ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা


স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

ঢাকা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাজ্যের সংসদীয় প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে।

আজ রোববার, ঢাকায় সচিবালয়ের মন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে, মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দুই দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতি, চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রতিনিধিদলকে দেশে হাম ও ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি এবং এসব রোগ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারের নানা উদ্যোগের বিষয়েও কথা বলেন।

বৈঠকে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, চলতি বছরে দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জনগণের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য মনিকা হার্ডিং, সংসদ সদস্য অ্যালান গাম্মেল এবং সংসদ সদস্য আরটি ডেভিড মুন্ডেলসহ অন্যান্য সদস্যরা প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ পি.এম


রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ২৪

রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে হেরোইন, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ডিবি পুলিশ, বেলপুকুর থানা ও বোয়ালিয়া থানার শিল্পনগর পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে সাতজন এবং দামকুড়া থানা পুলিশের অভিযানে দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অন্যান্য মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর), মোঃ গাজিউর রহমান।

তিনি জানান, শনিবার রাতে হোসনীগঞ্জ দক্ষিণ মোড় এলাকা থেকে পাঁচ গ্রাম হেরোইন সহ আকাশ (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। একই রাতে আলিগঞ্জ এলাকা থেকে ১৫পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট মাসুদ রানা (৪৭), সুমন (৩৪) ও আবদুল্লাহ (৩৫) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে বিকেলে বেলপুকুর থানার ধাদাস এলাকায় ১০পিস ট্যাপেন্টাডল ও ১০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ সেন্টু (৪৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন দুপুরে শিল্পীপাড়া বালুর মাঠ এলাকা থেকে ১৫টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ শাওন আলী (১৯) ও সম্রাট ইসলাম (২২) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে দামকুড়া থানার হরিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০পিস ইয়াবা ও দুই গ্রাম ইয়াবার গুঁড়া সহ রায়হান (৩৮) ও মাসুদ রানা (৩৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক বহন কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, জব্দ মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া ও বেটিং-সংক্রান্ত কয়েকটি অ্যাপ, জিমেইল আইডি এবং মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাসুম (৪৫) নামে আরও একজন পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, মহানগরীর বিভিন্ন থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত দুজন, মাদক মামলায় পাঁচজন এবং অন্যান্য মামলায় পাঁচজনসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

রবিবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।#

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কমলনগরে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বেপরোয়া বাণিজ্যের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

(লক্ষ্মীপুর) জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


কমলনগরে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বেপরোয়া বাণিজ্যের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ারহাট মাতাব্বরনগর দারুচ্ছুনাত ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলী হোছাইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও বেপরোয়া বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ অধ্যক্ষ যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তখন সেই দলের লেজুড়বৃত্তিক হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদরাসার আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ ভাড়া দেওয়া সহ নানান অনিয়ম করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সময়ে ওলামালীগ নেতা পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সে জামায়াতে যোগ দেয়। তার অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দিতে উপজেলা জামায়াত নেতাদের দিয়ে বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ রয়েছে। জামায়াত নেতারা তার অনিয়ম ও বাণিজ্যকে বৈধতা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে।

সরেজমিন গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদরাসার অনুপস্থিত থাকলে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ১০ টাকা করে জরিমানা দিতে হয়। এ জরিমানা আদায়ের জন্য আলাদা রসিদ চাপান অধ্যক্ষ। সপ্তম শ্রেণিতে ১৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৭২ জন। অনুপস্থিত ৬৩ জন। জরিমানা আসে ৬৩০ টাকা। অষ্টম শ্রেণিতে ১১৭ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৫৫ জন। ওই দিন ৬২ জন অনুপস্থিতির জরিমানা ৬২০ টাকা। অন্য ক্লাসগুলো অবস্থাও একই চিত্র। এভাবে প্রতিটি ক্লাসে অনুপস্থিতির সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশী থাকে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার বেশী জরিমানা আদায় হয়। মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার করে বছরে প্রায় সাড়ে ৩ লাখের বেশী জরিমানার টাকার কোন হিসেবে দেখানো হয়নি।

অষ্টম শ্রেণির ৩ জন শিক্ষার্থী জানান, পরিক্ষার ফি বাবত তাদের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। কিন্তু হিসাবের খাতায় ৪০০ টাকা দোখান। এছাড়া প্রত্যেক শ্রেণির শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সর্বনিম্ন ২০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক বেতন আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে-সেশন ফি বাবত ৩০০ থেকে ১ হাজার, ভর্তি ফি ৫০০ থেকে ১ হাজার, পরিক্ষা ফি ১৩০ থেকে ৫৫০ টাকা, সনদপত্র ফি ২৫০ থেকে ৮০০ টাকা, মার্কশীট ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা, প্রসংশাপত্র ১০০ থেকে ৫০০ টাকা ও ছাড়পত্র বাবত ৫০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও এসব খাতের কোন হিসাব নেই।

গেল মাসে এ অধ্যক্ষের অনিয়ম দুর্নীতি, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও পাঠদানে চরম অবহেলা সহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিলে এলাকার গন্যমান্যদের দিয়ে বিক্ষোভটি না করতে অধ্যক্ষের বিশেষ অনুরোধে সেটি স্থগিত করা হয়।

এদিকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তার নিরবতাকে ম্যানেজ হিসেবে আখ্যায়িত করে তারা বলেন, প্রশাসন এব্যাপারে দেখেও না দেখার ভান ধরেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরবতা প্রমাণ করে তারা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অধ্যক্ষের পক্ষে সাফাই গাইছেন।

আবার মাদরাসার আরবি প্রভাষক মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ মাস ধরে নিয়মিত ক্লাস না করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষের সাথে আঁতাত করে ওই শিক্ষক এ অনিয়ম করে যাচ্ছে। ঘটনাটি অধ্যক্ষ নিজেই স্বীকার করেছেন এ প্রতিবেদকের কাছে।

সুত্র জানায়, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি মেঘনা নদীর ভাঙনের মুখে পড়ে মাতাব্বরহাট এলাকা থেকে ২০১৩ সালে ফজুমিয়ারহাটে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে ২৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী ও আট শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে মাদ্রাসাটিতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছয়টি শ্রেণিকক্ষসহ মোট নয়টি কক্ষ মাসিক তিন হাজার টাকা হারে ভাড়া দেন অধ্যক্ষ। তখন অফিস কক্ষের ছাদের ওপর টিনের ছাপড়ায় শিক্ষার্থীদের ঠাসাঠাসি করে বসিয়ে পাঠদানের অভিযোগ উঠে এ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। বিষয়টি দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের শিরোনাম হলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনও বিষয়টি নিয়ে তেমন ব্যবস্থা নেননি। স্থানীয়রা প্রতিকার চেয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাহাত উজ জামান ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ভুঁইয়া সরেজমিন পরিদর্শন করে এসব অনিয়মের সত্যতা পেয়েও সম্পুর্ন নিরবতা পালন করছেন বলে জানান অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খীসা আছেন ঘুমিয়ে। তাকে অধ্যক্ষের এসব বিষয়ে জানালে সে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েও কোন খরব নেননি। এতে এলাকাবাসী তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ৩ জন শিক্ষক জানান, শিক্ষকদের সাথে কোন আলোচনা চাড়াই অধ্যক্ষ তার মনমতো প্রতিষ্ঠান চালান। তার অনুগত কিছু শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস না করেও বেতন নিচ্ছেন। তার খামখেয়ালিপনার কারণে মাদরাসাটি বার বার পত্রপত্রিকার শিরোনাম হয়।

এসব অভিযোগ স্বীকার করে অধ্যক্ষ আলী হোছাইন বলেন, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য আমরা এসব খাতে টাকা নিয়ে থাকি। তবে কী কী উন্নয়ন করেছেন-এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ইতিমধ্যে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পেলে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার সত্যতা পেয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খীসার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবাসিক বাসায় ভারতীয় প্রসাধনীর গুদাম, গ্রেপ্তার ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


আবাসিক বাসায় ভারতীয় প্রসাধনীর গুদাম, গ্রেপ্তার ১

বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ আবাসিক বাসা। তবে সেই বাসার ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছিল ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর অবৈধ গুদাম। সীমান্ত দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা এসব প্রসাধনীর বড় একটি চালান জব্দ করেছে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মোহাম্মদ কাউছার (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সোয়া ১১টার দিকে নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের মূলহোতা ও কাউছারের আপন ভাই মো. আল-আমিন (৩৫) পালিয়ে যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনা শহরে অবৈধ পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী সরবরাহের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে শহরের সাতপাই এলাকায় বায়েজীদ আহমেদের মালিকানাধীন দোতলা বাড়ির একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ।

নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে মোহাম্মদ কাউছারকে আটক করা হয়। পরে ওই বাসার মেঝে ও আলমারিতে তল্লাশি চালিয়ে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ লেখা বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী জব্দ করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে কেও কার্পিন বডি অয়েল, পন্ডস ব্রাইট বিউটি ক্রিম, ইমামী সেভেন অয়েল ইন ওয়ান, নবরত্ন অয়েল, ডোভ সিরাম বার সাবান ও পন্ডস স্যান্ডেল পাউডারসহ বিভিন্ন প্রসাধনী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার কাউছার ও পলাতক আল-আমিনের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার উত্তর কাজলাপোতা এলাকায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে এসব প্রসাধনী এনে নেত্রকোনা শহরের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে আসছিলেন। লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে সাতপাই এলাকার ওই ভাড়া বাসাটিকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার কাউছারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আল-আমিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪৫ বছর ধরে কারুশিল্পে জীবন পার, ৭৮-এও জীর্ণ ঘরে বাদ্যযন্ত্র কারিগর সাত্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


৪৫ বছর ধরে কারুশিল্পে জীবন পার, ৭৮-এও জীর্ণ ঘরে বাদ্যযন্ত্র কারিগর সাত্তার

বয়স ৭৮ বছর। জীবনের প্রায় ৪৫ বছর কেটে গেছে বাঁশ, কাঠ, চামড়া আর দেশীয় বাদ্যযন্ত্র তৈরির কাজে। তার হাতেই তৈরি হয় একতারা, দোতারা, খমক, ঢোল, ডুগডুগি, খঞ্জনিসহ নানা ধরনের দেশীয় বাদ্যযন্ত্র। একই সঙ্গে তৈরি করেন মাছ ধরার চাঁই, পলো, ঝুপড়া, বাঁশের মই, টেবিলসহ গ্রামীণ জীবনের প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী।
কিন্তু যে হাত অন্যের ঘর সাজিয়েছে, শিল্পীর হাতে সুর তুলে দিয়েছে, সেই কারিগরের নিজের মাথা গোঁজার ঘরটিই আজ জরাজীর্ণ। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও অভাবের কারণে থামেনি তার কাজ। তিনি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের চকসাদক কোনাপাড়া গ্রামের আ. সাত্তার।
আ. সাত্তারের ছোট্ট বাড়ির আঙিনায় গড়ে ওঠা কর্মশালায় এখনও দেখা যায় দেশীয় বাদ্যযন্ত্র তৈরির সরঞ্জাম। আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি নেই। লোহার ফ্রেমে নিজের হাতে তৈরি একটি খোদাইযন্ত্রই তার প্রধান ভরসা। এক পাশে বসে তিনি কাঠে নকশা করেন, অন্য পাশে কাউকে দড়ি টেনে সহযোগিতা করতে হয়।
বয়সের কারণে এখন আগের মতো দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারেন না। একজন সহকারী রাখার প্রয়োজন হলেও সেই সামর্থ্য নেই। পরিচিত কেউ বাড়িতে এলে তখনই কিছুটা সহযোগিতা পান।
বাদ্যযন্ত্র তৈরির সূক্ষ্ম কাজে তিনি ব্যবহার করেন কুইজবাটাল, রাউন্ডবাটাল, সাফবাটাল, বিলসা, মাথিম, করাত, হাতুড়ি, ফিতা ও স্কেল। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এসব সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই নিখুঁত কারুকাজ ফুটিয়ে তোলেন তিনি।
আ. সাত্তার জানান, একটি বিদ্যুৎচালিত খোদাইযন্ত্র থাকলে তার শারীরিক কষ্ট অনেকটাই কমত। পাশাপাশি দ্রুত কাজও করতে পারতেন। কিন্তু অভাবের সংসারে সেই যন্ত্র কেনার সামর্থ্য তার নেই।
তার তৈরি পণ্য বিক্রির জন্য তাকে নিয়মিত হাটে যেতে হয় না। কাজের সুনাম থাকায় ক্রেতারা বাড়িতে এসে পণ্য কিনে নিয়ে যান। তবে কাঠ, বাঁশ, চামড়া ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়লেও তার তৈরি পণ্যের দাম সেভাবে বাড়েনি। ফলে দীর্ঘ শ্রমের তুলনায় ন্যায্য মূল্যও পান না তিনি।
সংসার চলে কীভাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আ. সাত্তার বলেন, “একদম চলে না।”
চকসাদক কোনাপাড়া গ্রামেই জন্ম তার। বাবা সমর আলী ওরফে লাবু মিয়া এবং মা নাইবের মা অনেক আগেই মারা গেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ হয়নি তার। প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে উত্তর মাসকা গ্রামের কারিগর আবদুল জব্বারের কাছে কাজ শিখেছিলেন। তাকেই নিজের ওস্তাদ মনে করেন তিনি।
মাত্র সাড়ে তিন শতাংশ জমিতে স্ত্রী, তিন ছেলে, ছেলের বউ ও নাতি-নাতনিসহ বড় পরিবারের বসবাস। তিন ছেলে মিস্ত্রির কাজ করেন। তবে তারা আলাদা থাকেন। দীর্ঘদিনের পুরোনো ঘরটি সংস্কার করার সামর্থ্যও নেই এই প্রবীণ কারিগরের।
শুধু কারিগর হিসেবেই নয়, একসময় বৈঠকি বাউল গানও করতেন আ. সাত্তার। বয়সের ভারে এখন আর গান গাইতে পারেন না। তবে তার হাতে তৈরি একতারা বা দোতারা নিয়ে যখন কোনো শিল্পী গান করেন, তখন আনন্দে ভরে ওঠে তার মন।
আ. সাত্তারের ভাষায়, “এসব দেশীয় পণ্য ও কারুশিল্প একসময় চিরতরে হারিয়ে যাবে। এগুলো এখন জাদুঘরে স্থান পাওয়ার যোগ্য।”
তার দীর্ঘ কর্মজীবনের নীরব সঙ্গী স্ত্রী মোছা. আবিয়া খাতুন। স্বামীর কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “সারাজীবন মানুষটা কষ্টই করল। থাকার মতো একটা ঘর পর্যন্ত নাই।”
তিনি সরকারের কাছে স্বামীর জন্য একটি নিরাপদ ঘর ও বিদ্যুৎচালিত খোদাইযন্ত্রের সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হাই, আবদুর রহমান ও মনিরুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, আ. সাত্তার তাদের এলাকার গর্ব। তার তৈরি বাদ্যযন্ত্র ও কারুশিল্প দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার শেষ জীবন যেমন স্বস্তিতে কাটবে, তেমনি বিলুপ্তপ্রায় এই কারুশিল্পও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস জামান রনি বলেন, “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আমাদের বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা আ. সাত্তারকে এসব প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসব।”
আ. সাত্তারের গল্প শুধু একজন প্রবীণ কারিগরের অভাব-অনটনের গল্প নয়। তার হাতের তৈরি বাদ্যযন্ত্রে আজও বেঁচে আছে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য। কিন্তু সেই ঐতিহ্যের কারিগরই যখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিরাপদ একটি ঘরের অভাবে থাকেন, তখন প্রশ্ন ওঠে—এই শিল্প ও শিল্পীদের টিকিয়ে রাখতে আমাদের দায়িত্ব কতটুকু?
একটি নিরাপদ ঘর, কাজের উপযোগী আধুনিক যন্ত্র এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে হয়তো স্বস্তি ফিরবে ৭৮ বছরের এই কারিগরের জীবনে। একই সঙ্গে তার হাত ধরে আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় কারুশিল্পের ঐতিহ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%