১২:৫১ পি.এম
ঢাকা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইরের সরকার শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে, বিদেশিদের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য কমপক্ষে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করতে হবে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) জানায়, লাতিন আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি আর্জেন্টিনা গত বছর বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্রাজিল ও মেক্সিকোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল।
এএফপি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তবাজারপন্থী মিলেই সরকারি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছেন এবং বাণিজ্যিক বাধা কমিয়েছেন। তার সরকারের উদ্দেশ্য হলো আর্জেন্টিনাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা এবং দেশটির কমে যাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি করা।
আরও পড়ুন: জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী
অর্থনীতিবিদ মার্সেলো এলিসোন্দো মন্তব্য করেছেন যে, বিনিয়োগকারীরা এখনও অপেক্ষা করছেন আর্জেন্টিনার অস্থির অর্থনীতি এসব সংস্কার কতটা টেকসই তা প্রমাণ করার জন্য।
শুক্রবার সরকার কর্তৃক ঘোষিত ‘সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’-এ নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য দুটি সহজ ও স্বচ্ছ পদ্ধতির উল্লেখ করা হয়েছে।
প্যারিসে আর্জেন্টিনা উইক উপলক্ষে এই কর্মসূচিটি উন্মোচন করা হয়।
প্রথম পদ্ধতিতে, বিনিয়োগকারীকে আর্জেন্টিনার জাতীয় কোষাগারে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার সরাসরি অনুদান দিতে হবে, যা ফেরত দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: নেপালে পর্বতজয়ের পর ৫০০০ ফুট নিচে পড়ে জার্মান পর্বতারোহীর মৃত্যু
দ্বিতীয় পদ্ধতিতে, সরকার বিশেষভাবে এই কর্মসূচির জন্য তৈরি করা ৮ লাখ ডলারের বন্ডে বিনিয়োগ করতে হবে।
আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরাও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর জন্য প্রাপ্তবয়স্ক পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে কোষাগারে ১ লাখ ডলার এবং ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আর্জেন্টিনা সরকার জানিয়েছে, এই বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দেশের রাজস্ব ও আর্থিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, বিনিয়োগগুলো একটি কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে অর্থের উৎস ও লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অর্থপাচার রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা হবে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ১৯ আসন নিয়ে কিংমেকার ফিলিস্তিনি দলগুলো
তবে, কর্মসূচিটি কী ধরনের বিনিয়োগকারী আকর্ষণ করবে, তা নিয়ে কিছু বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন।
মিলেই সরকারের সমালোচক অর্থনীতিবিদ পাবলো তিগানি মন্তব্য করেছেন যে, এর ফলে মাদক পাচারকারী বা সন্দেহজনক উৎসের অর্থের মালিক ব্যক্তিরা আর্জেন্টিনায় প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন, যাদের অন্য অনেক দেশে প্রবেশের অনুমতি নেই।
মিলেই চলতি সপ্তাহে প্যারিস সফর করেন এবং ওইসিডিতে আয়োজিত আর্জেন্টিনা উইক অনুষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সফরে তিনি বেশ কয়েকটি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পান। এর মধ্যে ফ্রান্সের টোটালএনার্জিস প্যাটাগোনিয়ায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: হুতি বিদ্রোহীদের এডেন বিমানবন্দর খালি করার নির্দেশ
এছাড়া, সুইজারল্যান্ডের খনিশিল্প প্রতিষ্ঠান গ্লেনকোর একটি তামা প্রকল্পে ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মিলেই সরকারের এই ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি চলতি বছরের শেষ দিকে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর কয়েক দিন আগে, আর্জেন্টিনার সুপ্রিম কোর্ট বিদেশিদের কৃষিজমি কেনার ওপর থাকা সীমাবদ্ধতা বাতিল করেছে।
মঙ্গলবার আদালত মিলেই সরকারের ২০২৩ সালের একটি ডিক্রি বহাল রাখে। ওই ডিক্রির মাধ্যমে ২০১১ সাল থেকে বিদেশিদের কৃষিজমির মালিকানায় থাকা ১৫ শতাংশ সীমা বাতিল করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৫০
১৯৮২ সালে ব্রিটেনের সঙ্গে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনার সাবেক সেনাসদস্যরা—যে দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনায় ‘লাস মালভিনাস’ বলা হয়—এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
তারা মিলেইয়ের বিরুদ্ধে ‘আর্জেন্টিনা প্রজাতন্ত্রকে বিক্রির জন্য তুলে দেওয়ার’ অভিযোগ করেছেন।
আইন পরিবর্তনের প্রতিবাদে আগামী সপ্তাহে একটি বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলও পার্লামেন্টে এই পরিবর্তন ঠেকানোর চেষ্টা করবে।
ওইসিডির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আর্জেন্টিনা ৩.১৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে, তবে উদ্বেগ রয়ে গেছে
এর তুলনায় একই সময়ে ব্রাজিল পেয়েছে ৭৬.৮৭৭ বিলিয়ন ডলার এবং মেক্সিকো পেয়েছে ৪০.৮৭১ বিলিয়ন ডলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন