বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:২৭ পি.এম
হিমবাহ ধসের কারণে নেপালে আকস্মিক পাহাড়ী ঢলে এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা এখন গবেষণার মাধ্যমে হিমবাহের ধসের কারণ অনুসন্ধানে রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ভূমিকম্পের ফলেই এই হিমবাহ ধসে পড়েছে। ঘটনার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ভারতীয় বিজ্ঞানীরা ভূকম্পন তরঙ্গের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করে ভূমিকম্পকে ধসের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
ভারতের ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার, যা ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন-ইসরো’র একটি প্রধান শাখা, তাদের আরএসসি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প এই হিমবাহের ধসের সূচনা করতে পারে। যখন ভারতে কোনো পাহাড়ি বিপর্যয় ঘটে, তখন ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর বা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি তাদের সিসমিক গ্রাফে ধরা পড়া কম্পনটি রেকর্ড করে। এনআরএসসি সেই কম্পনের রেকর্ড দেখে ধারণা করেছিল যে, ভূমিকম্পের কারণে ধসের ঘটনা ঘটেছে।
এখন জানা যাচ্ছে, কম্পনের ঘটনা ঘটেছে সত্যি, কিন্তু এটি প্রাকৃতিক ভূমিকম্প নয়। বরং, হিমবাহ ধসের কারণেই পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল। এই কম্পন ভূ-পৃষ্ঠের ওপরে তৈরি হয়েছে, ভূ-গর্ভ থেকে নয়। আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা-ইউএসজিএস তাদের বিশ্লেষণ আপডেট করে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, নেপালে কোনো ভূমিকম্প হয়নি। যখন পাহাড়ের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে একটি বিশাল হিমবাহ ধসে কোটি কোটি টন বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নিয়ে দ্রুত নিচে আছড়ে পড়ে, তখন তীব্র ভূকম্পনের সৃষ্টি হয়। এই ধসের ফলে সৃষ্ট কম্পন পৃথিবীর সিসমিক স্টেশনগুলোতে ধরা পড়েছিল। প্রাথমিক সিসমিক সিগন্যাল দেখে এটিকে প্রথমে ৪.৪ মাত্রার (পরে যা ৫.২ বলে নির্ধারণ করা হয়) সাধারণ ভূমিকম্প বলে মনে করা হয়েছিল। ইউএসজিএস নিকটবর্তী সিসমিক স্টেশন এবং দীর্ঘ-মেয়াদী ভূকম্পন তরঙ্গ বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে, ভূগর্ভের প্লেট নড়াচড়ার কারণে সেখানে কোনো প্রাকৃতিক ভূমিকম্প ঘটেনি।
তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সিসমিক এনার্জি বা কম্পনটি মূলত হিমবাহ ধসে পড়ার ধাক্কা এবং তার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের তীব্র প্রবাহের কারণে তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ, ধসের কারণে কম্পন হয়েছিল, কম্পনের কারণে ধস নয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এত বড় হিমবাহটি কেন ধসে পড়লো? যদি ভূমিকম্পের কারণে হতো, তাহলে বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করা যেত। কিন্তু ভূমিকম্প না হলে, এত বড় হিমবাহকে ধাক্কা দিল কে? কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালগেরির ভূ-প্রকৃতিবিদ ড্যানিয়েল শুগার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। তীব্র গরমের ফলে হিমবাহ এবং বরফের উপরের স্তর গলে প্রচুর তরল পানি বরফের ফাটল দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এই পানি হিমবাহের তলদেশে গিয়ে এক ধরনের পিচ্ছিল স্তর তৈরি করে, যার ফলে পাহাড়ের ঢাল থেকে পুরো হিমবাহটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। এই ধসের ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে আটকে দেয় এবং পরে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে এই বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যা বা পাহাড়ি সুনামি সৃষ্টি করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ডিগ্রি কলেজের পেছনে এসএসসি পরীক্ষায় A+ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী বিত্তের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় তাকে ঘিরে বাবা-মায়ের ছিল অনেক স্বপ্ন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিত্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি ব্যক্তিগত একটি বিষয় নিয়ে তিনি মানসিকভাবে হতাশ ছিলেন বলে আশপাশের কয়েকজন জানিয়েছেন। তবে এ তথ্যের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিত্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।
তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পরিবারের বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর ইরাকের আরবিল প্রদেশের সোরান জেলায় দুটি ড্রোন হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে এই হামলা সংঘটিত হয়।
একটি আরবিলভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোরান এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার পর বাদলিয়ান এলাকার নিকট আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় দুটি ড্রোন জড়িত ছিল। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, এতে হতাহত হয়েছে কি না এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরাকি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
গত ১৭ আগস্টের পর এটি কুর্দি অঞ্চলে প্রথম ড্রোন হামলার ঘটনা। ওই দিন দুটি ড্রোন কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানির কার্যালয় এবং উত্তর আরবিলে আঞ্চলিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের বাসভবন লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ওই হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ঘটনার কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ৫ বছর বয়সী শিশু মাহিকে আর বাঁচানো গেল না। বাংলাদেশ ক্রিটিক্যাল কেয়ার এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ২০ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বুধবার বিকেলে মারা যায় শিশুটি।
এর আগে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিল সে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাংলাদেশ ক্রিটিক্যাল কেয়ার এন্ড জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শিশুটির পরিবার জানায়, মাহির চিকিৎসকরা তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য করেনি।
মাহির চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে দেশের একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে মাহির বাবা মিন্টু ইসলাম বলেন, সংবাদ প্রচারের পর অনেকেই আমাদেরকে সহযোগিতা করেন। যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
মাহির বিদেহী আত্মার জন্য সকলের দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন ও দেশের কল্যাণে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে আমি দল, সংসদ ও মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছি। বর্তমানে আমি সম্পূর্ণরূপে একজন দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি। আমি দায়িত্ব পালন করব দলনিরপেক্ষভাবে।’
বঙ্গভবনের দরবার হলে আজ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর কারো প্রতি কোনো রাগ বা অনুরাগ থাকবে না। দেশের, রাষ্ট্রের এবং জনগণের স্বার্থই হবে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।
তিনি জনগণের আস্থা অর্জন, সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্য থাকতে হবে।’
এসময় তিনি বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আহ্বান জানান, যাতে তারা নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, বঙ্গভবন হলো রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এর মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত সকল বিষয় অত্যন্ত কঠোরভাবে গোপনীয়তা বজায় রেখে পরিচালনা করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।
এসময় তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল থাকার এবং অপচয় রোধের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনগণের অর্থেই সরকারি সম্পদ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের সঠিক, দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসাথে তিনি যুদ্ধপরবর্তী দেশ ও রাষ্ট্র গঠনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও কৃতিত্ব স্মরণ করেন।
একইসঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী সকল রাষ্ট্রপতির কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা এখানে একটি পরিবার। সবাই একই জায়গায় কাজ করি। যখন সুযোগ পাবো, সেই সময় পরস্পরের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।’
তিনি ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ