড, পিকেট ও আর্চওয়ে ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পুলিশকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, শোভাযাত্রা চলাকালীন নগরবাসীকে পুলিশের নির্দেশিত বিকল্প সড়কে চলাচল করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে কোনো শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, স্কুল চলাকালীন সময়ে যদি কারো কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া যায়, তবে তাকে সরাসরি বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সভায় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম দানু এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষক শফিকুল ইসলাম দানু জানান, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগ বৃদ্ধি, ভালো ফলাফল নিশ্চিত করা এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি মেনে চলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এর ফলে শিক্ষার্থীরা মোবাইল আসক্তি কাটিয়ে পড়ালেখায় আরো মনোযোগী হতে পারবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম মন্তব্য করেন, এটি সত্যিই প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। তিনি বলেন, "আমাদের সময়ে যা ভাবাই যেত না, এখনকার ছেলে-মেয়েরা মোবাইল ছাড়া চলতেই পারে না। তাই শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।"
অভিভাবক জামাল মিয়া জানান, পড়ালেখা ছেড়ে সারাক্ষণ মোবাইলে ডুবে থাকার কারণে সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছিল। তিনি বলেন, "স্কুল চলাকালে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় অন্তত এই সময়ে তারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারবে।"
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, "শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান, তাদের কল্যাণ ও শিক্ষার মান উন্নয়নের দায়িত্ব আমাদেরই। মোবাইল আসক্তি কমিয়ে পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়ানো, ভালো ফলাফল নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর করার লক্ষ্যেই মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেঙ্গু রোগে আরও চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫২ জন রোগী।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গু রোগে মোট ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ১৪ জন মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১০১ জন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩৫ জন এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ২২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১১৯, চট্টগ্রামে ১৯৪, খুলনায় ২৪৭, ময়মনসিংহে ৮৭, রাজশাহীতে ১০৯, রংপুরে ২৭ এবং সিলেটে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু রোগে মোট ৩৯ হাজার ৫৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৪৬৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২ হাজার ৯৫৪ জন রোগী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ উদ্দেশ্যে আজ বাংলাদেশ সরকার এবং আইডিবি’র মধ্যে ‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং আইডিবি’র পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির কান্ট্রি প্রোগ্রামস বিভাগের মহাপরিচালক আনাস আইসামি।
চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় পরিচালিত হবে।
সরকারি সূত্র জানায়, এটি বাংলাদেশে আইডিবি’র কোনো একক প্রকল্পে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আইডিবি’র চলমান উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান বার্ষিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় পরিবেশবান্ধব ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে এবং পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমবে।
আইডিবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি অনুদান, প্রকল্প ঋণ, বাণিজ্য অর্থায়ন, বেসরকারি খাতে অর্থায়ন এবং রপ্তানি ঋণ গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করে আসছে।
অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরের পর আইডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী সহজ শর্তে অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও আইডিবি’র মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে স্থানান্তর করেছে। 'ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক' (ডিএনবি) জানিয়েছে যে, নিউ ইয়র্ক বা অটোয়ার তুলনায় লন্ডনে সংরক্ষিত স্বর্ণের কেনাবেচা বা লেনদেন করা অনেক বেশি সুবিধাজনক। সংস্থাটি তাদের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া তাদের সহায়তা করবে।
ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লিজপেন এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা স্বর্ণের রিজার্ভ ব্যবহারের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছেন। তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে যে, এই স্বর্ণ হয়তো কখনো ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না, তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধক্ষমতা ও পূর্বপ্রস্তুতি শক্তিশালী করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল।
ডিএনবি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেদারল্যান্ডসের মোট স্বর্ণের রিজার্ভের পরিমাণ ৬১২.৪ টন হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭২.২ বিলিয়ন ইউরো (৮৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। স্থানান্তরের আগে ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সোনার মোট রিজার্ভের ৩১.৩ শতাংশ নিউ ইয়র্কে এবং ১৯.৭ শতাংশ অটোয়ায় সংরক্ষণ করত। নতুন সমন্বয়ের পর উভয় দেশে ডাচ রিজার্ভের পরিমাণ কমে ১৮.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, লন্ডনে রক্ষিত সোনার পরিমাণ ১৮.১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩২.১ শতাংশে পৌঁছেছে। বাকি ৩০.৮ শতাংশ সোনা নেদারল্যান্ডসের নিজস্ব ভল্টেই সংরক্ষিত রয়েছে।
এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া কেবল সরাসরি পরিবহনের মাধ্যমে নয়, বরং সোনা কেনাবেচা এবং ভৌত স্থানান্তরের একটি মিশ্র পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনেরও বেশি ভৌত স্বর্ণ তাদের নিজস্ব কেন্দ্র জাইস্টে নিয়ে এসেছে। এরপর সমপরিমাণ স্বর্ণ জাইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে, যার ফলে স্বর্ণের বারগুলো গলিয়ে ফেলার প্রয়োজন পড়েনি। ব্যাংকটি বিশ্বাস করে, কেনাবেচা এবং শারীরিক পরিবহনের সংমিশ্রণে কাজটি করার ফলে বিশাল পরিমাণ স্বর্ণ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। এই কার্যক্রম চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
প্যারিসভিত্তিক গোল্ড ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান 'ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টার'-এর প্রেসিডেন্ট লরেন্ট শোয়ার্টজ এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিগত এক দশক ধরে তাদের স্বর্ণ এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করার এই চর্চা চালিয়ে আসছে। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিকল্প নিরাপদ স্থানে স্বর্ণ সংরক্ষণে উৎসাহিত করছে। তিনি জানান, লন্ডনের স্বর্ণের বাজার বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত গভীর ও তরল, যা যেকোনো সংকটময় সময়ে সম্পদ ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা দেয় এবং এর মাধ্যমে যেকোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কাছে সহজেই তাদের সোনা ঋণ হিসেবে দিতে পারে।
অন্যদিকে, সিটে জেসিওন প্রাইভেট ব্যাংকের বিশ্লেষক জন প্লাসার্ড মনে করেন, নেদারল্যান্ডসের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সংকটের মুহূর্তে স্বর্ণ যেন তাৎক্ষণিকভাবে হাতের কাছে পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করা। যদিও এটিকে একটি একক ঘটনা বলা যাচ্ছে, তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি অন্য কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও একই পথে চলে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের আঘাত লাগতে পারে।
এছাড়া, চলতি বছরের শুরুর দিকে নিউইয়র্কে জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ সংরক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। তবে জার্মানির প্রভাবশালী বুন্ডেসব্যাংক আপাতত নিউইয়র্ক থেকে তাদের স্বর্ণ সরিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ