শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৭ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ সংসদীয় আসনে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন।
এ তথ্য বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
মিডিয়া সেল জানায়, ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মন্দিরে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। আজ বিকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে অনুদান তুলে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
ঢাকা-১৭ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত। মূলত গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, কড়াইল বস্তি, বারিধারা, শাহজাদপুর, কালাচাঁদপুর, ভাষানটেক, মাটিকাটা এবং ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে এই আসনটি গঠিত।
বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই আসনের সংসদ সদস্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিভারপুলে আলিসন বেকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষককে নতুন চুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত নেই লিভারপুলের। এর মানে, যদি সবকিছু বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তাহলে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে ফ্রি এজেন্ট হয়ে অ্যানফিল্ড ছাড়তে পারেন আলিসন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি; চলতি মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স ও ফিটনেসও বিবেচনায় আসবে।
২০১৮ সালের জুলাই মাসে রোমা থেকে প্রায় ৬৬-৬৭ মিলিয়ন পাউন্ডে আলিসনকে দলে ভেড়ায় লিভারপুল। তখন গোলরক্ষকদের জন্য এটি ছিল রেকর্ডধর্মী ট্রান্সফার ফি। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি প্রমাণ করেন যে, তাঁকে ঘিরে এত বড় বিনিয়োগের যথার্থতা ছিল। প্রথম মৌসুমেই তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে সাহায্য করে। টটেনহ্যামের বিপক্ষে ২০১৯ সালের ফাইনালে গোলবার অক্ষত রাখেন তিনি। একই বছরে উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপও জেতেন।
এরপর আসে লিভারপুলের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। ২০১৯-২০ মৌসুমে আলিসন ছিলেন সেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, যারা ৩০ বছর পর লিভারপুলকে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের শিরোপা এনে দেয়। যদিও চোটের কারণে মৌসুমের একটি বড় অংশ তাঁকে বাইরে থাকতে হয়েছিল, ফিরে এসে আবারও নিজের মান ধরে রাখেন। গোল ঠেকানোর পাশাপাশি, পায়ের নিখুঁত ব্যবহার এবং পেছন থেকে আক্রমণ তৈরির ক্ষমতাও তাঁকে ইয়ুর্গেন ক্লপের দলের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করে।
আলিসনের লিভারপুল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি অবশ্য গোলপোস্টের নিচে নয়, বরং প্রতিপক্ষের বক্সে। ২০২১ সালে ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়নের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের ক্রসে হেড করে গোল করেন তিনি। সেই ৯৫তম মিনিটের গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় পায় লিভারপুল। ক্লাবটির ইতিহাসে গোল করা প্রথম গোলরক্ষকও হয়ে যান ব্রাজিলিয়ান।
২০২১-২২ মৌসুমে আলিসনের ট্রফি ক্যাবিনেটে যোগ হয় এফএ কাপ ও লিগ কাপ। চেলসির বিপক্ষে এফএ কাপের ফাইনালের টাইব্রেকারে মেসন মাউন্টের শট ঠেকিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই মৌসুমেই লিভারপুল প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ—দুই প্রতিযোগিতায়ও শেষ পর্যন্ত শিরোপার খুব কাছে পৌঁছেছিল।
এরপরও অ্যানফিল্ডে তাঁর গুরুত্ব কমেনি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে আর্নে স্লটের অধীনে আবারও প্রিমিয়ার লিগ জেতে লিভারপুল, আর আলিসন দ্বিতীয়বারের মতো হাতে তোলেন ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের ট্রফি। শিরোপা জয়ের পথে লিভারপুলের ১৪টি ক্লিনশিটের নয়টিই ছিল আলিসনের। চোটের কারণে মৌসুমটি তাঁর জন্য সহজ ছিল না, কিন্তু ফিট থাকলে গোলবারের নিচে তিনিই ছিলেন দলের প্রথম পছন্দ।
সংখ্যাতেও তাঁর প্রভাব স্পষ্ট। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত লিভারপুলের হয়ে ৩৩৬ ম্যাচে ১৩৮টি ক্লিনশিট নিয়ে ক্লাবের সর্বকালের তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন আলিসন। তাঁর ওপরে আছেন শুধু রে ক্লেমেন্স, ব্রুস গ্রোবেলার ও পেপে রেইনা। লিভারপুলের হয়ে তিনি জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, দুটি লিগ কাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ—একটি প্রজন্মের সবচেয়ে সফল লিভারপুল দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি।
তবে বয়স ও চোটের ইতিহাস এখন তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩৩ বছর বয়সী আলিসন ২০২৫-২৬ মৌসুমে চোট ও অসুস্থতার কারণে ক্লাব ও দেশের হয়ে ২৬টি ম্যাচ মিস করেছিলেন। লিভারপুল ইতোমধ্যে জর্জি মামারদাশভিলিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এনেছে, আর তরুণ গোলরক্ষক লুকা ব্রুগম্যানসকেও ভবিষ্যতের প্রকল্প হিসেবে যুক্ত করেছে। ফলে আলিসনের জায়গায় নতুন প্রজন্মকে দাঁড় করানোর প্রস্তুতি চলছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
তবুও বিদায়ের আগে আলিসনের হাতে আরও একটি মৌসুম রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতে তিনি আবারও প্রথম পছন্দ এবং নতুন কোচ আন্দোনি ইরাওলার অধীনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাই এখনকার গল্পটা ‘বিদায় নিশ্চিত’ নয়, বরং ‘বিদায়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে’। আগামী কয়েক মাসে আলিসন যদি আবারও দেখাতে পারেন কেন এত বছর ধরে তিনি লিভারপুলের এক নম্বর, তাহলে অ্যানফিল্ডে তাঁর গল্পের শেষ অধ্যায় হয়তো আরও কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান ইয়েমেনে তাদের বিশেষ বাহিনীর (আইআরজিসি) শত শত কর্মকর্তা পাঠিয়েছে, যাতে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ‘বাবেল-মানদেব প্রণালি’ অবরুদ্ধ করা যায়। সেখানে হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক অভিযানে তারা সরাসরি সহায়তা প্রদান করছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
টানা সংঘর্ষের ফলে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর হাত থেকে কৌশলগত ‘মোখা’ বন্দরটি সম্পূর্ণভাবে দখল করে নিয়েছে হুথিরা। ‘বাবেল-মানদেব প্রণালি’র নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে এখন পুরো সমুদ্রপথটি হুথি ও ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাতিসংঘ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড়ে প্রবেশ করেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার কারণে ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে থমকে গেছে। যদি ‘বাবেল-মানদেব প্রণালি’ও বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে সুয়েজ খালের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে, যা যাতায়াতের সময় ও খরচ বাড়িয়ে দেবে।
যদিও ইরান বরাবরের মতো হুথিদের সরাসরি পরিচালনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তবে মাঠপর্যায়ে ইরানি সৈন্যদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যে ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সূত্র: গালফ নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করার জন্য ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা যদি ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে না পারি, তাহলে আমরা যে স্বপ্নের কথাই বলি না কেন, তা টেকসই হবে না।"
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
মন্ত্রী বলেন, "এখন আমরা এমন একটা জায়গায় চলে আসছি, কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট যদি আনতে হয়, তাহলে ভালো মানুষদের নেতৃত্বে আসতে হবে।"
আন্দালিভ রহমান আরও বলেন, "গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো ও মেধাবী তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে চায় না।"
তিনি বলেন, "রাজনীতি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো উপাদান থাকলেও ভালো বাবুর্চি না থাকলে যেমন ভালো খাবার পাওয়া যায় না, তেমনি ভালো মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।"
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বরিশালের ঐতিহ্যকে অতুলনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "ফুটবল থেকে শুরু করে রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল এবং বরিশালের মানুষ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ভূমিকা রেখেছেন।"
মন্ত্রী বলেন, "বরিশালকে সত্যিকার অর্থে স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে হবে। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
তিনি আরও বলেন, "বরিশালের আশপাশের সব নির্বাচনি এলাকা ও জেলাগুলো থেকে মেধাবী ও ভালো ছেলেমেয়েদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে হবে। এজন্য রাজনীতিতে আসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।"
মন্ত্রী বলেন, "আমরা যদি আগামী প্রজন্মের জন্য ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারি, তাহলে কোনো ধরনের উন্নয়নই টেকসই হবে না। এটা শুধু বরিশালের সমস্যা নয়, সারা বাংলাদেশেই এই সংকট রয়েছে।"
আন্দালিভ রহমান বলেন, "অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ ও শিল্পায়ন এক ধরনের উন্নয়ন। কিন্তু এখন দেশের প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর সে জন্য ভালো মানুষকে নেতৃত্বে আসতে হবে।"
তিনি বলেন, "যারা বর্তমানে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্ম থেকে যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে নিয়ে আসার পথ তৈরি করা। তরুণদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য রাজনীতির পরিবেশ সহজ করতে হবে, যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে রাজনীতিতে আসতে পারে।"
মন্ত্রী বলেন, "আমরা হয়তো অনেক কিছু তৈরি করে যেতে পারব, কিন্তু ভালো নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে সেগুলো ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই এ বিষয়গুলোতে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।"
বরিশাল থেকে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ অনেক বড় নেতা উঠে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ভবিষ্যতেও এ অঞ্চল থেকে যোগ্য ও ভালো নেতৃত্ব সামনে আসতে হবে।"
তিনি বলেন, "তরুণরা ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়া কিংবা বিদেশে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের কেউ যদি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে, সেটিই হবে দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি দায়িত্বশীল অর্থনীতি কেবল ঋণের পরিমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা যায় না। ঋণ কতটা পরিশোধিত হয়েছে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের ওপর কতটা দায়িত্ব বর্তানো হচ্ছে, সেটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই গুরুত্বের প্রেক্ষিতে সরকার ঋণ গ্রহণের চেয়ে ঋণ পরিশোধে অধিক গুরুত্ব প্রদান করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তার তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশ ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার নতুন বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে। অপরদিকে, পূর্বে নেওয়া ঋণের সুদ ও মূলধন বাবদ ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। এর মানে হল, নতুন ঋণের তুলনায় ২৭৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন ডলার বেশি পরিশোধ করেছে সরকার।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধ প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। নতুন ঋণের অর্থ ছাড় ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সহজভাবে বললে, নতুন ঋণের ওপর নির্ভরতা কমছে এবং পুরনো ঋণ পরিশোধে জোর দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওবার্তায় উল্লেখ করা হয়, এটি শুধুমাত্র ঋণ পরিশোধের একটি হিসাব নয়; বরং এই তথ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বাংলাদেশ এখন শুধুমাত্র উন্নয়নের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে না, বরং পূর্বের দায়ও নিয়মিতভাবে পরিশোধ করছে। জুলাই মাসে এডিবি, আইডিএ ও জাপান থেকে অর্থছাড় হয়েছে। একই সময়ে কিছু উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে অর্থছাড় না এলেও পুরনো ঋণের দায় পরিশোধ অব্যাহত ছিল।
ভিডিওবার্তায় আরও বলা হয়, গত ১৭ বছরের অগণতান্ত্রিক অবৈধ সরকারের সময়ে দ্রুত উন্নয়ন ও সাময়িক স্বস্তির নামে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প, উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ চুক্তি এবং ঋণনির্ভর মেগা প্রকল্পের ফলে যে অনিয়ম, অপচয় ও অর্থনৈতিক বোঝা চাপানো হয়েছে, তার একটি বড় অংশ এখনও দেশের জনগণকে বহন করতে হচ্ছে।
সেসময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বর্তমান সরকারকে এখন সেই বোঝা কাঁধে নিয়ে সামনে এগোতে হচ্ছে। সরকার তাই কেবল নতুন ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে না, বরং পুরনো ঋণের দায় পরিশোধের পাশাপাশি অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা, রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং দেশের স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগোচ্ছে।
তবে এই পরিবর্তনের সময়ে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে কিছু সাময়িক চাপ ও অসুবিধা তৈরি হচ্ছে বলেও ভিডিওবার্তায় উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সাময়িক স্বস্তির জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ঘাড়ে নতুন বোঝা চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং টেকসই সমাধানের পথ তৈরি করার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে রেমিটেন্স, গার্মেন্টস ও রিজার্ভে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। পুরনো দায় পরিশোধ হচ্ছে। অর্থনীতিকে আরও টেকসই ও স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি বলেছেন, বিএনপি সরকার বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। আজ বহু মানুষ, বহু শিল্পকলকারখানার মালিকসহ সাধারণ বহু মানুষ বিদ্যুতের কষ্টে বা জ্বালানি কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।
ভিডিওবার্তায় আরও বলা হয়, স্বাভাবিকভাবেই এই কাজগুলো এগিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগছে। কারণ এবার শুধুমাত্র দেশের মানুষকে লোক দেখানো উন্নয়ন ও সাময়িক স্বস্তি দেওয়াই লক্ষ্য নয়। বরং এবারের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ তৈরি করা, যেখানে আজকের বাংলাদেশ এবং আগামী প্রজন্ম ঋণের বোঝায় নত হয়ে নয়, নিজেদের অর্থনীতি, অধিকার ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে ইনশাল্লাহ। আর সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ