ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ২ জনের কারাদণ্ড


ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ২ জনের কারাদণ্ড

ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কুমিল্লার মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ বাস টার্মিনালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। এ অভিযানের সময় দুই পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

সোমবার (১ জুন) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।

জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে মানুষের চাপ বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে কয়েকটি পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানীগঞ্জ বাস টার্মিনালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালীন যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এবং ভাড়ার রসিদ যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: যোগ্য মানুষকে ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন হয় এটাই প্রমানিত হলো

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত ৪০০ টাকার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় হানিফ পরিবহনের ম্যানেজারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং প্রান্তিক পরিবহনের সুপারভাইজারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অতিরিক্ত আদায় করা ভাড়ার অর্থ সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের ফেরত দেয়া হয়। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপের কারণে যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন বলেন, 'ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো পরিবহন যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারবে না। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যাত্রীদের স্বার্থরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে কেউ অনিয়ম করলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

আরও পড়ুন: নলতায় জমি নিয়ে হয়রানির অভিযোগ ভাবীর বিরুদ্ধে, তদন্তে মিলেছে স্বস্তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শি জিনপিং ধূমপান ছাড়লেও চীন ছাড়েনি, বিশ্বের অর্ধেক সিগারেটই পোড়ে ওই দেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৯ এম


শি জিনপিং ধূমপান ছাড়লেও চীন ছাড়েনি, বিশ্বের অর্ধেক সিগারেটই পোড়ে ওই দেশে

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বহু বছর আগে ধূমপান ছেড়েছিলেন এবং একসময় তিনি দেশটিতে তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই অগ্রগতি খুবই ধীর হয়ে গেছে। বর্তমান সময়ে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সিগারেট ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে এখনও শীর্ষে রয়েছে।

২০১২ সালে বেইজিংয়ে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিল গেটসের সঙ্গে এক বৈঠকে ধূমপান নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি সেসময় জানান, ধূমপান ছাড়ার ফলে তিনি নিজের স্বাস্থ্য অনেক বেশি ভালো অনুভব করছেন এবং তামাককে চীনের একটি বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। সেদিনই তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকেও ধূমপানবিরোধী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে দেখা যায়।

কিন্তু সেই ঘটনার পর ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও চীনে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

চীনা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের সাবেক কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠিত এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০০৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চীনে সিগারেট ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। একই সময় বিশ্বে অন্যান্য দেশে সিগারেট ব্যবহার প্রায় ২৬ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদিত সিগারেটের প্রায় অর্ধেকই ব্যবহৃত হচ্ছে চীনে।

চীনে বছরে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি সিগারেট বিক্রি হয়। যদিও ধূমপায়ীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবে মোট সিগারেট বিক্রির পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। দেশটির সিগারেটের দামও তুলনামূলকভাবে কম, ফলে সেগুলোর ব্যবহার কমানো খুবিভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে। চীনে একটি প্যাকেট সিগারেটের গড় দাম প্রায় ৩ ডলার, যা অনেক উন্নত দেশের তুলনায় অনেক কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের রাষ্ট্রীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দেশটির বড় তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রভাব ধূমপান কমাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ খাত থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় হয়, যা দেশের মোট আয়ের একটি বৃহৎ অংশ। শুধু ২০২৫ সালের মধ্যে এ খাত থেকে প্রায় ২৪৪ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা দেশটির মোট সরকারি আয়ের প্রায় ৭ শতাংশের সমান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামাক খাত থেকে আসা রাজস্ব এখন চীনের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক অঞ্চলে স্থানীয় বাজেটের বড় অংশই আসে তামাক কর থেকে।

ফলে ধূমপান কমানোর উদ্যোগ নিলেও, তা বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক চাপের সময় তামাক খাত থেকে আসা বিপুল অর্থের কারণে সরকার কঠোর ধূমপানবিরোধী নীতিমালা বাস্তবায়নে পিছিয়ে রয়েছে। বহু বছর ধরে করা ডাক্তারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঘরের ভেতর ধূমপান নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক এলাকায় এখনও রেস্তোরাঁ, বার এবং জনসমাগমস্থলে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখা যায়।

তবে আশার খবরও আছে। তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে ধূমপানবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে। তারা প্রকাশ্যে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে ধূমপানের হারও কিছুটা কমছে। বিশেষ করে তরুণ নারী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কর্মীরা ধূমপানবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছেন।

চীনা সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ধূমপায়ীর হার ২৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন, এই লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী তামাক শিল্প, শিথিল আইন প্রয়োগ এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতা—এই তিনটি বিষয়েই চীনে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইথিওপিয়ার নির্বাচনে জয়ের আশা আবি আহমেদের দলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:০৩ এম


ইথিওপিয়ার নির্বাচনে জয়ের আশা আবি আহমেদের দলের

দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সোমবার (১ জুন) ইথিওপিয়ায় সংসদীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, এই নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের ক্ষমতাসীন ‘প্রসপারিটি পার্টি’ বড় ব্যবধানে জয়ী হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির মোট ১৩ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫ কোটিরও বেশি মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।

নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা বজায় রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ইথিওপিয়ার জনগণ প্রমাণ করেছে যে নিজেদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের বাইরের কারো পরামর্শের প্রয়োজন নেই। আগামী ৫ বছর দেশের জন্য ঐতিহাসিক একটি সময় হতে যাচ্ছে।

এদিকে আফ্রিকান ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ও কেনিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি উহুরু কেনিয়াত্তা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে দেশের একটি বড় অংশে তীব্র সংঘাতের কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দুই বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের ধকল কাটিয়ে উঠতে না পারা উত্তরাঞ্চলীয় টিগ্রে অঞ্চলে কোনো ভোটগ্রহণই করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়াও নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারপারসন মেলাটওয়ার্ক হাইলু জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত সংকটের কারণে আমহারা ও ওরোমিয়া অঞ্চলের ১৪৩টি ভোটকেন্দ্র একেবারেই খোলা যায়নি। দেশের দুইটি বৃহত্তম অঞ্চলেই বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় ভোট স্থগিত রাখতে হয়েছে।

২০১৮ সালে ইথিওপিয়ার ক্ষমতায় আসেন আবি আহমেদ এবং ২০১৯ সালে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সাংবাদিকদের আটক ও দেশের অভ্যন্তরে নৃশংস সামরিক অভিযান চালানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খণ্ডিত ও দুর্বল বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ—সরকার তাদের নেতাদের গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিয়ে বিরোধী পক্ষকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। আগামী ১১ জুনের মধ্যে এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে স্বর্ণের দামেও বড় পতন, ভরিতে কমলো কতগুলো টাকা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:০৫ এম


দেশে স্বর্ণের দামেও বড় পতন, ভরিতে কমলো কতগুলো টাকা?

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এই তথ্য জানিয়েছে। উল্লেখ্য, নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। এজন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

মূল্য সমন্বয়ের পূর্বে, গত ২৫ মে সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা সকালের সময় ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছিল।

এ বছরের এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এভাবে ৩৭ দফা দাম বৃদ্ধি ও ৩৩ দফা দাম কমানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় মোট ৯৩ বার করা হয়েছিল; সেখানে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছিল এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্দ্বীপে সাগরের ভাঙনে উন্মুক্ত দুটি সাবমেরিন কেবল, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৮ এম


সন্দ্বীপে সাগরের ভাঙনে উন্মুক্ত দুটি সাবমেরিন কেবল, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ উপকূলের পূর্বে চ্যানেল-সংলগ্ন অংশে সাম্প্রতিক ভাঙনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ কেভি সৈয়দপুর-বাউরিয়া সাবমেরিন কেবলের একটি অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে সন্দ্বীপ চ্যানেলের তলদেশে স্থাপিত কেবল দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চুরির ঝুঁকি এবং পুরো দ্বীপে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের প্রথম এ সাবমেরিন কেবল বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন মেরামতের অভিজ্ঞতা না থাকায় গ্রাহক এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের ঝুঁকি ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কায় রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাবমেরিন কেবল লাইনের ত্রুটি কিংবা বৈদ্যুতিক কেবল দৃশ্যমান হয়ে গেলে ঝুঁকি এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অভিজ্ঞতা বিদ্যুৎ বিভাগের নেই। একইসাথে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা, প্রশিক্ষণ বা কারিগরি দক্ষতার বিনিময় হয়নি। পিডিবির বিতরণ ও প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকেও এ ধরনের সংকট তৈরি হলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো প্রস্তুতি রাখা হয়নি। ফলস্বরূপ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সাত বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর সমুদ্র উপকূলে বৈদ্যুতিক লাইন মাটি ও সমুদ্রকূলে উন্মুক্ত হয়ে আসায় সমস্যাটি সমাধানে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাছে সাহায্য চাওয়া হলেও পিডিবি কোনও প্রতিকার পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর উপকূল থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ৩৩ কেভি দুটি কেবল স্থাপনের মাধ্যমে গ্রিড সংযোগ স্থাপন করা হয়। এই প্রকল্পে সন্দ্বীপে ১৬ কিলোমিটার এবং সীতাকুণ্ডে ১০ কিলোমিটার ওভারহেড লাইন (মাটির ওপর) স্থাপন করা হয়েছে। প্রথম দিকে একজনের মাধ্যমে 10 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ব্যবস্থাপনা করা হয়। বর্তমানে প্রায় অর্ধলক্ষ গ্রাহক প্রতিদিন ৪-৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তবে দুটি কেবলের মাধ্যমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ৫০ বছর ধরে সঞ্চালনের সক্ষমতা রয়েছে। ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সমুদ্র চ্যানেলের মাধ্যমে সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সংযোগের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চীনা কোম্পানি জেডটিটি প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল, যদিও বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ছিল চীনের এসবি সাবমেরিন সিস্টেমস কোম্পানি লিমিটেডের সহযোগিতা। জানা গেছে, গতকাল সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নের সন্দ্বীপ চ্যানেলের উপকূলে প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য পর্যন্ত দুটি কেবল দৃশ্যমান হওয়ায় পিডিবি ওই কেবল দুটি রক্ষা এবং ওই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পাউবোকে চিঠি দিয়েছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে দেয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভাঙনের ফলে নিচ থেকে বের হয়ে আসা ৩৩ কেভির সাবমেরিন কেবল দুটি বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। যদিও কেবলগুলো বিপজ্জনক, তবুও স্থানীয় শিশু-কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই কেবল দুটি উপরে উঠে ছবি তুলছে এবং আশপাশে ভিড় করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ছড়িয়ে পড়ার ফলে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে সমুদ্র চ্যানেলের খাড়া অংশে বাঁধ দিয়ে কেবলগুলো সুরক্ষার সুযোগ না থাকায় পিডিবি এবং স্থানীয় প্রশাসন আপাতত 'ঝুঁকিপূর্ণ' লেখা সাইনবোর্ড দিয়ে ওই এলাকায় মানুষের যাতায়াত বন্ধ রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সন্দ্বীপ চ্যানেল-তীরবর্তী এলাকায় ৩৩ কেভির দুটি বৈদ্যুতিক কেবল দৃশ্যমান হওয়ার খবর এবং পিডিবির চিঠি পাওয়ার পর পাউবোর প্রকৌশলীরা গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সন্দ্বীপ রক্ষার বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার বাইরে ভাঙনকবলিত এলাকায় কেবলগুলো দৃশ্যমান হওয়ায় পাউবোর পক্ষ থেকে কিছুই করার নেই বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, প্রাকৃতিক সামুদ্রিক উপকূলে ভাঙন তৈরি হলে কেবলগুলোর যাতে ক্ষতি না হয়, এমন পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা গ্রহণ করার বাইরে অন্য কিছু করার উপায় নেই। সাবমেরিন কেবলের দৃশ্যমান অংশকে রক্ষা করার জন্য পিডিবির চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-২ (চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-২) ড. তানজির সাইফ আহমেদ বলেছেন, 'পিডিবির চিঠি পেয়ে আমাদের প্রকৌশলীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার চ্যানেলের ভেতরে ভাঙন এলাকায় বৈদ্যুতিক কেবল মাটির ভেতর থেকে বের হয়ে আসায় কাজ করার সুযোগ নেই। ভাঙনকবলিত অংশে চ্যানেলের মধ্যে মাটি ভরাট বা ব্লক দেয়ার সুযোগ নেই। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে পিডিবিকে আমাদের অপারগতার বিষয়টি জানিয়ে দেব।' প্রকৌশল-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৩৩ হাজার ভোল্টেজের সঞ্চালন সক্ষমতার কেবল মাটির ওপর উঠে আসায় এর আস্তরণে লিকেজ তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া কেবল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় তা পুরো সঞ্চালন লাইনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। লিকেজ তৈরি হলে কেবলের সংস্পর্শে আসা যেকোনো প্রাণীর তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে। উন্মুক্ত কেবলের ওপর নৌযানের নোঙর বা ধাতব কিছুর সঙ্গে লেগে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও প্রবল। এতে সামুদ্রিক ওই অঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট এলাকার পানি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ার পাশাপাশি সন্দ্বীপের সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যদি দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তাহলে সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটের মধ্যে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। এক্ষেত্রে কেবল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান অথবা এ-সংক্রান্ত দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়া সন্দ্বীপের সাবমেরিন কেবলের সংকট নিরসন সম্ভব নয় বলেও ধারণা করছেন তারা। জাননে চাইলে পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ) মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, 'আমাদের কাছে সাবমেরিন কেবলের সঞ্চালন লাইন সমুদ্র কিংবা সন্দ্বীপ চ্যানেল-তীরবর্তী এলাকায় দৃশ্যমান হয়ে যাওয়া একটি সম্পূর্ণ নতুন ঘটনা। তাই এ বিষয়ে আমাদের করণীয় এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে দৃশ্যমান উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী কেবলগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা, স্থানীয়দের কেবলের সংস্পর্শে আসলে সম্ভাব্য বিপদ থেকে সুরক্ষা দেয়াও জরুরি। সন্দ্বীপের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাউবোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উপজেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে।' নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি চালু হওয়ার সাত-আট বছরের মধ্যেই সন্দ্বীপ চ্যানেলের তীরের ভাঙন ও বৈদ্যুতিক কেবল দৃশ্যমান হওয়ায় বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগ সমাধানের কোনো প্রযুক্তি জানে না। এক্ষেত্রে প্রকল্প নেয়ার সময় সম্ভাব্যতা যাচাই ও সংকটকালে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে গাফিলতি ছিল কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি। ভাঙন তীব্র হলে তীরবর্তী এলাকায় চলাচলকারী নৌযানের আঘাতে কেবল বিচ্ছিন্ন হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকির আশঙ্কাও উঁকি দিচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। জানা গেছে যে, সন্দ্বীপ চ্যানেলের তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে মোট ৪২ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক কেবল ব্যবহৃত হয়েছে। রক্ষা ও কেবল বার দেয়ার জন্য এটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকা থেকে সন্দ্বীপের বাউরিয়া এলাকায় সঞ্চালন করা হয়েছে। রোবটের মাধ্যমে জাহাজ থেকে কেবল দুটি চ্যানেলের তলদেশের ১০ ফুট মাটি খুঁড়ে বসানো হয়েছিল। তবে তীরবর্তী এলাকায় পৌঁছালে কেবল দুটির ভূগর্ভস্থ গভীরতা পাঁচ ফুট হয়ে যায়, যার কারণে বাউরিয়া ইউনিয়ন এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হলে বৈদ্যুতিক কেবল দুটি দৃশ্যমান হয়ে যেতে পারে। যদি ভাঙন আরও তীব্র হয়, তাহলে সাবমেরিন কেবল আরো বেশি দৃশ্যমান হবে, যা সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। পিডিবির প্রকৌশলীরা বলছেন, সাত-আট বছর আগে রোবটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈদ্যুতিক কেবল বসানো হয়েছিল। এখন দেশীয় প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ কেবল উন্মুক্ত হয়ে আসায় বর্তমানে কিছুই করার সুযোগ নেই। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া এই সংকট সমাধানের অন্য কোনো উপায় নেই বলে তারা জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের আগে সন্দ্বীপে জেনারেটরের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পৌর এলাকায় আড়াই হাজার গ্রাহককে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ দেয়া হতো। বর্তমানে প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার ওই দ্বীপটিতে ৫৩ হাজার বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১১-১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরো দ্বীপকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে এলে সন্দ্বীপে সর্বোচ্চ ৫০-৬০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিতরণের সক্ষমতা রয়েছে পিডিবির।

সূত্র : বণিক বার্তা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%