শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০৭ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে জনসাধারণের চলাচলের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বাজারে হাটের দিনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পৃথকভাবে ২ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ বাজারের এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ফুটপাতের ওপর মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এতে পথচারীরা ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে না পেরে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করছেন। ফলে কাউখালী বন্দরের এমনিতেই সংকীর্ণ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। কোনো ব্যবসায়ী যেন ফুটপাত দখল করে মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনা না করেন। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর বড় ব্রিজের ওপর সুনামগঞ্জ- বিশ্বম্ভরপুর সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা গোয়েন্দা শাখার (এসআই) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এএসআই খাদেম, এএসআই ইসমাইল হোসেন ও কনস্টেবল কওসার আহমেদসহ ডিবি পুলিশের একটি দল সদর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভাদেরটেক গ্রামের দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভাদেরটেক গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মো. জালাল মিয়া (৪৫) ও একই গ্রামের সুবুরের ছেলে শাহজাহান মিয়া (৩৫)। অভিযানকালে তাঁদের কাছ থেকে দুটি নীল রঙের জিপার ব্যাগে রাখা ৪৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তাঁদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম শামীম হাসান জানান, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ বেচাকেনা প্রতিরোধে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা গুরুত্বপূ বলে তিনি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী এক নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং বিচার চাইতে থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নতুন অগ্রগতি হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর সংবাদ প্রকাশের পর সন্ধ্যায় ওসি আদিল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ভুক্তভোগীকে বাড়ী থেকে থানায় নিয়ে যান এবং তাঁর অভিযোগে মামলা গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে। পরে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাঁকে শুক্রবার বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, বিয়ের মাত্র ১৬–১৭ দিনের মাথায় গণধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে বিচার চাইতে গিয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়া এবং উল্টো সাত বছরের কারাদণ্ডের ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন ওই নববধূ। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশি পদক্ষেপের তথ্য সামনে আসে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকার তার সৎ ভাসুর ইমরান প্যাদা গত ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে তাঁকে বাজারে নিয়ে যান। রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর সৎ ভাসুর মো. ইমরান প্যাদা (৩৮) ও প্রতিবেশী চাচা শ্বশুর রাকিব প্যাদা (২৬) তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে গণধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরে সেখানকার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে করে মামলা করতে বাকেরগঞ্জ থানায় যান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় ওসি আদিল হোসেনের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁকে বলা হয়, ধর্ষণের কোনো প্রমাণ নেই এবং গোসল করার কারণে আলামত নষ্ট হয়ে গেছে। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তাঁকেই সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়।
এছাড়াও ওসি তাকে "শালির অর্ধেক ভাগ পায়" বলেও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আদিল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী তাঁর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তাঁরা পরে জানাবেন বলে চলে যান।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে থানায় গণধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণ না করা এবং ভুক্তভোগীকে ভয় দেখানোর অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
অপরদিকে গণধর্ষণের সংবাদ প্রকাশের পরে ওসি নিজের গদি রক্ষায় তার কয়েকজন অনুগত সাংবাদিকদের দিয়ে পক্ষে রিপোর্ট করানোর জন্য দেনদরবার করছেন।
বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না নেওয়ার সুযোগ নেই। ওসি অভিযোগ গ্রহণ না করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকলে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগীর মামলার তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে এগোয় এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা পান কি না, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা, অপহরণ ও মারধরসহ একাধিক ধারার মামলায় মোঃ মজনু মিয়া (৪৮) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১২টা ৩০ মিনিটে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর সাখাহার ইউনিয়নের আলীগ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মজনু মিয়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আলীগ্রাম গ্রামের মৃত নাছির সরকারের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা সদর থানার মামলা নং-৩২/১৭৬, তারিখ ২২ মে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। পেনাল কোডের ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩৪২/৩৬৫/৩০৭/১১৪/৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলার আসামি তিনি।
গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ ৬০০ মোড়ে লালবাতি শনাক্তকারী স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা চালুর মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে যানবাহন চালানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। গত ২১ অক্টোবর নগরীর মেয়র জোহরান মামদানি ও পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। নতুন ব্যবস্থায়, লালবাতি অমান্য করে গাড়ি চালানোর ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিককে ৫০ ডলার জরিমানা দিতে হবে। কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য হলো, চালকদের ট্রাফিক আইন মানতে উৎসাহিত করা এবং পথচারীসহ সকল সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নিউইয়র্ক নগরীর পাঁচটি প্রশাসনিক অঞ্চলে এই ক্যামেরাগুলি স্থাপন করা হয়েছে। নগরীর পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের আইন সংশোধনের ফলে লালবাতি শনাক্তকারী ক্যামেরার সংখ্যা ১৫০টি মোড় থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৬০০টি মোড়ে নেওয়ার অনুমতি পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে, নগর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু করে। চলতি বছরের ২১ অক্টোবর নাগাদ নির্ধারিত ছয়শটি মোড়ে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নিউইয়র্কে মোড়কেন্দ্রিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ২২ শতাংশের সঙ্গে লালবাতি অমান্যের সম্পর্ক ছিল। স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরাকে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবহন বিভাগের তথ্য বলছে, ক্যামেরা স্থাপন করা মোড়গুলোতে লালবাতি অমান্য করার ঘটনা ৮০ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে এই পরিসংখ্যান ক্যামেরা বসানো নির্দিষ্ট স্থানগুলোর জন্য প্রযোজ্য; পুরো নগরীতে একই হারে লালবাতি অমান্য কমেছে, এমন দাবি করা সঠিক হবে না।
দুর্ঘটনায় আহত মানুষের সংখ্যা কমার বিষয়ে ইতিবাচক তথ্যও প্রকাশ করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ক্যামেরা স্থাপনের পর সংশ্লিষ্ট মোড়গুলোতে পেছন থেকে ধাক্কা লাগার দুর্ঘটনায় আহত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে। পাশ থেকে ধাক্কা লেগে সংঘটিত দুর্ঘটনায় আহত মানুষের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। এসব পরিসংখ্যানের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ বোঝাতে চেয়েছে, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করার প্রবণতা কমলে সংঘর্ষ ও গুরুতর আঘাতের ঝুঁকিও হ্রাস করা সম্ভব। তবে এই ফলাফলকে পুরো নগরীর দুর্ঘটনা পরিস্থিতির সামগ্রিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
নতুন ব্যবস্থায়, ক্যামেরা দিয়ে আইন অমান্যের ঘটনা শনাক্ত করার পর ডাকযোগে জরিমানার নোটিশ পাঠানো হয়। নগরীর সরকারি সেবা সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধিত যানবাহনের মালিকের কাছে নোটিশ পৌঁছায়। গাড়িটি অন্য কেউ চালালেও ক্যামেরায় ধরা পড়া লঙ্ঘনের জন্য নিবন্ধিত মালিকের কাছে নোটিশ পাঠানো হতে পারে। ক্যামেরার মাধ্যমে জারি করা লালবাতি অমান্যের জরিমানার পরিমাণ ৫০ ডলার। এ ধরনের জরিমানার কারণে চালকের গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্রে দণ্ডবিন্দু যোগ হয় না।
তবে ক্যামেরায় ধরা পড়া লঙ্ঘন এবং পুলিশ সরাসরি চালককে থামিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পুলিশ সরাসরি লালবাতি অমান্যের জন্য ব্যবস্থা নিলে সেটি চলমান যানবাহনসংক্রান্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জরিমানা ও অন্যান্য পরিণতি ক্যামেরার মাধ্যমে জারি করা জরিমানার চেয়ে আলাদা হতে পারে। তাই চালকদের নোটিশের ধরন, ঘটনার বিবরণ এবং আপিলের নিয়ম ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ক্যামেরা বসানোর স্থান নির্বাচনেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে পরিবহন বিভাগ। যেসব মোড়ে অতীতে পাশ থেকে সংঘর্ষ, আহত হওয়ার ঘটনা এবং লালবাতি অমান্য করার প্রবণতা বেশি ছিল, সেসব স্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পথচারী, সাইকেলচালক, শিশু ও বয়স্ক মানুষের চলাচল নিরাপদ করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষের মতে, স্বয়ংক্রিয় নজরদারির পাশাপাশি সড়কের নকশা উন্নয়ন, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।
নগর কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতাও উঠে এসেছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে কাজ করা সংগঠন পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে লালবাতি অমান্য করে গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে অনেক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। তবে ক্যামেরার পাশাপাশি বিপজ্জনক মোড়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নিয়মিত নজরদারিও প্রয়োজন।
বর্তমান আইন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক নগরীতে সর্বোচ্চ ছয়শটি মোড়ে লালবাতি শনাক্তকারী ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। ২০২৪ সালে অনুমোদিত আইনটির অধীনে এই কর্মসূচির মেয়াদ ২০২৭ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আরও বেশি মোড়ে ক্যামেরা বসাতে হলে অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের নতুন অনুমোদন প্রয়োজন হবে। নগরীর পরিবহন নিরাপত্তাবিষয়ক সংগঠনগুলোর একাংশ মনে করে, ছয়শটি মোড়ের বাইরেও বিপজ্জনক অনেক স্থান রয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে এ ধরনের নজরদারি চালু করা দরকার।
নিউইয়র্কের ছয়শটি মোড়ে লালবাতি শনাক্তকারী ক্যামেরা চালু হওয়া সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ক্যামেরা স্থাপন করা মোড়গুলোতে লালবাতি অমান্য এবং দুর্ঘটনায় আহত মানুষের সংখ্যা কমেছে। তবে এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা মূল্যায়নে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ, স্বচ্ছ জরিমানা প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন পর্যালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালকদের সচেতনতা বাড়লে নিউইয়র্কের সড়ক আরও নিরাপদ হয়ে উঠবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ