মোঃ জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি বালিয়াডাঙ্গী
০৭:৩২ পি.এম
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় এক বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গণভোটের গণরায় দ্রুত প্রতিষ্ঠা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার সুনিশ্চিত করার দাবিতে এই মিছিল।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশ শেষে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, "জুলাইয়ের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। গণ-অভ্যুত্থানের আকঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসাথে গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম হত্যাকাণ্ড পরিচালনাকারী খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।"
বক্তারা জুলাইয়ের আন্দোলনকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার হুঁশিয়ারি দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা মোকাবিলায় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে সরকার গবেষণাভিত্তিক কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলের জন্য ব্রি ধান-১১৮ অবমুক্ত করা হবে। এই শীত সহনশীল জাতের ধান আগাম রোপণ ও আগাম কর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে আকস্মিক বন্যার আগেই কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হবেন এবং ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
আজ শনিবার কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলার সকল দপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা জানানো হয়।
মাছ রপ্তানি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী বছর লবণাক্ততা সহনশীল নতুন একটি ধানের জাত অবমুক্ত করা হবে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপযোগী ফসলের জাত উদ্ভাবনে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
মৎস্য বিপণন অবকাঠামো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। উপযুক্ত সরকারি জমি পাওয়া গেলে ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশের ভোক্তারা সাধারণত মিঠাপানির মাছ তাজা অবস্থায় কিনতে আগ্রহী। তাই সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক বাজারজাতকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ খাতের ভ্যাকসিন উৎপাদন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গবাদিপশুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনও অধিক পরিসরে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রাণিসম্পদ খাত আরও শক্তিশালী হবে।
খাল পুনঃখনন কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আওতায় চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী বছরও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে বন্যা-পরবর্তী সময়ে রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ আধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তরুণ রিমেল মিয়া বিষণ্ণ পরিবারের জন্য আশা তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তিনি নিজের অসহায় পরিবারের হাল ধরতে এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের শেষ বয়সের একমাত্র আশ্রয় হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতারণা এবং ভাগ্যবিড়ম্বনা তাকে ইউক্রেনের একটি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি জীবনযাপনে বাধ্য করেছে।
দীর্ঘ প্রায় এক বছর পরে তার কোনো খবর না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে মৃত মনে করেছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়, যখন পরিবার হতাশ হয়ে পড়েছিল, তখন ইউক্রেনের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে জুমের মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার জীবিত থাকার খবর আসে। এই খবর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে নানা অনুভূতি তৈরি করেছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের সৈয়দ আলী ও রেখা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে রিমেল দ্বিতীয়। এই পরিবারে অভাব-অনটন অব্যাহত ছিল। বড় ভাই এরশাদ আলী ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে, তৃতীয় ভাই রুবেল মিয়া সৌদি আরবে কর্মরত এবং ছোট ভাই সোহেল মিয়া স্থানীয় বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র।
পরিবারের চরম আর্থিক সংকট এবং সংসারের দশা বিবেচনায় রিমেল বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ২০২২ সালে শোভাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নেন এবং বিভিন্ন এনজিও ও আত্মীয়স্বজন থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা চড়া সুদে ধার নেন। শেষে ২০২৫ সালের মার্চে রাশিয়ার নির্মাণশ্রমিকের কাজের ভিসায় দেশ ছেড়ে চলে যান তিনি।
রাশিয়ায় পৌঁছানোর পরে প্রারম্ভিক অবস্থায় তার জীবন মোটামুটি ভালো চলছিল। মাসিক ৭০০ ডলার বেতনের চাকরি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। কিন্তু ছয় মাস পর তিনি সেই চাকরি হারান এবং আইনি প্রশ্নে আধিপত্যের সম্মুখীন হন।
হতাশ হয়ে তিনি এক দালালের সঙ্গে পরিচিত হন, যিনি তাকে একটি আকর্ষণীয় বেতনের কাজের প্রস্তাব দেন। সরল মনে রিমেল সেই চাকরির লোভে পড়ে যেয়ে রুশ ভাষায় লেখা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু এই একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তার জীবন থেকে সব কিছু নিঃশেষ হয়ে যায়।
সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে তাকে রুশ সেনাবাহিনীর কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তিনি যে চুক্তিপথে সই করেন, তা ছিল রুশ ভাষায় লেখা এবং সেখানে উচ্চ বেতনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনদিনের প্রশিক্ষণের পর তাকে সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে নিয়ে যাওয়া হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে একটানা প্রায় এক মাস দায়িত্ব পালন করে, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটসের এবং ট্রুথ হাউন্ডসের তদন্তে জানা যায়, কৌশলে রাশিয়ায় নিয়ে অনেক বাংলাদেশি যুবককে রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই সম্মুখযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে।
রিমেল এবং অন্য বাংলাদেশিরা যারা বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন, তারা বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নিরাপদে দেশে ফিরে যেতে চান। একইসাথে তারা রাশিয়ায় কাজের সময় তাদের বকেয়া বেতন এবং অন্যান্য পাওনা অর্থ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হওয়া ইসলামী মহাসমাবেশে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ‘হিজবুত তাওহীদ’কে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, ‘হিজবুত তাওহীদ’কে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাদের কার্যক্রম, প্রকাশনা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করা উচিত।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর, ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটিসহ তিনটি ইসলামী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
সমাবেশের প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী অভিযোগ করেছেন, ‘হিজবুত তাওহীদ’ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যকলাপ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকির সৃষ্টি করছে। তাই তিনি সংগঠনটিকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সমাবেশের দুই অধিবেশনে জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলা শাখার আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেছেন মুফতি মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী এবং মাওলানা মহিউদ্দিন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী, জামেয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের মুহতামিম আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী, ইসলামী মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আল্লামা মুফতি মুস্তাকুন্নবী কাসেমী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম, মাওলানা আজিজুল্লাহ নবাব, মাওলানা সিদ্দিক আহমদ নোমান এবং মাওলানা নুরুল ইসলাম।
এ সময় নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, ব্যবসায়ী নেতা মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইসমাইলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা সরকারের প্রতি কিছু দাবিশ্রেণী উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ‘হিজবুত তাওহীদ’কে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা, তাদের প্রকাশিত বই-পুস্তক, পত্রপত্রিকা, ওয়েবসাইট বন্ধ করা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব জব্দ করা এবং সারাদেশে ‘হিজবুত তাওহীদ’ কর্তৃক বিভিন্ন নিরীহ মুসলমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো প্রত্যাহার করার দাবি করেন।
এছাড়া ঘোষিত দাবি-দাওয়ার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান, এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময়সহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজাকে কেন্দ্র করে ঘোষিত নতুন শান্তি উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে আবারো বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, হামাস যদি নিরস্ত্রীকরণ শুরু করে, তবে তাদের অস্ত্রের দায়িত্ব নেবে ‘বোর্ড অব পিস’। কিন্তু এর কিছুই সময় আগে বোর্ডটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গাজার জন্য গঠিত একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক প্রশাসনিক সংস্থা, ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) অস্ত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবে। এই উভয় পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য পুরো পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে, এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে একটি প্রশ্ন করেন, হামাসের অস্ত্র শেষ পর্যন্ত কোথায় যাবে। ট্রাম্প জবাবে বলেন, “পুরো প্রক্রিয়া ‘বোর্ড অব পিস’ পরিচালনা করবে।” তবে এরই আগে বোর্ড অব পিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানায়, গাজার সব বেসামরিক ও নিরাপত্তা কর্তৃত্ব এনসিএজির হাতে হস্তান্তর করা হবে এবং গাজার অস্ত্রের একমাত্র নিয়ন্ত্রণ এই ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক সংস্থার কাছে থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষাগত পার্থক্য কেবল আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়, বরং এটি পুরো শান্তি পরিকল্পনার গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত। কারণ, হামাস বহুবার জানিয়েছে যে, তারা নিজেদের অস্ত্র কোনো বিদেশি শক্তির কাছে দিতে রাজি নয়, বরং একটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে এগুলো হস্তান্তর করতে চায়। সেই অবস্থানকে নিয়ে এনসিএজির নাম উল্লেখ করা পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে ধরা হচ্ছে।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ইসরায়েল স্টাডিজ সেন্টারের সহযোগী পরিচালক গাই জিভ জানান, পুরো প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের অভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, আরব আমেরিকানস ফর ট্রাম্পের সাবেক চেয়ারম্যান এবং হামাস ও ট্রাম্পের আলোচক দলের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রক্ষাকারী বিশারা বাহবাহ দাবি করেন, ট্রাম্পের বক্তব্য এবং বোর্ড অব পিসের ঘোষণার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিরোধ নেই। তার মতে, বোর্ড অস্ত্র সংগ্রহের তদারকি করবে, কিন্তু অস্ত্র নিজেদের কাছে রাখবে না। শেষ পর্যন্ত সেগুলো সম্ভবত মিশরের মতো কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে হামাস ভবিষ্যতে আর সেগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ না রাখতে পারে।
এদিকে হামাস জানিয়েছে যে, পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ কেবল তখনই সম্ভব হবে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। সংগঠনটির একজন প্রতিনিধি রয়টার্সকে জানান, ইসরায়েল যদি সামরিক অভিযান বন্ধ না করে, গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পণ্য প্রবেশের সুযোগ না দেয় এবং সেনা প্রত্যাহার না করে, তবে হামাস তাদের অস্ত্র পুরোপুরি ছাড়বে না। একই সময়ে, গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলাও অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, এ বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে তার একটি সমঝোতা রয়েছে এবং ইসরায়েল এই পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট। তবে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, বোর্ড অব পিসের প্রকাশিত খসড়া চুক্তি ইসরায়েলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ফলে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও পরিকল্পনাটি নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে নির্বাচন সামনে থাকায় প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে।
বিশারা বাহবাহের মতে, এই পরিকল্পনা সফল করতে হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের ওপর ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখতে হবে। তার দাবি, ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কিছু অংশ ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। তাই ট্রাম্প নিজে অগ্রাধিকার না দিলে বাস্তবায়নের পথে নানা অজুহাত সামনে আসতে পারে। অন্যদিকে গাই জিভের প্রশ্ন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য কী, বিশেষ করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তারা কী অবস্থান নেবে তা এখনও পরিষ্কার নয়।
শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। সৌদি আরব একে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন এবং অবাধ মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, উদ্যোগটি ইতিবাচক হলেও সফল হতে হলে সব পক্ষের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ যাচাই এবং শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর গাজা থেকে প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে কানাডাও নিরস্ত্রীকরণের ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে গাজার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তায় সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ