বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:১০ পি.এম
ব্রাজিলের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর, আদালতের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশকে উপেক্ষা করে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গেছেন দেশটির পরাজিত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি-ওপা লককা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে তার একটি ব্যক্তিগত বিমানে অবতরণের দৃশ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ব্রাজিলের বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরপরই গোপনীয়তার মধ্যে দেশ ত্যাগ করেন ফ্লাভিও। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তার বিরুদ্ধে চলমান অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) ও দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার এবং দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করে তিনি প্রথমে আর্জেন্টিনা এবং পরে ইকুয়েডর হয়ে একটি ব্যক্তিগত চার্টার বিমানে মিয়ামিতে পৌঁছান।
এই ঘটনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। মিয়ামিতে পৌঁছানোর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান যে, তিনি ফ্লাভিও বোলসোনারো ও তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমোদন দেবেন। ট্রাম্প বোলসোনারো পরিবারকে ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘সন্দেহজনক’ ও ‘ভয়ংকর’ বলে মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও তাদের জন্য এন্ট্রি ভিসা ইস্যু করার ঘোষণা দেয়।
এদিকে ফ্লাভিও বোলসোনারোর এই নাটকীয় পলায়নকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ব্রাজিলের পুনর্নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে লুলা বলেন, “তিনি (ফ্লাভিও) যদি নির্দোষ হতেন, তবে দেশেই থেকে আইনি লড়াই করতে পারতেন। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এভাবে পালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি বিষয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের ডানপন্থী বলয়ের শীর্ষ এই নেতার হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্র গমন এবং মার্কিন প্রশাসনের তাকে সাদরে গ্রহণ করার ঘটনা লাতিন আমেরিকার রাজনীতি ও ওয়াশিংটনের কূটনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আর্জেন্টিনার মধ্য দিয়ে তার এই পলায়ন রুটটি দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে নদীর তীর সংরক্ষণ ব্লকের নিচ থেকে রাতের অন্ধকারে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় ব্লকগুলোর স্থায়িত্ব এবং নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের বেলায় ভেকু মেশিন ব্যবহার করে ব্লকের নিচ থেকে মাটি কেটে তা ট্রাকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত চালকেরা জানান, তাঁদের এ কাজের ঠিকাদারি দিয়েছেন নয়াচর ফকিরপাড়া গ্রামের এমদাদুল হক (ফকির)। অন্যদিকে, অহিজল হক কালুর বিরুদ্ধে ব্লকের কোল থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর ও আলমাছ অভিযোগ করেছেন যে, তাঁরা মাটি কাটার কাজে বাধা দিলেও কাজটি বন্ধ হয়নি। তাঁরা জানান, এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন হুমকির শিকার হয়েছেন।
বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ব্লকের নিচ থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়ার ফলে ভিত্তি দুর্বল হয়ে নদীভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত এমদাদুল হক ফকির এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘এগুলো গত বছর মাটি কেটে রেখে দিয়েছিলাম। এখন সরিয়ে নিচ্ছি।’
চর রাজিবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান খান জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
—এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন যে, বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া কোনো মন্তব্য করা যাবে না।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী পুলিশ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট এসআই-২০০৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, "বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া মন্তব্য করা যাবে না। আমরা সব বিষয়ে জেনে তারপর মন্তব্য করবো।"
এছাড়া, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি প্রদান করা এবং দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। ফেসিবাদী সরকারের আমলে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সময়ের ভঙ্গুর অবস্থা থেকে ক্রমাণয়ে পুলিশ আজকে এই পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।
এর আগে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকালে তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ি এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে।
পুলিশ জানায়, ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে তারা খবর পায় যে, উওরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি মরদেহ ভাসছে।
এরপর টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির গাজীপুর অফিসার ও ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন সেনেটরের একটি দলের দ্বারা ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত স্টারলিঙ্ক এবং সামরিক স্যাটেলাইট সেবা 'স্টারশিল্ড'-এ সম্প্রতি উদ্ভূত বিভ্রাটের ঘটনা সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। তবে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের ইনস্পেক্টর জেনারেল বা ওয়াচডগ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। এই তথ্যটি বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর একটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেল সেনেটরদের পাঠানো চিঠির জবাবে জানান যে, তাঁদের উদ্বেগ বা প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর বিমান বাহিনীর (Air Force) কাছে পাওয়া সম্ভব। তবে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমের মতে, আইনপ্রণেতারা পেন্টাগনের এই পদক্ষেপকে ধনকুবের ইলোন মাস্কের বিরুদ্ধে তদন্তে ওয়াচডগের অনিচ্ছা হিসেবে দেখছেন।
ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর জিন শাহিনের নেতৃত্বে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিদলীয় ৯ জন সেনেটর পেন্টাগনের ওয়াচডগকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তাঁরা ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য মার্কিন সরকার পরিচালিত স্টারশিল্ড ব্যবস্থায় গোলযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। এতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, মার্কিন কোনো কর্মকর্তা এই সেবায় বিঘ্ন ঘটানোর অনুমতি দিয়েছিলেন কি না বা এর আগে থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইউক্রেন নিশ্চিত করে যে, ঘন্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলমান তাদের সামরিক ডিভাইসে স্পেসএক্সের স্টারলিঙ্ক সেবা সীমিত করা হয়েছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জবাবে, স্পেসএক্সের সিইও ইলোন মাস্ক দাবি করেন যে, স্টারলিঙ্ক কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানের জন্য নয়, বরং এটি কেবল প্রতিরক্ষামূলক এবং বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্মিত। তিনি আরও জানান, স্টারশিল্ড প্রযুক্তি মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয় এবং এর গতির সীমারেখা প্রতিরক্ষা দপ্তর ও প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করেন। যদিও সংবাদমাধ্যম 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইলোন মাস্ক নিজেই ইউক্রেনের স্টারশিল্ড সেবা সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
পরবর্তীকালে, ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে, ইউক্রেনের জন্য সামরিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা স্টারশিল্ডের সংযোগ পুনরায় চালু বা স্বাভাবিক করা হয়েছে। সূত্র: দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২৭ বিলিয়ন (২,৭০০ কোটি) মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সাথে অনুষ্ঠিত এক দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পুতিন উল্লেখ করেন, "রাশিয়ার সাথে আফ্রিকার মূল অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানগুলো ইতিবাচক এবং বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে রাশিয়া-আফ্রিকা বাণিজ্যের মোট পরিমাণ দেড় গুণ বেড়েছে এবং তা বর্তমানে ২৭ বিলিয়ন ডলারের উপরে পৌঁছেছে।"
আফ্রিকা মহাদেশের সাথে রাশিয়ার এই বিশাল বাণিজ্যিক লেনদেনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মিসরের সাথে সম্পন্ন হচ্ছে, বলে রুশ প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন। সূত্র: তাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ