ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙনে দুই শতাধিক বিঘা ফসলি জমি ও ডিপটিউবওয়েল ঘর নদীগর্ভে বিলীন


গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙনে দুই শতাধিক বিঘা ফসলি জমি ও ডিপটিউবওয়েল ঘর নদীগর্ভে বিলীন

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে স্থানীয় কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন, যদিও বন্যার পানি কমে গেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে একটি গভীর নলকূপের (ডিপটিউবওয়েল) ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পৌরসভার কুঠিপাড়া মরহুম ইয়াহিয়া মিয়ার বাড়ির পাশে অবস্থিত জামে মসজিদটি ভাঙন থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে অবস্থান করছে। গত দুই মাসে প্রায় ২০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। পদ্মাপাড়ের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাঙন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলমান।

গোদাগাড়ী পৌরসভার রেলওয়ে বাজার, মাদারপুর, দেওয়ানপাড়া, বারুইপাড়া, কুঠিপাড়া, হাটপাড়া, সুলতানগঞ্জ, জামাতিরমোড় এবং উপজেলার আলিপুর, বিয়ানাবোনা, নীলবোনা এলাকায় বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হারিয়ে শত শত মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতির ফলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ানপাড়ায় একটি ডিপটিউবওয়েল ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যা কয়েকশ বিঘা জমিতে সেচ ও ফসল ফলানোর কাজে ব্যবহৃত হত। মাদারপুর এলাকায় পদ্মা নদীর ধারে জেগে ওঠা চরে আম, শিশু ও মেহগনি বাগান নদীগর্ভে চলে গেছে। রেলবাজার ঘাটের দুই পাশে ১২টি দোকান, একটি বটগাছ এবং বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ বর্তমানে ৩০-৩৫ হাত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রেলবাজার এলাকায় কেফাতুল্লাহ মাস্টারের ৭৫ বিঘা আবাদি জমির মধ্যে এখন মাত্র কয়েক কাঠা অবশিষ্ট রয়েছে।

আরও পড়ুন: যশোরে সার ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ, পাঁচ এমপির বাতিলের দাবি

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মরিয়ম আহম্মেদ জানান, চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন এবং গোদাগাড়ী পৌরসভার আলিপুর ও বিয়ানাবোনা এলাকার শত শত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পদ্মার ভাঙনে চর এলাকায় টমেটো, চিনাবাদাম, কলাই, মটর, খেসারি, মূলা, বেগুনসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফসল ও সেচ পাম্পগুলো ধ্বংস হয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি এক মতবিনিময় সভায় বলেন, "গোদাগাড়ী পৌরসভার নদীতীরবর্তী এলাকায় পদ্মার ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের কারণ। ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং যেখানে যা করা দরকার তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি এ সময় কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং দলীয় লোক জড়িত থাকলেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন এবং গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এদিকে রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জানান, ৫ বছরের জন্য ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন ও গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার পদ্মার তীরে বাঁধ নির্মাণের প্রক্রিয়া শেষের পথে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জীবনের হুমকির পেছনে বিরোধী দলের উসকানি: রাশেদ খান

স্থানীয়দের মতে, ১৯৭৫ সাল থেকে একতরফা ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর থেকেই শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় তীব্র ভাঙনের শিকার হচ্ছে এই অঞ্চল। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী ন্যায্য পানির প্রবাহ না পাওয়া এবং ভারত কর্তৃক বর্ষার সময় বাঁধের গেট খুলে দেওয়ায় প্রতিবছর গোদাগাড়ীতে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে গোদাগাড়ীর বাকি আবাদি জমি, বসতবাড়ি, দোকান ও মসজিদ পদ্মার বুকে হারিয়ে যাবে এবং এলাকার মানচিত্র বদলে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোণায় হেমন্তের শিশিরে শীতের আগাম বার্তা প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


নেত্রকোণায় হেমন্তের শিশিরে শীতের আগাম বার্তা প্রকাশিত

নেত্রকোণা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং প্রাকৃতিক প্রভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তন অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। যদিও ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহরের অতিরিক্ত ব্যস্ততায় ষড়ঋতুর ধারাবাহিকতা কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে, তবুও হাওরাঞ্চলের গ্রামবাংলায় ছয়টি ঋতুর নিজস্ব ছন্দ আজও অটুট রয়েছে। কার্তিকের শুরুতে, ঋতুচক্রের চতুর্থ ঋতু হেমন্ত শান্ত, স্নিগ্ধ ও অপরূপ ক্যানভাস রচনা করেছে।

নেত্রকোণা সদর উপজেলার পশ্চিম উলুয়াটি, কয়রাটি গ্রাম এবং আশপাশের বিস্তৃত জনপদে এখন হেমন্তের ভোরের কুয়াশা ঘেরা মেঠোপথ, শিশিরস্নাত ধানের শীষ এবং সোনালি রোদে এক অসাধারণ জীবনকাব্য রচিত হচ্ছে।

হেমন্তের এই সময়ে গ্রামীণ জীবনের সূচনা ঘটে ফজর নামাজের মাধ্যমে। নামাজ শেষে প্রতিটি গৃহস্থবাড়িতে শুরু হয় চিরচেনা ব্যস্ততা। মায়েরা ভোরের প্রথম প্রহরে হাঁস-মুরগির খোঁয়াড় খুলে তাদের ছেড়ে দিয়ে নতুন দিনের গৃহস্থালি কাজের শুভসূচনা করেন।

অন্যদিকে, হেমন্তের এই সময় কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির ও অবসরের। রোপা আমন ধানের শীষ আসা শুরু হয়েছে, ফলে কৃষকরা মেহনতের ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। রোদ উঠতে শুরু করলেই তারা খেতের আগাছা পরিষ্কার করা কিংবা আইলে বসে নিজেদের মধ্যে মেঠো গল্পে সাময়িক স্বস্তির মুহূর্ত কাটান।

হেমন্তকালীন সময়ে প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে পাখিদের কলকাকলিও বদলাচ্ছে। যদিও গ্রামে কাকের উপস্থিতি অনেকটাই কমে এসেছে, কিন্তু তার স্থান পূরণ করে দিচ্ছে ছোট দোয়েল, ফিঙে, ময়না ও বাতালিকসহ বিভিন্ন পাখির মিষ্টি গুঞ্জন। উঁচু গাছের মগডাল থেকে ভেসে আসে ডাহুকের ডাক, আর বিল-ঝিল বা খেতের আইলে উড়ে আসে সাদা বক ও গৃহপালিত কবুতর।

গ্রামের কর্মজীবী মানুষেরা ভোরের সময়টাকে খুব সুন্দরভাবে কাজে লাগান। সারাদিন কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকতে হয় বলে সকালের এই শান্ত প্রহরেই তারা অনেক গৃহস্থালি কাজ সেরে নেন। ভোরের নরম কাঁচা রোদের আমেজ গায়ে মেখে ছোট ছোট শিশুরা মক্তব বা প্রাইমারি স্কুলের দিকে রওনা দেয়। একই সাথে মেঠোপথ ধরে বয়ে চলা ভ্যান ও বাইসাইকেলের টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে গ্রামের আঁকা বাঁকা মেঠোপথ।

হেমন্তের এই সময় আবহাওয়ার বৈচিত্র্য প্রতিটি ধাপে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দিনে হালকা রোদের আমেজ থাকলেও সূর্য ডুবলেই হিমেল নীরবতা নেমে আসে। শেষরাতে ঘরের ভেতর বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ রেখে গায়ে জড়াতে হয় হালকা নকশীকাঁথা। সকালে পাখার সুইচ বন্ধ রেখে সুকোমল শান্তিতে ঘুমানোর এই আবহ কেবল গ্রামবাংলার হেমন্তেরই এক অনন্য মাধুর্য।

ভোরের পূবের আকাশে যখন কুয়াশার পাতলা পর্দা ভেদ করে সূর্যের প্রথম আলো ফুটতে শুরু করে, তখন প্রকৃতির প্রতিটি কোণায় এক নতুন সম্ভাবনার শুভ উদয় ঘটে। দিগন্তজোড়া আমন খেতের সবুজ পাতার চূড়ায়, মেঠোপথের ধারে কচি দুর্বাঘাসে এবং কচু পাতায় মুক্তোর দানার মতো জমে থাকে হেমন্তের শিশিরবিন্দু। খেতের ঝোপঝাড়ে বোনা মাকড়সার জালে আটকে থাকা হাজারও শিশিরকণা ভোরের আলোয় মুক্তোর দানার মতো জ্বলজ্বল করে ওঠে, যা শীতের আলতো আগমনী বার্তা ঘোষণা করে। মাটির কাঁচা রাস্তার দুপাশে বেড়ে ওঠা ভাঁটগাছগুলোও শিশিরস্নাত হয়ে নীরব প্রস্তুতি নিচ্ছে শুভ্র ভাঁটফুলে প্রকৃতির রূপসী সংসার সাজাবে বলে। আর ভোরের সেই কচি ঘাসের বুকে জমে থাকা রাতভরের শিশির খালি পায়ে মাড়ানোর ভেতর গ্রামবাসী ও পথচারীরা খুঁজে পান এক অদ্ভুত সুখানুভূতি।

সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জমে ওঠে মেঠোপথের জীবন। মেঠোপথের দুপাশের সবুজ ধানের খেত এবং পাশের ডোবায় ফুটন্ত বেগুনি কচুরিপানার ফুলগুলো যেন একলা কোনো পথিকের অপেক্ষায় প্রহর গুনে। কৃষকেরা যেমন ছুটে যান ধানের খেত দেখতে, তেমনি গবাদিপশুর জন্য কাঁচি ও খাঁচা নিয়ে শিশিরভেজা কচি ঘাস কাটতে বের হন অনেকে। কেউবা আবার জাল ও ছুকড়া (মাছ রাখার জন্যে বাঁশের তৈরি পাত্র) নিয়ে ছোটেন বিলের জলে ভেসে থাকা কচুরিপানা ফুলের ভিড়ে মাছ শিকারের আশায়। আইল ধরে হাঁসের পাল নিয়ে হেঁটে যাওয়া এবং পাখির কলকাকলিতে ভরপুর নেত্রকোণার প্রাত্যহিক এই জীবন যেন জানান দিচ্ছে—বাঙালির প্রাণের গ্রামে ঋতুচক্র আজও একই মহিমায় জাগ্রত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহ আমানতে আবুধাবি ফেরত যাত্রীর কাছ থেকে ৫৬৬ গ্রাম সোনা উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


শাহ আমানতে আবুধাবি ফেরত যাত্রীর কাছ থেকে ৫৬৬ গ্রাম সোনা উদ্ধার

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবুধাবি থেকে আসা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিএস-৩৫০-এর ওই যাত্রীকে তল্লাশি করে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মধ্যে চারটি স্বর্ণের বার এবং ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চুড়ি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আটক যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করা স্বর্ণের বিপরীতে রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, এদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আবুধাবি থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিএস-৩৫০-এ আসা একজন যাত্রী কাস্টমস হলে স্ক্যানিংয়ের সময় ডিজিএফআই কর্তৃক সন্দেহজনক বিবেচিত হন। এরপর বিমানবন্দর ডিজিএফআই, এনএসআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে যাত্রীর ব্যাগেজের ভেতরে থাকা নন-স্টিক প্যান, স্টেইনলেস স্টিলের সবজি ব্লেন্ডিংয়ের যন্ত্র এবং স্টেইনলেস স্টিলের বাসন রাখার স্ট্যান্ডের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় থাকা ৪৬৬ গ্রাম ওজনের চারটি স্বর্ণের দণ্ড এবং যাত্রীর কাছে থাকা ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চুড়িসহ সর্বমোট ৫৬৬ গ্রাম গোল্ড উদ্ধার করা হয়। এ সময় মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম নামে এক যাত্রীকে আটক করা হয়। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দোনগ্রা এলাকায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উদ্ধার স্বর্ণ বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বর্ণ পরিবহনে জড়িত ও আটককৃত যাত্রীর বিরুদ্ধে চোরাচালান আইনে মামলা দায়ের করে পতেঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেকোনো বৈদেশিক মুদ্রা পাচার রোধসহ স্বর্ণ চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ ও বিমানবন্দর কাস্টমসসহ সর্বোপরি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বোচ্চ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গে শারদীয় বুক স্টল ভাঙচুর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গে শারদীয় বুক স্টল ভাঙচুর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা

চলতি দুর্গোৎসবের মৌসুমে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বামপন্থি দলগুলোর (সিপিআইএম, এসইউসিআই, সিপিআই-এমএল) শারদীয় বুক স্টল ভাঙচুর, উচ্ছেদ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বাম দলগুলোর অভিযোগ, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য দক্ষিণপন্থি নেতারা বামপন্থিদের ‘দুর্গাপুজো’র পরিবর্তে ‘শারদোৎসব’ শব্দটি ব্যবহারের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের স্টলগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে পুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টল দেওয়ার ঐতিহ্য দীর্ঘ কয়েক দশকের, ফলে এমন উচ্ছেদ বা ভাঙচুরের ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলের বিরুদ্ধে ওঠা হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে সবকটি ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলে দাবি করেছেন।

কলকাতার বউবাজারের রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার, ঢাকুরিয়া, ট্যাংরা, এন্টালি এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে শুরু করে জেলার বনগাঁ, বীজপুর, হাওড়ার শিবপুর, বহরমপুর ও বর্ধমান শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পাশে তৈরি করা স্টলগুলো ভেঙে দেওয়া বা পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে এন্টালিতে প্রাক্তন মন্ত্রী দেবেশ দাস আক্রান্ত হন এবং একাধিক জায়গায় পুলিশ ও পুরসভার পক্ষ থেকে বুলডোজার এনে স্টল সরানোর চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক এই তরজা পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয়। প্রথম দিকে হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ কিছু এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তায় স্টল বসানোর অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে। আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, পূর্ত দপ্তর, পুরসভা ও পুলিশের পূর্বানুমতি ছাড়া রাস্তার ধারে সরকারি জমিতে কোনো বেআইনি স্টল চালানো যাবে না, কারণ আইন সবার জন্যই সমান।

আদালতের এই কড়াকড়ির পর প্রশাসন অনুমতিহীন স্টলগুলি সরিয়ে দিচ্ছে। এর প্রতিবাদে মুক্ত চিন্তার ওপর আঘাতের অভিযোগ তুলে বাম কর্মীরা এখন অনেক জায়গাতেই স্থায়ী কাঠামোর বদলে রাস্তার ধারে টেবিল-চেয়ার পেতে ও ছাতা মাথায় দিয়ে বিকল্প উপায়ে বই বিক্রি ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্থিক সংকটের মধ্যেও নিউইয়র্কের মেট অপেরার বড় ও ব্যয়বহুল উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


আর্থিক সংকটের মধ্যেও নিউইয়র্কের মেট অপেরার বড় ও ব্যয়বহুল উদ্যোগ

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : দীর্ঘকাল ধরে চলা আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিখ্যাত মেট্রোপলিটন অপেরা হাউসের জন্য একাধিক নতুন এবং ব্যয়বহুল সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করা কঠিন বলে মনে হতে পারে। তবে, প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, বড় পরিসরে এবং সাহসী উদ্যোগ গ্রহণই সংকট মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুটি মহাদেশে দুটি নতুন অপেরার বিশ্ব-প্রিমিয়ারের আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এই উচ্চাভিলাষী আয়োজনের শেষ ধাপ হিসেবে সোমবার মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’। জর্জ সন্ডার্সের বুকার পুরস্কারজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই অপেরায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ব্যক্তিগত শোকের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। গৃহযুদ্ধের শুরুর দিকে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা লিংকন কীভাবে তার ১১ বছর বয়সী ছেলের মৃত্যুশোক সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন, এই গল্পের মূল বিষয়।

উদীয়মান মার্কিন সুরকার মিসি মাজোল্লির লেখা ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’ মঞ্চস্থ হওয়ার আগে ওয়ারশতে মেট অপেরার অর্থায়নে নির্মিত ‘দ্য মাদার্স অব খেরসন’-এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়েছে। এই অপেরাটি ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলের সেই মায়েদের গল্প নিয়ে নির্মিত, যারা রাশিয়ার আগ্রাসনের পর অপহৃত সন্তানদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন।

১৪৩ বছরের পুরোনো মেট অপেরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দর্শকসংখ্যা হ্রাসসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ‘লিংকন ইন দ্য বার্ডো’ বর্তমান বিভক্ত মার্কিন সমাজের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি কাজ। অন্যদিকে, ‘দ্য মাদার্স অব খেরসন’ এমন একটি যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরে, যা এখনও বিশ্বরাজনীতিকে প্রভাবিত করছে।

মেট অপেরার মহাব্যবস্থাপক পিটার গেল্ব এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের আর্থিক সংকট ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো সাহসী উদ্যোগ নেওয়া এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেট যে অপরিহার্য, তা প্রমাণ করা।’

তিনি বলেন, নিরাপদ পথ বেছে নিয়ে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার অর্থ হবে ‘নিশ্চিত ব্যর্থতা’।

পিটারের ভাষায়, ‘এই মহান প্রতিষ্ঠানকে চিরস্থায়ী করে রাখাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%