ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
অপ্রতিম হত্যা

তুহিনের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধার, মিলল আরও তথ্য


তুহিনের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধার, মিলল আরও তথ্য

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় আটক তুহিনের বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পুলিশ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, পুরো ঘটনার বিস্তারিত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। তিনি সবাইকে সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা যাওয়া কিশোরের বাড়ি থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা আইফোনটি উদ্ধার করেছেন। অপ্রতিম তার মায়ের এই আইফোন নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়।

প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ও আলামতে দেখা যাচ্ছে যে, অপ্রতিমকে ওই আইফোনের জন্যই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন বিষয় অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল। একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। ওই কিশোরের বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি ছিল এবং তার মাথায় ক্যাপ ছিল। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তার গতিবিধি দেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়।

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজেও অপ্রতিমকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে ওই কিশোরকে।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ওই কিশোরের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ওই কিশোরের বাড়িতেও যান লাশ উদ্ধারের আগে। এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে শনিবার দুপুরে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ি এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত ৮টার দিকে সালমানপুর এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

অনুসন্ধানে তুহিনের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে থানায় মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছিল।

জানা গেছে, মো. তুহিনের বাড়ি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে তাকে আটক করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

অনুসন্ধানে জানা যায়, টাকা ও মোটরসাইকেল আত্মসাৎ, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে মো. তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে।

একটি অভিযোগপত্রে দেখা যায়, গত বছরের ২৬ এপ্রিল সদর দক্ষিণ মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সোহাগের পূর্বপরিচিত ছিলেন তুহিন। গত ২৭ মার্চ সোহাগ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার সিটি বাইক থেকে দুই লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন। পরে তুহিন মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন সোহাগ।

সোহাগের পরিবারের অভিযোগ, মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য সদর দক্ষিণ থানায় গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করে। এ ছাড়া, তৎকালীন এসআই আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে দুই দফায় মোট ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেন তারা। তবে টাকা নেওয়ার পরও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে দেওয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোহাগ। তিনি বলেন, তুহিন তাকে ডেকে নিয়ে কৌশলে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ শুধু জিডি গ্রহণ করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

সোহাগ আরও বলেন, ছোট অপরাধের বিচার না হলে অপরাধীরা পরবর্তী সময়ে আরও বড় অপরাধ করার সাহস পায়। তার দাবি, আগের অভিযোগের সময় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোটবাড়ি ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকের সঙ্গে তুহিন হোসেনের সম্পৃক্ততা ছিল। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকসহ আটক হওয়া সাত কিশোরের কয়েকজনের সঙ্গেও তার চলাফেরা ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ওই সময় কিশোরদের আটকের ঘটনায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম।

তুহিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেও তার পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কয়েকজন অপ্রতিমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। তবে এসব পরিচয় ও যোগাযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

জানা যায়, তুহিনকে আটকের পর শাহরিয়া আনাস নামে আরও একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। আনাসের সঙ্গে তুহিনের যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অপ্রতিমের মৃত্যুর পর নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক পোস্টে আনাস অপ্রতিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, অপ্রতিম মাঝেমধ্যে তাকে ছবি তোলার জন্য মেসেজ দিতেন।

তুহিনের বাড়ির পাশের এক নারী জানান, বাড়িতে তুহিন শান্ত থাকলেও বাইরে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে মিশতেন। তার বিরুদ্ধে আগে বন্ধুদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

আরেক নারী জানান, বিভিন্ন কারণে তুহিনের বাবা তাকে মারধর করে শাসন করতেন।

এদিকে, খবর পেয়ে তার এক খালা দুপুরে বাড়িতে আসার কথা জানালেও তুহিনের আচরণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁয় মিকচার মেশিনে অটোরিকশার ধাক্কা, নিহত প্রকৌশলী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


নওগাঁয় মিকচার মেশিনে অটোরিকশার ধাক্কা, নিহত প্রকৌশলী

নওগাঁয় সড়কের পাশে থেমে থাকা একটি মিকচার মেশিনের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় নিহত হয়েছেন রাশেদুজ্জামান নামে এক উপসহকারী প্রকৌশলী। এ ঘটনায় তার ১২ বছরের মেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁপানিয়া বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত রাশেদুজ্জামান কুড়িগ্রামের সদাগড় গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার পুত্র। তিনি তার পরিবার নিয়ে মহাদেবপুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। রাশেদুজ্জামান নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র এবং নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাশেদুজ্জামান তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নওগাঁ শহরের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে তারা অটোরিকশায় কর্মস্থল মহাদেবপুরে ফিরছিলেন।

রাত ৮টার দিকে হাঁপানিয়া বাজার এলাকায় সড়কের পাশে থেমে থাকা একটি মিকচার মেশিনের পেছনে দ্রুতগতির অটোরিকশাটি ধাক্কা দেয়। এই সংঘর্ষে অটোরিকশার সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই রাশেদুজ্জামানের মৃত্যু ঘটে। এ সময় তার স্ত্রী ও মেয়ে আহত হন।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মেয়ের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মনিরুল আলম জানান, রাশেদুজ্জামানকে রাত ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালে আনা হয় এবং হাসপাতালে আনার সময়েই তিনি মৃত ছিলেন।

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুলতানা খানম বলেন, রাশেদুজ্জামান শহরের একটি অনুষ্ঠানে শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মহাদেবপুরে ফিরছিলেন। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান।

নওগাঁ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, হাঁপানিয়া বাজার এলাকায় সড়কের পাশে থেমে থাকা একটি মিকচার মেশিনের পেছনে দ্রুতগতির অটোরিকশাটি ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার সামনের অংশ মিকচার মেশিনের ভেতরে ঢুকে যায় এবং দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
মানবতাবিরোধী অপরাধ

ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার পাশাপাশি সারা দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও উসকানির দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি এবং সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ প্রকাশ করেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ৫০০ পৃষ্ঠার এই রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করে। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ জুন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটি অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনটি সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় ইনুকে মোট ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের ঘটনায় তার দায় প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সহযোগিতার অভিযোগে ইনুর দায় প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আরেকটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তিতে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে তাকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এসব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস দেন।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ইনু ওই সভায় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এ অভিযোগটি প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তাদের একটি তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইনু। এ অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে ইনুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। পঞ্চম অভিযোগে গণমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি এবং সরকার পরিচালিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থনের অভিযোগ করা হয়। তবে এই দুই অভিযোগও প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে খালাস দেন।

ষষ্ঠ অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনুর ভূমিকার কথা বলা হয়। এ অভিযোগে তার দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

সপ্তম অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগও প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন।

অষ্টম অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলনকারী ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও ছিল। তবে এই অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইনুকে এ অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।

এদিকে হাসানুল হক ইনু শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপ্রতিম হত্যা: কুবিতে শোক, ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


অপ্রতিম হত্যা: কুবিতে শোক, ক্লাশ-পরীক্ষা স্থগিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসে সাধারণ শোক পালন ও বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাশ ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষকের সন্তানের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিহত অপ্রতীমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ শোক দিবস উপলক্ষে রোববারের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কুবির রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, আমাদের সহকর্মীর সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার স্তম্ভিত। আমরা এতটাই শোকাহত যে স্বাভাবিক কাজ চালানোর মতো অবস্থায় নেই। তাই আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যাটরিনার ওজন নিয়ে ট্রল, সালমানের কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ এম


ক্যাটরিনার ওজন নিয়ে ট্রল, সালমানের কড়া বার্তা

বলিউড অভিনেতা সালমান খান সামাজিক মাধ্যমে ট্রোলিং এবং তারকাদের শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ‘বিগ বস ২০’-এর সাম্প্রতিক পর্বে তিনি অন্যদের হেয় করে অর্থ উপার্জন করা এবং তারকাদের বয়স ও চেহারা নিয়ে ট্রলিংয়ের সমালোচনা করেন।

চলতি মৌসুমের উপস্থাপক হিসেবে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ‘উইকেন্ড কা ভার’ পর্বে তিনি এই বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রতিযোগী আরিশফা খানকে ঘিরে এক বিরোধের সময় ইউটিউবার স্কাউটওপি তার ইউটিউব ও গেমিং সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ‘খতম কর দো ইসকো’ অর্থাৎ ‘ওকে শেষ করে দাও’ মন্তব্য করেছিলেন। সালমান এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, "কাউকে নিচে নামিয়ে আপনারা টাকা উপার্জন করছেন। কারও চেহারা, ওজন, পরিবার, ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আক্রমণ করা আসলে ট্রোলারের পারিবারিক শিক্ষা ও মানসিকতারই পরিচয় দেয়।" সালমানের ভাষায়, "আপনি নিজের পারিবারিক শিক্ষাই দেখাচ্ছেন।"

এরপর গর্ভধারণের পর নারীদের শরীর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়, সে বিষয়েও তিনি কথা বলেন। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার বক্তব্যটি সম্প্রতি অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হওয়া ট্রোলিংয়ের প্রসঙ্গেই এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ে গণপতি উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর ক্যাটরিনার চেহারা ও ওজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করা হয়। সম্প্রতি মা হয়েছেন এই অভিনেত্রী। সন্তান জন্মের পর তার শারীরিক পরিবর্তন নিয়েও কটাক্ষ করেন অনেকে।

এ প্রসঙ্গে সালমান বলেন, "কেউ গর্ভবতী হলে তাকে কেন ট্রোল করবেন? গর্ভধারণের পর সবারই ওজন বাড়ে। গর্ভবতী ছিলেন বলে ওজন বেড়েছে। আবার সিনেমায় ফিরলে ফিট হয়ে যাবেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চেয়েছেন।"

নিজের বয়স ও চেহারা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলিংয়ের প্রসঙ্গ তোলেন সালমান। তিনি বলেন, "বুড়ো হয়ে গেছে, অবশ্যই ৬০ বছর বয়স হয়েছে।" এরপর তিনি বলেন, "আপনি সব সময় ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’-র মতো থাকতে পারবেন না।"

তারকাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চেহারা নিয়ে কেন এত আলোচনা হয়, সেই প্রশ্নও তোলেন সালমান। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, যারা নিজের চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্ট, তারা কেন অন্যের চেহারা ও ওজন নিয়ে মন্তব্য করতে সময় ব্যয় করেন।

সালমান আরও প্রশ্ন করেন, "আপনি কাকে ট্রোল করতে চান এবং কেন ট্রোল করতে চান?" অনলাইনে তারকাদের আক্রমণ করার জন্য কিছু প্রযোজক বা অভিনেতা মানুষকে অর্থ দিতে পারেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পর্বটিতে তারকাদের শরীর ও বয়স নিয়ে নিয়মিত মন্তব্যের বিষয়ে সালমানকে বেশ ক্ষুব্ধ দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি নিজের টুপি ও টি-শার্ট খুলে মেকআপ শিল্পী রাজুকে ডাকেন। এরপর নিজের মেকআপ মুছে ফেলেন তিনি। চেহারার পরিবর্তন নিয়ে যারা নিয়মিত মন্তব্য করেন, তাদের উদ্দেশেই তিনি এমনটি করেছেন বলে মনে করা হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%