০৫:৪৪ পি.এম
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেস সদস্য হ্যালি মারিয়া স্টিভেন্স দলের ঐক্য ভেঙে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার তিনি বামপন্থী প্রগতিশীল প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন।
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই ধরনের দলীয় কোন্দল রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর প্রকাশ করেছে।
কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনস গত আগস্টে ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সাইয়েদের কাছে পরাজিত হন। যদিও তিনি দলের নেতৃত্বের সমর্থন পেয়েছিলেন, তবুও তাকে ওই পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে। রোববার তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থনের ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতীক গাধা ও হাতির ইতিহাস
সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি যে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আবদুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তার নির্বাচনী প্রচারে আমার কোনো জায়গা নেই।’
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটরা চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অঙ্গরাজ্যে জয়লাভ করলে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ সহজ হতে পারে দলের জন্য।
স্টিভেনসের এই ঘোষণা ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে বামপন্থী প্রার্থীদের সঙ্গে দলের মূলধারার নেতৃত্বের মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ দেখা যাচ্ছে।
জাতীয় পর্যায়ে ক্রমেই পরিচিতি পাওয়া প্রার্থী এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের জোটের কঠোর সমালোচক। তিনি ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কৃষ্ণসাগর এখন বিশ্বের সর্বাধিক বিপজ্জনক নৌপথ, রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ ও নাবিকের প্রাণহানি
স্টিভেনসের ঘোষণার পর এল-সাইয়েদ গুরুত্ব দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘দিন শেষে আমি আসলে হ্যালি স্টিভেনসকে নিয়ে ভাবি না। আমি ভাবি ওই দুজন ছাড়া বাকি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ জন মানুষকে নিয়ে।’
স্টিভেনস ও রজার্সকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘কারণ, রাজনীতির চেয়ে নীতিগত বিষয়গুলো নিয়েই আমি বেশি আগ্রহী।’
স্টিভেনসের ঘোষণার পর ডেমোক্র্যাট শিবিরে দ্রুত তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সিনেটে সংখ্যালঘু দলের নেতা চাক শুমার তার এ পদক্ষেপকে ‘ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে, মিশিগান ডেমোক্র্যাটদের কৃষ্ণাঙ্গ ককাসের সভাপতি মন্তব্য করেন যে, স্টিভেনস নিজেকে এমন একজন সুবিধাবাদী হিসেবে প্রকাশ করেছেন, যিনি নিজের পথ হারিয়েছেন।
আরও পড়ুন: নারীদের উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতায় গুরুত্ব দিচ্ছেন এমিনি এরদোয়ান
নির্বাচিত হলে এল-সাইয়েদ হবেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রথম মুসলিম সদস্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে প্রায়ই তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলে অভিহিত করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামি আইন চালু করতে চান।
স্টিভেনসের ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প তার প্রশংসা করেন। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি লেখেন, ‘হ্যালি এমন কথা বলেছেন, যা বলার সাহস খুব কম মানুষেরই আছে।’ এ পদক্ষেপকে তিনি ‘সাহসিকতা’ বলেও অভিহিত করেন।
নির্বাচনের আগে অধিকাংশ জনমত জরিপে এল-সাইয়েদকে রজার্সের চেয়ে সামান্য এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: আনোয়ারের উদ্যোগে খুশি মালয়েশিয়ার নারীরা, মাতৃত্বকালীন ছুটির পরও মিলবে আর্থিক সহায়তা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন