বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৩ পি.এম
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেঙ্গু রোগে আরও চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫২ জন রোগী।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গু রোগে মোট ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ১৪ জন মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১০১ জন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩৫ জন এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ২২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১১৯, চট্টগ্রামে ১৯৪, খুলনায় ২৪৭, ময়মনসিংহে ৮৭, রাজশাহীতে ১০৯, রংপুরে ২৭ এবং সিলেটে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু রোগে মোট ৩৯ হাজার ৫৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৪৬৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২ হাজার ৯৫৪ জন রোগী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ উদ্দেশ্যে আজ বাংলাদেশ সরকার এবং আইডিবি’র মধ্যে ‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং আইডিবি’র পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির কান্ট্রি প্রোগ্রামস বিভাগের মহাপরিচালক আনাস আইসামি।
চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় পরিচালিত হবে।
সরকারি সূত্র জানায়, এটি বাংলাদেশে আইডিবি’র কোনো একক প্রকল্পে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে আইডিবি’র চলমান উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান বার্ষিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় পরিবেশবান্ধব ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে এবং পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমবে।
আইডিবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি অনুদান, প্রকল্প ঋণ, বাণিজ্য অর্থায়ন, বেসরকারি খাতে অর্থায়ন এবং রপ্তানি ঋণ গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করে আসছে।
অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরের পর আইডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী সহজ শর্তে অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও আইডিবি’র মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন স্বর্ণ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে স্থানান্তর করেছে। 'ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক' (ডিএনবি) জানিয়েছে যে, নিউ ইয়র্ক বা অটোয়ার তুলনায় লন্ডনে সংরক্ষিত স্বর্ণের কেনাবেচা বা লেনদেন করা অনেক বেশি সুবিধাজনক। সংস্থাটি তাদের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া তাদের সহায়তা করবে।
ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লিজপেন এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা স্বর্ণের রিজার্ভ ব্যবহারের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছেন। তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে যে, এই স্বর্ণ হয়তো কখনো ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না, তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধক্ষমতা ও পূর্বপ্রস্তুতি শক্তিশালী করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল।
ডিএনবি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেদারল্যান্ডসের মোট স্বর্ণের রিজার্ভের পরিমাণ ৬১২.৪ টন হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭২.২ বিলিয়ন ইউরো (৮৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। স্থানান্তরের আগে ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সোনার মোট রিজার্ভের ৩১.৩ শতাংশ নিউ ইয়র্কে এবং ১৯.৭ শতাংশ অটোয়ায় সংরক্ষণ করত। নতুন সমন্বয়ের পর উভয় দেশে ডাচ রিজার্ভের পরিমাণ কমে ১৮.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, লন্ডনে রক্ষিত সোনার পরিমাণ ১৮.১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩২.১ শতাংশে পৌঁছেছে। বাকি ৩০.৮ শতাংশ সোনা নেদারল্যান্ডসের নিজস্ব ভল্টেই সংরক্ষিত রয়েছে।
এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া কেবল সরাসরি পরিবহনের মাধ্যমে নয়, বরং সোনা কেনাবেচা এবং ভৌত স্থানান্তরের একটি মিশ্র পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনেরও বেশি ভৌত স্বর্ণ তাদের নিজস্ব কেন্দ্র জাইস্টে নিয়ে এসেছে। এরপর সমপরিমাণ স্বর্ণ জাইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে, যার ফলে স্বর্ণের বারগুলো গলিয়ে ফেলার প্রয়োজন পড়েনি। ব্যাংকটি বিশ্বাস করে, কেনাবেচা এবং শারীরিক পরিবহনের সংমিশ্রণে কাজটি করার ফলে বিশাল পরিমাণ স্বর্ণ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। এই কার্যক্রম চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
প্যারিসভিত্তিক গোল্ড ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান 'ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টার'-এর প্রেসিডেন্ট লরেন্ট শোয়ার্টজ এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বিগত এক দশক ধরে তাদের স্বর্ণ এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর করার এই চর্চা চালিয়ে আসছে। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিকল্প নিরাপদ স্থানে স্বর্ণ সংরক্ষণে উৎসাহিত করছে। তিনি জানান, লন্ডনের স্বর্ণের বাজার বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত গভীর ও তরল, যা যেকোনো সংকটময় সময়ে সম্পদ ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা দেয় এবং এর মাধ্যমে যেকোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কাছে সহজেই তাদের সোনা ঋণ হিসেবে দিতে পারে।
অন্যদিকে, সিটে জেসিওন প্রাইভেট ব্যাংকের বিশ্লেষক জন প্লাসার্ড মনে করেন, নেদারল্যান্ডসের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সংকটের মুহূর্তে স্বর্ণ যেন তাৎক্ষণিকভাবে হাতের কাছে পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করা। যদিও এটিকে একটি একক ঘটনা বলা যাচ্ছে, তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি অন্য কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও একই পথে চলে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের আঘাত লাগতে পারে।
এছাড়া, চলতি বছরের শুরুর দিকে নিউইয়র্কে জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ সংরক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। তবে জার্মানির প্রভাবশালী বুন্ডেসব্যাংক আপাতত নিউইয়র্ক থেকে তাদের স্বর্ণ সরিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি প্রশিক্ষিত ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে মহিলা আসন-১০-এর সরকারি দলের সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
নিলুফার চৌধুরী মনি ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি এবং উদ্ধার সরঞ্জামের ব্যাপারে জানতে চান।
প্রতিমন্ত্রী জবাবে বলেন, ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যও কার্যক্রম চলছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের একটি ভিত্তি গড়ে তোলার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে, যাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্যোগের সময় সঠিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সক্ষম করে তোলা হচ্ছে।
উদ্ধার সরঞ্জামের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা বেশ বড়। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ক্রয় করেছে। এসব সরঞ্জাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসারসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরাসরি কাজ করে এমন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি সংস্থাগুলোর সরঞ্জামের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি খাতের কাছে থাকা বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার সরঞ্জামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত ২৬ আগস্টের হিমালয় হিমবাহ ধস এবং তার পরবর্তী ধ্বংসাত্মক আকস্মিক বন্যার ফলে বিপর্যস্ত নেপালে অন্তত ২০ হাজার বাড়িঘর নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নেপাল সরকার।
এই তথ্যটি বৃহস্পতিবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি প্রকাশ করেছেন।
ধর্মরাজ উপ্রেতি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৭,৫০০ বাড়িঘর সম্পূর্ণরূপে ধসে গেছে বা কাদায় চাপা পড়েছে।
এই চরম মানবিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,২০৪ জনে পৌঁছেছে, এবং চার হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি চীন সীমান্ত সংলগ্ন পুরো জনপদগুলো পলি ও কাদার নিচে ঢাকা পড়েছে।
অন্যদিকে, অক্ষত থাকা অনেক বাড়িও বসবাসের উপযোগিতা পুরোপুরি হারিয়েছে। এই কারণে প্রায় ২০ হাজার পরিবারকে নতুন ঠিকানায় পুনর্বাসিত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আর বাড়ি নির্মাণ করার সুযোগ নেই; তাই স্থানান্তরিতদের জন্য নতুন ও নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি সরকার এখন ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছে।
চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকে পড়া কর্মীদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।
বিশেষ করে 'আপার ত্রিশূলী-১' প্রকল্পের কাছে দক্ষিণ কোরীয় একটি বিশ্বমানের উদ্ধারকারী দল ড্রোন, স্নাইফার ডগ, শাব্দিক তরঙ্গ সনাক্তকরণ সরঞ্জাম ও থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা নিয়ে নিখোঁজ নয়জন কোরীয় কর্মীসহ অন্যান্য শ্রমিকদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।
জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে নেপালের জরুরি পরিচালন কেন্দ্রগুলো শিশুদের শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা 'ইউনিসেফ' সতর্ক করে জানিয়েছে, অন্তত ২২ হাজার শিশু অবিলম্বে নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সাময়িকভাবে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বা আশেপাশের নিরাপদ কোনো ভবনে শিশুদের পাঠদান পুনরায় চালুর চেষ্টা করছেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে, ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পেতে ভূমিকম্প পরিমাপক সেন্সর, ক্যামেরা ও স্যাটেলাইট সংযোগ সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ