মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
১১:৩০ পি.এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় নির্মমভাবে নিহত অটোরিকশা চালকের পুত্র জুয়েল মিয়া (২০) হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও জুয়েল হত্যার সাথে জড়িত কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও বিচারহীনতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আগরপুর-পোড়াদিয়া হাইওয়ে রাস্তার লক্ষ্মীপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজের ওপর ‘ঐক্যবদ্ধ লক্ষ্মীপুরের জনগণ’ ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে লক্ষ্মীপুর ও আশেপাশের এলাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তার ওপর বাঁশ বেঁধে ও শুয়ে এবং টায়ার ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে বিকেল সোয়া ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে বিক্ষোভকারীরা জানান, খুনিরা ধরা না পড়লে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আবারও রাস্তা বন্ধ করে আরও কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে একটি প্রভাবশালী মহল পুরো বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
"কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মামলা রুজু ও তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত করা যাবে না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যদি সকল খুনিকে আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে কুলিয়ারচরে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"
এর আগে গত ১১ জুলাই শনিবার জুয়েল মিয়ার জানাজা শেষে লাশ দাফনের আগে খাটিয়া কাঁধে নিয়ে শত শত মানুষ লক্ষ্মীপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে বুধাইবাড়ি পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন। দফায় দফায় বিক্ষোভ সত্ত্বেও কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই শুক্রবার বিকেলে জুয়েল মিয়া তার এক বন্ধুর ডিমের গাড়িতে চড়ে আগরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে লক্ষ্মীপুর বাজারের দিকে আসছিলেন। গাড়িটি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের ১০০ গজ পশ্চিমে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত সেটির গতি রোধ করে। তারা জুয়েলকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় এলোপাতাড়ি মারধর করে চলে যায়। এসময় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তবে নিহত জুয়েল সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন এবং ওই বিরোধের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন জানান, "হত্যার কারণ উদঘাটন এবং প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ।
ঠিকাদারি কাজ নিয়ে ব্যবসায়ীর প্রতি অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ প্রদান করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানা যায়।
চিঠির মধ্যে উল্লেখ করা হয়, জাতীয়তাবাদী যুবদল যখন বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তা, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত, তখন সংগঠনের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির এ ধরনের আচরণ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। আদমজী ইপিজেড এলাকার এক ব্যবসায়ীকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার ঘটনার বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে এসেছে। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
এভাবে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে, কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না সে বিষয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির কাছে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ‘সংগঠনের দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে এই ধরনের ব্যবহার কাম্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এগুলো ভাইরাল হলে সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। তাই সংগঠন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা আমার জানা নেই, তবে তাকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে কারণ দর্শানোর জন্য।’
প্রসঙ্গত, আদমজী ইপিজেডে একটি ঠিকাদারি কাজের জন্য সানজিদা গ্রুপের প্রতিনিধি ফরহাদের সঙ্গে সাহেদ আহমেদের হোয়াটসঅ্যাপ কলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করতে শোনা যায়। এর প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় যুবদল তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইকোসক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবিটি তোলা হয়েছে বাসস থেকে।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন এলডিসি গ্রুপ। এ ক্ষেত্রে তারা স্বল্পসুদে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, জলবায়ু অর্থায়ন সহজপ্রাপ্য করা, বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ ও ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এলডিসি গ্রুপের মত অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ ছাড়া ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং দোহা কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা আসবে।
আজ সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের মধ্যে তিনি টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডা এবং দোহা কর্মসূচির প্রতি এলডিসি গ্রুপের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, এই দুটি বৈশ্বিক কাঠামো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল উন্নয়ন এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় সুষ্ঠু উত্তরণের গন্তব্য নির্ধারণ করে।
ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, যতই ২০৩০ সালের সময়সীমা কাছে আসছে, এসডিজি অর্জনের অগ্রগতি ততই নির্দিষ্ট পথে থেকে সরে যাচ্ছে। বিশেষ করে এলডিসিগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা কাঠামোগত দুর্বলতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঋণের বেড়ে ওঠা बोঝা, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, বিদেশি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) এর সংকোচন, ডিজিটাল বৈষম্যের বৃদ্ধি এবং অর্থায়নের সীমিত সুযোগ তাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও বলেন, এসব সংকট কেবল ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নকে ব্যাহত করছে না, বরং দোহা কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা-২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশি এলডিসিকে টেকসই ও অপরিবর্তনীয়ভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের লক্ষ্যকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি এলডিসি বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং এ দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। নজিরবিহীন রাজনৈতিক, সামষ্টিক অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং বহিরাগত অভিঘাতের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্ব ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর বৃদ্ধির আবেদন করেছে।
ড. তিতুমীর বলেন, দেশে ও বৈশ্বিক জটিল পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে থাকা দেশের জন্য অতিরিক্ত সময়টি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, 'স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি' (এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি কৌশলগত প্রয়োজন।
তিনি বলেছেন, এই বাস্তবতার মধ্যে দোহা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে এলডিসিগুলোর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা উন্নত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী বছর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠেয় দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে নতুনভাবে শক্তিশালী করার এবং গৃহীত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান, যেন এই পর্যালোচনা বাস্তবসম্মত, রূপান্তরমুখী ও কার্যকর ফলাফল দিতে পারে।
এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে তিনি জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রথমত, ক্রমবর্ধমান ঋণঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত, পূর্বানুমেয় এবং সহজ শর্তে উন্নয়ন অর্থায়নের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উৎপাদন সক্ষমতা, সহনশীল অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা এবং মৌলিক সেবায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, এলডিসিগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করার জন্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোর সংস্কার জরুরি। এজন্য সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধে সাময়িক স্থগিতাদেশ, টেকসই ঋণ সমাধান এবং আরও ন্যায্য বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তৃতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়ন সহজপ্রাপ্য, পূর্বানুমেয় এবং ঝুঁকির মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অভিযোজন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, জ্বালানি রূপান্তর এবং 'লস অ্যান্ড ড্যামেজ' তহবিলের জন্য অতিরিক্ত, পর্যাপ্ত ও দ্রুত প্রাপ্তিযোগ্য সহায়তা নিশ্চিত করা উচিত। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সহনশীল অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর দেন।
চতুর্থত, সুরক্ষাবাদী প্রবণতা থেকে সরে এসে এলডিসিগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। সেইসঙ্গে স্বচ্ছ, সহজ এবং উন্নয়নবান্ধব 'রুলস অব অরিজিন' নিশ্চিত করা আবশ্যক।
পঞ্চমত, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত বৈষম্য হ্রাসের জন্য আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে এলডিসিগুলো উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে পারবে।
বক্তব্যের শেষাংশে ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসিগুলোর সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক সংহতি এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার একটি বড় পরীক্ষা। তিনি বলেন, দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে এমন একটি মোড় পরিবর্তনের সুযোগে পরিণত করতে হবে, যা টেকসই উন্নয়নের গতি পুনরুদ্ধার করবে, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন করবে এবং কাউকে পেছনে না রেখে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নতুন গতি সৃষ্টি করবে।
তিনি জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে এলডিসি গ্রুপ সকল অংশীদারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ সকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বরিশাল যাওয়ার সময় মাদারীপুরের সাধুর ব্রিজ নামক স্থান অতিক্রমকালে তাঁর গাড়ি-বহরকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকাল ৮:৩৬ মিনিটে।এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িটি অক্ষত থাকলেও নিক্ষেপকৃত ইটটি গিয়ে পড়ে তাঁর নিরাপত্তায় থাকা এসএসএফের একটি গাড়ির উপরে। পরবর্তীতে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী গাড়ি বহর সেখান থেকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এ ঘটনায় ইট নিক্ষেপকারীকে খুঁজছে প্রশাসন। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগের একটি মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে দাঁতের চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখা এবং প্রেসক্রিপশনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন তার চেম্বারের কার্যক্রম বন্ধ করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য লিখিত অঙ্গীকারনামাও প্রশাসন গ্রহণ করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরীর চেকপোস্ট এলাকায় পরিচালিত অভিযানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান উপস্থিত ছিলেন। এই অভিযানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধিরাও শামিল ছিলেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানাচ্ছে, অভিযানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগের টেকনোলজিস্ট রবিউল ইসলামের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন প্রদান এবং নিজেকে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এছাড়া, চেম্বারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান সাংবাদিকদের জানান, ‘উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের পর মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা, রোগ নির্ণয় অথবা প্রেসক্রিপশন দেওয়ার সুযোগ পান না। কিন্তু অভিযানে দেখা গেছে, রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দন্ত চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখে আসছিলেন এবং প্রেসক্রিপশন দিচ্ছিলেন। এটি আইনের পরিপন্থী।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানের সময় তার চেম্বারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং চেম্বারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘তিনি লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছেন যে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন না। তারপরও যদি একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের উদ্দেশ্যে কাজী মো. শাহান জানান, ‘কেউ যদি তার চিকিৎসাসেবার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সঠিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিকিৎসা পেশায় নির্ধারিত যোগ্যতা ও নিবন্ধনের বাইরে গিয়ে রোগী দেখা বা প্রেসক্রিপশন দেওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ভুল চিকিৎসার আশঙ্কা এবং রোগীর জীবনও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই এ ধরনের অনিয়ম রোধে নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগ জরুরি।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। চিকিৎসক পরিচয়ে অবৈধভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান, অনুমোদনহীন চেম্বার পরিচালনা অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের মতো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ডিগ্রি, নিবন্ধন ও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম চোখে পড়লে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন কার্যালয় অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ