ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পুলিশকে কামড়ে হাতকড়াসহ পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আসামির


পুলিশকে কামড়ে হাতকড়াসহ পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আসামির

চট্টগ্রামের আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার সময় আসামি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্য এবং মামলার বাদীসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ মসজিদ ঘাটা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, যিনি উত্তর করলডেঙ্গা শিকদার বাড়ির বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে আবদুল মান্নান নামের এক ব্যক্তি সিআর মামলা দায়ের করেছিলেন। উক্ত মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

আরও পড়ুন: রংপুরে ডাম্পট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, ১৮ আহত

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় মামলার বাদীও পুলিশের সঙ্গে ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া পরানোর সময় মহিউদ্দিন পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি পুলিশের সদস্যকে কামড় ও আঁচড় দিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যান। পরে পুলিশ আবারও অভিযান চালিয়ে মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

এই ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন এসআই আবদুল হালিম (৪৮), এএসআই মাসুম বিল্লাহ (৩৫) এবং কনস্টেবল হাসানুজ্জামান (৩২)। তারা রাত সাড়ে ১২টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন।

এছাড়া মামলার বাদী আবদুল মান্নান (৫৫) এবং মোক্তার হোসেন (৪০)ও আহত হয়েছেন।

এদিকে, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মহিউদ্দিনের আত্মীয় এবং চরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ জেবল হোসাইনকে (২৩) আটক করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গেলে তিনি পুলিশ সদস্যকে কামড় ও আঁচড় দেন। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মূল মামলার আসামি না হলেও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রাম পুলিশ জেবল হোসাইনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনে নতুন জার্সিতে ভক্তদের চমকে দিলেন মেসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


স্পেনে নতুন জার্সিতে ভক্তদের চমকে দিলেন মেসি

লিওনেল মেসি, বার্সেলোনার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটিয়ে পাঁচ বছর আগে স্পেন ত্যাগ করেছিলেন। তবে স্পেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও অটুট রয়েছে। সুযোগ পেলেই আর্জেন্টাইন মহাতারকা স্পেনে ছুটে যান। সম্প্রতি তিনি সন্তানদের নিয়ে স্পেনে গিয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন।

গত বছরের নভেম্বরে, মেসি গোপনে বার্সেলোনার সংস্কারাধীন ন্যু ক্যাম্পে ফিরে এসেছিলেন। এরপর থেকেই কাতালান ক্লাবটিতে তার ফেরার গুঞ্জন জোরালো হতে থাকে। তবে স্পেনে নতুন অধ্যায় শুরু করতে গত এপ্রিলে তিনি দেশটির পঞ্চম স্তরের ক্লাব কর্নেলার মালিকানা কিনেছেন।

এবার সেই কর্নেলার সবুজ-সাদা জার্সিতে তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও চিরোকে নিয়ে হাজির হয়েছেন মেসি। তার পরিবারের সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে কর্নেলা।

ছবিটি পোস্ট করে ক্লাবটি উল্লেখ করেছে, "লিও মেসি ও তার পরিবার এই মৌসুম শুরু করতে প্রস্তুত হচ্ছেন। কর্নেলা থেকে সারা বিশ্বে তার মতো সবুজ জার্সি পরা মানুষের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এই দারুণ চ্যালেঞ্জ শুরু করতে সবাই মুখিয়ে আছে। এগিয়ে চলো, কর্নেলা।"

মেসির নতুন ভূমিকায় স্পেনে তার উপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। খেলোয়াড় হিসেবে স্পেন ছাড়লেও, এবার ভিন্ন পরিচয়ে দেশটির ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি।

এদিকে, ৩৯ বছর বয়সেও মাঠে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন মেসি। সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির হয়ে মন্ট্রিলের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী জয়ে তিনি একাই চার গোল করেছেন। বয়স যেন তার পারফরম্যান্সে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনফান্তিনোকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে: প্লাতিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


ইনফান্তিনোকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে: প্লাতিনি

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি উয়েফার সাবেক সভাপতি এবং ফ্রান্সের ফুটবল কিংবদন্তি মিচেল প্লাতিনি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ফুটবলের নিয়মকানুনের রক্ষক হিসেবে ইনফান্তিনো যথেষ্ট কার্যকরী হতে পারেননি।

সম্প্রতি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেন। উয়েফাসহ একাধিক ফুটবল সংস্থার তীব্র বিরোধিতার মুখে ফিফা শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। তবে এই সময়ের মধ্যে ৫৬ বছর বয়সী সুইস-ইতালিয়ান এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ক্যানালকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্লাতিনি ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "অর্থনৈতিক বিষয় এক জিনিস। কিন্তু ইনফান্তিনো ব্যর্থ হয়েছেন, কারণ তিনি ফুটবলের নিয়মের একজন রক্ষক এবং সেগুলোকে সম্মান করেননি।"

প্লাতিনি বিশ্বকাপ চলাকালে হাইড্রেশন ব্রেক এবং ফাইনালে ৩০ মিনিটের হাফটাইম বিরতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "বিজ্ঞাপন বিরতি কোনো নিয়ম নয়। ফাইনালে ৩০ মিনিটের হাফটাইম বিরতিও নিয়মের মধ্যে পড়ে না। আর সেই লাল কার্ড, সেটা ছিল আরও বাজে বিষয়।"

ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে প্লাতিনি আরও বলেন, "তিনি নিয়মের রক্ষক। কিন্তু যেহেতু তিনি সেগুলোকে পাত্তা দেন না, তাকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।"

প্লাতিনি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অর্থ ও ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহের অভিযোগও তুলেছেন। তার ভাষায়, "আমি সবসময় জানতাম, তিনি অর্থ ও ক্ষমতা ভালোবাসতেন।"

ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফার শীর্ষ পদে যাওয়ার দৌড়ে ছিলেন প্লাতিনি। তবে ২০১৫ সালে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েন তিনি। ব্লাটারের কাছ থেকে প্লাতিনিকে অবৈধভাবে ২০ লাখ ডলার দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই সময় উয়েফার সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান প্লাতিনি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

নিজের সেই সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে প্লাতিনি বলেন, "তিনি আমাকে নামাননি, বরং লাভবান হয়েছেন। কিন্তু এখন তাকে নিয়ে সারা বিশ্বে অনেক তদন্ত চলছে। গুঞ্জন রয়েছে, কীভাবে তিনি নির্দিষ্ট বিষয়ে এত কিছু জানতেন। দেখা যাক এরপর কী হয়।"

ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে চলমান বিতর্ক ও তদন্তের বিষয়ে ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিই এখন ফুটবল অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৪ উপজেলায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি রেকর্ড হালনাগাদ করা হচ্ছে : মহাপরিচালক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৮ পি.এম


৩৪ উপজেলায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি রেকর্ড হালনাগাদ করা হচ্ছে : মহাপরিচালক

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, দেশের ৬ জেলার ৩৪ উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড হালনাগাদের কাজ শুরু হয়েছে। ভূমি সেবার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে অবস্থিত ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, সরকারের উদ্দেশ্য হলো ভূমি সেবায় মানুষের দুর্ভোগ কমানো। এর অংশ হিসেবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড হালনাগাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের সফলতার ভিত্তিতে পরবর্তীতে সারা দেশে এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, "আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূমি জরিপ, রেকর্ড সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করা হলে মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে।" একই সঙ্গে ভূমি সংক্রান্ত তথ্য আরও নির্ভুল ও সহজলভ্য হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, ভূমি একটি মৌলিক সম্পদ, যার সঙ্গে দেশের প্রায় সকল মানুষের সম্পর্ক রয়েছে। ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান, ভূমির সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন মানুষ বা প্রতিষ্ঠান খুব কমই আছে। তাই ভূমি ব্যবস্থাপনায় মানুষের সম্পৃক্ততা ব্যাপক এবং সেবা নিতে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগের সম্ভাবনাও বেশি।

তিনি উল্লেখ করেন, "ভূমি সেবা নিতে গিয়ে মানুষের যে দুর্ভোগ হয়, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।" এই কষ্ট ও ভোগান্তি কমানোর জন্য সরকার ভূমি ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে। অধিদপ্তরও এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

মহাপরিচালক জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী ভূমি ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার জন্য একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে ডিজিটাল ভূমি জরিপ ও রেকর্ড ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ভূমি সংক্রান্ত তথ্য আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকবে এবং মানুষ সহজে প্রয়োজনীয় সেবা পাবে।" সব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য মানুষের ভোগান্তি কমানো।

বর্তমানে ভূমি জরিপের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, আগের তুলনায় জরিপ পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অতীতে যেসব যন্ত্রপাতি ও পদ্ধতি ব্যবহার করে ভূমি মাপা হতো, বর্তমানে সেগুলোর পরিবর্তে আরও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

মহাপরিচালক বলেন, "আমরা যে পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের সময় পরিমাপ করতাম, সেই পদ্ধতি এখন আর নেই।" এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০০২-০৩ সালের দিকে যে ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হতো, এখন সেগুলো ব্যবহার করা হয় না।

ডিজিটাল ভূমি জরিপ ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগের অংশ হিসেবে ৬ জেলার ৩৪ উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, "আমাদের একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৬ জেলার ৩৪ উপজেলায় কাজ শুরু হয়েছে।" সেখানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড আপডেট করা হচ্ছে। এই পাইলট প্রকল্পের সফলতা মূল্যায়নের পর পরবর্তী পর্যায়ে সারাদেশে এটি রেপ্লিকেট করা হবে।

তিনি বলেন, একটি নতুন পদ্ধতি সারা দেশে বাস্তবায়নের আগে সীমিত পরিসরে এর কার্যকারিতা যাচাই করা জরুরি। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কোথায় কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, প্রযুক্তি ব্যবহারে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন এবং কতটা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কাজ করা সম্ভব, এসব বিষয় মূল্যায়ন করা যাবে।

এদিকে, ভূমি জরিপের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে জনবল সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মহাপরিচালক। তিনি বলেন, "অনুমোদিত পদের তুলনায় আমাদের জনবল অনেক কম।"

তবে গত দুই বছরে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে গত দুই বছরে প্রায় ২ হাজার জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসে আরও প্রায় ৫০০ জন নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

জনবল সংকটের কারণে ভূমি জরিপের কাজ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ সমস্যা সমাধানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জরিপের কিছু কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মহাপরিচালক বলেন, ২০১২ সালের আগে ভূমি জরিপের প্রাথমিক ফিল্ডওয়ার্কের কিছু অংশ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হতো। তখন সরদার আমিন, বদর আমিনসহ মৌসুমি ও চুক্তিভিত্তিক জনবল ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের কাজ করা হতো। কিন্তু ২০১২ সালের পর থেকে এ ধরনের ব্যবস্থা আর চালু নেই।

তিনি বলেন, "২০১২ সালের পর এটি করা হচ্ছে না। যার কারণে আমাদের যে লোকবল আছে, সেই লোকবলের মাধ্যমে আমরা কাজের গতি বাড়াতে পারছি না।"

এ সমস্যা সমাধানে নতুন একটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে ভূমি জরিপের নির্দিষ্ট কিছু কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মহাপরিচালক বলেন, আউটসোর্সিংয়ের উদ্দেশ্য অধিদপ্তরের দায়িত্ব কমানো নয়; বরং সীমিত জনবল দিয়ে বৃহৎ পরিসরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা। পাইলট পর্যায়ে এ পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভূমি জরিপের সব তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনার বিষয়েও কথা বলেন মহাপরিচালক। তিনি জানান, অতীতে ভূমি সংক্রান্ত রেকর্ড বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত থাকলেও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিজস্ব কেন্দ্রীয় সংরক্ষণব্যবস্থা ছিল সীমিত।

তিনি বলেন, "আগে আমাদের রেকর্ড চারটি প্রতিষ্ঠানে রাখা হতো। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কালেক্টরেট, জেলা জজের কার্যালয় এবং তহসিল অফিসসহ বিভিন্ন জায়গায় রেকর্ড সংরক্ষণ করা হতো। আমাদের অধিদপ্তরেও সব রেকর্ড সংরক্ষণ করা হতো না।"

তবে এখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে নতুন জরিপের রেকর্ড অধিদপ্তরের নিজস্ব ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিডিএস (বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে) জরিপের রেকর্ড কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, "আমরা এখন থেকে আমাদের বিডিএস জরিপের রেকর্ডগুলো এখানে রাখব। গত দুই বছর আগে থেকেই এ কাজ শুরু হয়েছে।"

এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো জেলা বা উপজেলা থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ড পাওয়া না গেলে মানুষ যেন অধিদপ্তর থেকে তথ্য বা রেকর্ডের কপি পাওয়ার সুযোগ পান, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে রেকর্ড সংরক্ষণ করা হলে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও তথ্যের নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে পুরোনো নথি হারিয়ে যাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় রেকর্ড খুঁজে পেতে দীর্ঘ সময় লাগার মতো সমস্যাও কমবে।

তবে সব পুরোনো রেকর্ড একসঙ্গে ডিজিটাল ডাটাবেজে নিয়ে আসা একটি বড় কাজ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে সিএস, এসএ, আরএস, বিএসসহ বিভিন্ন সময়ের জরিপের রেকর্ড রয়েছে। এসব রেকর্ডের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করতে হবে।

নতুন জরিপ পরিচালনার ক্ষেত্রে আগের জরিপের রেকর্ডের গুরুত্ব রয়েছে উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, একটি নতুন জরিপের জন্য আগের জরিপকে ভিত্তি বা বেইসলাইন হিসেবে বিবেচনা করতে হয়।

ভূমি সেবা আধুনিকায়নের সামগ্রিক পরিকল্পনা সম্পর্কে মহাপরিচালক বলেন, ডিজিটাল জরিপ, রেকর্ড হালনাগাদ, কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ এবং পর্যাপ্ত জনবল, সবগুলো উদ্যোগ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি কার্যকর ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু প্রযুক্তি নয়, দক্ষ জনবল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ভূমি সংক্রান্ত সেবাকে মানুষের কাছে আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করা। এজন্য মাঠপর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি রেকর্ড সংরক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনাকেও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন, পাইলট প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এতে ভূমি মালিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে লাশ দাফন শুরু, নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


নেপালে লাশ দাফন শুরু, নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা

হিমালয় অঞ্চলে সুনামির মতো ভয়াবহ বন্যার ফলে সোমবার নেপালে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলোর দাফন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই ভয়াবহ বন্যার পানির স্রোতে গ্রাম ও জনপদ সম্পূর্ণভাবে ভেসে গেছে। বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। অন্যদিকে, অনেক পরিবারকে উপচে পড়া মর্গে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করার কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত বুধবার বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে এসে বিভিন্ন গ্রাম ও শহরকে ভাসিয়ে দেয়। এতে নেপাল ও সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত মিলিয়ে অন্তত ৭৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিছু মরদেহ স্রোতে ভেসে ভারতের ভূখণ্ডে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখনো অন্তত ৩ হাজার ৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে যাওয়া পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৯৩৩ জন শ্রমিকও রয়েছেন।

রোববার, নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্য ও প্রকৌশলীরা হিমালয়ের নদী উপত্যকায় অবস্থিত ত্রিশূলী-৩ এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে খননকাজ শুরু করেন।

এর আগে উদ্ধারকারীরা সফলভাবে টানেলের ভেতর একটি পাইপ ঢোকাতে সক্ষম হন।

দুর্যোগের সময় বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন। ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের ৩৩ বছর বয়সী সুরেন্দ্র দৌলুরি জানান, তিনি যে আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্পে কাজ করছিলেন, সেখানে প্রচণ্ড পানির স্রোতে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে উদ্ধারের চার দিন পর এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব জোরে একটি শব্দ শুনতে পাই। এরপর দেখি টারবাইন ফ্লোর কাদা ও পানিতে ডুবে গেছে। সেখানে ছয়জন শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের মধ্যে পাঁচজনকে উদ্ধার করতে পেরেছিলাম। তবে একজনের মৃত্যু হয়েছে।’

কিছু শ্রমিক উঁচু জায়গা কিংবা নির্মাণ এলাকার এমন অংশে পৌঁছাতে সক্ষম হন, যেখানে পানির ভয়াবহ স্রোত পৌঁছাতে পারেনি।

নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রোববার রাতভর বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছে। খনন করা এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় কাজ কিছু সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে উদ্ধারকাজ আবার শুরু করা হয়।

ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে এই দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। ফলে পানি, বরফ ও ধ্বংসাবশেষ নদীপথে নেমে আসে।

এই প্রবল স্রোতের কারণে বিশাল কয়েকটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এসব হ্রদ উদ্ধারকাজে নতুন কোনো ঝুঁকি তৈরি করে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন জরুরি বিভাগের কর্মীরা।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বত সীমান্তের একটি বন্দর এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসের পর নতুন একটি হ্রদ সৃষ্টি হয়। এ কারণে সেখানে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত চীনা উদ্ধারকারীদের রোববার নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চীনের হিসাবে, তিব্বতে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা রোববার জানিয়েছে, দেশটির অংশে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৫০২ জনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে নিশ্চিতভাবে ৭৮১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এত বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত হিমায়িত সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় নেপালি কর্তৃপক্ষ মরদেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই দাফন শুরু করতে বাধ্য হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরদেহগুলো থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে পরে পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা যায় এবং পরিবারগুলো তাদের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারে।

স্বজন হারানো মানুষজন মরদেহ শনাক্তকেন্দ্রে জড়ো হচ্ছেন। সেখানে উদ্ধার হওয়া মরদেহের ছবি এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে। অনেক সময় ভয়াবহ দৃশ্য দেখে স্বজনরা চোখ বন্ধ করে ফেলছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%