বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:১৩ এম
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের কারণে গৃহবধূ গোলাপি খাতুন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সহ তিনজনকে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বুধবার (৫ আগস্ট) র্যাব-১৩ থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন: মামলার প্রধান আসামি মো. হাসিনুর রহমান (৪৬), ৩ নম্বর আসামি মো. আব্দুল মতিন (৪৫) এবং ৬ নম্বর আসামি মো. রহমত আলী (৫৫)। তাদের সকলের বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাওয়াইর এলাকায় অবস্থিত।
র্যাব জানায়, নিহত গোলাপি খাতুনের সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি কুড়িগ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলার শুনানির তারিখ ছিল গত ২৯ জুলাই।
তদন্তে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই মামলার ২ নম্বর আসামি হেলাল মিয়া জমির বিরোধ মীমাংসার কথা বলে মোবাইল ফোনে গোলাপি খাতুনকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে ৩০ জুলাই রৌমারী উপজেলার পুরাতন যাদুরচর এলাকার একটি ডোবার পানিতে তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ৩০ জুলাই রৌমারী থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।
র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, মামলাটির গুরুত্ব এবং তাৎক্ষণিকতায় র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, র্যাব-১৩, রংপুর এবং র্যাব-৪, সিপিসি-২, সাভার ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার সাভারের দক্ষিণ রাজাশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি হাসিনুর রহমানকে গ্রেফতার করে।
এরপর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল ৩টার সময় সাভারের আইচানোয়াদ্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর দুই আসামি আব্দুল মতিন ও রহমত আলীকেও গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার কৃতদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে বড় ব্যবধানে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার ভরিতে ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা বাড়িয়ে, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম সংগঠনটি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে বাজুস একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে গেছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হবে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি মূল্য হবে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।
একটি সময়ের মধ্যে, সবশেষ গত ৩১ জুলাই সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন, ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি মূল্য ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই।
इस वर्ष अब तक देशে স্বর্ণের দাম ৯৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে দাম ৪৮ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং ৪৯ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়।
স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে দেশের বাজারে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ২৯২ টাকা বাড়িয়ে, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ দিক থেকে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ৩১ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং বাকি ৩০ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখান থেকে দাম বেড়েছিল ১০ বার এবং কমেছিল মাত্র ৩ বার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনে দিনে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্যবসায়িক লেনদেন সঠিকভাবে বজায় রাখার জন্য, সেই সঙ্গে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা নিয়মিতভাবে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন। সুতরাং, প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময়ের হার জানার প্রয়োজন সকলের জন্য।
বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার আজকের বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) বিনিময় হার নিচে উল্লেখ করা হল—
মুদ্রা ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা)
মার্কিন ডলার ১২৩.৮০ ১২৩.৮২
ইইরো ১৪২.৪৫ ১৪২.৫১
ব্রিটিশ পাউন্ড ১৬৬.২৩ ১৬৬.৩৫
ভারতীয় রুপি ১.২৯ ১.২৯
চীনা ইউয়ান ১৮.৩১ ১৮.৩২
সিঙ্গাপুর ডলার ৯৬.৫০ ৯৬.৫৯
অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৬.৬৩ ৮৬.৭১
জাপানি ইয়েন ০.৭৮ ০.৭৮
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় অনুষ্ঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আজ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনার মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে।
২২ আসামির বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচারের শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
এ মামলায় মোট পাঁচজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন— চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।
এই মামলার পলাতক অন্য আসামির মধ্যে আছেন— সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
এর আগে, ৭ এপ্রিল, অন্তত তিনটি অভিযোগের ভিত্তিতে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপ্রিল ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগের অধীনে, ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় নির্দিষ্ট করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে, তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম ও হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া, জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার বিষয়ে তিন নম্বর অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে সন্ত্রাসবিরোধী এবং বিস্ফোরক মামলায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিচারক।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জেলার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এই আদেশটি প্রদান করেন।
এর আগে একই দিনে দুপুরে সদর উপজেলার ঘটকচর বাজার থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দুয়া ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন ফরাজীকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ইকবাল ফরাজী কেন্দুয়া ইউনিয়নের দত্তেরহাট গ্রামের ইস্রাফিল ফরাজীর ছেলে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইকবাল হোসেন ফরাজীকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশ কর্তৃক দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী এবং বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ইকবালকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, নির্দিষ্ট কোন মামলার এজাহারে গ্রেফতার ইকবালের নাম না থাকলেও পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ