ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নড়াইলে ঊষার আলো সূর্যসংঘের সম্মেলন ও কমিটি গঠন অনুষ্ঠিত


নড়াইলে ঊষার আলো সূর্যসংঘের সম্মেলন ও কমিটি গঠন অনুষ্ঠিত
নড়াইলে সামাজিক ও ধর্মীয় সেবামূলক সংগঠন ঊষার আলো সূর্যসংঘের পঞ্চম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও কমিটি গঠন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা শাফায়াত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদস্য সচিব আবু মুসা শিকদার। আহ্বায়ক সদস্য আমিরুল ইসলাম রানার সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন- ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাস্টার জাকির হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- জুলাইযোদ্ধা আল আমিন মণ্ডল, সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহারুল আলম, রাফায়েতুল হক তমাল, এস এম তন্ময় রেজা, আমিনুর রহমান, আবু জর, হাফেজ মঈন খান, উসমান গণীসহ অনেকে।

অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্যদের কণ্ঠভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন-ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম, নির্বাহী সভাপতি জুলাইযোদ্ধা ইমাম হোসেন সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরান।

এছাড়া সিনিয়র সহসভাপতি সালাউদ্দিন ইউসুফ, সহসভাপতি মুহাদ্দিস হোসেন বাপ্পা, সাইফুল ইসলাম বকুল, ইরফানুল বারী উজ্জ্বল, মাওলানা জহুরুল ইসলাম ও মাওলানা হেদায়েত হোসাইন।

সম্মেলনে শেষে নবগঠিত কমিটির নেতৃত্ববৃন্দ দ্রæতই সংগঠনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যকরী পরিষদের সাথে পরামর্শ করে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি ও উপজেলা কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। #
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনাকে ইতিবাচক বলল যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের দূত পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনাকে ইতিবাচক বলল যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের দূত পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন

ঢাকা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার অসলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা’ সম্পন্ন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করবেন।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি প্রকাশ করেছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ঘোষণা এবং যুদ্ধ বন্ধে জেলেনস্কির ওপর চাপ প্রয়োগের পর, ট্রাম্পের অবস্থানের প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে সৃষ্ট দূরত্ব কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অসলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে জেলেনস্কির এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অসলোর বৈঠকের পর, নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউক্রেন নতুন কিছু ধারণা ও প্রস্তাব তুলে ধরেছে। সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমন্বিত কৌশল নির্ধারণে পক্ষগুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।’

ওই কর্মকর্তা জানান, অসলোর আলোচনায় অর্জিত অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং কিয়েভ, মস্কো ও ওয়াশিংটনের সরাসরি ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পথ তৈরি করাই পুতিনের সঙ্গে উইটকফের বৈঠকের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ এখনো বাকি থাকলেও আজকের আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পক্ষগুলোর মধ্যে জোরালো সহযোগিতা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার অভিন্ন সংকল্পের প্রতিফলন ঘটেছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন হামলা মানেই পুরো অঞ্চলজুড়ে ‘ধ্বংসযজ্ঞ’: ইরানের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


মার্কিন হামলা মানেই পুরো অঞ্চলজুড়ে ‘ধ্বংসযজ্ঞ’: ইরানের হুঁশিয়ারি

ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়বে। দেশটির সামরিক নেতৃত্বও সতর্ক করেছে যে, নতুন হামলার জবাব আরও শক্তিশালী হবে। এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার পূর্বে অর্থনৈতিক চাপ, হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানোর বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পূর্বশর্ত হলো সব ধরনের অর্থনৈতিক চাপ, হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। তিনি ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থাহীনতার কথাও তুলে ধরেছেন। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ে সমাধান ছাড়া আলোচনায় অগ্রগতি করা কঠিন হবে।

এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির ওপর নতুন হামলা চালানো হলে আরও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তেহরানের কঠোর অবস্থান আবারও প্রকাশ পেয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানোর বিষয়ে তিনি ও ট্রাম্প প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সম্প্রতি এ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই অবস্থান দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, সমুদ্রের মাইনে আঘাত লাগার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে ভুল বলে আখ্যা দিয়েছে। ফলে ঘটনার কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বিরোধ রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সউদী আরবকে সুরক্ষা দিতে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সহায়তা দেওয়ার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক হুঁশিয়ারি, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও দুই পক্ষের কঠোর অবস্থান আলোচনা প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বদলাচ্ছে, কীসের ইঙ্গিত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


মিয়ানমারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বদলাচ্ছে, কীসের ইঙ্গিত?

যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমিয়ে নতুন করে যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের বৈঠক এবং দেশটির কিছু ব্যবসায়ীর ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনায় ওয়াশিংটনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এসে মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও কৌশলগত স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কি না ট্রাম্প।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ছিল খুবই সীমিত। জান্তা সরকারকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সেই নীতিতে পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে দেশটির সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গোয়েন্দা ও গবেষণাবিষয়ক সহকারী সচিব মাইকেল ভ্যান্স। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তিনি।

বৈঠকের ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল, ইয়াঙ্গুনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে বিরোধের জেরে জুন মাসে আটক মার্কিন নাগরিক অ্যাডাম কাস্তিয়োকে মুক্ত করা। তবে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভ্যান্স এর আগে জুন মাসে টোকিওতে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। চলতি মাসেও টোকিওতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি সামরিক শাসনের বিরোধী পক্ষগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে।

এতে বোঝা যাচ্ছে, মিয়ানমারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগের পরিধি বাড়ছে। তবে এই যোগাযোগকে দেশটির সামরিক সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সমতুল্য মনে করার সুযোগ নেই।

মিয়ানমারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তনের আভাস গত বছর থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। সে সময় ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছিল।

ট্রাম্প মিয়ানমারসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নেতাদের ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে তাঁদের দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। মিয়ানমারের জন্য প্রস্তাবিত শুল্কের হার ছিল ৪০ শতাংশ।

তবে মিন অং হ্লাইং ট্রাম্পের চিঠির জবাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ অব্যাহত রাখার উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন তিনি।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এ ধরনের যোগাযোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া এবং অং সান সু চিকে কারাবন্দি করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে জান্তা সরকার। বিশ্বের অধিকাংশ দেশই মিন অং হ্লাইংয়ের সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকে। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ ছিল।

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পেছনে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ কাজ করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে বিরল মৃত্তিকা খনিজের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ কমানোর আগ্রহ ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীন বিরল মৃত্তিকা খনিজের রপ্তানি সীমিত করার পদক্ষেপ নেওয়ার পর এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। আধুনিক প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস ও বিভিন্ন শিল্পে এসব খনিজের ব্যবহার রয়েছে।

মিয়ানমারে বিরল মৃত্তিকা খনিজের বড় মজুত রয়েছে। তবে এসব খনিজের বেশির ভাগই এমন এলাকায় পাওয়া যায়, যেখানে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘাত চলছে। বর্তমানে চীনা কোম্পানিগুলো সেখানে খনিজ উত্তোলন করে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য চীনে নিয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সহজ হবে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চীনা কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের কার্যক্রম বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

মিয়ানমারের সামরিক সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে লবিং কার্যক্রমও জোরদার করেছে। দেশটির শাসকগোষ্ঠী ওয়াশিংটনভিত্তিক লবিং প্রতিষ্ঠান ডিসিআইয়ের সঙ্গে ৩০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি করে। এর আগে ২০০২ সালে মিয়ানমারের সামরিক সরকার নিজেদের ভাবমূর্তি উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সহায়তা নিয়েছিল।

এ ছাড়া ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিতর্কিত লবিস্ট রজার স্টোনকেও নিয়োগ দেয় জান্তা সরকার। তাকে মাসে ৫০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা ও ট্রাম্প-সমর্থক অ্যাডাম কাস্তিয়োও মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সামরিক জান্তাকে বিচ্ছিন্ন রাখতে নিষেধাজ্ঞার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি।

কাস্তিয়ো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ, মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং চীনের প্রভাব কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দলের সঙ্গে আলোচনা করেন।

মিয়ানমারের সামরিক সরকার ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করে। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং সামরিক শাসক থেকে নামমাত্র বেসামরিক প্রেসিডেন্টে পরিণত হন।

নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে পশ্চিমা দেশগুলোর অনেকে সমালোচনা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগের মতো জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে আসা ওয়াশিংটনের এ নীরবতা নীতিগত পরিবর্তনের আলোচনাকে আরো জোরালো করেছে।

এ ছাড়া সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা মিয়ানমারের কয়েকজন ব্যক্তির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমারবিষয়ক উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সির মতে, শিরোনামে যতটা পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে পরিবর্তন তার চেয়ে কম। মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর এখনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

হর্সির মতে, নতুন বিষয়টি হলো দুই পক্ষের যোগাযোগের মাত্রা এবং বৈঠকের স্থান। নেপিদোতে মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি মিন অং হ্লাইংয়ের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তবে তার পরবর্তী লক্ষ্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, যা অর্জন করা অনেক কঠিন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তনের আলোচনা ছাড়াও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ইউএসএআইডি বিলুপ্তির সিদ্ধান্তে মিয়ানমারের বিরোধী গোষ্ঠী, স্বাধীন গণমাধ্যম ও শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের প্রায় চার হাজার নাগরিকের অস্থায়ী সুরক্ষার মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হলে কেউ কেউ কারাবন্দি হওয়া বা আরো গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় প্রতারণা চক্র দমনে জান্তা সরকারের সহযোগিতা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। বড় ধরনের কয়েকটি অভিযানের পর এসব চক্র প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর মিত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

লোয়ি ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক পরিচালক হান্টার মার্সটনের মতে, নেপিদোর সঙ্গে আলোচনা করাটাই ভুল নয়। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই যোগাযোগের বিনিময়ে ওয়াশিংটন কী অর্জন করতে চাইছে এবং কী ছাড় দিচ্ছে।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এ যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা, বেসামরিক মানুষের ওপর বিমান হামলা বন্ধে চাপ দেওয়া এবং মিয়ানমারের বিরোধী পক্ষ ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা। প্রতারণা চক্রগুলোর অর্থের প্রবাহ বন্ধ করতে চীনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ও জরুরি।

সম্পর্কের বরফ গলছে, কিন্তু কতটা?

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ বৃদ্ধি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্ন রাখার নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিরল মৃত্তিকা খনিজ, প্রতারণা চক্র দমন এবং মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার মতো বিষয় এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে যোগাযোগ বাড়লেও দুই দেশের সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন এখনো সীমিত। মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও কাটেনি।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদর্শিক অবস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই যোগাযোগের ফলে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয় কি না, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান: সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক কণাও দেশের বাইরে যাবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


ইরান: সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক কণাও দেশের বাইরে যাবে না

মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান, বলেছেন যে দেশের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানে থাকবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, "কোনো অবস্থাতেই এর এক কণাও বিদেশে পাঠানো হবে না।" রেজাই জানান, এই পারমাণবিক উপাদান ইরানের জনগণের জাতীয় সম্পদ।

তিনি মঙ্গলবার তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের সময় এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হবে না যতক্ষণ না দেশটি ইরানের আস্থা পুনর্গঠনে শর্তগুলো পূরণ করে।

এদিকে, মুনির জানান যে, ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকাল থেকে সীমান্ত পারাপার পুনরায় চালু হয়েছে। তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখার কথা বলছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধের পরও দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%