মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০৫ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ২৫ জন ব্যক্তির মাঝে বিশেষ অনুদান হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে চেক বিতরণ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল। এতে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদান দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৯টায় সদর উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত উপকারভোগীদের হাতে এসব চেক তুলে দেওয়া হয়। চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সমাজের দুস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অসচ্ছল মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব এবং জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ যেন প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা পান, সে লক্ষ্যেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ। তিনি বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করে প্রয়োজনের ভিত্তিতে সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া হলে তা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সমাজের অসচ্ছল মানুষের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি তোহরুল ইসলাম সোহেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ‘ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে কঁচা নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরের দিকে কঁচা নদীর বেকুটিয়া প্রান্ত থেকে প্রায় ৮ হাজার মিটার অবৈধ সুতার জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ হাজার টাকা।
কাউখালী উপজেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এবং নৌ পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সনামতের নেতৃত্বে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়ে এসব অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জালগুলো পরবর্তীতে স্থানীয় সর্বসাধারণের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানের সার্বিক বিষয় উল্লেখ করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সনাতন বলেন, “জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা এবং মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যাতে নদীতে জাল ফেলতে না পারে, সে লক্ষ্যে দিন-রাত সার্বক্ষণিক তদারকি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও যুক্ত করেন, ইলিশের প্রজনন সফল হলে এর সুফল স্থানীয় জেলেসহ সর্বস্তরের মানুষই ভোগ করবেন। তাই মা ইলিশ রক্ষায় তিনি সবাইকে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এদিকে কাউখালী উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা আক্তার ও মৎস্য অধিদপ্তরের সার্বিক নির্দেশনায় মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত টহল ও অভিযান চালানো হচ্ছে। নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে পুরো প্রজনন মৌসুমজুড়েই এ ধরনের অভিযান কঠোরভাবে পরিচালিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার লাকসামে লাইনচ্যুত হওয়া কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ চারটি বগি উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে রিলিফ ট্রেনের সহযোগিতায় উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও দুর্ঘটনাকবলিত রেললাইন মেরামতের কাজ এখনও চলছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি সকাল ১০টার মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ হয়, তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ঢাকা অভিমুখী আপলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাকসামের নাওটী স্টেশনসংলগ্ন আজগরা এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এই দুর্ঘটনার ফলে ইঞ্জিনসহ চারটি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বিকল্প লাইন ব্যবহার করে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখা হয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে আসা রিলিফ ট্রেন উদ্ধার কাজ শুরু করে। বৃহস্পতিবার ভোরে বগি উদ্ধারের কাজ শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামত ও প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় আপ লাইনে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেললাইন মেরামতের জন্য খোলা থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা জানান, নাওটী স্টেশনের উত্তর পাশে লাইনচ্যুতির ঘটনাটি ঘটে। তাদের দাবি, রেললাইনে সংস্কারকাজ চলার বিষয়টি কর্ণফুলী কমিউটারের চালককে পূর্বে জানানো হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার নাওটী রেলস্টেশনের আউটার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থলের আপ লাইনে মেরামতের কাজ চলছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্কারকাজ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা অভিমুখী আপ লাইনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডনাল্ড ট্রাম্প যদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হতেন, তবে তিনি ইউক্রেনের যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য দ্রুত ও সহজ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন — এমনকি তার মতে, এটি ‘মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই’ সম্ভব হতে পারত। ট্রাম্পের দৃষ্টিতে, এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।
এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পঞ্চম বছরে পদার্পণের ফলে ট্রাম্পের ভাষায় প্রতি মাসে সম্মুখসমরে প্রাণ হারানো হাজার হাজার ‘তরুণ, সুন্দর শিশু-কিশোর’-এর হত্যাকাণ্ড থামানো সম্ভব হবে, এবং এটি লাভজনকও হবে — যা এই যুদ্ধের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সিএনএন জানাচ্ছে, মস্কোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়া হতে পারে এবং এর পাশাপাশি লাভজনক বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো সম্পাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে, ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নন। সেই পদে আছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের এই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তির ইউক্রেনে নিজের ঘোষিত যুদ্ধলক্ষ্য থেকে সরে আসার কোনো আগ্রহ নেই — তা সে রুশ ও ইউক্রেনীয়দের জীবন বাঁচানোর খাতিরে হোক, কিংবা নিজের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার যুক্ত করার সুযোগই হোক।
এটি একটি মৌলিক ভুল ধারণা, যা লড়াই থামানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নিষ্ফল প্রচেষ্টাকে পরিচালিত করেছে। সেন্ট পিটার্সবার্গে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক বন্ধু স্টিভ উইটকফ এবং পুতিনের মধ্যে সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ভুল ধারণার বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আলোচনার টেবিলেই পুতিন উইটকফকে জানান, আগের দিন নরওয়েতে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর ফলাফল সম্পর্কে তিনি ‘কৌতূহলী’। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ন্যাটোর কর্মকর্তারা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মিলিত হয়ে শান্তির নতুন সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন, যার মধ্যে মস্কোর জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রণোদনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পরবর্তীতে ক্রেমলিনের একজন শীর্ষ সহযোগী নিশ্চিত করেন, ট্রাম্পের দূত রুশ নেতাকে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। তবে তিনি স্বভাবতই যোগ করেন যে, ‘সত্যি বলতে, ইউক্রেন সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে এগুলোর মধ্যে কার্যকর বা মূল্যবান তেমন কিছুই ছিল না।’
এটি ক্রেমলিনের দিক থেকে একটি সম্পূর্ণ প্রত্যাশিত ফলাফল ছিল। কারণ তারা তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে বরাবরই অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে পূর্ব ইউক্রেনের পুরো দনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করা এবং কিয়েভের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিজেদের মতামত বা প্রভাব নিশ্চিত করা।
তবুও হোয়াইট হাউস সম্ভবত আন্তরিকভাবে আশা করেছিল, ক্রেমলিন সমঝোতার ক্ষেত্রে আরও বেশি সদিচ্ছা দেখাবে, বিশেষ করে গত সপ্তাহে ট্রাম্প যখন রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে এটি ছিল একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ, তবে একই সঙ্গে তা মস্কোর জন্য একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধাও বয়ে এনেছে।
পরবর্তীতে ট্রাম্প একটি জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর ওপর ড্রোন হামলা বন্ধ করতে বাধ্য করত। তবে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে।
পাল্টা অভিযোগের এই পর্যায়ে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, ট্রাম্প ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের পরিবর্তনেরও আহ্বান জানান, যা স্বাভাবিকভাবেই ক্রেমলিনের জন্য ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক একটি বার্তা।
তবে মস্কোর কাছে এসব চুক্তি, প্রণোদনা, এমনকি কিয়েভের প্রতি অভিন্ন অবজ্ঞার বিষয়টি নমনীয় হওয়ার বা পিছু হটার ইঙ্গিত হিসেবে গণ্য হচ্ছে না। বরং এগুলোকে এমন একটি লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে তাদের কৌশল সুফল বয়ে আনছে।
আর ওয়াশিংটনের কৌশলের বিপরীতে রাশিয়ার এই কৌশল অত্যন্ত সুচিন্তিত। কারণ পুতিন ভালোভাবেই বোঝেন যে ট্রাম্পকে কী বিষয় অনুপ্রাণিত করে। তিনি হোয়াইট হাউসে থাকা নিজের এই খামখেয়ালি প্রতিপক্ষকে বিশাল সব অর্থনৈতিক চুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনায়াসেই বিভ্রান্ত করে রাখেন।
সেন্ট পিটার্সবার্গে উইটকফের সাথে আয়োজিত বৈঠকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এমন আরও কিছু প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সেখানে পুতিন বিতর্কিত ডিজেল চুক্তির প্রশংসা করেন এবং এরপর ইঙ্গিত দেন যে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ সারের রফতানিও বাড়াতে পারে। পাশাপাশি আরও বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়।
তিন ঘণ্টা স্থায়ী আলোচনা শেষ হওয়ার পর, রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্রেমলিনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেন, ‘আমরা ডেটা সেন্টার, জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রকল্প এবং জ্বালানি সহযোগিতার মতো নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি।’
আর ক্রেমলিন যে কেবল অর্থনৈতিক প্রলোভন দেখিয়ে অন্যদের খুশি ও মুগ্ধ করে, অথবা হোয়াইট হাউসে নিজেদের প্রতি সহানুভূতিশীল কাউকে পাশে রাখে তা কিন্তু নয়। সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকের আগে, ২০২২ সালে মস্কোর পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুতে ইউক্রেনে আটক হওয়া ৭৪ বছর বয়সি মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে রাশিয়ার মুক্তি দেওয়ার ঘটনাটিকে, পুতিনের ‘মানবতাবাদী’ কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন তোষামোদকারী উইটকফ।
মূলত মিশিগানের বাসিন্দা হাবার্ড রাশিয়ায় দীর্ঘ চার বছর বন্দি থাকার সময় গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগেছিলেন বলে জানা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত তার মুক্তি পাওয়ার ঘটনাটিকে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের চুক্তি সম্পাদনের দক্ষতা এবং পুতিনের নমনীয়তার নিদর্শন হিসেবে প্রশংসা করেছে।
ট্রাম্পের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি সম্মানের নিদর্শন হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের এর বিনিময়ে (হাবার্ডের মুক্তির) অন্য কিছু দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না, যা রাশিয়ার জন্য এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি।’
তবে ক্রেমলিনে থাকা কঠোর স্বভাবের সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা (পুতিন) বিষয়টিকে যে সেভাবে দেখেন, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কমই।
সূত্র: সিএনএন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আস্থা তৈরি এবং ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আন্তরিকতার প্রমাণ দেয়, তাহলে ইরান কূটনীতিকে আরেকবার সুযোগ দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা দেশটির জন্য আরো বড় কৌশলগত ব্যর্থতার কারণ হবে।
আরাগচি তার এক্স অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন যে, তেহরান এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে। তিনি বলেন, প্রকৃত আলোচনা-প্রক্রিয়ার পরিবর্তে নতুন করে আগ্রাসন চালানো ইরান মেনে নেবে না।
তিনি লেখেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র আস্থা তৈরি এবং ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে আন্তরিক ইচ্ছার জোরালো প্রমাণ দেখাতে পারে, তাহলে ইরান কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে প্রস্তুত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি কূটনীতির পরিবর্তে যুদ্ধ বেছে নেয়, তাহলে তা নিশ্চিতভাবেই আরো বড় কৌশলগত ব্যর্থতার কারণ হবে।
আরাগচি তার পোস্টের সঙ্গে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত নিজের সর্বশেষ মতামতধর্মী নিবন্ধের একটি লিংকও যুক্ত করেছেন। ওই নিবন্ধে তিনি সংঘাত নিয়ে ইরানের অবস্থান, আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক হুমকির পরিণতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
বুধবার প্রকাশিত ওই মতামতধর্মী নিবন্ধে আরাগচি মর্যাদাপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে ইরানের প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি যুক্তি দেন, আলোচনার সময় বারবার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটন আস্থার পরিবেশ নষ্ট করেছে। সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র অর্থবহ সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে সামান্যই আগ্রহ দেখিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংঘাতের কারণে মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর পড়া অর্থনৈতিক ব্যয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, সামরিক অভিযান চালানোর পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি।
আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালির পাশে ইরানের কৌশলগত অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের ওপর দেশটিকে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, এই জলপথে ইরান তার ঐতিহাসিক ভূমিকা বজায় রাখবে।
আরাগচি আরো স্পষ্ট করেছেন, ইরান কূটনীতির জন্য প্রস্তুত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলে ওয়াশিংটনকে আরো বড় কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়তে হবে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ