০২:৩৭ পি.এম
ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে গৃহীত একটি বিল দেশটির সর্বোচ্চ আদালত আটকে দিয়েছে।
আদালত মন্তব্য করেছে, এই বিল নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করবে। এর পাশাপাশি, বিলটি ব্যক্তিজীবনের গোপনীয়তা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি নিশ্চয়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, শুক্রবার ফ্রান্সের শীর্ষ আদালত কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত দেওয়ার ফলে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছেন। তিনি সরকারের কাছে এই বিলটি নতুন করে তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। সংসদে পাস হওয়া বিলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব ছিল।
আরও পড়ুন: আড়াইহাজারে পরিবেশদূষণের দায়ে প্রবাসী হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
যেকোনো খোলা অ্যাকাউন্টগুলোকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে চার মাসের মধ্যে বন্ধ করে দিতে হতো। একই সঙ্গে, ফ্রান্সের তথ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রকের অনুমোদিত বয়স যাচাই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক ছিল। ফ্রান্সের সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, এই বিলে বয়স প্রমাণের বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করা হলেও, সে তথ্য জমা দেওয়ার শর্ত এবং সীমার বিষয়টি সুস্পষ্ট করা হয়নি।
“বিতর্কিত এই বিধানটি একদিকে মাত্রাতিরিক্তভাবে মতপ্রকাশ ও যোগাযোগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে পারেনি।”
জুলাই মাসে ফরাসি আইনপ্রণেতারা বিলটি পাস করে, ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার আদলে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সোশাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেইসবুক, টিকটক ও ইউটিউব নিষিদ্ধ করে, তবে সেখানে মিশ্র ফলাফল আসায় কঠোর শাস্তির কথাও ভাবা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪টি সহযোগিতা স্মারক সই
এছাড়া চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কও সোশাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ বা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।
এর আগে, এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ তরুণদের স্ক্রিন ছেড়ে বই পড়ে ভালো নাগরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, আগামী ২০২৭ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্বে সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে সংশোধন আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ইমানুয়েল মাক্রোঁ।
যদিও সংবিধান অনুযায়ী, তিনি নিজে আর তৃতীয় মেয়াদে লড়তে পারবেন না, এমনটাই জানিয়েছে রয়টার্স।
আরও পড়ুন: রুয়ান্ডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা
ঢালাও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা বললেও, আদালতের এই রায়ের পর গুগল, মেটা, স্ন্যাপ বা টিকটক তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন