মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৭:০০ পি.এম
বয়স ৭৮ বছর। জীবনের প্রায় ৪৫ বছর কেটে গেছে বাঁশ, কাঠ, চামড়া আর দেশীয় বাদ্যযন্ত্র তৈরির কাজে। তার হাতেই তৈরি হয় একতারা, দোতারা, খমক, ঢোল, ডুগডুগি, খঞ্জনিসহ নানা ধরনের দেশীয় বাদ্যযন্ত্র। একই সঙ্গে তৈরি করেন মাছ ধরার চাঁই, পলো, ঝুপড়া, বাঁশের মই, টেবিলসহ গ্রামীণ জীবনের প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী।
কিন্তু যে হাত অন্যের ঘর সাজিয়েছে, শিল্পীর হাতে সুর তুলে দিয়েছে, সেই কারিগরের নিজের মাথা গোঁজার ঘরটিই আজ জরাজীর্ণ। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও অভাবের কারণে থামেনি তার কাজ। তিনি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের চকসাদক কোনাপাড়া গ্রামের আ. সাত্তার।
আ. সাত্তারের ছোট্ট বাড়ির আঙিনায় গড়ে ওঠা কর্মশালায় এখনও দেখা যায় দেশীয় বাদ্যযন্ত্র তৈরির সরঞ্জাম। আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি নেই। লোহার ফ্রেমে নিজের হাতে তৈরি একটি খোদাইযন্ত্রই তার প্রধান ভরসা। এক পাশে বসে তিনি কাঠে নকশা করেন, অন্য পাশে কাউকে দড়ি টেনে সহযোগিতা করতে হয়।
বয়সের কারণে এখন আগের মতো দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারেন না। একজন সহকারী রাখার প্রয়োজন হলেও সেই সামর্থ্য নেই। পরিচিত কেউ বাড়িতে এলে তখনই কিছুটা সহযোগিতা পান।
বাদ্যযন্ত্র তৈরির সূক্ষ্ম কাজে তিনি ব্যবহার করেন কুইজবাটাল, রাউন্ডবাটাল, সাফবাটাল, বিলসা, মাথিম, করাত, হাতুড়ি, ফিতা ও স্কেল। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এসব সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই নিখুঁত কারুকাজ ফুটিয়ে তোলেন তিনি।
আ. সাত্তার জানান, একটি বিদ্যুৎচালিত খোদাইযন্ত্র থাকলে তার শারীরিক কষ্ট অনেকটাই কমত। পাশাপাশি দ্রুত কাজও করতে পারতেন। কিন্তু অভাবের সংসারে সেই যন্ত্র কেনার সামর্থ্য তার নেই।
তার তৈরি পণ্য বিক্রির জন্য তাকে নিয়মিত হাটে যেতে হয় না। কাজের সুনাম থাকায় ক্রেতারা বাড়িতে এসে পণ্য কিনে নিয়ে যান। তবে কাঠ, বাঁশ, চামড়া ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়লেও তার তৈরি পণ্যের দাম সেভাবে বাড়েনি। ফলে দীর্ঘ শ্রমের তুলনায় ন্যায্য মূল্যও পান না তিনি।
সংসার চলে কীভাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আ. সাত্তার বলেন, “একদম চলে না।”
চকসাদক কোনাপাড়া গ্রামেই জন্ম তার। বাবা সমর আলী ওরফে লাবু মিয়া এবং মা নাইবের মা অনেক আগেই মারা গেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ হয়নি তার। প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে উত্তর মাসকা গ্রামের কারিগর আবদুল জব্বারের কাছে কাজ শিখেছিলেন। তাকেই নিজের ওস্তাদ মনে করেন তিনি।
মাত্র সাড়ে তিন শতাংশ জমিতে স্ত্রী, তিন ছেলে, ছেলের বউ ও নাতি-নাতনিসহ বড় পরিবারের বসবাস। তিন ছেলে মিস্ত্রির কাজ করেন। তবে তারা আলাদা থাকেন। দীর্ঘদিনের পুরোনো ঘরটি সংস্কার করার সামর্থ্যও নেই এই প্রবীণ কারিগরের।
শুধু কারিগর হিসেবেই নয়, একসময় বৈঠকি বাউল গানও করতেন আ. সাত্তার। বয়সের ভারে এখন আর গান গাইতে পারেন না। তবে তার হাতে তৈরি একতারা বা দোতারা নিয়ে যখন কোনো শিল্পী গান করেন, তখন আনন্দে ভরে ওঠে তার মন।
আ. সাত্তারের ভাষায়, “এসব দেশীয় পণ্য ও কারুশিল্প একসময় চিরতরে হারিয়ে যাবে। এগুলো এখন জাদুঘরে স্থান পাওয়ার যোগ্য।”
তার দীর্ঘ কর্মজীবনের নীরব সঙ্গী স্ত্রী মোছা. আবিয়া খাতুন। স্বামীর কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “সারাজীবন মানুষটা কষ্টই করল। থাকার মতো একটা ঘর পর্যন্ত নাই।”
তিনি সরকারের কাছে স্বামীর জন্য একটি নিরাপদ ঘর ও বিদ্যুৎচালিত খোদাইযন্ত্রের সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হাই, আবদুর রহমান ও মনিরুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, আ. সাত্তার তাদের এলাকার গর্ব। তার তৈরি বাদ্যযন্ত্র ও কারুশিল্প দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার শেষ জীবন যেমন স্বস্তিতে কাটবে, তেমনি বিলুপ্তপ্রায় এই কারুশিল্পও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস জামান রনি বলেন, “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আমাদের বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা আ. সাত্তারকে এসব প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসব।”
আ. সাত্তারের গল্প শুধু একজন প্রবীণ কারিগরের অভাব-অনটনের গল্প নয়। তার হাতের তৈরি বাদ্যযন্ত্রে আজও বেঁচে আছে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য। কিন্তু সেই ঐতিহ্যের কারিগরই যখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিরাপদ একটি ঘরের অভাবে থাকেন, তখন প্রশ্ন ওঠে—এই শিল্প ও শিল্পীদের টিকিয়ে রাখতে আমাদের দায়িত্ব কতটুকু?
একটি নিরাপদ ঘর, কাজের উপযোগী আধুনিক যন্ত্র এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে হয়তো স্বস্তি ফিরবে ৭৮ বছরের এই কারিগরের জীবনে। একই সঙ্গে তার হাত ধরে আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় কারুশিল্পের ঐতিহ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার বারহাট্টায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১০ পিস ইয়াবাসহ শিপন (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার গোপালপুর মধ্যবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। শিপন উপজেলার বৃ-কালিকা গ্রামের শাহজাহানের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপালপুর মধ্যবাজার এলাকার রুহুল আমিনের ভাড়া বাসায় মাদক কারবার চলছে—এমন গোপন তথ্য পায় বারহাট্টা থানা পুলিশ। পরে তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দুপুরে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে শিপনের থাকার ঘরের সানশেডের ওপর থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ইয়াবাসহ শিপনকে আটক করে পুলিশ।
বারহাট্টা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবাসহ আটক শিপনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে বারহাট্টা থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নয় মাসে কোতোয়ালিতে আস্থার জায়গা, নিয়মিত বদলিতে বিদায় ওসি আল মামুন-উল ইসলাম
থানার দরজায় সাধারণ মানুষ গিয়ে কী ধরনের আচরণ পান—পুলিশের প্রতি আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে সেটিই অনেক সময় সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রায় নয় মাস দায়িত্ব পালন করে সেই পরীক্ষায় নিজের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন-উল ইসলাম। মাদক ও অপরাধ দমনে তৎপরতা, সাধারণ মানুষের সাথে সম্মানজনক আচরণ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ যোগাযোগ—দায়িত্বকালের এসব বিষয়ই এখন তার বিদায়ের সময়ে আলোচনায় এসেছে।
২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর এয়ারপোর্ট থানা থেকে বদলি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোঃ আল মামুন-উল ইসলাম। এরপর থেকে প্রায় নয় মাস তিনি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই থানার দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন ঘটনায় তার বক্তব্য ও পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদেও তাকে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দা, গণমাধ্যমকর্মী এবং থানার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। বিশেষ করে থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে তার আচরণ, অভিযোগ শোনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার বিষয়টি একাধিক ব্যক্তির বক্তব্যে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদকের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণেও, ছোট-বড় নির্বিশেষে থানায় আসা মানুষের সঙ্গে তিনি সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং ‘আপনি’ সম্বোধন করতেন। সংবাদ সংক্রান্ত প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখা গেছে।
তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম বলেন, “প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়ে ওসি আল মামুন-উল ইসলামের সাথে কথা বলেছে। সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায়, থানায় আসা মানুষের সঙ্গে তার আচরণ ছিল মার্জিত ও সম্মানজনক।
ঘুষ গ্রহণ বা অর্থের বিনিময়ে সেবা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও তালাশ বিডি অনুসন্ধান করেছে। প্রতিবেদনের জন্য কথা বলা ব্যক্তিদের কাছ থেকে ওসি আল মামুন-উল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
অপরাধ দমনের ক্ষেত্রেও তার দায়িত্বকালে থানা পুলিশের তৎপরতা ছিল দৃশ্যমান। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
বাসস্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়। পাইকারি বাজারে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ঘটনাও তার দায়িত্বকালের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে।
গণমাধ্যমের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল সহযোগিতাপূর্ণ—এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তার আন্তরিকতা ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা।
ব্যক্তিগত জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন বলে তাকে কাছ থেকে দেখা ব্যক্তিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জনস্বার্থে কয়েকজন পুলিশ পরিদর্শককে বদলির কথা জানানো হয়েছে। ওই অফিস আদেশের স্মারক নম্বর বিএমপি/স্টেনো-১/ইন্স/বদলি/২০২৬/১০৫৮।
বিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি আল মামুন-উল ইসলামের বদলি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ। অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা অফিস আদেশে উল্লেখ নেই।
প্রায় নয় মাসের দায়িত্ব শেষে কোতোয়ালি মডেল থানার দায়িত্ব ছাড়ছেন আল মামুন-উল ইসলাম। তবে তার বিদায়ের সময়ে আলোচনায় এসেছে একটি বিষয়—একজন পুলিশ কর্মকর্তার মূল্যায়ন কেবল গ্রেপ্তার, মামলা কিংবা অভিযানের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ, পেশাদারিত্ব, তথ্য প্রদানে স্বচ্ছতা এবং দায়িত্ব পালনের নৈতিক অবস্থানও সেই মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বলছে, কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়িত্ব পালনকালে মোঃ আল মামুন-উল ইসলামের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ই তার কর্মকালকে আলাদা করে আলোচনায় এনেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের সখিপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১০০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৪। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ডভ্যান ও একটি মোটরসাইকেল, নগদ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সখিপুর থানাধীন বেতুয়া তিন রাস্তার মোড়ে পাকা সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালায় এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের একটি আভিযানিক দল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ময়মনসিংহ জেলার মো. আশরাফুল আলম (৩৯), কুমিল্লা জেলার মো. রাজু ইসলাম (৩০) এবং টাঙ্গাইল জেলার হেলাল মিয়া (৪২)।
এসআরবি জানায়, একটি কাভার্ডভ্যান ও সেটিকে স্কট করে আসা একটি মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিরা কাভার্ডভ্যানে মাদক থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাভার্ডভ্যানের ভেতরে বিশেষ কায়দায় প্লাস্টিকের বস্তায় লুকিয়ে রাখা ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে উদ্ধার করা মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ তাদের সখিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ ০৪ অক্টোবর ২০২৬,ইং রোজ রোববার ।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রাজিব হোসেন নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এদিকে, এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা শাপলা স্টিল ওয়ার্কশপের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজিব হোসেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ভূঞাপুর থেকে বালুবোঝাই ট্রাক নিয়ে টঙ্গীর উদ্দেশে যাচ্ছিলেন চালক রাজিব। রাত তিনটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গায় ট্রাক থামিয়ে টয়লেটে যাওয়ার জন্য নিচে নামেন তিনি। এসময় কয়েকজন দূর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম সিদ্দিকী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ