ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইথিওপিয়ার নির্বাচনে জয়ের আশা আবি আহমেদের দলের


ইথিওপিয়ার নির্বাচনে জয়ের আশা আবি আহমেদের দলের

দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সোমবার (১ জুন) ইথিওপিয়ায় সংসদীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, এই নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের ক্ষমতাসীন ‘প্রসপারিটি পার্টি’ বড় ব্যবধানে জয়ী হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির মোট ১৩ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫ কোটিরও বেশি মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলার চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডারট্রেইটর’: এফবিআই

নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা বজায় রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ইথিওপিয়ার জনগণ প্রমাণ করেছে যে নিজেদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের বাইরের কারো পরামর্শের প্রয়োজন নেই। আগামী ৫ বছর দেশের জন্য ঐতিহাসিক একটি সময় হতে যাচ্ছে।

এদিকে আফ্রিকান ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ও কেনিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপতি উহুরু কেনিয়াত্তা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে দেশের একটি বড় অংশে তীব্র সংঘাতের কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দুই বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের ধকল কাটিয়ে উঠতে না পারা উত্তরাঞ্চলীয় টিগ্রে অঞ্চলে কোনো ভোটগ্রহণই করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়াও নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারপারসন মেলাটওয়ার্ক হাইলু জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত সংকটের কারণে আমহারা ও ওরোমিয়া অঞ্চলের ১৪৩টি ভোটকেন্দ্র একেবারেই খোলা যায়নি। দেশের দুইটি বৃহত্তম অঞ্চলেই বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় ভোট স্থগিত রাখতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: চীনের শীর্ষ ধনী নারী হলেন লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ঝোউ চুনফেই

২০১৮ সালে ইথিওপিয়ার ক্ষমতায় আসেন আবি আহমেদ এবং ২০১৯ সালে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সাংবাদিকদের আটক ও দেশের অভ্যন্তরে নৃশংস সামরিক অভিযান চালানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খণ্ডিত ও দুর্বল বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ—সরকার তাদের নেতাদের গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিয়ে বিরোধী পক্ষকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। আগামী ১১ জুনের মধ্যে এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: এপস্টেইনকাণ্ডে আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে স্বর্ণের দামেও বড় পতন, ভরিতে কমলো কতগুলো টাকা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:০৫ এম


দেশে স্বর্ণের দামেও বড় পতন, ভরিতে কমলো কতগুলো টাকা?

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এই তথ্য জানিয়েছে। উল্লেখ্য, নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। এজন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

মূল্য সমন্বয়ের পূর্বে, গত ২৫ মে সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা সকালের সময় ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছিল।

এ বছরের এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এভাবে ৩৭ দফা দাম বৃদ্ধি ও ৩৩ দফা দাম কমানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় মোট ৯৩ বার করা হয়েছিল; সেখানে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছিল এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্দ্বীপে সাগরের ভাঙনে উন্মুক্ত দুটি সাবমেরিন কেবল, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৮ এম


সন্দ্বীপে সাগরের ভাঙনে উন্মুক্ত দুটি সাবমেরিন কেবল, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ উপকূলের পূর্বে চ্যানেল-সংলগ্ন অংশে সাম্প্রতিক ভাঙনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ কেভি সৈয়দপুর-বাউরিয়া সাবমেরিন কেবলের একটি অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে সন্দ্বীপ চ্যানেলের তলদেশে স্থাপিত কেবল দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চুরির ঝুঁকি এবং পুরো দ্বীপে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের প্রথম এ সাবমেরিন কেবল বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন মেরামতের অভিজ্ঞতা না থাকায় গ্রাহক এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের ঝুঁকি ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কায় রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাবমেরিন কেবল লাইনের ত্রুটি কিংবা বৈদ্যুতিক কেবল দৃশ্যমান হয়ে গেলে ঝুঁকি এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অভিজ্ঞতা বিদ্যুৎ বিভাগের নেই। একইসাথে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা, প্রশিক্ষণ বা কারিগরি দক্ষতার বিনিময় হয়নি। পিডিবির বিতরণ ও প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকেও এ ধরনের সংকট তৈরি হলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো প্রস্তুতি রাখা হয়নি। ফলস্বরূপ, প্রকল্প বাস্তবায়নের সাত বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর সমুদ্র উপকূলে বৈদ্যুতিক লাইন মাটি ও সমুদ্রকূলে উন্মুক্ত হয়ে আসায় সমস্যাটি সমাধানে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাছে সাহায্য চাওয়া হলেও পিডিবি কোনও প্রতিকার পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর উপকূল থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ৩৩ কেভি দুটি কেবল স্থাপনের মাধ্যমে গ্রিড সংযোগ স্থাপন করা হয়। এই প্রকল্পে সন্দ্বীপে ১৬ কিলোমিটার এবং সীতাকুণ্ডে ১০ কিলোমিটার ওভারহেড লাইন (মাটির ওপর) স্থাপন করা হয়েছে। প্রথম দিকে একজনের মাধ্যমে 10 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ব্যবস্থাপনা করা হয়। বর্তমানে প্রায় অর্ধলক্ষ গ্রাহক প্রতিদিন ৪-৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তবে দুটি কেবলের মাধ্যমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ৫০ বছর ধরে সঞ্চালনের সক্ষমতা রয়েছে। ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সমুদ্র চ্যানেলের মাধ্যমে সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সংযোগের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চীনা কোম্পানি জেডটিটি প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল, যদিও বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ছিল চীনের এসবি সাবমেরিন সিস্টেমস কোম্পানি লিমিটেডের সহযোগিতা। জানা গেছে, গতকাল সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নের সন্দ্বীপ চ্যানেলের উপকূলে প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য পর্যন্ত দুটি কেবল দৃশ্যমান হওয়ায় পিডিবি ওই কেবল দুটি রক্ষা এবং ওই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পাউবোকে চিঠি দিয়েছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে দেয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভাঙনের ফলে নিচ থেকে বের হয়ে আসা ৩৩ কেভির সাবমেরিন কেবল দুটি বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। যদিও কেবলগুলো বিপজ্জনক, তবুও স্থানীয় শিশু-কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই কেবল দুটি উপরে উঠে ছবি তুলছে এবং আশপাশে ভিড় করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ছড়িয়ে পড়ার ফলে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে সমুদ্র চ্যানেলের খাড়া অংশে বাঁধ দিয়ে কেবলগুলো সুরক্ষার সুযোগ না থাকায় পিডিবি এবং স্থানীয় প্রশাসন আপাতত 'ঝুঁকিপূর্ণ' লেখা সাইনবোর্ড দিয়ে ওই এলাকায় মানুষের যাতায়াত বন্ধ রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সন্দ্বীপ চ্যানেল-তীরবর্তী এলাকায় ৩৩ কেভির দুটি বৈদ্যুতিক কেবল দৃশ্যমান হওয়ার খবর এবং পিডিবির চিঠি পাওয়ার পর পাউবোর প্রকৌশলীরা গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সন্দ্বীপ রক্ষার বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার বাইরে ভাঙনকবলিত এলাকায় কেবলগুলো দৃশ্যমান হওয়ায় পাউবোর পক্ষ থেকে কিছুই করার নেই বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, প্রাকৃতিক সামুদ্রিক উপকূলে ভাঙন তৈরি হলে কেবলগুলোর যাতে ক্ষতি না হয়, এমন পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা গ্রহণ করার বাইরে অন্য কিছু করার উপায় নেই। সাবমেরিন কেবলের দৃশ্যমান অংশকে রক্ষা করার জন্য পিডিবির চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী-২ (চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-২) ড. তানজির সাইফ আহমেদ বলেছেন, 'পিডিবির চিঠি পেয়ে আমাদের প্রকৌশলীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার চ্যানেলের ভেতরে ভাঙন এলাকায় বৈদ্যুতিক কেবল মাটির ভেতর থেকে বের হয়ে আসায় কাজ করার সুযোগ নেই। ভাঙনকবলিত অংশে চ্যানেলের মধ্যে মাটি ভরাট বা ব্লক দেয়ার সুযোগ নেই। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে পিডিবিকে আমাদের অপারগতার বিষয়টি জানিয়ে দেব।' প্রকৌশল-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৩৩ হাজার ভোল্টেজের সঞ্চালন সক্ষমতার কেবল মাটির ওপর উঠে আসায় এর আস্তরণে লিকেজ তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া কেবল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় তা পুরো সঞ্চালন লাইনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। লিকেজ তৈরি হলে কেবলের সংস্পর্শে আসা যেকোনো প্রাণীর তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে। উন্মুক্ত কেবলের ওপর নৌযানের নোঙর বা ধাতব কিছুর সঙ্গে লেগে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও প্রবল। এতে সামুদ্রিক ওই অঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট এলাকার পানি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ার পাশাপাশি সন্দ্বীপের সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যদি দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তাহলে সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটের মধ্যে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। এক্ষেত্রে কেবল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান অথবা এ-সংক্রান্ত দক্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়া সন্দ্বীপের সাবমেরিন কেবলের সংকট নিরসন সম্ভব নয় বলেও ধারণা করছেন তারা। জাননে চাইলে পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ) মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, 'আমাদের কাছে সাবমেরিন কেবলের সঞ্চালন লাইন সমুদ্র কিংবা সন্দ্বীপ চ্যানেল-তীরবর্তী এলাকায় দৃশ্যমান হয়ে যাওয়া একটি সম্পূর্ণ নতুন ঘটনা। তাই এ বিষয়ে আমাদের করণীয় এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে দৃশ্যমান উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী কেবলগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা, স্থানীয়দের কেবলের সংস্পর্শে আসলে সম্ভাব্য বিপদ থেকে সুরক্ষা দেয়াও জরুরি। সন্দ্বীপের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাউবোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উপজেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে।' নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি চালু হওয়ার সাত-আট বছরের মধ্যেই সন্দ্বীপ চ্যানেলের তীরের ভাঙন ও বৈদ্যুতিক কেবল দৃশ্যমান হওয়ায় বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগ সমাধানের কোনো প্রযুক্তি জানে না। এক্ষেত্রে প্রকল্প নেয়ার সময় সম্ভাব্যতা যাচাই ও সংকটকালে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে গাফিলতি ছিল কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি। ভাঙন তীব্র হলে তীরবর্তী এলাকায় চলাচলকারী নৌযানের আঘাতে কেবল বিচ্ছিন্ন হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকির আশঙ্কাও উঁকি দিচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা। জানা গেছে যে, সন্দ্বীপ চ্যানেলের তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে মোট ৪২ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক কেবল ব্যবহৃত হয়েছে। রক্ষা ও কেবল বার দেয়ার জন্য এটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকা থেকে সন্দ্বীপের বাউরিয়া এলাকায় সঞ্চালন করা হয়েছে। রোবটের মাধ্যমে জাহাজ থেকে কেবল দুটি চ্যানেলের তলদেশের ১০ ফুট মাটি খুঁড়ে বসানো হয়েছিল। তবে তীরবর্তী এলাকায় পৌঁছালে কেবল দুটির ভূগর্ভস্থ গভীরতা পাঁচ ফুট হয়ে যায়, যার কারণে বাউরিয়া ইউনিয়ন এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হলে বৈদ্যুতিক কেবল দুটি দৃশ্যমান হয়ে যেতে পারে। যদি ভাঙন আরও তীব্র হয়, তাহলে সাবমেরিন কেবল আরো বেশি দৃশ্যমান হবে, যা সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে বলেও সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। পিডিবির প্রকৌশলীরা বলছেন, সাত-আট বছর আগে রোবটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈদ্যুতিক কেবল বসানো হয়েছিল। এখন দেশীয় প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ কেবল উন্মুক্ত হয়ে আসায় বর্তমানে কিছুই করার সুযোগ নেই। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া এই সংকট সমাধানের অন্য কোনো উপায় নেই বলে তারা জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের আগে সন্দ্বীপে জেনারেটরের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পৌর এলাকায় আড়াই হাজার গ্রাহককে রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ দেয়া হতো। বর্তমানে প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার ওই দ্বীপটিতে ৫৩ হাজার বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১১-১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরো দ্বীপকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে এলে সন্দ্বীপে সর্বোচ্চ ৫০-৬০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিতরণের সক্ষমতা রয়েছে পিডিবির।

সূত্র : বণিক বার্তা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সকালে খালিপেটে কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাচ্ছেন? জানুন কি উপকারিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


সকালে খালিপেটে কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাচ্ছেন? জানুন কি উপকারিতা

প্রাচীনকাল থেকেই রান্নার মসলা ও ভেষজ উপাদান হিসেবে কাঁচা হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। এর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের নানা উপকারে ভূমিকা রাখতে পারে। অনেকেই সকালে খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। আজ আমরা আলোচনা করব সকালে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক

কাঁচা হলুদে থাকা কারকিউমিন নামক উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে মৌসুমি সর্দি-কাশি ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

হজমশক্তি উন্নত করে

সকালে কাঁচা হলুদ খেলে হজম প্রক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে। এটি পেট ফাঁপা, গ্যাস ও বদহজমের মতো সমস্যাও কিছুটা কমাতে পারে।

প্রদাহ কমাতে কার্যকর

শরীরের বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে হলুদ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান জয়েন্টের ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে

কাঁচা হলুদ শরীরের ভেতর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

লিভারের জন্য উপকারী

লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে হলুদ সহায়ক বলে মনে করা হয়। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদের উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত হলুদ গ্রহণ করা উচিত নয়।

তবে যাদের পিত্তথলির সমস্যা, কিডনিতে পাথর বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনের ইতিহাস রয়েছে, তাদের কাঁচা হলুদ নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে পেটের অস্বস্তি বা অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

সূত্র: আনন্দবাজার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইএলও সম্মেলনের সহসভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের নাহিদা সোবহান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:২৬ এম


আইএলও সম্মেলনের সহসভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের নাহিদা সোবহান

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান।

মঙ্গলবার (২ জুন) জেনেভায় জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

বৈশ্বিক শ্রমনীতি ও শ্রম অধিকারবিষয়ক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ফোরামে বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে দেশের কূটনৈতিক অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এতে আরো বলা হয়, শ্রম অধিকার ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিশ্বের শীর্ষ এই সম্মেলনে সভাপতি পদে উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো এবং সহসভাপতি পদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহানের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্তিনেজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান দায়িত্ব পালন করছেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহসভাপতি পদে সংস্থার ১৮৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গণতন্ত্রায়ন, শোভন কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার ও শ্রমিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও আস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

পরিবর্তনশীল বিশ্বে শ্রম খাতের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় বহুপাক্ষিক কূটনীতি জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

সম্মেলনের সহসভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আইএলওর সদস্য রাষ্ট্রসমূহ এবং অংশীজনদের মধ্যে নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

আইএলওর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন সর্বোচ্চ ফোরাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একে বিশ্বের শ্রম সংসদ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সরকার, শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে শ্রম খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। এ বছরের সম্মেলনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%