ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর হবে আঞ্চলিক শিপিং হাব


২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর হবে আঞ্চলিক শিপিং হাব

চট্টগ্রাম, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরকে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতামূলক আঞ্চলিক শিপিং হাবে পরিণত করার জন্য সরকার ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেছে। বন্দরের অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বখ্যাত বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

বন্দরের দীর্ঘদিনের পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জাহাজের অবস্থানকাল (টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম) এবং কনটেইনার বন্দরে পড়ে থাকার সময় (ডুয়েল টাইম) কমানোর লক্ষ্যও এই উদ্যোগের অন্যতম অংশ। লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, ভৌত অবকাঠামো আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান এবং বিস্তৃত পশ্চাৎভূমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সরকার অঞ্চলটিকে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও শিপিং লজিস্টিকসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে উদ্যোগী হয়েছে। এই লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের চালু ও নির্মাণাধীন কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিশ্বের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘ভারতের গণতন্ত্রে ২০ কোটি মুসলিমের অবস্থান কী?’

এছাড়া, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার মেগা প্রকল্প, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) কাঠামোর আওতায় মাতারবাড়ী বন্দরে জাপানের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগের আগ্রহ দেশের বন্দর, নৌপরিবহন ও বিমান চলাচল খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফরের সময় দেশটি মাতারবাড়ী বন্দরে অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বাসসকে জানান, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও চট্টগ্রাম বন্দর দীর্ঘদিন ধরে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং কনটেইনার দীর্ঘ সময় বন্দরে পড়ে থাকার সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। উন্নত বন্দরগুলোতে কনটেইনারের অবস্থানকাল দুই দিনের কম হলেও চট্টগ্রাম বন্দরে তা নয় দিনের বেশি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জাহাজের গড় অবস্থানকালও আড়াই দিনের বেশি।

তিনি বলেন, বন্দরের দক্ষতা পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক হলো জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম। অর্থাৎ, জাহাজ বন্দরে আসার পর পণ্য ওঠানো-নামানো শেষ করে ছেড়ে যেতে যে সময় লাগে। অতীতে চট্টগ্রাম বন্দরে এ সময় ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত লাগত। জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনেক মেইন লাইন অপারেটর (এমএলও) বাংলাদেশে জাহাজ ও কনটেইনার পাঠাতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল।

বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড ৩৪ লাখ টিইইউস (টোয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮০ লাখ টন সাধারণ পণ্য এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। দেশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সাধারণ পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বন্দরে প্রায় ২১ লাখ ৪০ হাজার টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৯২ বছরের শিক্ষক ডেরেক বার্কারের বিরুদ্ধে বালককে ধর্ষণে সহপাঠীকে প্ররোচনার অভিযোগ

বন্দরের সেবা সহজ ও দ্রুত করতে সম্প্রতি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ফলে কনটেইনার ও পণ্যগ্রহীতাদের বিলিং কার্যক্রম টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

বন্দরের পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) এবং সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের পোর্ট অব সিঙ্গাপুর অথরিটির (পিএসএ) সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ ছাড়া ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস ৫৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এটি চালু হলে বছরে আট লাখের বেশি টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। এতে দেশের সামগ্রিক পণ্য পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়বে।

আরও পড়ুন: কেনিয়ায় ১৯১ জন হত্যার দায়ে ধর্মীয় নেতার সাজা

গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশ্বখ্যাত বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ১৫ বছর মেয়াদি একটি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ঈসা কাজিম প্রতিনিধিত্ব করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ পরিচালনাকারী নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে বন্দরের সার্বভৌম কর্তৃত্ব, জমি এবং মূল সম্পদের মালিকানা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের অধীনেই থাকবে।

চুক্তির আর্থিক শর্ত অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড অগ্রিম প্রায় ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করবে। এর ২৫ শতাংশ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ কার্যক্রম শুরুর আগে পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রথম ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি টিইইউস কনটেইনারের বিপরীতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ হারে রয়্যালটি পাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্ধারিত ফি দেবে। চুক্তিতে বছরে ন্যূনতম ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নিশ্চয়তাও রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের তিনটি ব্লাড ব্যাংকের ফ্রিজের নিয়ন্ত্রণ হ্যাক

বন্দর সূত্র জানায়, চুক্তিতে পরিচালন দক্ষতা নিশ্চিত করতে কঠোর কর্মদক্ষতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত মান অর্জনে ব্যর্থ হলে আর্থিক জরিমানার বিধানও রয়েছে। ক্রেনের উৎপাদনশীলতা কিংবা ট্রাকের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইমের মতো সূচকে টানা তিন মাস নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হলে এ জরিমানা কার্যকর হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনশক্তির কর্মসংস্থান, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের স্থানীয় সংরক্ষণ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার শর্তও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিদ্যমান অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বে টার্মিনাল প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নতুন ব্রেকওয়াটার, নেভিগেশন চ্যানেল, জেটি এবং রেল ও সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এসব অবকাঠামো চালু হলে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টিইইউস ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বন্দরের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ৩০ লাখ টিইইউস বাড়বে।

অন্যদিকে, বড় ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি এবং মূল বন্দরের জেটিতে জাহাজের চাপ কমাতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে। বন্দরের কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জিজিআই পোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তিও এ উদ্যোগকে সহায়তা করছে।

আরও পড়ুন: বোমা হামলার হুমকিতে ডাবলিন-রোম উড়োজাহাজ ফ্রান্সে জরুরি অবতরণ

ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ কাগজবিহীন করতে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে পণ্য খালাসের নথিপত্র প্রক্রিয়ায় ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হয়েছে। ডেলিভারি অর্ডারের আবেদন থেকে শুরু করে বন্দরের গেট দিয়ে পণ্যবাহী যানবাহনের চূড়ান্ত বহির্গমন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো ধাপ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে সিস্টেমে ধারাবাহিক যাচাইব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এতে নথি জালিয়াতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের সুযোগ কমেছে। পাশাপাশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীরা যেকোনো সময় দূর থেকেই তাদের ফাইলের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারছেন।

বন্দরের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের তাৎক্ষণিক সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।

এ ব্যবস্থায় শুল্ক কর্তৃপক্ষ কোনো কনটেইনার আটকে রাখা বা তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট তথ্য সিস্টেমে পৌঁছে যাবে। ফলে শুল্ক বিভাগের ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত ওই কনটেইনারের পরবর্তী কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবের নাজরানে সম্ভাব্য বিপদের জন্য দুটি সতর্কতা জারি

সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, আধুনিক ভারী যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং ডিজিটাল রূপান্তরসহ বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও সক্ষম প্রবেশদ্বারে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রম আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন ‘স্মার্ট বন্দরে’ রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বন্দরের কার্যক্রম আধুনিকায়ন, পরিবহন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলোরাডোর পাহাড়ে দড়ির বাঁধন ছিঁড়ে দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ পি.এম


কলোরাডোর পাহাড়ে দড়ির বাঁধন ছিঁড়ে দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানি

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের দুর্গম পাহাড়ে পর্বতারোহণের সময় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পাহাড় থেকে নামার প্রক্রিয়ায় তাদের ব্যবহৃত দড়ির বাঁধন ছিঁড়ে যাওয়ার ফলে তারা অনেকটা উঁচু থেকে নিচে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেডেন মাতসুদা (১৯) এবং জ্যাকসন ডনলন (২০) রয়েছেন। তাদের মরদেহ ২৮ অক্টোবর পশ্চিম অ্যাপোস্টল পর্বতের একটি উপত্যকা থেকে উদ্ধার করা হয়। তারা কয়েক দিন আগে সপ্তাহান্তে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন।

চাফি কাউন্টি শেরিফের অফিস জানায়, ময়নাতদন্তে দুজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলে জানা যায়, পাহাড় থেকে দড়ির সাহায্যে নিচে নামার সময় তাদের ব্যবহৃত দড়ির বাঁধন হঠাৎ ভেঙে যায়, যার ফলে তারা নিচে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে।

এ সময় এলাকায় ভারী তুষারপাত হচ্ছিল। তবে তুষারঝড়ের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তুষারঝড় সরাসরি তাদের মৃত্যুর কারণ ছিল না।

দুই বন্ধু কলোরাডো মাউন্টেন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। কেডেন কলোরাডোর রিজওয়ে এলাকার বাসিন্দা এবং বনাঞ্চলের অগ্নিনির্বাপণকর্মী হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছিলেন। অন্যদিকে, নিউইয়র্কের কুইন্সবারির বাসিন্দা জ্যাকসন পাহাড়ি পথপ্রদর্শক হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

চাফি কাউন্টির শেরিফ অ্যান্ডি রোরিচ জানান, দুজনই পাহাড়ের চূড়ায় উঠে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভালোবাসতেন। তাদের মৃত্যুতে পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সূত্র: এবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানিকগঞ্জে তিন হত্যা মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ পি.এম


মানিকগঞ্জে তিন হত্যা মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময়, মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান সব আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মো. জিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজনের মধ্যে রয়েছেন—মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাদের প্রত্যেককেও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া, শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাসপ্রাপ্ত চারজন হলেন—উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলা।

মামলার রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।

মামলার বিবরণে জানা যায়, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তার স্বামী ও সন্তান না থাকায়, মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তার স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিরোধের সমাধান হয়নি।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তার মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্যান্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এই নৃশংস হামলায় আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান। এ ঘটনার পর ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এই মামলায় মোট ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনানীতে ৯ দিন ধরে জ্বলছে নলকূপের আগুন, বাপেক্স ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ পি.এম


ইনানীতে ৯ দিন ধরে জ্বলছে নলকূপের আগুন, বাপেক্স ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করবে

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ থেকে নির্গত প্রাকৃতিক গ্যাসের আগুন টানা নয় দিন ধরে জ্বলছে। আগুনের তীব্রতা এখনও কমেনি এবং গ্যাসের সংমিশ্রণ বন্ধ করাও সম্ভব হয়নি। বরং, গ্যাসের সঙ্গে অবিরাম পানি বের হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) আপাতত আগুন নিভানোর পরিবর্তে টানা ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংস্থাটির মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করলে ভূগর্ভস্থ অতিরিক্ত চাপের কারণে আশপাশের অন্য কোনো স্থান থেকে গ্যাস বেরিয়ে আসতে পারে, যা ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে বাপেক্সের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্যাসের নির্গমন, আগুনের রং ও তীব্রতা এবং পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে। এ লক্ষ্যে সেখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে এবং গ্যাসের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই সময়ের মধ্যে আগুনের তীব্রতা ও গ্যাসের প্রবাহে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না এলে ঢাকা থেকে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল এসে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু ছিটিয়ে পাইপের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিরা সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।

এদিকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এলজিইডির সড়কের দুই পাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। তবে নিরাপত্তাবেষ্টনী সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দা ও ঘুরতে আসা পর্যটকরা সেখানে ভিড় করছেন এবং অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের উদ্দেশ্যে ভিডিওচিত্র ধারণ করছেন।

টানা ৯ দিন ধরে আগুন না নেভায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাজ করলেও অন্যদিকে এই অঞ্চলে সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের প্রত্যাশায় মুখিয়ে আছেন অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপান ভারতের ব্যবসায় ১০-এ ১০ করতে চায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ পি.এম


জাপান ভারতের ব্যবসায় ১০-এ ১০ করতে চায়

ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য জাপান উদ্যোগী হয়েছে। টোকিওর মারুবেনি করপোরেশন, যা দেশটির অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, আগামী ১০ বছরে ব্যবসার পরিধি বর্তমানের তুলনায় ১০ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসায়ুকি ওমোতো, উত্তর আমেরিকার পরবর্তী বড় বাজার হিসেবে ভারতের সম্ভাবনার দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। তিনি অক্টোবরের মাঝামাঝি নিক্কেইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "ভারতই একমাত্র দেশ, যেখানে বাজার দুই অঙ্কের হারে বাড়ছে।" তার মতে, ভবিষ্যতেও এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ভোগ্যপণ্য ও উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। ওমোতো উল্লেখ করেন, "ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণির জনসংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার কাছাকাছি।" তিনি আরও বলেন, "বাকি ১০০ কোটি মানুষের আয়ও বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে বিশাল ভোক্তাবাজার তৈরি করবে।"

বর্তমানে মারুবেনির সবচেয়ে বড় মুনাফার উৎস যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিষ্ঠানটি সফল হওয়া ব্যবসায়িক মডেল ভারতেও প্রয়োগ করতে চায়। এ জন্য দ্রুত পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা সম্পদ বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন ওমোতো। তিনি বলেন, "ভারত এখন মারুবেনির প্রবৃদ্ধির পরবর্তী প্রধান লক্ষ্য।"

ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি তিনটি কৌশল নির্ধারণ করেছে। সেগুলো হলো- সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উৎপাদন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, ক্রমবর্ধমান ভোক্তা ব্যয়ের সুযোগ কাজে লাগানো এবং ভারতকে কেন্দ্র করে অন্যান্য উদীয়মান বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা।

এসব লক্ষ্য সামনে রেখে, গত মার্চে মারুবেনি কনজ্যুমার প্ল্যাটফর্ম ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠা করেছে। নতুন প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য ও পানীয়, রেস্তোরাঁ এবং ভোগ্যপণ্য খাতের ব্যবসায় বিনিয়োগ ও সেগুলোর প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। স্থানীয় বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ কাজে লাগাতে এর শীর্ষ পদগুলোতে ভারতীয়দের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, আবাসন খাতেও ব্যবসা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মারুবেনি। ২০২০ সালে মুম্বাইয়ের আবাসন বাজারে প্রবেশের পর পুনেসহ কয়েকটি শহরে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। ২০২৬ সালে ভারতে পঞ্চম আবাসন প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে সুযোগ তৈরি হলে হায়দরাবাদ, দিল্লি ও বেঙ্গালুরুতেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিও প্রতিষ্ঠানটির নজরে রয়েছে। মারুবেনি ভারতের মোট তামা আমদানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডাটা সেন্টার নির্মাণের প্রসারে দেশটিতে তামারের চাহিদা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ওমোতো।

জাপানের সিটিজেন মেশিনারি ও ব্রাদার ইন্ডাস্ট্রিজের যন্ত্রপাতি ভারতে বিক্রি ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজও করে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে, ভারতের ব্যবসায়িক পরিবেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিসি ব্যবস্থা কার্যকর করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উৎপাদন খাতের বিকাশের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওমোতো। তার মতে, সেবা খাত বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হয়ে উঠলেও উৎপাদনশিল্পের প্রসারে ভারতের নীতিগত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

ভারতের সম্ভাবনা তুলে ধরে ওমোতো বলেন, "একবিংশ শতাব্দী ভারতের শতাব্দী।" বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ভারতই এখন সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় জায়গা বলে তিনি মনে করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%